কিছু লেখা হয়ে উঠছে না

  কবিতার মত সুন্দর করে কিছু একটি লিখতে চেয়ে দূরবর্তী-অদূরবর্তী অসম্ভবকে সম্ভবের ছলে ছুঁতে চায়; বিলাসী মন খর-রৌদ্রকে জ্যোৎস্না ভেবে আনন্দ-ভাবনার ডালি সাজায়; আধো-আলোর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার সিঁড়ি খোঁজে অন্ধকারের পিদিম জ্বেলে, নির্ঘুমের রাত চাদরে ঢাকা অস্থিরতাকে আপন ভেবে কাছে টানে; নিষ্পলকে চেয়ে থাকা অন্ধ-চোখে নকশী কাঁথার স্বপ্ন আঁকে; দু’য়ে দু’য়ে তিন বা পাঁচ [বিস্তারিত কিছু লেখা হয়ে উঠছে না]

ইদ মিলনানন্দ

  হারিয়ে যাওয়ারা স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকে স্মৃতি হয়ে উঁকি দেয় চুপিসারে, জীবন হয় না; ঋতুরা ফিরে আসে, ফিরে ফিরে আসে, স্মৃতিরা বিস্মৃত হয়, পত্র পল্লব-হীন মরুময় প্রান্তরে; চোখের রেখায় ধরা দেয় না; ইদ আসে, নিয়ম করে, নিয়ম মেনে, স্মৃতি হয়ে যাওয়া ক্যানভাসে আঁকা ইদ!! কৈ? সে তো আসে না; আকাঙ্ক্ষা দিয়ে ডাক পাঠাই, ইদ [বিস্তারিত ইদ মিলনানন্দ]

রং-তুলি হীন শূন্য ক্যানভাস

  সোনা-রঙের এ-দু’চোখ শূন্যতায় ভেসে যায় কুল-উপকুলে, রং-তুলি হীন শূন্য ক্যানভাসে খুঁজে ফেরে একটি নক্ষত্র-চিহ্ন হৃদয়ের বন্দরে বন্দরে; লুটেরারা দখলে নিচ্ছে অগাধ-অজস্র ধন-সম্পদ দেহ-মন, গড়ছে অজস্র হেরেম, তুমুল প্রাসাদ, বিত্তের বৈভব, বেন্টলি হ্যারিয়ার বিএমডব্লিউ মার্সিডিজ আরও আরও চাই এর দুনিয়ায়। মজলুমের নিঃশ্বাসে কেঁপে উঠে দিকচক্রবাল সারি সারি বৃত্ত নুইয়ে যাচ্ছে প্রবল ঝড়ে, নোঙর ছেড়া সাম্পান [বিস্তারিত রং-তুলি হীন শূন্য ক্যানভাস]

বিশীর্ণ-বিশুষ্ক লাল-হলুদ পাতা

  এই তো এখানে দাঁড়িয়ে ছিল সবুজ ঝলমলে এক খণ্ড বনভূমি উঁচু নিচুর ঢাল বেয়ে উপত্যকা জুড়ে, উজ্জ্বল প্রোজ্জ্বলে উচ্ছল প্রাণ উৎসবের সবুজ-শ্যামলে; ঝিকিমিকি খর চৈত্র-দুপুর জলভরাতুর ভারী মেঘ বৃষ্টি ভরা বান-জলে ঠায়-থিতু হয়েই ছিল প্রবল ঘূর্ণি-বাতাসে; সুরে সুরে গুনগুনিয়েছিল কত কত নাম না-জানা পাখ-পাখালি, ভ্রমর, প্রজাপতি, মৌমাছি আর হরিয়াল; বৃষ্টি-ধোয়া সবুজে দেহের বাঁকে বাঁকে [বিস্তারিত বিশীর্ণ-বিশুষ্ক লাল-হলুদ পাতা]

বৃষ্টির নান্দনিক ঐশ্বর্যে

  স্বচ্ছ ঝকঝকে তকতকে নীলাকাশের চাদরে মেঘেদের অভিসার-উচ্ছলতা ঋতুদের পরিভ্রমণে, এ যেন ফিরে পাওয়া প্রত্যয় সাফল্য রৌদ্রদের দাঁত কিড়মিড় তীব্র হলাহল এড়িয়ে; হৃদয়ের স্থিত আদিম আর্দ্রতায়, প্রমিত করি চিরন্তন সাথীরে অনুরক্ত ভঙ্গিতে হৃদয়ের অলৌকিক নগরে; বৃষ্টির নেই ধীর লয়ের পাশবিক দ্বৈরথ ঘনীভূত বিষের হিস হিস ধ্বনি, হা-হুতাশ; বৃষ্টির অবাধ সরোবরে প্রহেলিকাদের পেছনে ফেলে, স্নিগ্ধ আলোয় [বিস্তারিত বৃষ্টির নান্দনিক ঐশ্বর্যে]

