আশ-কথা পাশ-কথায়, বাঁকা-নয়ন খাড়া-কানে কত কী লিখি-ফিখি, ফেলে রাখি, উল্টে পাল্টে দেখি, দেখি-ও-না, কখনও সখনও হারিয়ে ফেলি, হারিয়ে যায়-ও, ভুলে-টুলে-ও যাই। অগোচরে একান্ত নীরবে পড়ে থাকা, ভুল করে ফুল!! হারানো মানিক!! ভাল করে বিনোদ বেনী বাধিয়া দে………… পুরোন আঁকের মাঝে, অধরা, একান্ত গভীর জীবন্ত অনাবাদী কিছু পেয়ে গেছি, পেয়ে-ও যাই, এমন-ও কিছু-না। শিউলি কুড়ানো [বিস্তারিত আনমনে ভুলে থাকা]
বিস্তারী সূর্য শীতের শীতার্ত হাত ধরে ঝুঁকে আছে, কুয়াশা-সকালে সাথে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে, তপ্ততায় পুড়ে যাওয়া সুখ-দুঃখের ভস্ম নিয়ে ছুটে চলা আশ্চর্যের এক স্বপ্ন জীবন। নিত্যতার প্রগাঢ় অনুভবী অনুভবে শীতের বিমুগ্ধ নিস্তব্ধতার অম্লান হাসি, রসস্রোতী চিত্রময়তা শুধুই অনুভবে রঙ্গিন। নৈশ বস্ত্র খুলে রেখে নিশি-পাহারার চটুল চাঞ্চল্যে লক্ষ হীন লেখা/ভাবনাগুলো অবসাদ বাড়াবে দপ করে নিভে [বিস্তারিত শিশিরের আয়না]
এই যে এলো-এলো ভালোলাগা-শীত দাপিয়ে বেড়াবে বলে পাঁয়তারা করছে, নিজ গুণে নিজ নিজ নিষম-ভালোবাসায় ঠিক এক বছর আগের এমন দিন বিস্মৃত আজ কালের আধারে, নিভে যাওয়া বাতিদের মত, সোনেলা হৃদয়াবদ্ধ আলোয়/আলয়ে সোনেলার প্রাণ-চত্বরে মোমের বাতি হাতে কেউ একজন নির্ঘুম জেগে আছে, সত্যের দাগ হয়ে; হিংস্র-হিংসার বিষাক্ত-কুহক-নিঃশ্বাস ধেয়ে আসে, পরক্ষণেই মলিন/বিলীন হতে দেখি। আলোর প্রত্যুষ নিয়ে [বিস্তারিত নদী-জলের মত বর্ণমালা]
সময় এসেছে দুর্দান্ত অশ্বারোহীর বেশে, চলেও যাচ্ছে/যাবে অমোঘ নিয়মে, ফাঁকিঝুঁকি গোলমেলে ভালোবাসা বিলিয়ে স্বর্গ নরকের রোড ম্যাপের হাতছানি অদৃশ্যে দৃশ্যমান ভবিতব্য সবই জেনে বসে আছে সবার অজান্তে অলিখিত সময়ের বন্ধ জানালা/দরজায় দাঁড়িয়ে সূর্য তাপে মলিন-মুখ হলেও ফিরে না আসা সারা শতাব্দীর আনন্দ/আর্তনাদ ভেসে যেতে দেখি ধূলি আর মৃত্তিকাকে সাথে নিয়ে ভোরের ভাঁজে রাখা আজানে-ধ্বনির [বিস্তারিত সময়ের অশ্বারোহী]
টানটান খুশিতে, নিয়ম ভেঙ্গে দ্বিধাহীন বিলাসী তছনছে নিমিষে স্থবির, ঘুম-শূন্য নিদ্রায় স্তরে স্তরে তিলে তিলে গড়ে তোলা, সন্তরণ প্রিয় মাছেদের নদী; একঘেয়েমির স্বাদহীন প্রলুব্ধ হিংসার ক্লান্ত স্রোতে ডুবিয়ে ডোবানোর প্রমোদ অহংকার বিলুপ্ত হবেই, মহাকালের চৌহদ্দিতে; স্বেচ্ছা ধ্বংসের বাহু-পাশ সইতে বইতে হবে নিশ্চিন্তে, আজকালকার বিলুপ্তিতে, এ কোন শাস্ত্র-কথা নয়, নয় আঙ্গুলের ফাঁক-গলে চুইয়ে পড়া ধরা [বিস্তারিত পড়ে যাওয়া ধরা –ছোঁয়া]
