অনুরণনের অনুভবে

 

জীবনের লেনা-দেনা

জীবনের সাথে কিছু সুঘ্রাণ-যোগফলে
ভালোলাগা/ভালোবাসা উন্মাতাল হয়, দ্বিধাচল দোলাচল এড়িয়ে
চুপিসারে ছুটে-ছুটে আসে।

নীরবে বয়ে চলে ফন্দি-আঁটা একঘেয়ে সস্তা ফাঁকা নকল সোনা বাঁধানো
দাঁতের ঝিলিক, ভান-ভণিতা আর ভোতা তর্ক-বিতর্ক ও।

ক্ষীণয়মান ক্ষয়িষ্ণু বিহ্বল জীবনের দীর্ঘায়ন হয় না।

——————————————————————————

অ-চেনা অ-দেখা

দূর-নিকটের মসজিদে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা,রিক্সা বা অন্য কিছুর। তাড়া জামাতের। হাত উঁচু করে ব্যাটারি-গাড়ী থামালাম, যাবে? ঐ ঐ মসজিদে? ঘাড় ঝুঁকিয়ে সম্মতি জানালো। দ্রুত যেতে বললাম। সে অতি দ্রুত-ই গেল পাকা-হাতে। গেটে দাঁড়াতে বললে চোখে প্রশ্ন রেখে জানতে চাইলো মসজিদের সিঁড়িতে না কেন? কিছু বলার অপেক্ষা/তোয়াক্কা না করেই একটানে সিঁড়িতে দাঁড় করালো নিঃশব্দ হাসিতে। নেমে স্যান্ডেল গুটিয়ে পকেটে হাত দিয়ে ফিরে দাঁড়াতেই দেখি সে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে দ্রুত! আমার ডাকাডাকি শুনেও না-শোনার ভান করে।

ছবি নেটের।

মোট পড়েছেনঃ ১,১৯২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

      1. সেটাই ধারণা করেছিলাম। এটি সত্য গল্প
        এমন অনেক গল্প আছে তা আমাদের সাথেও ঘটেছে বা নিজের চোখে ঘটতে দেখেছি। আমিও লিখবো সেগুলো

  1. ভদ্রলোক কি ভিন্নধর্মী ছিলো? সেটা অবশ্য জানার কথা নয়। হয়তো অপমান বোধ কিংবা শ্রষ্টার প্রতি ভালোভাসার কারণেই লোকটা না শোনার ভান করে থাকতে পারে (আমি কতোটা বুঝে মন্তব্য করেছি সেটা আমি নিজেই বুঝে উঠতে পারছি না)।

  2. ভালোলাগা/ ভালোবাসা উন্মাদ হয় তাই দোলাচল এড়িয়ে চুপিসারে ধরা দেয়। ভোতা তর্ক বিতর্ক না থাকলে জীবনটাই একঘেয়ে হয়ে যায়। অনুগল্প ভালোই হয়েছে। মহারাজ নাম কি আর এমনি এমনি হয়েছে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন

    1. ধুর কী না কী কন!!
      একটু গল্প দিলাম, আপনি/আপনাদের মত সুন্দর না।
      একঘেয়েমি কাটানোর জন্য অন্য অনেক পথ চালু আছে, আজগুবি পথ না।
      আপনি ভাল থাকবেন। লিখে লিখে।

  3. কিছু সম্পর্ক কিছু স্মৃতি সমস্ত যুক্তি তর্ক একপাশে রেখে ছায়া সঙ্গী হয়ে থেকে যায়।
    আর কিছু মানুষ মনের জোরে ধনবান। শিক্ষা দীক্ষা কিছুরই তাদের প্রয়োজন হয়না। তারা সভ্য হয়েই জন্মায় আর গুণীজনের কদর করতে সবসময় দুপা এগিয়ে থাকে।
    ছোট্ট অবয়বে কি গভীর উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন খুব ভালো লাগলো।
    অনেক শুভেচ্ছা জানবেন।

    1. আপনারা অনেক সুন্দর লেখেন, তাই দেখে দেখে সামান্য চেষ্টা নিচ্ছি।
      চমকিত হওয়ার মত কিছু ঘটনা আমাদের জীবনের সাথেই থাকে।
      ভাল থাকবেন আপনি।

  4. একি স্বপ্ন নাকি গল্প
    বোঝা বড় দায়।
    মহারাজ স্বপ্ন বুনে
    কবিতার কি উপায় ?
    মজা পেলাম নতুনত্বে
    ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  5. “যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
    আমি বাইবো না, মোর খেয়াতরী এই ঘাটে।
    চুকিয়ে দেবো লেনাদেনা, মিটিয়ে দেবো গো
    সাঙ্গ হবে আনাগোনা এই ঘাটে।”
    নকল কিংবা সোনা মোড়ানো, যাই হোক না কেনো, গন্তব্য ঐ একটাই।
    আর অশরীরি অনেককিছুই ঘটে যায়, আড়ালে আবডালে, পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাঝেই।

    1. সে তো একশতবার সত্যি,
      একা আসি একাই যাই। ভুজুং ভাজুং সব এপারেই থেকে যাবে।
      অনেক কিছুই ঘটে আমাদের অজানাতে।
      ভাল থাকুন। গল্প কই!!

  6. কখনো কখনো এমন ভাবে উদয় হয়ে সঙ্গ দিয়ে উধাও হয়ে যায় ভালো মানুষেরা।
    লেখাটি অন্যদের কাছে রহস্যময় হতে পারে, আমার কাছে তা অকৃত্রিম মনুষ্যত্ব।

  7. জীবনে চমকে যাওয়ার কিছু ঘটনা এরকম ঘটে যায়। যা কিনা সুন্দর গল্পে পরিণত হয়। কখনও কখনও এর অনুভূতি খুব বেশী ও হয়। ভাল লাগলো আপনার লেখা পড়ে।
    ভাল থাকুন,শুভ কামনা সব সময়।

  8. ভালোবাসা আর ভালো বাসা ম্যালা তফাৎ ভাইজান। তবে জীবন তার গতিতেই চলে। দুষ্টু মিস্টি খোঁচাখাচির মাঝেই প্রেমের স্বার্থকতা।

    পরের অনুগল্পটি কিন্তু দারুণ অনুভাবী লাগলো। মসজিদ দেখতে যাওয়ার চেয়ে সেখানে সৃষ্টকারীর উদ্দেশ্যে নিজেকে সঁপে দেয়াই উত্তম। অটো চালকের বেশে নিজের অন্তরাত্মা যেন তাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।

    আমিও অনুগল্প লেখার চেষ্টায় আছি। আপনার ধারের কাছে যাওয়াও অসম্ভব!

    1. জীবন খুব ই ছোট, যা আমরা মানতে চাই না। মৃত্যুই একমাত্র সত্য।

      বহু বছর মসজিদে যাই, কঠিন নিয়ম মেনে, এমন ঘটনা একটি ই। খুব অবাক।
      ভাল থাকবেন।

  9. কবিতার কও বুঝলাম না। তবে আপনি নকল করা শুরু করলেন কিনা বুঝলাম না। তাও আবার হা হা হে হে হেসে হেসে!

    আর ঐ রিকশাওয়ালাকে পেলে আমার বাসায় পাঠিয়ে দেবেন। আমি ঐ মসজিদেই যাবো।
    আপনি না চিনলেও সে হয়তো আপনাকে চেনে। আর একজন ধার্মিককে একটু বাড়তি সন্মান করা অনেকেরই চেষ্টা থাকে। সে হয়তো আপনাকে একটু চমকে দিয়ে কিছু আনন্দ নিয়ে থাকলো কিছুক্ষন।

    1. অবশ্যই নকল, এত আসল আর পাওয়া যায় না, আপনি কবি তা তো মানছি- ই।
      আচ্ছা দেখা হলে আপনাকেও ফ্রিতে মসজিদে নিয়ে যেতে বলব!!
      তবে আগে প্রাক্টিস শুরু করে দিন, ছেলফি মাস্ট!!

  10. আমার ডাকাডাকি শুনেও না-শোনার ভান করে।
    আপনার অনুগল্প পড়ে মনে হল লেখায় অসাধারণ ভারিক্কি আছে ভাইয়া,সত্যি ভালো লেগেছে।শুভকামনা।

  11. এ্যা! মহারাজ! আপনি ডাইনির খপ্পর থেকে বেরিয়ে এলেন কবে! আর কি পড়লাম প্রথম অংশে!
    ভালোবাসা-বাসি নিয়ে লিখেছেন আপনি!! তাও আবার ছ্যাঁকা খাওয়া বাঁকা শব্দে! শ্মশানের ডাইনোসর, মানে ডাইনিরা কি সব বিলুপ্ত হয়ে গেছে?

    –++++++++++++++++++++++++++++++—-
    আগার কোই সাঁচ্চে দিলসে কুছ চাহে,
    তো সারি কায়ানাথ উঁছ চাহাত মে সামিল হো যাতা হ্যায়!
    উচ্চারণ আর অক্ষরে মিলে নাই। কিন্তু কথাটা সত্যি।
    আপনার নিয়ত আর ঐকান্তিক ইচ্ছা আপনাকে পৌঁছে দিয়েছে আপনার কাঙ্ক্ষিত দুয়ারে।
    ভাগ্যিস, আপনি শুধু মসজিদের জামায়াতে পৌছানোর নিয়ত করেছিলেন!

    অণুগল্প লেখায় আপনার হাত কিন্তু সেইই রকমের পাঁকা। এমন আরও কিছু লিখলে আমরাও শিখতে পারতাম।

    বিঃদ্রঃ – দাঁতের ঝিলিক, ভাল-ভণিতা আর ভোতা তর্ক-বিতর্ক ও।
    আমি এখানে ভাণ-ভণিতা পড়েছি 🙂

মন্তব্য করুন