ক্রুদ্ধ ক্ষুব্ধ হিংসুটে বদমায়েশ,স্বনিয়োজিত বদ-নজরে কোতোয়াল, কেঁদেকেটে বিলাপ! এমন শীত পেরিয়ে এসেছে/যাচ্ছে সবুজের বনভূমি, সাধুতা ও মেধা নিয়েই। শীত-যাতনার কথা ভুলে; এই যে বিস্তীর্ণ সোনা সোনা-ধানের হাতছানি কৃষকের ডেরায়। আসন্ন উন্মুখ হৃদয় দীক্ষা নেয় দীক্ষা দেয় বদলে ফেলা সময়ের বসন্ত ডাকে। পুরনো কালে নূতন করে কেউ কী শুনতে পাচ্ছি বসন্ত-ডাক? বিশ্বস্ত বন্ধুত্বের প্রগাঢ় প্রাণে? [বিস্তারিত কোকিলের ডাক শুনতে পাচ্ছি।]
আ-তীব্র উত্তুরে হিম আর অভেদ্য কুয়াশায় কল্পনা-আকাঙ্খার ফানুস, আড়ে বহরে বৃহৎ, সুদর্শন-দুর্দশার দ্বারগুলো উন্মুক্ত করে শুধুই ডাকে, আড়-চোখের ভাঁজে; মুক্তি-সুখ বিলাবে অকাতরে, নিরন্তর-নির্ঘুমে। সকল ব্যাধি-নিরাময়ে; চোখে রক্ত তুলে/ইনিয়ে-বিনিয়ে ভয়-ও ছুড়ে দেয় না-ভাঙ্গা শপথের দিব্যি দিয়ে। পাশ ফিরে, আলস্যে গা-এলিয়ে আড়মোড়া ভেঙ্গে ভাবি, এই শীতে আমি-ই একমাত্র বা শেষ প্রেমিক নই; নিয়তির; ট্যারা চোখের রূপান্তরিত [বিস্তারিত উত্তুরে হিম]
সূচ-অভেদ্য কুয়াশায় ঘ্রাণ পাই পাখিদের, উড়ে যাওয়া পাখিদের ডানার; নাকি, মরুভূমির তীব্র ধূলিকণার, ধূলি ঝড়ের, নাকি, অতুলনীয় নিভু-ঔজ্জ্বল্যের কুহক হাতছানির! স্নিগ্ধ-হিংস্র-কুয়াশা-অন্ধত্ব আমাকে ঘিরে রাখে; বিক্ষিপ্ত হতভম্বতায় দিকহারা,অনিবার্যতার কারণ ছাড়াই, পথ হারিয়েছি কী হারাই-নি! ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষায়, সাময়িক কোন তাঁবু খুঁজে নেয়ার, স্বপ্নলোকের আলোয়! ছায়া-আলোর অস্তিত্বের অপেক্ষায়; ছুটে ছুটে আসা ছোট-বড় অনুগ্রহ/যাতনার ভাবনারা উপস্থিত, চমৎকার [বিস্তারিত জিপসির হৃদয়]
আভাস-ইঙ্গিতে নয়,নয় অনুপুঙ্খ অনুষঙ্গে, ভীষণ প্রচ্ছন্ন কুয়াশা-ভোর, দারুণ ব্যঞ্জনায়; অস্তিত্বের নিখাদ অনুপস্থিতি ঝাঁপ দেয়া সমুদ্র ঢেউয়ের মত জানান দিচ্ছে পরিচ্ছন্ন ধোঁয়াশা; মমত্বের মমত্বের আলো চোখে মেখে কিছুই আসে-না অনুসরণে অনুকরণে, এ যেন শুধুই হারিয়ে যাওয়া নিজ নিজ অস্তিত্বের মাঝে ঘোরতর সুগভীর কুয়াশায়; কল্পনার আকাঙ্ক্ষাগুলো, আকাঙ্ক্ষার কল্পনাগুলো সঞ্চয়ের সহৃদয় নিয়ে চারপাশ-জুড়ে ধাওয়া করে প্রতিশ্রুতি দেয়, [বিস্তারিত স্বপ্ন কুয়াশা]
এক তট থেকে অন্য তটে ভিন্ন পথে, ভিন্ন-ভিন্ন পথে গন্তব্যের অভিন্নতায় শুধুই অহেতুক ঘুরপাক, সেই-ই এক থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়; কেঁদো হিংসে আর অকৃতজ্ঞতার; পিছু নেয়া অন্ধকার প্রহর-অভ্যন্তরে আবার-ও উঁকি দেয়, পিছু নেয়, নিত্য নূতনের কুহক ছল, সেই পুরানোর পথেই; বৃন্ত থেকে খসে পড়া কলি ফিরে যেতে পারে-না সেই ফেলে আসা বৃন্তে; [বিস্তারিত কুয়াশা ভোর]