জমে থাকা ধুলোর পাহাড় পার হয়ে এসেছি অবলীলায় বিদায়-হাতগুলোর ক্ষয়ে যাওয়া হাড়-গোড় সেখানেই পড়ে থেকে থেকে নিঃশেষ হতে দেখেছি। হতাশ-কাকদের ডানা ঝাপটানো-দাপাদাপিতে ফিরে আসেনি কেউ-ই; শঠতা ও হানাহানির জ্বলন্ত অভিশাপ বয়ে বেড়াতে দেখেছি; পরিত্রাণ বিহীন ন্যাড়া –মাথার সঙ্কীর্ণতা, ছিনিমিনি-চিকন খেলার ছাপ বাতাসে, গুমোট-তুচ্ছতার প্রতিনিধি; ধূলি আর মৃত্তিকালগ্নতার পথে শিশির-কুয়াশার ভাঁজে শ্লীলতার অন্তহীন জীবনের হাতছানি [বিস্তারিত সত্যি-হাসির ছোঁয়া]
অরণ্যতা নিয়ে হাঁটা পথে একটি সু-পুরুষ/সু-নারীর মত ক্রমাগত দাঁড়িয়ে থাকে একটি বৃক্ষ, পত্রালী শাখা বিস্তারে; হৃদয়বান/হৃদয়বতীর মত প্রচুর/প্রভূত পক্ষপাত পাখিদের প্রতি, সারাক্ষণের ডাকাডাকি কানাকানি কেউ না কেউ, কুয়াশা ভেজা পাতাদের গা-থেকে টুপটাপ গড়িয়ে পড়ে জল, জল পড়ে, পাতারা নড়ে না; হয়ত ফিরে-না-আসা পাখিদের দীর্ঘশ্বাস চুইয়ে পড়ছে। সান্ধ্য-আঁধার নেমে এলে জোনাকিরা গল্পের আসর বসায়, সারিসারি [বিস্তারিত পথিকের ছায়া-জিরনো]
এ আর এমন কিছুই-না, হাওয়ায় হাওয়ায় দুলতে থাকা এক টুকরো স্মৃতি, একটুখানি টুকে-ফুকে রাখা, জানলার গ্রিলে লতানো সবুজের মাঝে ভেজা-শিশিরে ঝাঁক বাধা অপরাজিতারা, মায়ার ডানা মেলে তাকিয়ে আছে না-উড়ে যাওয়ার পণ করে। ভর-করা অফুরন্ত আলস্য উধাও নিমিষে; কত-কত কত-শত ফুল দেখা হলো কাছে থেকে দূর-কাছে থেকে, দূরে থেকে, সু-ঘ্রাণ অ-ঘ্রাণ সৌন্দর্যে, মায়া ও বিভ্রমে, [বিস্তারিত নীলের অপরাজিতারা]
মন শীতের এই হাল্কা কুয়াশায় ভাজা ইলিশের সুঘ্রাণ মুগ্ধতায় নাগা মরিচের ঝাঁজ ঝালে শীত আবার এসেছে এসেছিল যেমন সেবারের নবান্নে; সেদিন ও রাখালি করেছি দিনমান, সদ্য গজানো আগাছা নিড়িয়ে দিনমান আত্মীয়তার বাঁধনে, কৃষক হাসে আজ সংসার-প্রণয়ে নূতন করে; বসন্ত-পুরের জিকির-প্রাণে; পড়শি-কুটুম দূরে ঠেলে/ছুড়েছিল যারা তাদের ডাক এসেছে ফিরে সকাল-সন্ধ্যা জুড়ে, মহিমা-ধ্বনিতে, এক কালের মধু [বিস্তারিত সোনা-মোড়ানো শীত]
এ নয় কোন আবেগ উদ্বেলন, নয় কোন ব্যাকুল বিস্ময়-অনুরণন, কুটিল দৈত্যদের পাশা-খেলার শুধুই নীরব সাক্ষী; খুব-ই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের মত ছোটখাটো গুচ্ছ গুচ্ছ আঘাতগুলো অবলীলায় আমাকে ছুঁয়ে যায়, হজম আঘাতে; ঘুম ভাঙ্গা মধ্য/শেষ রাত্রিতে এঁকে-বেঁকে চলা বিষ-ফণাগুলো বিস্তারে আসে; ঘিরে রাখে/ ঘিরে ধরে। এ যেন তৈরি করে রাখা আংশিক রঙ্গিন চলচ্চিত্র/চালচিত্র! বিফল জোয়ার টান তীব্র হয়-না, [বিস্তারিত নবান্নের কৃষক]
