বয়ে যাওয়া সময়-স্রোত শুধুই জেগে থাকে স্মৃতিতে, অনড় একাকীত্বে, স্মৃতির সংরাগ/সংযোগে, জোড়া বেঁধে গেঁথে আছে অবকাশে জেগে থাকা স্মৃতির কল-কল্লোলে স্বপ্ন বাস্তবতার হাতছানিতে; এ এক অদ্ভুত জোড়াতালি, এতটা নদী-হীনতা কী করে কেমন করে এলো! আকাশের নীল-বনে গা-সওয়া গায়ে-গায়ে লেগে থাকা স্বপ্নদের উঁকিঝুঁকি বিদীর্ণ স্মৃতি ভেদ করে ছায়া উধাও এ নিবিড় পৃথিবীতে। নীলের সমুদ্রে ডুবছে [বিস্তারিত এবারের নাবালক স্মৃতি]
সন্ধ্যার স্রোত-জল, সোনা-রোদের কথা ভুলিয়ে দেয়, যে রোদ শিশিরের ঘুম ভাঙ্গিয়েছিল বিষণ্ণ-সুখ-রাতের কথা ভুলিয়ে, হেসে হেসে সবাইকে জাগিয়ে দুর্বলের ভীরু অন্তরে স্বপ্ন-বীজ বুনেছিল, খুলে দিয়েছিল আবির্ভাবের উজ্জ্বল বাসনা স্তিমিত চোখের সামনে; জেগে ওঠা দেশী রোদ্দুর জানান দেয় কাব্য কথায় অসীম আলোকময় পবিত্র ভাবনার। এই দেখ, নিয়ে এসেছি শরত-শুভ্রতা এক চিমটি পেঁজা-তুলো-মেঘ, নিদ্রালু চোখে বেঁচে [বিস্তারিত আলো আলোয় পবিত্র ভাবনা]
সন্ধ্যা, সারা বিকেলের শেষে, শ্রাবণ-বৃষ্টির পেরেক, ভাদ্রের পুড়ে যাওয়া রৌদ্রে আলগোছে ছুঁয়ে থাকা একটি গাছ-সংযোগ, স্বপ্ন নয়, নিগুঢ় বাস্তবতার সহজ সতেজ অনুভূতি অনুভব হৃদয়ের পরতে পরতে; দেবদারুটি শুধুই আকাশ ছুঁতে চায়, বোধ-অবোধের গিজ গিজে ভিড় এড়িয়ে শান্ত-কোমল পাতাদের আন্দোলনে, দু’একটি মেঘ বৃষ্টির ভয় মেলে উঁকিঝুঁকি দিয়ে হাসির খোরাক যোগায়, স্বল্পায়ু মেঘ নারী সুখের গল্প [বিস্তারিত প্রতীক্ষার শেষ নীলাকাশ]
বুনট-হাতের কাছে ই ছিল এই সম্প্রসারণ সবার আন্তরিক সরব/নীরব ঔজ্জ্বল্যে অষ্টম থেকে নবম বর্ষে, দিকদিগন্তে উল্লসিত কালের মিলন মেলায়। শান্ত সুদর্শন সূর্যোদয়ের সমাহিত সম্প্রসারণ আমাদের এ সোনেলায়। স্মরণ কালের উদয়স্ত হাতরে,উল্টোমুখি বাতাস ডিঙ্গিয়ে, সোনেলা রোদের আঁচল জড়িয়ে সুনীল দু’চোখে দেখি আত্মার আত্মীয়, আমি ও আমরা; প্রশান্ত হৃদয়ের জলসিড়িতে জেগে থাকা আনন্দ-জীবন সবুজে শ্যামলে জ্বল-জ্বল [বিস্তারিত নবম বর্ষে পদার্পনে শুভেচ্ছা সবাইকে]
জীবনের লেনা-দেনা জীবনের সাথে কিছু সুঘ্রাণ-যোগফলে ভালোলাগা/ভালোবাসা উন্মাতাল হয়, দ্বিধাচল দোলাচল এড়িয়ে চুপিসারে ছুটে-ছুটে আসে। নীরবে বয়ে চলে ফন্দি-আঁটা একঘেয়ে সস্তা ফাঁকা নকল সোনা বাঁধানো দাঁতের ঝিলিক, ভান-ভণিতা আর ভোতা তর্ক-বিতর্ক ও। ক্ষীণয়মান ক্ষয়িষ্ণু বিহ্বল জীবনের দীর্ঘায়ন হয় না। —————————————————————————— অ-চেনা অ-দেখা দূর-নিকটের মসজিদে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা,রিক্সা বা অন্য কিছুর। তাড়া জামাতের। হাত উঁচু [বিস্তারিত অনুরণনের অনুভবে]
পূর্ণিমা-ঘন রূপোলী দাঁতের ঝিলিক তুলে সবুজের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে ভাবে সেও একদিন লিখে ফেলবে; ঘূর্ণায়মান-জলে ছুটোছুটি খেলা মাছেদের স্বপ্ন দেখার ছলে ক্ষণিকের জীবন খেলা; মাছ-চোখের নির্লিপ্ততায়; ঢেউ তোলা সরোবরে; চৌবাচ্চায় ডুব চোখে আয়না আয়না খেলায়। নিশীথ প্রহরী হয়ে জেগে জেগে নখ খুঁটে খুঁটে তুলে ফেলে, খুড়ের দাপটে ছুটে যাওয়া বিবাগী অশ্বারোহীর ফেলে যাওয়া ধুলোর গন্ধ [বিস্তারিত সোনেলার উচ্ছল উৎসবে]
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখি শরতের শরণাপন্ন হয়ে যদি এবার একটু ডানা মেলে পেঁজা তুলো ঐ আড়ালে চুপ করে থাকা নীলাকাশে; উন্মুখ হৃদয়ে সামান্য গোপন না রেখেই বলি লুকিয়ে থেকে লুকাবোনা এই একটু দেখাদেখির ভাবনা, নামোচ্চারণ তো করেই ফেলেছি এই মাঝ সকালে; স্পর্শ-ব্যাধির মত চিবিয়ে চিবিয়ে তো কিছুই লুকোচ্ছি না অসীম সাহসী! তাও তো বলিনি/বলছি [বিস্তারিত উড়ে যায় পেঁজা তুলো]
কাশবনে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট পাখির ডাক শুধুই শুনে যাই, সকাতর সে ডাক, ঠিক-ঠাক বুঝতে পারিনা/পারিনি; ঘিরে থাকা চিহ্নবিহীন নৈঃশব্দের উসখুসকতায় বন-গর্ভের স্তূপে, কখনও চড়া গলার সকাতর ডাক নিস্তব্ধতা খান খান হয়; এবারে কাশবন আমশি হয়ে হেলে আছে এ ওর গায়ে, ন্যাতানো মরন্মুখের মত, আজ ভিখিরি-বেশে অষ্টপ্রহর শুধুই ধুকছে, দীর্ঘ-উপবাসের সিঁড়িতে বসে; একটু জ্যোৎস্না গুনগুনানি হৃদকাঁপনে [বিস্তারিত কাশবনের ছোট্ট পাখি]
নেই কোন লাস্যময়তা এখন, এ সময়ে, দুপুরের প্রত্ন-ঘুম শেষে আড়মোড়া ভেঙ্গে ভাবতে বসি, এখন আসলে কখন!! বিকেল সন্ধ্যা রাত্রি নাকি রাতের শেষে বিষণ্ণ কোন প্রহর! কিছুই ঠাহর হয় না, শুধুই মোচড়া-মুচড়ি! টানা বৃষ্টি সপাট ধাক্কা শার্সির গা জুড়ে; খুঁজে ফিরছি সময়ের না-সুখ না-দুঃখের ক্ষণটি, এক স্তূপ ফুলেদের আদুরে নিঃশ্বাসে, জ্যোৎস্নার ছুঁড়ে দেয়া এক ফালি [বিস্তারিত শরৎ আমার চাই-ই]
প্রাচীন প্রাচীন ভাব নিয়ে ক্রমাগত মুখ ভার করা বর্ষা এই আলো এই অন্ধকার মেলে একটু ঝুঁকেই পড়ে কোর্টশিপে, নো ছলাকলা। মাঁদি হাসের মত উঁচু গলায় ডানা ঝাপটিয়ে প্যাক প্যাক প্যাক-প্যাক করেই যাচ্ছে, সঙ্গী-সুবিধার খোঁজে; নো নির্লজ্জতা; গাছেরা চুইয়ে-পড়া জল-জল ছল-ছল শব্দদের মাঝে আড় চোখে দ্যাখে সবই, কিচ্ছুটি বলার নেই, মুক বধিরতায়; চাপা খল খল [বিস্তারিত কাশবনের শরৎ এলো বলে]
