কাশবনের শরৎ এলো বলে

 

প্রাচীন প্রাচীন ভাব নিয়ে ক্রমাগত মুখ ভার করা বর্ষা
এই আলো এই অন্ধকার মেলে একটু ঝুঁকেই পড়ে
কোর্টশিপে, নো ছলাকলা।

মাঁদি হাসের মত উঁচু গলায় ডানা ঝাপটিয়ে প্যাক প্যাক
প্যাক-প্যাক করেই যাচ্ছে, সঙ্গী-সুবিধার খোঁজে;
নো নির্লজ্জতা;

গাছেরা চুইয়ে-পড়া জল-জল ছল-ছল শব্দদের মাঝে
আড় চোখে দ্যাখে সবই, কিচ্ছুটি বলার নেই, মুক বধিরতায়;
চাপা খল খল খিল খিল হাসি লুকিয়ে!!হাঁড়িয়া সে খায়-নি!!
ফসকে ফুর্তিবাজ না, সে;

ধুসর পাঁশুটে জল ঘোলাটে শরীর মেলে, ডুব-সাতার খ্যালে,
ভাবখানা এমন, কিছুই ঘটছে না যেন এখানে,
ঘটেও-নি কোন কালে;

শরৎ এখন রাধিকা-ধ্যানী, নির্জনতার আশ্রয়ে,
নীলাকাশের পেঁজা মেঘের বাঁশি বাজলো বলে,
মেঘ-বৃষ্টির খাঁজে আটকে রাখা আকাশপটের বনেদীপনা এড়িয়ে;

ছবি নেট থেকে।

মোট পড়েছেনঃ ১,৪২৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৩টি মন্তব্য

  1. শরতের আগমন শুভ হোক। অনন্ত বন্যা দুর্গতদের তো ভালো হবে। বর্ষার পলায়ন রূপটা ভালো ফুটেছে আপনার কাব্যে।
    “নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই, লুকোচুরির খেলা!”

    1. আমার একটি প্রিয় গান মনে করিয়ে দেয়ার জন্য সাধুবাদ।
      শরৎ ডানা মেলুক নীলাকাশে, দুর্গতি পেছনে ফেলে তা ও কামনায় রাখি।
      ভাল থাকুন আপনি।

  2. কাশবনে শরৎ এসেই গেছে। শিউলি, কাশবনের রুপে মাতোয়ারা হচ্ছে প্রকৃতি। হাঁসদের ডুবোডুবি , প্যাক প্যাক সঙ্গীর খোঁজে নির্লজ্জের মতোই। চমৎকার লাগলো ভাইয়া। ভালো থাকবেন সবসময় শুভ কামনা অহর্নিশি

  3. গতরাত ১২টা পর্যন্ত শরতের আকাশ দেখলাম। লঘুচাপের শো শো ভন ভন বাতাসের শব্দে কান পেতে শুনলাম।
    ভাল লাগা রেখে গেলাম ভাই।

  4. করোনাকালে নীভৃতেই এসে গেলো শরৎ। প্রকৃতির পরিবর্তনে বোঝা যাচ্ছে সেটি কিন্তু নিজের চোখের দেখা আর হচ্ছে কই?

    মহারাজ শরৎ নিয়ে একইদিনে লেখা দিয়ে আমি ভুলই করলাম নাকি! আপনার লেখার পাশে নিজেরটা বড্ড বেমানান লাগছে।

    শুভকামনা সবসময়।

    1. শরৎ এসেছে নিজ নিয়মে, নিভৃতচারীর বেশে, স্বরূপে সে আসবেই।
      সামান্য অপেক্ষা মাত্র।
      ব্যাপার না, আমরা তো আমরাই।
      ভাল থাকুন।

  5. গাছেরা চুইয়ে-পড়া জল-জল ছল-ছল শব্দদের মাঝে
    আড় চোখে দ্যাখে সবই, কিচ্ছুটি বলার নেই, মুক বধিরতায়;
    চাপা খল খল খিল খিল হাসি লুকিয়ে!!হাঁড়িয়া সে খায়-নি!!
    ফসকে ফুর্তিবাজ না, সে;

    অনবদ্য অনুভূতির প্রকাশে বিমোহিত পাঠক।

  6. স্থিরতায় একটুও গা নেই আকাশের;
    নেই একটুও লজ্জার কারন
    এ যে নাগরিক বিষাদের শহর!
    আকাশটাও গোঁ ধরেছে…..
    বুকের মধ্যে ধরে রেখেছে রাশি রাশি
    পুঞ্জভারী মেঘ প্রেয়সীর কেশ!
    দেখব বলে সোনারোদ্দুরের ঝিলিক
    চোখ সরাইনা মোটেই শরৎ নীলের আশে।

    শরৎ এখন রাধিকা-ধ্যানী, নির্জনতার আশ্রয়ে,
    নীলাকাশের পেঁজা মেঘের বাঁশি বাজলো বলে,
    মেঘ-বৃষ্টির খাঁজে আটকে রাখা আকাশপটের বনেদীপনা এড়িয়ে;—— লাইনকটা অন্যরকম ভাবনা যোগালো।

