একটি নকশিকাঁথা

 

নকশি-কাঁথায় লেখা থাকে
সূচ-শ্রমের অকাট্য নীরব ইতিহাস;
রক্তাক্ত হাত-ছাপ,
ফোঁটা ফোঁটা ঘামের দাগ,
কুয়াশার মুখ-ছায়া;
অযত্নে অদৃশ্য অমোচনীয় সূচ্যগ্রে।

দারুণ ওমে, নিপাট ঘুম,
হা-করা মুখে, মুখ বুজে, নাক ডেকে।

জীবনের শেকলের টানে সময়ের নদীতে
কাঁদছে কেউ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে,
অবশ স্নায়ুতে বুকের চাপা দোহে, অট্ট-হাসিতে,
আক্ষেপে, ঘাম-গরমে ত্যাঁদড়দের ভীড়ে;

আজন্ম নির্ঘুম জেগে থাকা
এক নকশি-কাঁথা, এ সোনেলা;

ছবি নেটের।

মোট পড়েছেনঃ ১,৬৮৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১২টি মন্তব্য

  1. সোনেলাকে নিয়ে এ এক দারুন কবিতা, প্রিয় নকশী কাঁথা। এমন নকশী কাঁথা গায়ে সারাজীবন থাকতে চাই। তয় দুখানা বানাম মনে হয় ভুল পাইছি। দোহে আর ভীড়ে হবে কিনা দেখেন তো ভাইয়া। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, এতো সুন্দর করে এ শুধু আপনিই লিখতে পারেন শব্দে, উপমায় চমৎকার লিখেছেন। অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

    1. দেখুন ভালোবাসা চেপে-চুপে রাখতে নেই, বুক ফাটিয়ে বলে দেওয়াই-ই উচিৎ!
      সুন্দর অসুন্দরের তোয়াক্কা ভালোবাসায় থাকে-না।
      দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ। বানান ভুল ঠিক করে নিয়েছি।
      আপনার জন্য ও শুভেচ্ছা, এই লকডাউনে-ও, ভাল থাকুন।

  2. অসামান্য।
    নকশি কাঁথায় লেখা থাকে শ্রমের ইতিহাস
    যেমনটা সোনেলা র সদা জাগ্রত বুকে।
    মুগ্ধতায় শুভ কামনা রইল চিরন্তন।

  3. আমরাও দেখছি সেই নিখুঁত সুই সুতোয় কিভাবে কবিতা গাঁথা যায়। অবাক হই সব টপিকই কি করে কবিতায় রুপান্তর হয়।
    শুভ কামনা ভাইয়া।

  4. নকশিকাঁথার প্রতিটি বুননে যেমন কারিগরের মনের কথা অঙ্কিত হয় তেমনি সোনেলায় নিজের লেখা প্রতিটি শব্দকে এক একটি বুনন মনে হয়।

    নকশিকাঁথা সোনেলার উজ্জ্বলিত থাকুক চিরকাল।

  5. নিখুঁত সূচে নিপাট ভাবনা। সোনেলার আকাশে নির্ভাবনায় লিখতে পারি। এটা ভালো লাগে। পাছে লোকে কিছু বললে, আসে যায় না।
    আপনার শব্দবুনন আরও অলংকৃত করুক। আমি তো কেবল শিখছি আপনাদের দেখে দেখে।

  6. নকশীকাঁথা জুড়ে থাকে কত অজানা সুখ-দুঃখ, বিরহ,কষ্ট, যন্ত্রণার ইতিকথা তেমনি করে সোনেলা থাকে না বলা হাজারো কথা,অভিমান, অব্যক্ত অনুভূতির এক বিশাল সম্ভার।
    ভালো লাগলো। সুন্দর নিপুণ ভাবে কবিতার কথা বললেন।ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন