সকলই গরল ভেল

  এই যে এত নড়া-নড়ি, হাসা-হাসি, দৌড়া-দৌড়ী, শোয়া-শুয়ুই, ঘুমা-ঘুমি, খাওয়া-খাওয়ি, কাঁদা-কাঁদি, লাফা-লাফি, চিৎকার-চেঁচামেচি,  হুংকার-গর্জন,তেলবাজি-তোষামোদি, লেখা-লিখি, হিংসা-হিংসি, মিথ্যা-মিথ্যি, চোখা-চুখি, গা ঘেঁষা-ঘেঁষি,সচল-সবল এই আপাত অপূর্বতার ঝলক-বলক নিয়ে আমরা কী কী ফালাইবো, কী কী করিবো? কোথায় কোথায় যাইবো??? এই অমৃতে সঞ্জীবনী কৈ? সকলই গরল ভেল!! ঝুল সন্ধ্যায় শেষ-যাত্রা-বিন্দু অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে আছে হাত ছোঁয়া দূরত্বে; [আমরা কথায় কথায় হরহামেশা- [বিস্তারিত সকলই গরল ভেল]

নিরঙ্কুশ-নিষ্কলুষ স্বপ্ন-পুরীতে স্বাগত

  দ্বিধান্বিত-দ্বিখণ্ডিত হৃদয়, খাঁটি কৃতজ্ঞতা ঢের প্রশংসা, বিছানো পথের পরিচ্ছন্নতায়; ফাঁদের কিনারায় দাঁড়িয়ে শিকারির সহজ শিকার হচ্ছি কী-না সে উৎকণ্ঠার কনকনে শীত/গনগনে ঘন তাপ হৃদয় জুড়ে; সাফল্য গোলাপের হাতছানি সে তো ধোঁয়াশা দিগন্তে! গোলাপ উদ্যানের বীণার সুর! বিষাদ নিরাময়ের ঔষধ! মুসাফির হৃদয়ের মিলন-আলিঙ্গনে ছুঁয়ে যায়-না। আত্মার গহীন অন্ধকার অন্তরালে, প্রভুর প্রতিশ্রুতি হয়ে-ও পৌছায়-না। পর্বত-দৃঢ়তায় মুক্তি [বিস্তারিত নিরঙ্কুশ-নিষ্কলুষ স্বপ্ন-পুরীতে স্বাগত]

ডিঙি মারা সময়

  রাত্রির নিস্তার নেই, নিস্তার দিচ্ছে না, লেখারা লেখা লিখে যাচ্ছে সময়ের কথকতা, কেউ জানুক, পড়ুক, দেখুন, বা না; সময় দাঁড়িয়ে আছে ডিঙি মেরে, মুখোমুখি; রাজ দক্ষিণার অজস্র উপঢৌকন! হিশেবে রাখি-না, চাই-ও-না; পণ্ডশ্রমের মত হামেশাই লিখে যাচ্ছি নিরাল যখন দিবা-রাত্রি; সময়ের গুণ কীর্তনের নিকুচি করে, ব্যঞ্জন-হীন পলান্নতে অ-রাজি নই, রেয়াজহীন রীতিনীতিতে-ও; ভব্যতা-হীন বে-রহম হৃদয়-উৎপাতে থেমে [বিস্তারিত ডিঙি মারা সময়]

মেঘেদের আকাশ

  আকাশ-মেঘে লেখা থাকে বৃষ্টির ঠিকানা, কোথায় কোন দূরে, কাছে, কখন কোথায় কতটুকু ঝরবে,অঝোর হলেও। এই/এর প্রতিলিপি দেখা যায়, পড়া যায়, মুখস্থ বা লিখে রাখা যায় না। কিলবিল করা কীটেরা শুধুই স্বার্থ-ছিদ্র খুঁজে বেড়ায় নিজের/নিজেদের অনুকূলে; পঙ্খিরাজ ভেবে ডানা মেলে আকাশের গায়ে। আকাশ! সে তো দুরস্ত, সাবধানতা গুড়ো করে বিছানো শুধুই চারিদিক জুড়ে;, ঝর্ণার মত [বিস্তারিত মেঘেদের আকাশ]

কোকিল ডাকে কুহু কুহু

  নিঃস্ব নিঃসম্বলের উপকূলে কোথাও কেউ নেই কিন্তু আছে তো সব/সব-ই, বিত্তের বৈভবে; হঠাৎ হঠাৎ বেজে ওঠে লক্ষ্যহীন কিছু কথা, কিছু লেখা, রহস্য চঞ্চল দূরত্বে থাকা হাতছানি-তা; আবার জমাট বাধে নিঃসঙ্গ-নিপাট-আঁধার; আকাশ যখন গুছিয়ে নেয় সন্ধ্যা তিথি, তবুও দীপাবলির দীপেরা ঘনিষ্ঠ চোখে আলো-জ্বেলে রাখে প্রাণ-পথে। ঘুমুতে থাকা গাঢ় মধ্যরাত থেকে থেকে জেগে ওঠে, অনুভূতির প্রদক্ষিণে; [বিস্তারিত কোকিল ডাকে কুহু কুহু]