বৃষ্টির আলগোছ আলস্যতা

  বৃষ্টির পাশে বসে বৃষ্টিকে কাছে নিয়ে ভিজতে কার না ভাল লাগে, আনমনে মিহি আনন্দের উচ্ছল-উচ্ছ্বাস-উল্লাসে, গান গাইতে, গান শুনতে; ছুঁড়ে দেয়া জলটুকু গায়ে মেখে, একটু জল ছুঁড়ে দিতে, তোমার প্রান্ত সীমায় আলগোছ-আলস্যে; জোনাক-আলো শেষে, শিশির ভোরের আলো ছুঁয়ে, এই ভেজা ভেজা জলের সাথে জীবনের জড়িয়ে থাকা প্রফুল্লের শুরু থেকে শেষের শেষে; ক্ষণিকের আলাপ-অপরিচিততায় অস্তিত্ব [বিস্তারিত বৃষ্টির আলগোছ আলস্যতা]

এ এক অর্থহীন বাগ্মীতা

  ঘুম থেকে জেগে উঠি, হতে পারে ভাত-ঘুম বা শেষ প্রহরের আওয়াজহীন ভাবে খুট শব্দে হুট করে খুলে যাওয়া স্মৃতি থেকে বিস্মৃতিতে; ভাবি, কিছু একটা বা কিছুটা লিখে ফেলবো, ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে একটানে; এই হেঁটে আসা এক পশলা বৃষ্টিতে, ভ্যাপসা তাপ-দাহে, বৃষ্টির ভেজা-ভেজা ঠোঁটের গভীর বিষণ্ণ গাঢ় চুম্বন এড়িয়ে, এক মুঠো বাছাই শব্দ ঝংকারে; প্রয়োগ দক্ষতাকে [বিস্তারিত এ এক অর্থহীন বাগ্মীতা]

বৃষ্টির মেঘমল্লার

  বিষণ্ণতার দুয়ার এঁটে বিস্তৃত বৈরাগ্যে বন্দিদশার শৃঙ্খল ভেঙ্গে অনর্গল কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে ঐ দ্যাখো ঐ দাঁড়িয়ে বটতলার নাচুনে রাক্ষস; প্রেম সে দেবেই, নেবেও! চারু-হৃদয়ের মধুপান তার চাই-ই; হেঁটে যাওয়া ছায়া পথে একলা-স্বপ্ন উঁকি দেয় দূর-বৃষ্টি সেজে মেঘমল্লারে; পথ-রেখা জুড়ে শুধুই বিপন্ন ডানা-হীন পাখিদের ডাক ক্ষয়ে যাওয়া অস্তিত্বে, নামে বেনামে; ক্লান্ত রাত জড়ো হয় ছুঁয়ে [বিস্তারিত বৃষ্টির মেঘমল্লার]

অবসন্ন সূর্যাস্ত

  সারি সারি দীর্ঘ-পথে ক্রমশ বিস্তৃত লতাপাতা-ঝোপঝাড়ে, কণ্ঠ রোধের অকাল বৃষ্টি বন্যা দেখে দেখে হেঁটে-হেঁটে বিরূপ নিষ্ঠুর প্রকৃতিতে, সপে যায় তুচ্ছ এ প্রাণ; এ জীবন এখন যেন শুধুই চুপ থাকা চুপচাপ দেখে যাওয়া; সুখ-নিদ্রার আকাঙ্ক্ষা যেন অলৌকিক পাওয়া নির্বোধ অজ্ঞানতা এখন আকাশ ছোঁয়া, রুষ্ট-ক্রুদ্ধ ক্ষুধার আহার্য হৃদয়-আগুন-চুল্লিতে আর জ্বালানো হয় না। অবসন্ন সূর্যাস্তের প্রতিধ্বনি আমার [বিস্তারিত অবসন্ন সূর্যাস্ত]

সোনাছায়া অবগাহন

  টলটলে ভাসমান জলে সময়ের দীর্ঘ ছায়া খণ্ড-খণ্ড হয়ে ভাসে, হাস্যোজ্জ্বল ছবির মতো, ক্লান্ত কোলাহল এড়িয়ে; সুমধুর আলাপনে, নিবিড় অবগাহনে; প্রীতি চোখে শুধুই এঁকে রাখা স্বপ্নগুলো মৃদু হাসি ছড়িয়ে ঠোঁটে ঠোঁট রাখে; এখন-ও এই নিথর হৃদয়ে, উদ্দাম উচ্ছল কোলাহলে, সুখ-দুঃখের বর্ণিল রংধনু-ধরণীতে ছায়া ফেলে; হে সঞ্চিত আলো-ছায়া ফিরে ফিরে এসো হৃদয়ের সোনা-ছায়ায়, দ্বিপ্রহরের তীব্রতায়।

