ভোর-রাত থেকেই, থেকে থেকে না, থেমে থেমেও না, দীর্ঘ-দেহের চওড়া বৃষ্টি বেশ জাঁক করেই বসেছে, ধীর-লয়ে, উন্মত্ত বৃত্তে, হারামিপনা মত। যদি একটু বিষণ্ণতা মেখে দেয়া যায়, দুর্বৃত্তের দুষ্ট-দুষ্ট খেলা। হামাগুড়ি দিয়ে লেপ্টে ধরার বায়না!! ভিন পরিচয়ে! বিঁধবে বলে; তলে তলে উচ্চকিত ঠোঁট-বিড়বিড়ে দিবাস্বপ্নের নাদান বৃষ্টির কত কিছুই-না না-জানা! ছুঁড়ে ফেলা গভীর অমসৃণতা; বান-ডাকা স্রোতের [বিস্তারিত অসময়ের দুষ্ট-বৃষ্টি]
সময়ের সাথে পাল্লা দিতে চাই সিংহের ত্বরিতে, মুহূর্তে মুহূর্তে; সুগভীর বনাঞ্চল থেকে পথে প্রান্তরে পাহাড় চূড়ায়, সবুজ উপত্যকায়, স্বচ্ছ ঝর্ণা জলে, লোকালয়ে-ও; ঝাঁপিয়ে পড়া ইচ্ছে গুলো চকিতে চিতার ক্ষিপ্রতায় ছুটতে চায়, সহিংস্র উচ্ছ্বাসে, অজস্র আদিমতার উলঙ্গতায়; উপাদেয় ননীর মত হেমন্ত শীতলতায় শীত-বসন্তের আদুল উত্তুরে হাওয়ায় গাঁয়ের সুগন্ধ সে দেবেই; পথে পথে শিউলি ছুঁড়ে দিয়ে; [বিস্তারিত সমর্পণের শর্ত]
আড়ালের ছায়া-ডালে লুকোতে লুকোতে দ্বন্দ-বিষাদের শরৎ শেষে, নিস্তরঙ্গ খোলা হাওয়ায় টুপ করে বেড়িয়ে এসে কেমন লাগছে এখন? হেমন্ত; প্রত্যাশার চাঁদের মত মুহুর্মুহু পূর্ণ ঝলমল নির্বিচার ভালোবাসায়; নিমিষ-পলকে চোখ খুলে দেখি রৌদ্র-আদরের হাসি ভরপুর অনিবার্য মুক্তির সদনে, বছর ঘুরে সুগভীর হাইড আউট থেকে বেরিয়ে এলে শরৎ যখন লুপ্ত-নির্গুণে। নিকানো দাওয়ায় আঁচল মেলে সকাল-সূর্য বসে থাকবে [বিস্তারিত আদর-রৌদ্রের হেমন্ত]
নিশুতির বনে গিয়ে একটু না-হয় ঘুমিয়েছিলাম তাই বলে জেগে উঠবো-না! কেউ আমাকে ডেকে জাগাবে-না!! হেমন্ত জ্বরে কাঁপতে থাকা মৃদু লয়ের জেগে থাকা পূর্ণিমার ডাক, জীবন আনন্দের পথে-পথে পাশে-পাশে, সে আমি ঠিক-ই শুনবো; নিশি-নীরব আলসে ঘুম-খুন পায়ে পায়ে এগুচ্ছে চৌর্যবৃত্তির খোঁজে, এ যেন বাড়া-ভাতে ছাই নিঃশর্তের নিরীহ হেমন্ত-ডাক,সে আমি শুনবো-ই, তুমুল অনর্গল বাঁধার কুহক-প্রাচীর পেরিয়ে; [বিস্তারিত হেমন্ত এসেছে]
আকস্মিক ঘূর্ণির মত বিস্মিত আবেগে দূরাগত স্পষ্ট-অস্পষ্ট এক ডাক শুনতে পাই, একটু কাব্য-কথা-ভাবনার, ইন্দ্রজালের মত; গোধূলিতে ফেলে রাখা এক টুকরো আলোতে, খামখেয়ালী দীর্ঘশ্বাসের এ যেন এক দীঘল আশীর্বাদ; হেমন্ত-ডাকা শিশির সকালের শির শিরে হাওয়ার সুখ-আবেশের ঝিকিমিকি আলোর জলস্রোতে। সব পেয়েছির প্রাসাদ না হোক, না হোক দিগ্বিজয়, একটুখানি ক্ষীণ আওয়াজ, হৃদয়ের রুপালী পর্দায় শব্দহীন কোমল [বিস্তারিত শির শিরে হেমন্ত হাওয়া]