সবুজ রাস্তার আলিঙ্গনে

  হা-হাপিত্যেশের এই গরমে একটু খানি সজল বৃষ্টি মেঘের স্বর্গ-সুখ, সে আমার চাই-ই, দূর সীমান্তে দেখা যায় কী যায় না একটুকরো সিঁদুর মেঘ, কুমারী শুদ্ধতায়, আমাকে শাসিয়ে লাভ নেই, অপেক্ষাটুকুর রিসোর্ট, সে আমার চাই-ই। সীমিত মানবিক হলেও;   পড়ার সময় পড়া-পড়া খেলা খেলার সময় খেলা-খেলা পড়া!! হোক বা না-হোক আহ্লাদিপনা-বৃষ্টি, ভেজা-ভেজা ভেজা বৃষ্টির জলকেলিটুকু, সে [বিস্তারিত সবুজ রাস্তার আলিঙ্গনে]

মেঘেদের বৃষ্টি

  ধস্ত সময়ে বেহাল আমরা সবাই, ভেতরে শোরগোল তোলা লেখারা, নিরন্তর আনন্দ-বেদনার কলরোলে, লেখা-গ্রস্ত, লেখা-রোগগ্রস্ত হলেও কাটাচ্ছে প্রহর দিবা রাত্রির; হতে পারে এ এক বিপুল অযথার পণ্ড শ্রম! আগাছার আঁকিবুঁকি! বিনাশী রেওয়াজ-রীতি, তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়-আশয় নিয়ে নিতান্ত সহজ-কঠিনে আঁকাআঁকি/লেখালেখির হামাগুড়ি, ভুল বানানে; হোক-না অজ্ঞানতা-জাত,অসীম শূন্যতার জগদ্দল পাথর-মগজে ও অস্থি-মজ্জায়। হঠাৎ থেমে যাওয়া নদী ও অপেক্ষায় থাকে [বিস্তারিত মেঘেদের বৃষ্টি]

অচেনার আলেয়া-সীমান্ত

  সুদীর্ঘ নীরব-নির্জনতা নিয়ে, প্রবল গ্রীষ্মের করোনাকালে, দুঃখী-দুঃখী লোকালয়ে থেকে একটু দূরত্বে, জল পতনের শব্দে-শব্দে বয়ে যাওয়া প্রমত্ত উচ্ছলতার নদী-তীর খুঁজি; চৈতন্য জুড়ে শুধুই স্ফটিক-জল-কেলি, জোনাকির আলোয় সুয়ো-দুয়োরানীর স্বপ্ন রাত; বৈরী হাওয়ায় নিরঙ্কুশ নাভিশ্বাস, ঘুণে পোকাদের বাসা, শিকড়ে শিকড়ে সংক্রামিত শব্দহীন দুরারোগ্য পাপ; অরণ্য ফিরে ফিরে যাচ্ছে দূর অরণ্যে, প্রতীক্ষায় সবুজ বাতাস, প্রজাপতি-চোখের দীপ্র উৎসব, [বিস্তারিত অচেনার আলেয়া-সীমান্ত]

অলিখিত সন্ধি

  রাত্রি-নদীর উচ্ছসিত উচ্ছলিত কলরোল চোখ বুজলেই শুনতে পাই, নিঃশঙ্ক হৃদয়ের পদচারণা শুনতে পাই, জীবনের সুখ সুখ চাঞ্চল্যে আনন্দ-অনুভবের স্পর্শ পাই, অপ্রতিরোধ্য বৃষ্টি-ছোঁয়া-জলের মত; শেষ ত্রস্ত-চৈত্র-খরার  নীল বিষণ্ণতা, বেমালুম মাটি-মাটি হয়ে যাওয়া উচ্ছল আনন্দ-রাত্রি; ইচ্ছে করে পঞ্চবটীর মন্ত্রপূত চক্রবেড় ভেঙ্গে লুটে নেই কিংবদন্তির সব সুখ, অলিখিত সন্ধিতে। গান, ছবি নেটের।

প্রেত ঝড়

  ভেকেরা আসে ভেক ধরে রাত-দিনে চুপিসারে/প্রকাশ্যে, অদৃশ্যে ওঁৎ পেতে থাকে, জীবন যাপনের আশে-পাশে পাশে-পাশে, অসুখ-বিসুখ কান্না-ঘেন্নার প্যাকেজে প্যাকেজে, হাত-পা, পা-হাত ছড়িয়ে, তুমুল আনন্দে বগল বাজিয়ে; নূতন সাজ-পোশাকের বাহির-বদলে সুখ-সুখ মুখ-প্রোফাইলে; হৃদয়ে হামাগুড়ি দেয় মিশমিশে কালো কিলবিলে তরমুজ-বিচিতে, শূন্য-খাতা শূন্য-পাতা। হো হো হা হা হি হি চা/কফির ঝড়, হাঁটতে হাঁটতে বাদাম-খাওয়া-হাসির গড়াগড়ি, হাঁটু গেড়ে বসে [বিস্তারিত প্রেত ঝড়]