ক্রমাগত হেঁটে যাচ্ছি শব্দ-হীনতার দিকে সূর্যাস্ত-বেলায়, শুধুই একাকী, একাকীর পথে; হতে পারে, সামান্য অপেক্ষা, দৈব- দেবতার, পূর্ণচন্দ্রের জ্যোৎস্নার মতো। আপনাপন সান্ধ্য-মোড়ে হাজির আজ অসংখ্য আনন্দ-দেবতা। এক কালের প্রচণ্ড-সুহৃদ স্বদলে পাশ কাটিয়ে ব্যস্ততায় চালু রেখেছে রাত্রির আনন্দ-কৌশল, প্রবল কামের তেজ-অক্সিজেন গায়ে মেখে!! এ এক না-ফেরার-ভেলা, ইচ্ছে উদাসীনতায়; চাঁদের আকাশ-জালে নড়েচড়ে ওঠে আলগোছে লুকিয়ে রাখা এক [বিস্তারিত পূর্ণ-চাঁদের জ্যোৎস্না]
ফুঁসে ওঠা জলরাশি ছুঁড়ে দ্যায় শুধুই ডুব-যন্ত্রণা ফি বছর, সোমত্ত-বান প্লাবন মেলে শুধুই ভাসিয়ে দেয়, ভাসিয়ে নেয়, প্রকৃতির এ এক হেঁয়ালি-ভরা অনাসৃষ্টি। বিভাজিত হৃদয়ে শুধুই হারানোর বেদনা বাঁধ ভাঙ্গা জলের তোড়ে তাও চাপা পরে যায়, গোটা প্রান্তর জুড়ে শুধুই সফেদে ভাসে যাওয়া বিপুল বিস্তৃত বিন্যাসে; অভিবাসহীন খাঁ খাঁ শূন্যতায় শুধুই নিরন্তর নির্জনতা, মেঘ-জলের নির্মম-কঠিন [বিস্তারিত হেঁয়ালি-ভরা অনাসৃষ্টি]
অপেক্ষা রাখি আগামীর/আগামীকালের, কোন এক উজ্জ্বল অলৌকিক শৃঙ্খলের, দ্বিধা দ্বন্দ্ব সংশয় বিড়ম্বনা প্রতিবন্ধকতা শেষে দেখা পাব এক প্রশান্তির কোমল পেলব পরশ, বান-বৃষ্টি ঝঞ্জার উন্মাতাল উত্তালতা আর বিরূপ প্রান্তিকতার বৃত্ত পেরিয়ে; সুখের বেদীতে সুন্দরের ধ্যানী হয়ে পরিত্রাণের পথ খুঁজে পাবো চিরন্তন অবিনাশী সত্তার। প্রভাতী-মোরগ-ডাকে ঘুম-ভাঙ্গা-হৃদয় উন্মোচিত হবে চিরন্তনের সীমাহীন সুখে; ঘূর্ণিপাক অভিশাপের ছেলেমি সুড়ঙ্গের দ্বার [বিস্তারিত পরিত্রাণের পথ]
ভাবলেশহীন নিস্পলক চোখে স্মৃতির পাতা উল্টাই হিসেবের নিকেশ ছাড়াই, স্বপ্নের সীমা ছাড়িয়ে, আনন্দ শয়ানে –না, অধীর হয়ে ফেলে আসা দিন পঞ্জির; রঙ্গিন পাতা জুড়ে কলম-রেখায় আঁকা হয়ে আছে কত কী! আনন্দ বেদনার বাঁকে বাঁকে বৃষ্টি ধারার মত ভালোবাসা-বাসির নকশী কাঁথায়; নীলাকাশ ছুঁয়ে জ্যোৎস্না-প্লাবিত কাশবন বয়ে যাওয়া ধানসিড়ির স্তব্ধ নিস্তব্ধতায় কত গল্প কত স্মৃতি, বৃষ্টি [বিস্তারিত সঞ্চয়ের স্বপ্ন-স্বর্গ]
নিশ্চলের নিগুঢ় রাতে, ঘুম জাগা চোখে আকাশ দেখি নিঃশ্চুপ-চোখ মেলে, গভীর একাকীত্বে, দিনের আলোর মত স্মৃতিরা হাসে, উজ্জ্বল হাসিতে, ম্লান চোখে কাঁদে-ও, বিষাদ-আনন্দে; শৈশব গুলো ছুটে আসে দল বেঁধে দলছুট হয়ে-ও, হৃদয়ের অবিচ্ছিন্নতায়; এ-এক যাতনা বিহীন ভাবাচ্ছন্নতা, নিঃসীমের আকাশে; আধো-আধারে কোমল বাতাসের ডাক শুনতে পাই বিলম্বের অবিলম্বে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে, প্রাপ্তি বা ব্যয়ের হিশেবে-না, হৃদয়হীন [বিস্তারিত স্মৃতিরা জেগে থাকে সরু চোখে]