    1. নাগরিক বিষাদে ভার করা মন নিয়ে
      আমরা আজও থাকি শরৎ অপেক্ষায়
      সে আসবে বলে , সে আসবে।
      অবগুন্ঠন ফেলে।
      অনেক সুন্দর মন্তব্য এ লেখাটিকে ঔজ্জ্বল্য দিচ্ছে,
      ভাল থাকুন আপনি।

  7. সময়োপযোগি ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে কবির ভাবনাগুলি পড়লাম। শুভ আগমন হে শরত। শরথ মানেই কাঁশবনে পাখির মিতালী। কাঁশফুলের শুভ্রতায় প্রকৃতি যেন নতুন রূপে হাঁসতে শিখে। দারুন লাগলো। শুভ কামনা রইলো।

    1. অবশ্যই পাখিদের মিতালি, যা আপনি ই ভাল করে দেখতে পাবেন /পারেন।
      নব নব রূপে প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরে।
      ভাল থাকবেন ভাই।

  8. শরৎ আমার সবচেয়ে প্রিয় ঋতু।
    একদিকে আগমনী গন্ধ অন্যদিকে কাশফুলের আর আকাশজুড়ে মেঘমালা।
    কী দারুণ।
    বেশ ভালো লেখনী দাদা।

  9. মানুষের অত্যাচারে দিন দিন সবকিছুই নির্মূল হয়ে যাচ্ছে। আকাশের নীল রঙও মাঝেমধ্যে ফেকাসে দেখা যায়। তাই মেঘেরাও গড়-সিজনে অযথা বায়না ধরে।

    নদীর পাড়ে যত্রতত্র দোল খাওয়া কাশফুল এখন আর আগের চোখে পড়ে না। মানুষেরা ঐগুলো দিয়ে বিত্তশালীদের ঘরদোর পরিস্কার করার ঝাড়ু তৈরি করে।
    তাই আর নদী পাড়ের কাশফুল কাশবন নিয়ে কবির কবিতা লেখা হয় না। কিন্তু আপনি থেকে নেই! লিখে যাচ্ছে শরৎ বন্দনা। তাই শরৎ নিয়ে কবির ভাবনার জয় হোক। আমার পক্ষ থেকে থাকলো শুভকামনা।

      1. ১। নদীর পাড়ে যত্রতত্র দোল খাওয়া কাশফুল এখন আর আগের “মতো” চোখে পড়ে না।
        ২। কিন্তু আপনি“থেমে” নেই!
        ৩। লিখে “যাচ্ছেন” শরৎ বন্দনা।

    1. হ্যা, ঋতুরা আজ গোমড়া মুখ করে থাকে, আমাদের অত্যাচারে।
      তাই আমাদের ভালোবাসার আকাশকে এই ঋতুতে যেমন করে পেতে চাই তা পাওয়া হয় না।
      হৃদয়ের শরৎকে উপেক্ষায় রাখা যায় না, তাই কিছু না কিছু লিখতেই হয় , লিখিও।
      ভাল থাকুন।

  10. শরৎ এসেছে বর্ষারাণীর বিদায়ী বার্তা নিয়ে
    শরৎ এসেছে শুভ্রতার ছোঁয়া লাগা কাশফুলের বনে
    শরৎ এসেছে প্রভাতে ঝরে পড়া শিউলির তলে
    শরৎ এসেছে নীলাকাশে সাদা-কালো মেঘের ভীড়ে
    শরৎ এসে সমস্ত জরাজীর্ণতাকে দূরে সরিয়ে শুভ্রনীলের স্পর্শে মন রাঙাতে।

    💜💜

  11. নো ছলাকলা
    নো নির্লজ্জতা
    নো পন্ডিতি,,, একেবারেই গোয়াড়ের মতো বলছি তামিল ভাষায় গাওয়া সংগীত খানার বাংলা অনুবাদ লিখে দিন। আপনার কবিতার ভাষা শিখতে শিখতেই ব্লগ জনম পাড় হয়ে যাচ্ছে, এখন আর তামিল শিক্ষার কোর্স নিতে পারবো না 🙁

    1. পন্ডিতদের সাথে থেকে একটু আঁচ লাগতেই পারে।
      আপনি বিজ্ঞানী মানুষ, সব ভাষাই আপনার জানা। মানব থেকে পক্ষীকুল !!

      “মাঁদি হাসের মত উঁচু গলায় ডানা ঝাপটিয়ে প্যাক প্যাক
      প্যাক-প্যাক করেই যাচ্ছে, সঙ্গী-সুবিধার খোঁজে;”
      গানের নায়িকার চোখের ভাষায় এ লেখাটি খুঁজে পান কী না একটু দেখুন।

      গান ছাড়াও আরো কিছু লেখা এই লেখাটিতে ছিল/আছে।
      নিরাপদে থাকুন।

      1. গান ছাড়া যা যা ছিলো সব পড়ে ফেলেছি।
        যেহেতু গানটি এই লেখারই অংশ তাই একটু বেশি বোঝার চেষ্টা নিচ্ছিলাম।
        আপনি দেখি ভীষণ কঠিন মানুষ মহারাজ!

মন্তব্য করুন