আলেয়ার অযুত মন্থনে

ঘড়িহীন ভালোবাসার ছায়া-মায়া নীড়ে শূন্য থেকে পূর্ণের শহরে বোঁচকাবুঁচকিহীন নগ্নতায় অপেক্ষার আরশি নগর হাজার বছরে। ঘূর্ণির আলোকিত বিকেলে বরফ ঝর্ণার দীর্ঘ পথ হাঁটতে চাই না, ভাঙ্গা পায়ের ব্যথা-ফোলা পা নিয়ে জনারণ্যের আঁকে বাঁকে; খুউব ভয় করে, উঁচুর প্রাচীরে দাঁড়িয়ে থাকে সময় রণ পায়ে লুকোচুরি সময় আমাকে ছায়া দেয়, বাঁচিয়ে রাখে হাজারের হাজার বছর আলেয়ার মন্থনে। [বিস্তারিত আলেয়ার অযুত মন্থনে]

মায়াময় শূন্যতায়

পড়শি হয়ে আসছে শীত, জড়াবে বলে, ডানা মেলে কাকাতুয়ার বেশে, কথা বলা মায়া পাখি সরব হবে কথা না বলে শুধু চেয়ে থেকে লজ্জানত মুখে; হৃদয়ের দ্বার খুলে ডেকে নেবে সবুজের ছায়া হয়ে। ঝিরিঝিরি দৃষ্টিপাতে হবে বাতচিত দণ্ড দুই, হৃদয়ের যুগল পদ চিহ্নে; ভোরবিহানের বিবর্ণ বিষণ্ণ বিচ্ছিন্ন নির্জনতায় মলিন মুখে হাসি হাসি ভাব নিয়ে দাঁড়ায় সামনে [বিস্তারিত মায়াময় শূন্যতায়]

গোপন কথাটি রবে গোপনেই

স্মৃতিঃ শঙ্খনীলের পুড়িয়ে দেয়া চিঠি প্রীতি গতজন্মে লুকিয়ে পড়লো এজন্মের আধ খাওয়া স্মৃতি…… অবিরাম বয়ে যাওয়া শান্ত নদীঃ কোথায় সে কাঁচপোকা, কচলানো ধুলোবালির রেখা? শান্ত নদী বয়ে যায় অবিরাম, সাথে তার শুকনো শাখা। রিনঝিনঃ নেবে তুমি, ছোঁবে রিনঝিন শব্দাবলী? যুক্তাক্ষরে ভয় পেওনা, এসো একটা একটা করে খুলে ফেলি. জলতরঙ্গের টুং টাং শব্দঃ উহু হবেনা চোখের [বিস্তারিত গোপন কথাটি রবে গোপনেই]

সখি অনুপমা শাহাজাদি

আর্লি টু রাইজ এন্ড আর্লি টু বেড………অনেক কিছু হয়, হোক। কথা সেটি নয়, কথাটির মধ্যে বেশ ছন্দের ভাব আছে, থাকুক; নন্দলাল খুব সকালেই ঘুম থেকে ওঠে, উঠতে তাকে হয় ই, পুরনো অভ্যাস, অবশ্য অভ্যাস না হয়ে উপায় নেই, সুর্য্য দিক পরিবর্তন করে করে ফেলবে যে, অগত্যা এই খুব সকালে উঠে ভোর দেখার মহান দায়িত্ব তার [বিস্তারিত সখি অনুপমা শাহাজাদি]

খুউব ইচ্ছে করে

ইচ্ছে হয় মেষপালক হই, দিনমান ঘুরিফিরি মেষদের সাথে সাথে মাঠ বা উপত্যকার প্রান্ত থেকে প্রান্তরে, গ্রীষ্ম বর্ষা শীত বসন্তের মেষশাবকদের কোলে তুলে রাখি; ইচ্ছে করে তৃষিত কাক হতে, কলসে পাথর ফেলে জল পান। কবি হতে ইচ্ছে করে, স্বভাব কবি, মায়া মায়া ভাব নিয়ে ছ্যাঁৎ করে নামিয়ে নেব যখন-তখন মহামায়ার পরম প্রেম উপচানো জড়াজড়িময় কবিতা সমগ্র, [বিস্তারিত খুউব ইচ্ছে করে]

রূপকথা…..৫

ছায়ারা হেঁটে ফেরে দিন ভর, জাগরণের শয়নে স্বপনে , রোদে বা ছায়ায়, ঝড় বৃষ্টি-বন্যায়, ছায়া বড় হয় ছোট হয়, মিলিয়ে যায় তুমুল দ্বিপ্রহরে ও দিনান্তে, রয়ে যায় ছায়া হয়েই। মৃদু চালে হাঁটে হাঁটতে থাকে হেঁটে যায়, পূর্বগামীর প্রলম্বিত পথ ধরে, নীরব-নিঁভাজ নিশ্চুপে, ডানে সোনালিসবুজ গাছ, বায়ে নীল অপরাজিতার ঝাড়, ছায়া ক্রমাগত বিযুক্ত হতে হতে রূপ [বিস্তারিত রূপকথা…..৫]

রূপকথা…..৪

বাতাসে আজ সবুজের গন্ধ, আঁটকে রাখা নিঃশ্বাসেও, হে সবুজ উপত্যকা তাকাও, হাসো, এখুনি নামবে অঝোর শ্রাবণ। বৃষ্টির সোনা পায়ে রুপোর মল, নাচবে যে সে পেখম মেলে; প্রদীপের সবুজ শিখা জ্বালিয়ে খুঁড়লেই পেয়ে যাই জলশুশ্রূষার অগাধ গোলায় সারিসারি ধান, এই যে হাওয়ার টুং টাং , বিকেলের বালিয়াড়ি পেরিয়ে বনবালাদের কানেকানে কি কথা বলে যায় বনঝুপির আড়াল [বিস্তারিত রূপকথা…..৪]

রূপকথার শিশু

ছোট্ট শিশু দোলনায় দোলে, দোলে মায়ের বুক জুড়ে ফোকলা দাঁতে, কালো মায়ের পাথর বুকে হাসি ঝোলে, ভুলে যায় সব কিছু পিছু ফেলে। স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে খটখটে শুকাল ভূমিতে সবুজের অপরূপ পথ বেয়ে খুকুমণি হেঁটে যায় সোনা দিগন্ত পানে চিরায়ু স্বপ্নচাষীর বেশে। জল পিপাসার ধূসরতা মুছে সুবিস্তৃত সবুজ শুভ্রতা শিশুদের জন্য তুলে রেখে কালো মা কাজ [বিস্তারিত রূপকথার শিশু]

কাকাতুয়া

প্রস্তর যুগের ফিচার ফোনটি বেজে উঠল, কালে ভাদ্রে বেজে ওঠা ফোনে অচেনা নম্বর, ধরবো কী ধরবো না ভাবতে ভাবতে ধরেই ফেললাম। বিনয়ে গলে গলে জানাল আমার একটি পার্শ্বেল আছে , এখন পাঠালে আমাকে পাওয়া যাবে কিনা। তথাস্তু জানিয়ে ভাবতে বসলাম, আমি কোথাকার কোন বক্কেশ্বর, আমার জন্য পার্শ্বেল আবার কে পাঠাবে!! ইহধামে এমন বান্ধব কবে কোথায় [বিস্তারিত কাকাতুয়া]

রূপকথা…..৩

এই যে শুনছেন, আসুন আসুন, কিছু গল্পের সাথে তাকাতাকি করি, পচা গপ্পো টাইপের কিছু একটা, এক দেশে ছিল এক রাজা, তার ছিল আধা কুড়ি রানী!! (কেমনে কী),এবং প্রতি বছর এক দু’জন নূতন রানী যোগ হচ্ছেন নিয়ম করে, হাতিশাল ঘোড়াশাল বাঘশাল … সবই শালময়। ভাববেন না যেন আবার চামে সোয়াজিল্যান্ডের গপ্পো ফেঁদে বসছি। নাহ্‌, জুত মত [বিস্তারিত রূপকথা…..৩]