জোর মন্ত্রপাঠ আর দুলে ওঠা লেলিহান আগুনে শিখায় ক্রমশ পুড়ে পুড়ে খাক হতে হতে মিইয়ে যাচ্ছে একান্ত আপনের শব দেহটি ছাইভস্মে, সন্তান, নিকটাত্মীয় ও স্বজনের আহাজারিতে। একটু পরে-ই নিঃশেষিত হবে শেষের চিহ্নটুকু, নদী-বুকে; ক্ষত হৃদয়টি থেকে যাবে বহুকাল বহুদিন; সময় তাকেও হরণে নেবে একটু একটু করে। বহুদিন পরে এলাম এই প্রিয় স্মৃতির শ্মশানে, ঝকঝকে উজ্জ্বল [বিস্তারিত শ্মশান পাঠ]
কষ্টে-সৃষ্টে বেঁচে থেকে ভাবি,অন্ধময় জীবন হলেও মন্দ কী! অন্তর্ভেদে/অর্থভেদে কত কী পড়ে-টড়ে ফেলি, দেখেও ফেলি, শুশ্রূষার দেয়ালে গা-এলিয়ে নীল আকাশে চোখ রাখি, জীবনের হাঁটা পথে হাঁটতে হাঁটতে অনিবার্যতায় মেনে নিয়েছি প্রত্যাঙ্গিক সকল ক্ষতি; মেঘ-প্রতিমায় চোখ রেখে অবলীলায় সাঁকো পাড়ি দেই, রোদহীনতায় ভাবি, এই ত জীবন, অলক্ষ্যে হাসে ঝড়ের-বৃষ্টি। অনঙ্গ আলস্যের কোন এক বিকেলে উদ্বাস্তু [বিস্তারিত বনবাস নৈবচ নৈবচ]
এ ক্ষণিক জীবনের যাপনে সারাক্ষণ হ্যাঁ বা না এর নিদারুণ টানাপড়েন, করবো কী করবো-না, যাবো কী যাবো-না, এটা ন-কী ওটা, খাব কী খাব-না, খেলবো কী খেলব-না, ঘুমাবো কী ঘুমবো-না, নিরামিষ ব্লগ না-কী মজা-মজা ফেসবুক, মেসেঞ্জার না হটসএ্যাপ, ভিডিও না অডিও, এফোঁড় না ওফোঁড়, জেণ্ডার না ট্রান্স জেণ্ডার , ফেক না অরিজিনাল , বাবু খাবা না [বিস্তারিত প্রথম হিম-কুয়াশা-শিশির]
নীলের বাঁধানো আকাশ আলোয় মেঘেদের পালে, আকাশ ভেসে যায়, এই হেমন্ত-ডাকে, সবুজ পাতাদের ঘ্রাণ আর পাখালির গানে, এক মায়াবী স্বপ্নের মত সবুজের প্রান্তরে সোনালী ধানের শিষে; নিরুত্তর সময়ের হাতছানিতে রহস্যময় হেমন্ত, কাকে বেশী ভালোবাসো? আমাকে? না-কী ঐ দূরের আকাশকে? ঐ উঁচুতে ভেসে যাওয়া!! কুমারী প্রত্যাদেশের মত অপার মৌনতা নিয়ে হেমন্ত আসে, পরম আত্মীয়তার সাজে; [বিস্তারিত আকাশ-আলোয় হেমন্ত]
কঠিন ছদ্মবেশ ধরে অকাল-ডাইনির সাথে প্রাথমিক আলাপ সেরে নেব, খুব গোপনে; অপেক্ষাকে দাঁড় করিয়ে রেখে মুখ-টেপা আলগা হাসি হাসি ভাব নিয়ে হাসি ঝুলিয়ে বেয়াদব বিছনাবাদী কলমকে আচ্ছা করে কিলিয়ে নিয়ে আসতে হবে লাইনে!! ভুতের গলিতে ফেলে কম্বল প্যারেডের লেফট রাইট ভাঙ্গাচোরা আলপথে ভুলিয়ে ভালিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে কড়াৎ করে ঘাড় মটকানো!! খুব-খুব কঠিন এ সময়ে, [বিস্তারিত আকালের ডাইনি]