রাত হলেই রাত্রির কাঁধে কাঁধ রাখি কাঁধে মাথা রেখেই ঘুমাই, মুখচোখহীন জমাট অন্ধকার রাত, ঝানু বিষণ্ণতায়, অশেষ নিস্তব্ধতা বা দুধেল জ্যোৎস্নায় হু হু নিঃশব্দ নির্জনতায়, নিঃস্বতায়, রা নেই মুখে, উল্লাস-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মজে-হেজে যাওয়ায়, সত্য-মিথ্যের যমজজন্মে অবশ্যই রাত হলেই রাত্রি আসে উঁকিঝুঁকি দিয়ে আড়ালহাসি হাসে, রাতে, রাত্রি শুধুই ভান করে শেখানোর কিছুই শেখায় না, ইতং-বিতং শেষে [বিস্তারিত নিশ্চিন্তে জলক্লান্তবুকে]
ফি বছর ঘনকুয়াশার শীত এলে দেখা হবে এই এখানে, ধানসিঁড়িটির তীরে, কথা এমন ই ছিল, হয় নি বা হয়েও ছিল। যদি অন্য কোন বছরে বা অন্য কোন দিনে অন্য কোন ক্ষণে, অন্য কোথাও অন্য কোন-খানে দেখা হয়ে যায়, কথা বলবে অনর্গল, মুখেচোখে রং তুলে হাসির ফোয়ারা ছুটিয়ে; আকাশে রংধনু আর ফানুস উড়বে; অথবা না দেখতে [বিস্তারিত দেখার না দেখায়]
খিল থাকে সবারই দরজায়, রাত্তিরের বেলা হাট করে হা হওয়া খোলা দরজা কেউ ই চায় না, রাখেও না। আমিও না!! কী না কী ঢুকে-ফুকে যায় প্রবিষ্টতার ছলে, কখনও-সখনও চোর-ছ্যাচোর, চামচিকে থেকে কিউলেক্স মশা বা সাতরঙা প্রজাপতি। খিল চাই, খিল, জবরদস্ত খিল, দরজা সে যেমনই হোক শুঁটকো কিম্বা উটকো, একহারা মেদহীন বা ঢাউস, চিমসে বা মাংসল [বিস্তারিত অমরাবতীর দৈব প্রাচীরে]
মহাকালের সুদীর্ঘ নিস্তব্ধতার পরে, নিঃশব্দ, কেন এলে? শেষের এই জরাজটিলতার বিভগ্ন প্রহরগুঞ্জনে!! ঘুমোতে যাব, কিংকর্তব্যবিমূঢ়তায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছি শূন্যতার নিরর্থ প্রলাপে, ঘুমোই এবার? বলেছিলেতো সবকিছুই নাকি অন্তঃসারশূন্য, বস্তাপচা, টুকে-ফুকে লেখা হীনশব্দস্রোত! ঘুমোলাম; তবে দেখেনি যে জীবনচাঞ্চল্যের অহেতুক ভিড়ে কাশফুলের গায়ে অনন্যসাধারণ সোনালী সূর্যাস্ত, শতাব্দীপরম্পরায় অদ্বিতীয় রুপোলি নদীর শাঁই শাঁই জল স্রোতের জলকল্লোল, রাহুমুক্ত সাদা চাঁদ; [বিস্তারিত নিঃশব্দের ফিরে আসা]
এ শহর আমার শহর, আমার কাছে আসে চোখ পেতে আনমনে, আমায় নিয়ে হাসে, এক টুকরো অকৃপণ সোনা নিয়ে বাঁচে; এ আমার শহর। দুপুর আসে রোদমাখা চোখে, অলস ছায়াবিকেল আসে আনন্দে নেচে নেচে, রাত্রি আসে চুপিসারে, বানডাকা জ্যোৎস্নার মাদল বাজিয়ে শিশিরে পা ফেলে ফেলে সকাল আসে লাজভীরু পায়ে। ডাইনিরাও আসে রাতবিরাতে ভাঁজা ইলিশের লোভে নয়, রক্ত [বিস্তারিত অকৃপণ সোনাশহর]