নিঃশব্দ-প্রাণ-অনুরাগে, ছড়িয়ে-পড়ে জমে থাকে একরাশ লিখে ফেলা অভেদ্য ভরসার নীলাকাশ, ঘাস ফড়িঙয়ের বেশে, এক স্বপ্ন-ভাবনা-জীবন; মর্মরিত উৎসমুখের সরবর থেকে, স্তূপ-অন্ধকার ঠেলে-ঠুলে। শব্দহীন হৃদয় অলিখিত প্রাণ, টিপ্পুনি কাটা পরিবেশ/প্রতিবেশকে ভাগারে ফেলে পুড়িয়ে ভস্ম ভস্ম খেলে, ফুল ফোটাবে বলে পণ নিয়েছে গন্তব্য না-জেনে/না-খুঁজে; ধেয়ে আসা বিষ-ঠোঁটগুলো ঘেউ ঘেউ করে, জয়ধ্বনি দেয়; তবুও প্রতিবার ঘুমোবার আগে প্রতিজ্ঞা [বিস্তারিত বেঁচে থাকার হাজার বছর]
(আমার)আপাত বন্ধ দরজার ওপাশে মায়াবী শীতের পরশ, উঁকিঝুঁকি দিয়ে/দিতে-দিতে সকালের কুয়াশা ভর করে নেমে আসা রৌদ্রোজ্জ্বলতা; ভাবি,এ ডাক সত্যি না-কী কুহক! এই যে কামেশ্মরী কবিতার মত মাখো-মাখো মাখামাখি-ডাক, মহনীয় শব্দ নান্দনিকতায় আলিয়ে পড়া, ইয়াং ইয়াং ভাব!কায়দা-সুন্দর এপ্রোচ, ক্ষণিকের শহুরে আদিখ্যেতা!! রাতারাতি জিততে শিখে যাব আক্কেল-বে-আক্কেলের মত ঘুমবো দুপুর পেড়িয়ে সন্ধ্যা নাগাদ, পৃথিবীর সব লাইব্রেরী কাঁধে/মাথায় [বিস্তারিত ঝর্ণার আঁকা ছবি]
নোটবুকে লিখে রাখা লেখা, কখন আনমনে কী-না-কী ভেবে না-ভেবে লিখে রেখেছি ভুলো মনে, মনের ভুলে, এখন আর মনে নেই, মনে রাখিনি, রাখতে চাইনি, চাই-ও না। হঠাৎ কিছু কাল, কিছু দিন পরে, খুঁজে-পেতে দেখি প্রতিটি আঁকে কত কী লিখে রেখেছি, চমকে উঠে কথা বলা রেখারা/লেখাগুলো হেই হেই কলরবে মাতে, এন্তার অভিযোগ মেলে রাখে/ধরে,লুকিয়ে রেখেছি কি [বিস্তারিত নোটবুকে আনন্দ-বেদনা]
পিনপিনে নাকি-কান্নার এক নিশীথ-নিষিদ্ধ ঘুম শেষে দাড়িয়ে আছে অপেক্ষায়, কখন সকাল হবে, শিরশিরের হিম বাতাসে হেমন্ত বিন্যাস লাজুক অধিকার নিয়ে; অপেক্ষা রৌদ্র যৌবনের, ভেসে যেতে চায় প্রকৃতির অধিকারে,এ বেলায়; ঘুণ-পোকার নিঃশব্দ বিচ্ছিন্নতার কথা কেউ হিসেবে নেয় না। সঙ্গিন-প্রেম যা শুধুই স্মৃতির মহড়া, বাসা বেধেছিল হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে একটু একটু করে; প্রায়শ্চিত্তের স্বপ্ন-পুরি স্মৃতির দ্বারে [বিস্তারিত স্বপ্ন-পুরীর স্মৃতি]
ধ্যান-ভঙ্গ শালিক পাখির মত উচ্চস্বরে ডেকে ডেকে ফিরে যেতে চায় মন, ফুল-চাষ গ্রামে, বাগান মালিকের সাথে থেকে থেকে দেখতে চায়, শিউলি কুসুম-ফোটা, নিতে চায় তাজা সুবাস বুকে-ভরে; বসন্ত-শীতের আবাহনে; অ-পাহারার আনন্দ-চিত্তে, জীবনে মন্ত্র-পড়া মধু-বাতাসে, ধীরে ধীরে গা-জুড়োতে চায়, সোজাসুজি একটু দূরবর্তীনী/দুর্বিনীত হয়ে-ই। প্রতীক্ষার তড়িৎ আকর্ষণে, সমবেত ডামাডোলে, ভেসে যেতে যেতে মজে যায় কুজ্ঝটিকা-জালে, স্বীকৃত সন্দেহার্ত-মন [বিস্তারিত আহ্লাদী কামনার কুজ্ঝটিকা]
