আমাকে বলে, পদ্য লিখে দাও, কয়েক ছত্র, এলেবেলেই তো লেখো, এ আর এমন কী? দু’মিনিটের তো মামলা, এক্ষুনি লেখো, শরমে মরে যাই, আশকারা প্রবণ হলে যা হয় আরকি। আমি বলি,শাবাশ রোসো রোসো, এ দেখি ‘শীঘ্র পতন’ মামলা !! নিকুচি করি ম্লান ম্লেচ্ছ মোহনমুগ্ধতার, এত্ত সোজা? বললেই হল? শানিয়ে দাঁড়িয়ে আছি বুঝি? বলা মাত্রই সেরে ফেলবো [বিস্তারিত হে মৈনাক পর্বতমালা]
হুতাশন নেই, হা পিত্যেশ আছে হিলমিল হুলাহুলির হুল্লোড় আছে, গোপনের প্রকাশ নেই। ঝড় নেই মেঘ আছে, জলোমেঘ কেটে যাচ্ছে। ঝমঝম নেই, নেই পূর্বাভাস সকালে সজীব শীতরং আছে; রোদের উষ্ণতা আছে, তাপ নেই প্রবেশের নিষেধ আছে নিষেধের প্রবেশ নেই। ধুপধাপ দুমদাম পথ চলা আছে, ছলাকলা তো আছেই, শব্দ নেই, আচানক ফেটে পড়া নেই মন পুরাণের গহীন [বিস্তারিত পদ্মে নীল আছে]
ভেজা বালিয়াড়িতে থমকে দাঁড়িয়েছি, হেঁটে যাচ্ছিনা কোন ক্রমাগত উপচে পড়া দিকভ্রান্ত শূন্যতার দিকে, সামনে ঝুলে আছে উন্মুখ বক্ষে সেলাইয়ের ফোঁড়ে-ফোঁড়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহের মত ‘প্রবেশ নিষেধ’ এর বেড়াজাল, নখের ডগায় কত আর বালি তোলা যায়? বড়জোর এক মুঠো বা তার চেয়ে সামান্য একটু বেশি! তার থেকে এই তো অনেক ভাল, চিকচিক সকালের রৌদ্র রঙে হেঁটে হেঁটে [বিস্তারিত সমুদ্রে ‘প্রবেশ নিষেধ’]
আসব আমি মেঘ হয়ে কোন এক রাতে, অপলক মৌনতার চরে কবিতারা স্বপ্ন মেলবে, নিঝুমের নিঝুম রাতে, এই ভেজা বালিয়াড়িতে; এইইই, নটি সমুদ্র, ছেনাল কান্না কেঁদোনা, ফিরে তো আসি তোমারই অলিন্দে, হাতে নিয়ে বিষের পেয়ালা আসব আবারো। নীরবে গড়ান তোমার দু’ফোটা লোনা জলে জলবৃষ্টি দিয়ে যাব, হারিয়ে যাব আবারো এমন করে, জনস্রোতের এই উৎসবে। নীল অঞ্জনের [বিস্তারিত চল, সমুদ্রে যাই আবারও]
বরিশাল থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব একশ’ কিলোমিটার, প্রশস্ততর মসৃণ রাস্তায় গড় গড় করে ছুটে চলা মজাই মজা। পটুয়াখালী পর্যন্ত একটি ফেরি। বড় নদী হলেও দু’দুটো বিশাল ফেরির কারণে তেমন মেজাজ ভঙ্গ হয় না সাধারণত। যাওয়া হবে কী হবে না, এমন ভাবাভাবির মধ্যেই সব ঠিক হয়ে গেল, একটি বড় গাড়ী ও একটি ছোট গাড়ী, হোটেল বুকিং। সাকুল্যে [বিস্তারিত চল, সমুদ্রে যাই]