রূপকথা……২

ঘুম, তুমি ঘুমাও, আমি জেগে থাকি। রাত্রিময় অঘুম সুনসানের এ দেশে, এ পাশ ও পাশ করে, নিঃশব্দে ঘুমের অমর্ত্য রাগিণীর তান ছুঁয়ে এঘর ওঘর করি, ঘুমানোর চেষ্টায়, স্বপ্নোত্থিত স্বপ্নের শেন্যসম দৃষ্টিভয়ে জেগে থাকি, জেগে জেগে সকাল দেখি, আবার ঘুমিয়ে পড়ি ঘুমহীন ভাবে, নাকডাকা বিগত যৌবনা স্বপ্নঘোর স্বপ্নভোরের নিকুচি করি, ভয় পেয়ো না ঘুম, ঘুমাও, এসেছি, [বিস্তারিত রূপকথা……২]

রূপকথা…… ১

সাধ্যের অতীত সুখ, সাধ্যের অতীত শ্বাস চাই না, নিজের বাঁচা বাঁচতে চাই। শেষ বিকালের রূপ দেখে বেঁচে থাকতে চাই সাদাসিধে সুখে, সাঁঝের রাক্ষস আর নিখাদ নিটোল রোদ্দুর এড়িয়ে। ফাঁকিবাজ কুঁড়ে হতচ্ছাড়া? তো সমস্যা কী, এমন হলে? হঠাৎ উষ্ণ প্রস্ফুটিত নিশপিশ রূপশালী ফোঁসা হিংসে জানান দেয় কিংশুক রাজ্যকথায়, এই কোজাগরী পূর্ণিমায়। মেঘমল্লারের হৃদ্য হৃষ্ট হিরণ্ময় শুভ্র [বিস্তারিত রূপকথা…… ১]

আড়াল চোখ

কেউ এক জন দেখছে আমায়, আড়াল থেকে আড়াল হয়ে, চোখ টান করে টানাটানা চোখে, সকালের ঝাঁপি খুলে, স্বপ্ন বোনা মায়াবী চোখে, স্বপ্নের সোনা বিকেলের রং মেখে, অপলক মিষ্টি হাসির দ্বার খুলে। চোখ গেলে কাঁদেন, কাঁদলেও রাগে না, স্বপ্নময় জাদু চোখ, সাবিত্রী সে, মায়াবিনী সে, স্বপ্নে থেকে স্বপ্নের চোখে নিরন্নের থালায় চোখ ফেলে নির্নিমেষ; এলো চুল, [বিস্তারিত আড়াল চোখ]

রাত্রির ঝুল-বারান্দা

বৈভব আর বিত্তে অহংকারী মন মন্দিরের সুউচ্চ ঝুল-বারান্দায় ঠাঁই পেয়ে ঠাঁই নেয় নীল রাত্রি। রাতের আকাশে চোখ পাতে, নীলিমার নক্ষত্রবীথিতে খুঁজে ফেরে স্বপ্ন জোনাকি। জীবনের ঘন উপত্যকায় চোখ ফেলে রাত্রি, দেখে জীবনের মৃত্যু, ভালোর মন্দ, সুখের দুঃখ, ন্যায়ের অন্যায়; পাশাপাশি চলছে নীরবে উৎপাতহীন ভাবে সারিবদ্ধ করোটীর মিছিল। নূপুরের ধ্বনি তুলে নিক্বণ পায়ে নীরবে রাত্রি আসে [বিস্তারিত রাত্রির ঝুল-বারান্দা]

জলের আয়না

দুপুর কে ডেকে বললাম ‘চলো, আকাশ দেখি, এই দুপুর সন্ধ্যা, সকালের দুপুর, রাতের আকাশ বা বিকেল রংয়ের আকাশ’। দুপুর বলে, ‘আকাশকে দেখার কী আছে? তার থেকে চলো অন্য কিছু দেখি। সস্তা স্মৃতির বিষণ্ণতা দেখেছি ঢেঁড়, জেনেছি এর ওর ভীষণ অচেনা একাকীত্বের প্লাবন। একাত্ম হইনি হবও না, এই এর ওর সাথে। দেখলাম ছোট্ট সাঁকোর নীচে তীরতীর [বিস্তারিত জলের আয়না]