শরতের এই বৃষ্টি রোদের সাথে আর সন্ধি হতে ইচ্ছে করে না, যুদ্ধ!তাও না, এই আঁচে-পোড়া রোদে; প্রেম!সে-তো বস্তা পচা বাবু খাইছো/খাবা, ক্ষুধার্ত হৃদয়ের চিৎকার চেচামেচি, অতি সাহসী প্রেমিক/প্রেমিকার; মুখবন্ধে যতটা রোদ যতটা বৃষ্টি ঘিরে থাকতো শরৎ, সে জলজ জলে অনারোগ্যের বালি। অপরিচিত অনাত্মীয়ের মত শরৎ এখন সূঁই সুতোর পরিহাস ভালোবাসা, কৃতিত্ব এই রোদের-বৃষ্টিকেই দিচ্ছি; [বিস্তারিত গুটানো রোদের আঁচ]
প্রতিটি রাত্রির পরে-ও একটু রাত্রি থাকে, এমন রাত্রিকে কিছুটা নিদ্রায় রাখি, ইচ্ছে-ভানে, কিছুটা ইচ্ছে-বিনিদ্রতা দিয়েও আগলে রাখি, মুখ লুকিয়ে মুখ-লুকানো কিছু শব্দ এধার-ওধার করি, ভাবখানা এমন! এই রাত্রিতে রাত্রি-লিখে-টিখে হয়ে যাব/উঠবো মহৎ এক দ্বিগজ কবি!! কবিতার কারিগর!! শুধু আকাশ-ই জানে কতটা রাত্রি পার হলে দূর-দিগন্তে সকাল জাগবে হেসে হেসে, নিদ্রা আর বি-নিদ্রার মাঝে ঝুলে [বিস্তারিত প্রতারক বেশে রাত্রির কবিতা]
ফাঁদহীন/ফাঁকহীন খাদের-কিনারায় বসে ভাবি নিশ্চয়-ই কোথাও-না কোথাও ফাঁদ পাতা আছে, এ-এক অদ্ভুত বিপন্ন বিষণ্ণ; জরুরী উদ্বেগ নিয়ে মিছামিছি কষ্টের উপশম খুঁজি, প্রণয় প্রচেষ্টা ছাড়াই; দীর্ঘজীবী মিথ্যে-দীর্ঘশ্বাসের হাহাকার স্মৃতিতে ভালোবাসার জল-চূর্ণ ঢালি, মন্দ লাগে না, কষ্ট-কল্পনার লালনে-পালনে। শুধু একটাই ভয়!! হঠাৎ না কেউ চিচিং ফাঁক বলে চিক্কুর দিয়ে কঠিন সত্যের ফাঁদে ঠেলে ফেলে না-দেয়; যদিও [বিস্তারিত চিচিং ফাঁক]
রূপ-কথার গল্প বলছি-না, রূপক করে –ও-না, একবার একটি শিশু এসেছিল, বাবা-মায়ের কোলে-পিঠে চড়ে, তাকে নাকি নামকরণ করে দিতে হবে!! বলে কী! এ কেমন তর কথা!! এ যেন ফট করে এসে পিৎজা পাস্তার বায়না,ব্লাক ফরেস্ট কেক, চিপস, চকোলেট আর শেষে একটু খানি বেজায় ঝাল শুটকির আবদার!! আমালকির আচার! মাথা গুঁজে/খুড়ে মুষড়ে পড়ে নেতিয়ে ত্যানা ত্যানা [বিস্তারিত নামকরণের শিশু]
নিভে-যাওয়া-সূর্য-কালে কী-আর করার/ভাবার থাকে, সটান পরিপাটি মুগ্ধতার নিঃশব্দতায়; ইচ্ছে ঘুড়িরা উড়ি উড়ি করে, উড়বে বলে বিফলের টান-টান স্রোতে ভেসে গেছে না-বলে না-কয়ে, ডুবে যাওয়া –ভেসে যাওয়া ডুবে/ভেসে যেতে যেতে স্নিগ্ধ স্পর্শের রেশ এখন-অ, এই উপচে পড়া দু’কুলে। যত্ন-বন্দি-বাক্স খুলে বিষাদ-আনন্দের দুর্লভ খুনসুটিগুলো নেড়ে চেড়ে আলগোছে ফেলে রাখি যত্ন-অবহেলায়, ভাবি সময় পেলে সময় করে হিসেব [বিস্তারিত মধ্যরাতের শাঁকচুন্নি]