ফেবুতে একটি মেসেজ বেশ কয়েকদিন ধরে লাল বাত্তি জ্বালিয়ে রেখেছে, সাথে একটি ফ্রেন্ড রিকু। কালে ভাদ্রে ইনবক্সে মেসেজ আসে, আসবে কি করে, আকামা অকর্মণ্য অপুষ্ট যে। অজ্ঞানতা হেতু ইনবক্সটি আমার কাছে তল বক্সের মত লাগে, যাক যা বলছিলাম। মেসেজ না দেখে ফেলে রাখা খুব পুরনো অভ্যাস, অবশ্য এর জন্য জবর ভুগেছিলাম একবার, সেই মেসেজটির উত্তর [বিস্তারিত রূপকথার অতল বক্স]
কিয়ৎকাল পূর্বের ঘটনা বয়ানে যাচ্ছি। চা খাচ্ছি, খোর না কিন্তু, ফোন দেব কিনা ভাবছি, দু’টো নম্বর চোখে রাখছি, আজ ছ’মাস, প্রথমটিতে দিলাম ফোন, অবারিত ছিল যে টি, বন্ধ। ধন্দে পড়লাম, কথা হয়েছিল ছ’বছর আগে সর্বশেষ, কত্ত কিছু পাল্টায়, নস্যি তার কাছে ফোন নম্বর। তব্ধা খেলাম, শেষ করে ঝিম মারা বুকে ফুঁ দিয়ে অন্যটায় দিলাম ফোন, [বিস্তারিত রূপকথায় রূপকথা]
স্বাতীর মত জ্বলে আছ দূর আকাশে জ্বলজ্বল করে, সজল সলজ গ্রহান্তরে, নেই অভিযোগ অভিমান অভিযান। লেপ্টে আছে কাঙ্খা ও স্বপ্ন হৃদস্পন্দনের নীরব কোলাহলে স্তব্ধতার মত গোপনাশ্রমের নিভৃত পাতাল রাজ্যে; শূন্য পথের গভীর শিহরণে, নিষ্প্রাণ সপ্রাণে চুইয়ে পড়া গড়িয়ে যাওয়া এক স্বেচ্ছা পালক। পোষ না মানা পাথর প্রাণ, ডানা মেলা বেদুইন প্রাণ তপ্ত বালুতে মুখ লুকায় [বিস্তারিত গ্রহান্তরের স্বাতী]
ঝক্ঝকে সন্ধ্যার শীতল জ্যোৎস্নায় বা বিকেলের সোনা রোদে হাতছানি দেয় ঐ কাছ-দিগন্ত, বলে মরে যেতে, ম্যারাথন ভালোবাসায়। বর্ষ শেষের চিকেন উৎসব অনেক তো হলো, উঁচু-নিচুর দরদিয়া যাতনা, নিভৃতের পথে হাঁটা, হেঁটেই পার হওয়া, এক ঝুড়ি প্রশ্ন মাথায়। থমকে দাঁড়াই সশব্দে পাতা মাড়ানোয়, ভাবছি ছুঁড়ে দেব কিনা প্রশ্নবাণ!! নাকি বানপ্রস্থে গমন প্রত্যাগমন। এই তো বেশ, মেকি [বিস্তারিত বিকেলদের হাতছানি]
ঝুলছি ঝুলছি, ঝুলেই আছি, ঝুলেই যাচ্ছি। ঝুলে থেকে নাচছি, নাচতেই হবে যে, ঘরানার ঠিকঠাক না ভেবেই। ঝানু ওস্তাদের কাছে নাড়া বেঁধে বা না বেঁধে। ইচ্ছেকাতর অপূর্ণতায় সোনায় সোহাগা বাড়াবে মুঠো মুঠো। পিঁপড়েদের কাছে নিয়ম শিখে পিল পিল পিছু নেয়া, মিষ্টিমুখের উল্লাসে, ঝুলে পড়া চোয়ালে নাচিয়ের হাতছানি, রাগের অনুরাগ, ভালোবাসার খু্নসুড়ি। ঝুল বারান্দায় নাচানাচি। শেষ অব্দি [বিস্তারিত জীবনের ঝুল নাচ]
আগাপাশতলা না ভেবে ল্যাম্প পোস্টের অস্পষ্ট মিহি মৃদু আলোয় একটি সেলফি পাল্টে দিতে পারে কালান্তরিতের স্বপ্ন জাল। রোজনামচায় কত কী জড়ো করি জুড়ে দেই, সিটি বাজাই, ব্যবচ্ছিন্ন মন দুহিতার শব্দহীন নীল উপত্যকায়, মন হরিণের পটভূমিতে সন্ধ্যা সাজাই, ওড়াই লাল সবুজের পতাকা। নিশ্চুপ নির্বিকার হিংসা আর ঘৃণার বিদ্বেষ ও বিভেদ ছুঁড়ে ফেলে বায়না ধরা শিশুর হাতে [বিস্তারিত ভালোবাসার নদীজল]
তাল তাল নীরব নিরবধি স্তব্ধতায়ও হওয়া-হওয়ি হয়, প্রজাপতির ডানায় তোলে রং ঝড়, সুঘ্রাণ ফুল ফোটে নিভৃত-গভীরের গোলাপ বনে, বাতাস কাপে ভ্রমর গুঞ্জনে; থমকে যায় আততায়ী সময়, পিছু হটে অবশ্যমান্য ভঙ্গীতে। ক্রোশ ক্রোশ জগদ্দল ঠেলে বিনীত চোখহাসি স্পর্শে সহিষ্ণু আলোয় হেমন্ত রাত্রির প্রথম প্রহরে অশৃঙ্খল আনন্দ তরঙ্গে, আনন্দ পেরুলেও জেগেই থাকা, সূর্যি মামার দেশে ভোর আসবে, [বিস্তারিত একাকীর বনগোলাপ]
উজিয়ে ওঠা জ্যোৎস্নার কলরবে, বসন্ততরঙা সোনা বিকেলে, পাতা ঝরার বিজন সন্ধ্যাতে, দগ্ধ মরুতে বা বিঘত রোদের ঝলকানি ও গুমরে ওঠা পাঁজর যন্ত্রণাতে, উত্তাল সমুদ্র ছেনে সুউচ্চ পাহাড় বেষ্টনে দুষ্ট-মিষ্টের ফুলঝুরি একই সাথে। সুবুদ্ধি কুবুদ্ধির সংগ্রহে, গ্রহণ-বর্জনে ও বিতরণে আপনাপন আপনাবদান বিছিয়ে রেখেছি পথের প্রান্তরে; পরীয় পরিবৃত্তে কোন এক জোনাকি দুপুরে, জ্বল জ্বলে জলজ্যোৎস্নায় হিম হিম [বিস্তারিত অযুত জন্মদিন]
বিরহী সকাল ঘুমোয় এবার পাশ ফিরে ফিরে, শিলা পাহাড়ের ওপাশে। বিপন্ন কুয়াশারা ছুঁয়ে যায় এবেলা ওবেলায় অবেলায় ও, ওপারে সাঁওতালী সুরের উথাল পাথাল ঢেউ; টলটলে গ্লাসে ভাসা সূর্যের সোনালী উষ্ণতা আমাকে ভরকে দেয় হে আমার নিঃসঙ্গতা আমাকে জড়িয়ে নাও। দীর্ণ কর খাঁজ কেটে কেটে, ঝুঁকে পড়ে ঘরে যেন আর না ফিরি সবুজের গন্ধ শুঁকে শুঁকে, [বিস্তারিত কুহক সমুদ্দুর]
আগে থেকেই ঠিক করা ছিল ক্ষণ ও স্থান। এই শীতসন্ধ্যায় জিসানের ইটোদ্যানের পাশে মানস বটবৃক্ষের পাদদেশে চা সংযোগে তুমুল গপ্পের গলাবাজি হবে, উপলক্ষ অচিরেই প্রকাশিতব্য। টমটম হাঁকিয়ে যথারীতি যথাসময়ে অবতরণ নিষ্কণ্টক নির্বিঘ্নতায়, হিম সন্ধ্যায় চলমান আড্ডায় যতি এলো, পকেটে হাত দিলে শূন্য হাত ফেরত এলো, ফোন নেই। থাকার কথা ছিল। সাধের ফোন!! কত স্মৃতিমাখা, কত [বিস্তারিত বিরল, বিরল নয়]