ভালোবাসা ভাল না

বলছিনা ভালোবাসতে হবে, বলছিনা কাছে আসতে হবে, বলছিনা অনেক নৌকায় পা রাখা যাবে না! কাজলচোখের আয়নাজলে স্মৃতি হাতড়ে হাসতে হবে; কথা হবে না, দেখা হবে না বুকে জড়িয়ে চুমুও না, হৃদয়ে হৃদয়ও জড়াবো না, চোরা স্নানে একান্তে একাত্ম হবো না; তবুও প্রজাপতি হয়ে ফুল ফুটবে ফুলেরা গন্ধ বিলাবে, কোকিল ডাকা বসন্তে নীলাকাশ হাসবে; শিশির ভেজা [বিস্তারিত ভালোবাসা ভাল না]

হাসির বৃষ্টি

হাসিরা হেসে ওঠে, বৃষ্টি মেলে দেয় গায়ে; সুরা মগ্নতায় রঙ্গিন হয়ে ফিকফিকিয়ে হাসে, হাসি দেখে ফুলেরা হাসে পাখি হাসে, শিশুটিও হাসে। বাতাবী লেবু গন্ধ ছড়িয়ে হাসে, হেসে হেসে হাসে; জানালার গন্ধরাজেরা জলফোটা মেখে হাসে, তবুও দু’একটি কেতাবি বুদবুদ গোচরের অগোচরে ডানা মেলে নীলাকাশের আকাশে, হাসবে সেও কোন একদিন মৃত্যুর একান্ত অবসর অবকাশে; সাহসী হাসি ফুলসৌরভ [বিস্তারিত হাসির বৃষ্টি]

ভোরের আততায়ী

খুঁজছি একটি সুবেশী আততায়ী নিঃশব্দ মৌনতার কাছে বর্ষামাদলে, জানলা দিয়ে হামলে পড়বে শিলাবৃষ্টির বেশে বয়ে যাবে কেয়ামত তাজা রক্তের স্রোত শেষে; ধোয়া ওঠা হিম হিম বরফে খুন হতে হতে ভালোবাসার মেঘজল বর্ষা হয়ে ছুঁয়ে যাবে সকাল, বিকেল ও রাতে, বন্ধক প্রাণে খুনের তালিম নিয়েছে কে কবে কোত্থেকে? ভোর যে এসে গেল আততায়ীর ভুতুড়ে বিষণ্ণ চিৎকারে [বিস্তারিত ভোরের আততায়ী]

স্বেদ-মুক্তা হাসি-কান্না

শিশিরের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়, না, ছিল না সেথায় শব্দসুখ অকথ্যতার অশ্রাব্যতায় ; সহসা জেগে ওঠে সবুজ পাতারা সুদীর্ঘ নীরব নীরবতার আড়াল ঠেলে নিঃশব্দ নিস্তব্ধতার গভীর রাতে ব্যাপ্তির শেষ প্রহরে; নাহ, কেউ নেই জেগে, হুতুম পেঁচার জ্বলজ্বলে চোখ! সেও নিভেছে সেই কখন! নাম নাজানা পাখি তাও ডেকে ওঠে না, ডেকে যায় ডাহুক ক্ষণে ক্ষণে, ক্বচিৎ; [বিস্তারিত স্বেদ-মুক্তা হাসি-কান্না]

গল্পদেরও কিছু না বলা গল্প থাকে

আমারওতো কিছু গল্প আছে, ছিল এবং থাকবেও। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবার গল্পেই থাকি, শুনি এবং বলিও বিস্তর; গল্পে গল্পে। গল্পেরও গল্প থাকে, গল্পদেরও কিছু বলার থাকে, সে সব বলারা কোথায় থাকে? না বলা বলাদের কাছে? একটু ইচ্ছে তো আছে গল্পবলাতে। সে গল্প কে ই বা শোনে! কাকেই বা শোনাই! গল্পগুলো ভারী হয়, না বলা হতে [বিস্তারিত গল্পদেরও কিছু না বলা গল্প থাকে]