সাধ ছিল, ছিল স্বপ্ন, নাছোড় বান্দার মত, হারানো-স্বপ্ন এখন-ও উঁকি দেয় পলাশ-প্রকৃতিতে, পরিযায়ীর মত, আস্তে ধীরে; লাফিয়ে ওঠা হৃদয় ছুটতে চায় দিগ্বিদিকে। সতৃষ্ণ-স্বপ্ন তাকিয়ে থাকে উষ্ণতার নরম রোদ মেলে সময়ের বাঁকে বাঁকে। বুকের মাঝে জেগে থাকে ঘুম, নির্ঘুমের মত, ঘুম, ঘুমাও এবার নির্বিঘ্নে, সময় জেগে থাকুক খোলা-বন্ধ চোখে, ব্যগ্রতা-সংযত অপেক্ষা-হৃদয়ে; ঝুঁকে-যাওয়া/ঝুঁকি-নেয়া সংক্ষিপ্ত জীবনে, ঘুম [বিস্তারিত ঝুঁকে-যাওয়া জীবন]
কুয়াশা-হাঁটা-পথে বরাবর/সারাক্ষণ নিজেকেই খুঁজি, খসে পড়া সময়ের পরতে পরতে জমে আছে কত শত মেঘ, ঝিলিক বৃষ্টি, কারণে অ-কারণে বয়ে যাওয়া বসন্ত-ঘ্রাণ-বাতাস; সান্ধ্য ডুবু-ডুবু সূর্যে, রাখালের ফিরে যাওয়ার পদ/পথ চিহ্ন, যা এখন-ও স্পষ্টতার রেখায় আঁকা, বোবা স্মৃতিরা লেপ্টে আছে স্বর্গ-নরকের সৌন্দর্য/বেদনায়, সেখানেও আছে/থাকে বসন্তের শঙ্খধ্বনি; এ্যাত্তোটুকু শিশু জীবনে বয়ঃপ্রাপ্ততা হতে হতে কবে কখন হাঁটা শিখে [বিস্তারিত রাখালের হেঁটে যাওয়া]
শূন্যতার বিস্ময়, বিস্ময়ের শূন্যতা নিয়ে ভাবি তৃপ্তি অ-তৃপ্তির এই যে অলংকার, পরাভব, ছবিমুখ-যাদুময়তা, হারজিত, শোক-তাপের মনি-মুক্তো! শেষের হিসেবের গরমিল, কোথায় কীভাবে মিলিবে/মিলাবে!! নিশীথের নিষিদ্ধ-সিথানে ঘুমের ভান করে রাতভর পরখ-পরীক্ষা, সবই তো বিফল-বয়ান, সমুদ্র-শব্দের মত প্রার্থনায় (নকল)অগম্য বিধাতা। মেহমান-সময়ের প্রশ্রয়ে পুলক-ইচ্ছেদের সাথে ধ্বনি তুলে উদয়-অস্তে কলকল করে, দুলে-দুলে সুরে-সুরে রঙ-বেরঙের বাহারি রাংতায় মুড়িয়ে, অতঃপর অচলতা [বিস্তারিত শূন্যতায় বসবাস]
ফেলে আসা দূর-বন্দরের দিকে তাকিয়ে ভাবি কবে/কখন ফিরে এসে ডুব দেব গোছল-নদীতে, যেখানে বন্দি হয়ে আছে আজন্মের দুরন্ত আনন্দ-শৈশব; আকাশের অগুনতি তারাগুলো রাতভর আনন্দ-হাঁটার খুনসুটি শেষে এই মাত্র ঘুমিয়েছে, আমার আটকে পড়া চোখ-মন গুলো শুধুই অপেক্ষার বীজ বোনে সাফ-শুচি হয়ে; নৈশব্দ-খড়ম-পায়ের খট-খট ধ্বনিতে জ্বাল হচ্ছে যন্ত্রণার তীব্র আরক, যেন বেঁধে রেখে দেবে জন্ম থেকে [বিস্তারিত ধন্য-বৃষ্টির আনন্দ]
এই যে ছড়িয়ে –ছিটিয়ে থাকা অজস্র অণুর্বর-উর্বরতা ইচ্ছে–জালে এঁকে-রাখা অনুরাগ, অমৃত স্বপ্ন ক্ষণস্থায়ী, খুব-ই তড়িঘড়িতে; নকল গরিমার সান্ধ্য-প্রণালিতে বিনষ্টের মর্মর ধ্বনি ফাঁদে বাঁধা ধ্বংস আর ব্যর্থতার উজ্জ্বল কেন্দ্রস্থল। সকাল রোদ্দুরের জ্বলজ্বলে মনোরম অবয়বে সুফি-নিঃশ্বাসের আলোর স্ফুরণ অস্তিত্বের গভীরে বন্ধুত্বে অবিচ্ছিন্নতায় সামনে এসে দাঁড়ায়। আবদ্ধ-হৃদয়ের ঘুম-জাগরণে সুর্যোদয়ের ভিড়ে শুধুই আনন্দ-শোভার শানবাঁধা পথ। ছবি নেটের।