এই, এখন-সকালে জেঁকে-বসা বর্ষার আকাশ কে বলি, হাত বাড়িয়ে দাও, খুনসুটির ছলে হলেও, এই হাত নাও; স্নান ঘরের নিভু-আলোতে বর্ষণ/স্নান, মন্দ কী? আমি তো রাজি হয়েই আছি; ধুলো ময়লার কাল-স্রোত ধুয়ে যাবে, ধুয়ে নেবে; কে কোথায় উঁকি দিচ্ছে/দেবে, দিক না; উত্তাল-উতলা স্নান মেঘে ভেসে হেলে-দুলে বলা না-বলা কথার ভিড়ে হাঁ করে তাকিয়ে না থেকে, [বিস্তারিত শরৎ বৃষ্টি]
টু-শব্দটিও করা যাবে-না (বলা আছে), শ্বাস-প্রশ্বাসেও না, হাসির তামাসা দূর-অস্ত; এ বন্দিত্ব বিলাস-বাসন নয়,নয় চৌকোশ আলোর প্রতিধ্বনি, লুকোনো ছুড়ি-চাবুক নয়, এ এক চকচকে হুঙ্কার দিবালোকে, দিব্যলোকে; নিপুণ কারিগর দারুণ ব্যস্ত মুহুর্মুহু নিঃশব্দের আড়াল তোয়াক্কা না করে; দাসত্বের আলগা ফোঁটা ক্রমাগত ঝরে পড়ছে চারপাশ জুড়ে; রক্তাক্ত-স্রোতে ভেসে যেতে যেতে ক্ষীণতম উচ্চারণ, “ওরে আব্বারে, তোগো আল্লার [বিস্তারিত ব্জ্র-বিদ্যুতের প্রত্যাশা]
নাগরিক বন্দিত্বে একাকার আমার এ বন্দিত্ব, ঝলমলে আলোয় নিঃশ্বাস নিচ্ছে বুক ভরে, দারুণ কৌতূহল-আনন্দে; যদিও এখানে রাহুগ্রস্ত সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত প্রীতিতির মিলন হাওয়া সচল-সবল দারুণ কর্মক্ষমতায় উপরে উপরে উপর চালাকিতে; দখিনা উল্লাস একফোঁটা-ও গলে পড়ে না গরিমার দেয়াল-ছিদ্র বেয়ে, শার্সি আঁটা হিম ঘরে মুখে-বুকে কুলুপ এঁটে শোক-জ্বালা-জড়া বুকে বেঁধে সং সাজি সং খেলি; লীলাময় ঐ ঝলমলে [বিস্তারিত বন্দিত্বের দিন-যাপনে]
দূর-বিকেলে জেঁকে বসা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে একাকার হতে হতে ক্রমশ শীতলতা বিষণ্ণ-রাতের গভীরে তন্দ্রালু ঘুম এড়িয়ে, যেতে হবে বহুদূর, ভেজা সড়ক আর ছিপছিপে বৃষ্টি সাথে নিয়ে, নিঃসঙ্গ শূন্যতার হাঁদারামের মত একটু গড়িয়ে-জড়িয়ে নিতে নিতে; আহ্লাদী বেড়াল তুলতুলে লোমশ শরীর মেলে ঘুমে কাতর, মাঘের মাসী!! এখন আর তা নেই, এই রাত-প্রান্তে, বাঘের চমৎকারিত্বে; ধ্যান-ঘুমের বেড়াল [বিস্তারিত নিরুত্তর পৃথিবী]
(লেখক-সুলভ)উচ্চাশার রোগাক্রান্ততা নেই নগরবাসীর মত, নেই মুহুর্মুহু কীমাশ্চর্য কথোপকথনের কাব্য-ভাষার ষোল/চৌষট্টি কলার সমর্পিত উপাচার; দুরন্ত বাসনা নেই, টেবিলে বসে খুঁড়ে নেয়া ক্ষরণ হৃদয়ের মুখোমুখি হবো চতুর জিঘাংসায়, দুরূহ উপমায় ভর করে পাওয়া-না-পাওয়ার কড়ে গণ্ডার হিসেব মিলিয়ে চমক দেখিয়ে টপকে যাব তাবৎ বাধা-প্রাচীর; মধ্য-রাতের শেষে এ-ঘর ও-ঘর হনহনিয়ে হুহু হাওয়ার মুখে প’ড়ে,আনন্দ-আতঙ্কে মিলন অ-মিলনের সঙ্গতি [বিস্তারিত কোথাও যাচ্ছি-না/যাব-ও-না]