অব্যস্ততার ব্যস্ততা

সবাই ব্যস্ত! পিপীলিকা প্রজাপতি মৌমাছি, রাতের পাখি, হিজল তমাল সোনালু, লাল হয়ে ওঠা বট ফলের হরিয়াল। পেকে ওঠা পুই ফল, সাপ্তাহিক মাতাল, নাতি-পুতির মেলায় টাকলা বুড়ো, খামোখা ব্যস্ততার ভিড়ে আমিই শুধু অব্যস্ততার ডাঙ্গর পাহাড়ে পাগলা হাতি খেদাই বিনা ডাঙ্গশে, ডডনং হয়ে ডায়েরিতে ডাংগুলি খেলি অব্যস্ত ব্যস্ততার সাথে মায়াময় বিরামহীন মেশামিশি।

হাসি হাসি হাসিকান্না

পুতুলকান্না দেখি দেখিও না, পুতুলের জন্য কান্না দেখি, পুতুলের জন্য হাসি হাসি হাসি মুখ করেই দেখি, খুব প্রিয় ছিল হাসিটি, অঙ্গে- প্রত্যঙ্গে মেঘের যেমন বৃষ্টি থাকে সংগোপনে- সঙ্গে ঝরে পড়ে শঙ্খনীল হাসি; মধ্যাহ্নের দুপুরবিকেলে রাশি রাশি। নিয়তির জোয়ারে ফাঁড়া কাটিয়ে ছিল ভেসে উল্টে-পাল্টে সব, একটি অকৃত্রিম হাসি;

স্বপ্ন-নূপুর

এ কোন্‌ ভালোবাসার দ্বিপ্রহর? প্রাসাদ নিদ্রা ফেলে ঝর্ণাপ্রপাতে আকণ্ঠ ডুবে জুড়াই প্রাণমন, সোনাবিকেলের ধানক্ষেত, কাশবন ফেলে ফিনফিনে নরম সন্ধ্যাতারায় সজল নিমজ্জন। এ কোন্‌ উন্মুখ উন্মত্ত অযূত অনুবোধের উন্মাদন? ভালোবাসার স্বপ্নজাগরণে সাতারুমনের প্রতীকী নৈপুণ্যের প্রমোদবালক বা বরপুত্র নই আমি, আপ্লুত ভালোবাসাঝড়ের হ্রেষা তুলে সবুজের ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে পূর্ণপাত্র সঞ্চয়ের স্বপ্ননূপুর তুলে দেব বা নেব! হাসি আনন্দের [বিস্তারিত স্বপ্ন-নূপুর]

কঙ্কালের হাতছানি

এই তো, এই মাত্র এক সতেজ-সজীব খুনিকে দেখলাম, খুন হতেও দেখলাম, দেখলাম রক্ত নদীতে বাঁচার আকুতি, মরে গিয়ে বেঁচে যাবে তাও মানছি না। হীরকধার তরবারির ঝানু আস্ফালন শেষে খুনির চোখে জল! খুন হলে কাঁদে, খুন করে কেউ কাঁদে নাকি! এর থেকে মরে গিয়ে বেঁচে থাকার রাস্তাটাই ঢের ভাল ছিল, বাক্সে লুকানো রুদ্ধক্রোধ পরস্পরাহীন, আক্রোশের জগদ্দল [বিস্তারিত কঙ্কালের হাতছানি]

বিপন্ন কৃষক

নিজের জমি নেই, ছিলও না কোন কালে, নিষ্কণ্টক অনাবাদী ছাপোষা গেঁয়ো কৃষক; ছয়-ছোট্ট একটুকরো বুনো জমির রাতভর স্বপ্ন দেখে নিবিড় অনাবাদী জমিতে সঘন বীজ পুতে ফুল-ফলের স্বপ্ন মাখে, ভালোবাসার যত্ন নেয় চাষের গভীরে, চকচকে ফলার মনযোগী চাষী, উর্বরতায় সিক্ত জমিটি চষে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা, শেষরাত অব্দি, উঠবে সোনার ফসল আঁটি আঁটি; অকস্মাৎ পর্যুদস্ত স্বপ্নচাষী, খুনির তীক্ষ্ণ ভোজালিতে; [বিস্তারিত বিপন্ন কৃষক]