একটি নকশিকাঁথা

  নকশি-কাঁথায় লেখা থাকে সূচ-শ্রমের অকাট্য নীরব ইতিহাস; রক্তাক্ত হাত-ছাপ, ফোঁটা ফোঁটা ঘামের দাগ, কুয়াশার মুখ-ছায়া; অযত্নে অদৃশ্য অমোচনীয় সূচ্যগ্রে। দারুণ ওমে, নিপাট ঘুম, হা-করা মুখে, মুখ বুজে, নাক ডেকে। জীবনের শেকলের টানে সময়ের নদীতে কাঁদছে কেউ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে, অবশ স্নায়ুতে বুকের চাপা দোহে, অট্ট-হাসিতে, আক্ষেপে, ঘাম-গরমে ত্যাঁদড়দের ভীড়ে; আজন্ম নির্ঘুম জেগে থাকা এক নকশি-কাঁথা, [বিস্তারিত একটি নকশিকাঁথা]

এ আমি কোন্ আমি

  দ্যুলোক ভূলোক ঘুরি জয়ের নেশায়, (ভুয়া)লাইক কমেন্টে আনন্দ কুড়া, জ্বালা জুড়াই হাহা দিয়ে, প্রতিনিয়ত, বীর-দর্পে; ধরা কে সরা জ্ঞানে, বেশুমার মনের সুখে, মৌসুমি সৌরভ বুকে/মুখে/চোখে মেখে; কেউ জানুক বা না-জানুক কেউ দেখুক বা না-দেখুক আঁতকে উঠি নিজ প্রতিবিম্বে, এ আমি কোন আমি মুখোশের অন্তরালে; সুড়ুত করে মুখ লুকাই হুডিতে নিশ্চুপ আহ্লাদে, প্রকাশ্যে ব্যস্ততা দু’চোখ [বিস্তারিত এ আমি কোন্ আমি]

মে ডে মে ডে

  মন-ভারী করা দুঃসংবাদ, আবার-ও, দুশ্চিন্তা শঙ্কা পুনর্বার, কী হবে কী হবে-না, করোনা কালে; একাকীর ঘরে বসবাস, সকালে সন্ধ্যার অবসন্ন মন, দু’চারটে মামুলি আলাপ, একটু খানি কলমি ভাষা, আলেয়ার মত হলেও এক বুক নির্মল বাতাস চুরি করে একটু ছুঁতে চাওয়া; নীল নীলের ঐ আকাশ। কপালে ভাঁজ ফেলে নিজেকে-ই বলি কাছে এসো-না, একটু দূরে না-ছোঁয়া দূরত্বে, [বিস্তারিত মে ডে মে ডে]

কলম একটি চাই-ই

  একটি কলম আমার চাই-ই, ব-কলম হলেও! নেহাৎ শাদামাটা ঝরনা কলম, রং-ঢং করা ওয়াটার জেল/অয়েল জেল না। বিলিভ মি/আস, তিন তিনটে সত্যি করে বলছি; নিবের মাথায় ঝুলে থাকবে আস্ত-মস্ত কাঞ্চন জঙ্ঘা, জুল জুল করে তাকিয়ে। ঈষৎ চেপে রাখা সলাজ সজল উজ্জ্বল স্ফটিক-হাসিতে। হাভাতে, হাড়ি হাড়ি ভাত, তবক-পান, ফুচকা, চটপটি, ডাব, চানাচুর, তেঁতুল চাটনি খেকো কলম, [বিস্তারিত কলম একটি চাই-ই]

চাঁদের জ্যোৎস্না

  ঝাঁপিয়ে পড়া বসন্ত কীভাবে আসবে করোনার আঁচল ডিঙ্গিয়ে, ভাগ্যিস ওলাওঠায় আক্রান্ত নয় সে, কোকিল ডাকা চৈত্রে; মনোরম দেহ-ঢেউ তুলে বনে বাদারে আড়ালে-আবডালে বাজারে মাঠে-ঘাটে প্রাক-সন্ধ্যায় দেখে/দেখিয়ে বেড়ানো কী করে হবে, করোনার গভীর ঢেউ এই তাপ-দাহের ঘোর চৈত্রে!! আহা বসন্ত! কচু খাও, এবারের গোমড়া মুখে। জিপসি মন কড়া নাড়ে, সংলগ্ন অ-সংলগ্ন বন্ধ দরজায়, বন্ধন ভেঙ্গে [বিস্তারিত চাঁদের জ্যোৎস্না]