বিষণ্ণতার কোন রং হয় না, নীলের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা হয় না যায় ও না, ভারী ভারী যুদ্ধসাজ নিয়ে এগোয় সে, হামলে পড়ে সম্মুখ সমরে, স্নাইপার রাখা আছে গোপনপকেটে পুরে; রূপকথা যাদুরদ্দুর নিয়ে টিকে থাকে সামান্যক্ষণ, স্পর্শের শাশ্বত উত্তাপতা নিয়ে অরণ্য দাঁড়ায় বুক চিতিয়ে একা, প্রতিশোধ নয় শুধু টিকে যাওয়া, আর টিকে থাকা, অঘোষিত অবশ্যম্ভাবী মৃত্যু [বিস্তারিত জয় পরাজয়ে]
পাল্টাই, পাল্টে যাই ভেতরে ভেতরে, আরও ভেতরে গভীর গভীরতার গভীরে, জেনে জেনে, জেনে বুঝে বুঝে, অজানায় ও; দেখি না, দেখা যায়ও না, দেখাই না; অকস্মাৎ অগ্নি উৎপাতে পোড়াই পুড়ে ছাই হই, সুনসান নীরবতায় যে যার পথে যাই নিশ্চুপ রোদ্দুর পিছনে ফেলাই, হেঁটে যাই হেঁটে যাই অচেনায় হয়ে যাই;
শিরদাঁড়া, জানু ও শেষে নধর গালে হাত বোলাতে বোলাতে ঘ্রাণ নিচ্ছি তরতাজা কুমারী বইয়ের, ভাবছি শেষ পর্যন্ত পড়িয়েই ছাড়লে!! না পড়লে কী এমন হতো! পড়েই বা কী এমন হয়!! কিছু একটা হয় হয়তো!! তবে হ্যা, চমক-ফমক ছিল, ছিল জানা-অজানা কলাকৌশল, এত্ত শিখে-ফিকে কোথায় কী এমন ফলাব!! তার থেকে এইতো ভাল………… ছিপ ফেলে ঠায় দাঁড়িয়ে, বসে [বিস্তারিত বরফকুচির চোখ]
তুমুল এক গাছি সহসা খোশ-খবরে জানাল এক গাছ আমার জন্য পাঠিয়েছে এক হাঁড়ী শিশিরসকালের মিষ্টি মিষ্টি রসাল রস, গাছি নই, গাছও আমার ছিল না, নেই ও; গালেহাতে বা বকপায়ে ভেবেছি, ভাবছি। কোথায় কী এমন হলো, কোন্ গাঙে বানজল এলো!! উপচে পড়ার আনন্দে!! দিনান্তে মধুরসের পায়েস আর রসচিতৈ খাইয়ে-দাইয়ে, উপরি হিসেবে নলেন গুড়ের সন্দেশ!! অবাক হয়েছি, [বিস্তারিত সংজ্ঞাহীন ব্যঞ্জনায় বন্ধুত্ব]
পেলবতার মধুস্পর্শে চিরআবৃতা তীব্র উলঙ্গতার আচ্ছাদনে, কারণের অকারণে দু’কুল ছাপানো উচ্ছলতা শেষে ফেলে রেখে ফেলে যাওয়া প্লাবনভুমি, ফিরে এসে খোঁজ নিয়েছ কি! নিজের ছায়া মাড়িয়ে পা ফেলে হাঁটা পথিক হেঁটে যায় দূরে আরও দূরে; মৃতেরা লুকায় কাফনে-কফিনে, অবাস্তব বাস্তবের স্বপ্নচোখে আশরীরি ভালোবাসা বেড়ায় ঘুরে নদীটির প্রবল দু’কুলে।