সোনালী রোদবৃষ্টি

অবশেষে বৃষ্টি এলো শীতলস্বস্তির পরশে, ভেজাবৃষ্টির হাসিআনন্দ নিয়ে, তুমুল উচ্ছ্বাসে হাহুতাশ চেপে, রোমান্টিক ভুঁইফোঁড়ের বেশে! রাজকীয়তায় মাথা মুড়িয়ে, স্তব্ধক্লান্তি ঝেরে; স্বপ্নসঞ্জীবনী আনন্দাকাশের অপরূপ ডালি নিয়ে, ক্রমাগত ভিজে যাওয়া, ঝড়জলে হুটোপুটি খাওয়া বৃষ্টিনদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া, এক চিলতে সোনারোদ্দুরে উঁকি দেয়া,

কাঠবিড়ালিচোখ

হেসে হেসে হাসিতে সোনা ফলিয়ে মুক্তোঝরা দাঁত কৈ? চোখের পাতায় ঝিলিক হেনে আঁচড় কাট! ঝাঁঝাঁ রোদ্দুরে কী চাও কী খোঁজ? হিম হিম হিমের পরশ মেখে, অকথ্য অবোধ্য এক দারুণ যন্ত্রণায় যৌবন-রাঙা উৎপীড়নে; নীল নয়, লীনের হাতছানি প্রাণপনে! চঞ্চল প্রান্তরে পুরু নিস্তব্ধতায় নির্দোষ স্বপ্নময়তায় কাঠবিড়ালির চাঞ্চল্যেভরা সাবালক মধুচোখে কে তুমি? বকধর্মী হারামী বনিক বা গণবধূ না [বিস্তারিত কাঠবিড়ালিচোখ]

সত্যির মিথ্যে

অরণ্য, সাদাচোখে খুব করে লোকালয়ের কথা ভেবেছিল, লোকালয়ে ঘর বাঁধার কথা ভেবেছিল; নড়নড়ে ঘরও তুলেছিল! দূরন্ত, ভীষন প্রেমিক সে, ঝাঁ চকচকে, হুঁ হুঁ করে হঠাৎ কেঁদে উঠেছিল, একান্ত ভাবে আত্মহত্যা সত্যি সত্যিই করতেও চেয়েছিল; ফিরে গিয়ে অরণ্যে জীবন বাঁচিয়েছিল। জানিনে সত্যি মিথ্যে, র’য়ে স’য়ে নুঁয়ে পড়ে সরুমুখে এমনই আমাকে বলেছিল; শুনে নিঃশব্দে হো হো করে [বিস্তারিত সত্যির মিথ্যে]

স্বপ্নদ্বীপের বনজ্যোৎস্না

নদীর দু’কুলেও কুল থাকে কুলে থাকে উপচানো সবুজের ভীর মেঠো পথ, দেশোয়ারী সুর। মনেরও কি থাকে কুল, দু’কুল? মেঠো পথ? রাখালীয়া বাঁশি? প্রলাপ প্রলেপে অকারণ ওঠে মেতে অনুর্বর অনিদ্রারোগীর মনমৃত্তিকা চোখে দুঃখ-বেধা দীঘল পথে ভরা বর্ষা, ঐ-তো ঐ দারুচিনির দ্বীপ, স্বপ্নদ্বীপ; ঝর্ণাজলে ভেসে থাকা টলটলে জ্যোৎস্নাসবুজ দ্বীপ, পদব্রজে নয়, গুটিগুটি পায়ে হেঁটে হেঁটে বহুদীর্ঘ পথ [বিস্তারিত স্বপ্নদ্বীপের বনজ্যোৎস্না]

রূপসী সবুজ

জেগে ওঠা বুদবুদ পেছনে ফেলে ফেলে আসা বাঁক মিলায় বাঁকে ঢেউ তুলে ঢেউ জাগিয়ে নির্মিলেষ আঁখি চেয়ে থাকে নিষ্পলকে খোঁজে দারুচিনির দ্বীপ, দ্বীপে দ্বীপে; অতীতের ভবিষ্যৎ থেকে উঠে আসা ছায়া ছায়া জলরাশি বেবিলনের বাঁশী হয়ে বাজে অন্ধকারের ঘুম পিয়াসী সুনীল জলরাশি, সংক্রামক সচল স্রোতের নিশানায় খুঁজে নেবে রূপসী সবুজের তটরেখা পৌঁছে দেবে মুঠো ভরে আলোর [বিস্তারিত রূপসী সবুজ]