গলদ স্বপ্নের বদল

  নাতিদীর্ঘ জীবনে দেখা-অদেখার-তীরে দাঁড়িয়ে খুঁজি অন্তহীন কাব্য-কথার মর্ম-কাহিনী, ক্রম বিষণ্ণতায় ডুবে ডুবে; নিষ্পলক আততায়ী চোখ রুদ্ধশ্বাস-উপহাস-অট্টহাস্যে তাকিয়ে আছে; সংহারি ভালোবাসার চাকা এখন এখানেও সচল পূর্ণমাত্রায়। দু’চোখ ঢেকে পথ-চিহ্ন এঁকে এঁকে ছন্দ পতনে, ছন্দের পতনে নিখুঁত হাত-সাফাই-খেলায় কপাল দোষে হৃদয়-অসুখ-স্বাস্থ্যে জোরদার নিমজ্জন। নাটুকে বিবাদ দৃশ্য! মিথ্যে ঝুড়ির স্তুতিবাদ! সে তো মেনে নেয়ার নয়; বিধাতা-বিরূপে, তবুও [বিস্তারিত গলদ স্বপ্নের বদল]

কিছুই লিখছি-না আজ

  ভাবি লিখব, অনেক করে, অনেক কিছুই লিখব, লেখা হয়না কিছুই, এই যেমন লিখছি-না, এখন কিছুই। উল্লসিত সম্পর্ক-টম্পর্কগুলো প্রেত ছায়ার মত টানে, টেনে টেনে হঠাৎ ছিড়ে/ফেলে দিয়ে কেটে পড়ে, হুট-হাট করে, খণ্ড-বিখণ্ডতা নিয়ে কিছুই লেখা হয় না; নিশি ডাকা নির্বস্ত্র শ্মশান ডাইনি সটান দাঁড়িয়ে থাকে ব্রতচারীর মত, সামান্য অলক্ষ্য নিয়ে; আদিম শানাই-সুর ভেসে আসে দৃশ্য-দৃশ্যান্তর [বিস্তারিত কিছুই লিখছি-না আজ]

জবরদস্তির স্বর-ব্যঞ্জনবর্ণ

  একটি সূচিমুখি-শয়তান (আমার)লেখা-নিবিষ্ট মনে আছর করে বসেছে, প্রবিষ্ট হচ্ছে, প্রবিষ্ট করাচ্ছে; যথেষ্ট খোঁড়া-খুঁড়ি নিয়ে/করে, যেন বৃষ্টি-জলে চৌবাচ্চা উপচে পড়ছে; চোরা-হাসি-মুখো-শয়তান মুষল ধরে মেঘ-সহায়তায় নিয়ম করে, এবেলায়-ওবেলায় স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণ শেখায় জোর-জবরদস্তি করে; হস্তাক্ষর দেখে চমকে উঠি, চিনে নিতে পারি না, অচেনা শব্দের মায়াজালে এ কোন আমি!! সময় বিচারহীন ফষ্টিনষ্টি-পণ্ডিত-শয়তানের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে ভাবি, [বিস্তারিত জবরদস্তির স্বর-ব্যঞ্জনবর্ণ]

আধো আকাশের চিঠি

  আধো আধার-আকাশ থেকে ডাক পিয়ন চিঠি নিয়ে আসে, স্বচ্ছ-আগাম-বার্তা, দীর্ঘ-সংক্ষেপে; একটু অনুমান, একটু ধারণা, ব্যাখ্যা, সংজ্ঞা, সামান্য-তত্ত্ব, আমার যা জ্ঞান-গম্মি, জানা-অজানা তার সমুদয় যোগফল-বিয়োগফল ভাগ-পুরণ থেকে, একটু বেশী একটু কম, আন্দাজ আর পরিমাপ শেষে, একটি বিস্তীর্ণ উপকুলে দেখতে পাই মুহূর্ত থেকে মুহূর্তের বৃষ্টি; এর সারমর্ম দৃশ্যমান হলে ভাবনারত হতে হতে হেঁচকি উঠে আসে, কুড়িয়ে [বিস্তারিত আধো আকাশের চিঠি]

কদম ফুলের জুটি

  বৃষ্টির টাপুর-টুপুর,না, টানা-বৃষ্টি, অঝোরে, শুকনো পাতার নূপুর!না, পাখি বা ঝিঁঝিঁ’র আওয়াজ-ও না, গুরুগুরু মেঘ-ধ্বনি অন্তহীন হৃদ-নৈঃশব্দ ভেদ করে; একরোখা কদম ফুলের জুটি আড়াল পাতায়! ‘সাধের যৌবন ভাইস্যা যায়’! কখনও খোলাখুলি, কোলাকুলি, মুখোমুখি! দখলিস্বত্বের তর্কাতীত জঙ্গি-শেষে শুধুই আলাপ-বদল মেঘামেঘি, উড়াল মেঘাকাশে ডানা-আঁকা-বৃষ্টি নক্ষত্রের ঝাড়বাতি নয়, শুধু কয়েক ফোঁটা করুণা-জল হয়ে ঝরবে হৃদয়ের আকাশ-মাটি-প্রান্তরে। যদিও চাই [বিস্তারিত কদম ফুলের জুটি]