কনে দেখা আলোতে দু’কুল ছাপানো নীরব চোখে মায়াময় যাদু, সবুজ সবুজ নিঃশব্দ হাসিতে ছড়ানো অনাবিল আনন্দহাসিতে মা-মনি তুমি কে? টলোমলো পায়ে জীবনচাঞ্চল্য পেছনে ফেলে অসাধারণ অস্তরাগে নিচ্ছ অমরতার স্বাদ? বেঁচে থাক শতের শতাব্দী মা-বাবার বুকে চাঁদজ্যোৎস্না হয়ে, শৃঙ্খলিত শব্দপুঞ্জের অনুচ্চ ডাকে কথা বলো নদীর সাথে সবার অগোচরে নদীও হেসে ফেলে ছলাৎ শব্দে ফোনক্যামেরার মিহি শব্দে; [বিস্তারিত কথা বলে সে নদীর সাথে]
শীতঘুম ভেঙ্গে গেল খুটকরা শব্দে, রাত তিনটে! কে, কে ওখানে? উহ, ঘুমুতে দেবেনা দেখছি, আবার এসেছো? কী চাও? জানিতে বলবে, কিছু না এমনি আসিতো! ভাঙ্গাবে ঘুম শব্দ শব্দে!! না, তেমন ইচ্ছে ছিল না? ওহ! দেখতে দিয়ে কপাল ঠুকে গেছে? তা এত্ত দেখার কী আছে, আলোজ্বলা রাতে? আলোতে ঘুমোই বলে খুব সুবিধে, তাইনা? অবশ্য তোমাদের তো [বিস্তারিত ভাঙ্গাঘুম নষ্টমাথা]
ওদিকটায় একটি দিক আছে, ছিলো ও, যেতাম, যাই ও; এদিকটায়ও একটা দিক আছে, অনেককাল, থাকিও এখানটাতেই। এদিক ওদিক একদিক না, হবে বলেও মনে হয় না, তবুও যাই ই; আহা, ঝিমোলে হবেনা-তো! যাই, ওদিকটায় হেঁটে আসি;
স্বর্গ-পরী, স্বর্গেই থাক স্বর্গসুখের মৌতাতে! সুখ-পাখির সুখে সুখে, বৌকথাকও পাখির ডাকে। বসন্তের কোকিলের বেশে, তবক দেয়া পানের-মুখে উদ্বাহু তাথৈ-নৃত্য নেচে, নিত্য অসুখের চোস্ত জড়িবুটি খেয়ে মনোরম ইক্ষু দণ্ডে ঝঁকানো দাঁতের মৃদু দংশন শেষে ইক্ষুরস চুষে চুষে, দুরন্ত সখার বিঘত শয্যা-সুখে; নরক-সুখের নরকরাজ্যে নিত্য বসবাসে এখানেও আনাগোনা মেঘেদের বর্ষামাদলে, বন-হংস পাখা মেলে বনহংসির খোঁজে কবিতাকাতর কবি [বিস্তারিত স্বর্গ-সখার বিঘত শয্যা-সুখ]
শিকার! দেখেছো কি শিকারি? চোরা চোখের আড়াল ফেলে, ড্যাব ড্যাবে গোল গোল চোখে! আঁধারের অভিসন্ধিতে দুরভিসন্ধিশাসিত পুষ্পিত লকলকে জিভে নির্ভয়শিকারি উঁচুবুকে রাজপথ থেকে গলিপথে হেঁকে চলে শিকার শিকার, দীঘল গুচ্ছের ফুলদ্বীপে মিশে মিলে শব্দহীন পাখায় আনন্দোচ্ছল ওড়াউড়ি প্রত্যুষপ্রজাপতির আনাগোনা, উল্টে পাল্টে নিজেকে দেখা, জেগে ওঠা পাখির কূজন, হৃদয় দিয়েছিলে ঠাঁই ক্ষণে বদলানো মেঘদল; দূর ব্যস্ততার [বিস্তারিত আওয়াজ]