পথের বনজ্যোৎস্না

“এই যে সময়ে-অসময়ে সকালে কিম্বা রাতে শীতে-গ্রীষ্মে-বৃষ্টিতে হাঁটাপথে হাঁটো, হেঁটে যাও হেঁটে হেঁটে, কৈ যাও? কেন-ই বা? নিরামিষ! একঘেয়ে লাগে না?” অপ্রস্তুত মনে আচমকা প্রশ্ন করে বসে, পথ; এই-যে পথপাশে এত এত টলোমলো শিশিরফুল, পাখি, লতাপাতা, বনানী আর বনজ্যোৎস্না, এ-আর কৈ-পাই!! “ঐ-যে সেদিন পা-পিছলে হাঁটু-ছেলা হলে?” দেখনি বুঝি!! শিশির ঝর্ণা হয়ে জল ঢেলেছিল, বাতাস ভালোবাসার [বিস্তারিত পথের বনজ্যোৎস্না]

একটু দাঁড়াই

বই বরেণ্য অনুগ্রহ করুন, শুধু একবার-ই বলুন, রকমারিতে দু’টো বই ই পাব কিনা, হ্যাঁ কিম্বা না-তে-ই; জানতে চাই। *************************************************** সবুজের অরণ্য সোনালী সূর্য হাসুক প্রভাত-দিগন্তের পুরোটা বুক জুড়ে, বুকে জড়িয়ে; পাখিরা মেলুক বিস্তর ডানা ওই –ই বিঘৎ অরণ্যের সবুজে। ************************************************* পাতা কুড়োনি ঝরাপাতা কুড়োবে! একদম সাফ –সূরত হয়ে যাবে! তা বেজায় উঁচু বেড়া পেরুলে কী [বিস্তারিত একটু দাঁড়াই]

একাকীর নিঃসীম প্রান্তরে

কারো দেখা মিলুক বা না-মিলুক কেউ উঁকি দিক বা না-দিক সূর্যদুহিতা হয়ে, কী এমন আসে-যায়!! দু’একটি বুনো-ফুল সুরভিত প্রেম মেলে পথ আগলে দাঁড়াবে না কথোপকথনের ছলে, দুদ্দার করে, আচমকা প্রাণদ-উচ্ছলতায় সব কিছু ফেলে-টেলে, নীরবতার পবিত্র সুগন্ধি তেল পুড়িয়ে হেসে ফেলবে-না, তা ভাবি না, উষ্ণতার বরফ-খণ্ডখানি ছুঁড়ে দেবে কাছ-দূরত্ব থেকে, প্রলম্বিত প্রণয়ের ক্ষীণ দূরতম ফোঁটায় ফোঁটায় [বিস্তারিত একাকীর নিঃসীম প্রান্তরে]

খেরো খাতার কবি

স্তব্ধ নিস্তব্ধতার গভীরতম তলদেশ থেকে উঠে আসা গা গুলোতে থাকা অব্যর্থ যন্ত্রণা, ঘুরপাক খায় ঘুরপাক খায়, আবদ্ধ করে, আচ্ছাদন করে; এই পথ ধরে হেঁটে গেছেন এক ধন্বন্তরি কবি, গোপন খবরে জানতে পেরে পিছু নিয়েছি, ধরে ফেলা দূরত্বে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছি, এ-যে সাত, চৌদ্দ বা সারে তেত্রিশ মাথার ধাঁধাঁ! কোন দিকে যাবো? হাঁটছি নিঃশ্বাসের দীর্ঘশ্বাস [বিস্তারিত খেরো খাতার কবি]

ঝরাপাতার অরণ্যে

পাতাঝরা দিনে মচমচ শব্দ তুলে সময় হেঁটে যায় আর হলদে পাতারা বাতাসে ভেসে ভেসে হাওয়ার নাচনে হুটোপুটি লুটোপুটি খেতে খেতে আনন্দ-বিষাদে মাটির বুক-জুড়ে ঘুমোয়, ঘুমোয়; মচমচ শব্দ তুলে সময় হেঁটে যায়, জলভূমির জলপরী ফ্যাকাসে-মলিন বিষণ্ন-চোখে অপলক চেয়ে চেয়ে নির্দোষ দিনগুলোর কথা ভাবে ও আবার জলারণ্যে পথ হারায় কোন এক আগামীকালে গজিয়ে ওঠা সবুজ কুড়ি দেখবে [বিস্তারিত ঝরাপাতার অরণ্যে]

কঙ্কাবতী ও কফি

ডেকেছে কঙ্কাবতী কফি খেতে, আনন্দ আতিশয্যে আগে গিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা, বসে বসে বা পায়চারীতে অপেক্ষা-প্রহর গুনতে থাকা, এটা –ওটা খাওয়া। অনন্ত সময়ের জগদ্দল পাথর ঠেলে ঠেলে হাপিত্যেশ করা, শেকড় গজিয়ে বটগাছ, ঝুড়ির আড়ালে প্রায় আড়াল হওয়া। ফেসবুক হাতালে মন্দ হয় না, ফাঁকা বাক্সে উঁকিঝুঁকি দেয়া!! পকেট হাতড়ে দেখি হাওয়া হাওয়া, আনিনি ওখানা!! হঠাৎ বয়ে [বিস্তারিত কঙ্কাবতী ও কফি]

নতজানু জল

সোনালী হুইসেল থেমেছে সেই কখন খ্যাপা জ্বলন্ত সূর্যের নীচে কাঠফাটা রোদে, রসেবশে খেই হারানো সাত-পাঁচ কথার ভিড়ে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে লিখছিনে যত্তসব খাপছাড়াদের সাথে মিলেমিশে!! ধুর, গনগনে গ্রীষ্মের আকাশ গেল ঢেকে খণ্ড খণ্ড মেঘের আড়ালে। প্রেতানন্দে মাতি আনন্দ বাগানের উচ্ছলতায় প্রতিপালনের অপেক্ষায় থাকে এক-বুক বসন্ত-প্রার্থনা, চকচকে জল নতজানু হয় পায়েল পায়ের নূপুর বাজিয়ে স্ফটিক শুভ্রতায় গা [বিস্তারিত নতজানু জল]

চিঠিপত্র (প্রতিযোগিতা)

  প্রিয় গুণতরাসী, ভাবনা না-ভাবনার অজস্র জলা-জঙ্গলকে পাশে ফেলে পাশ কাটিয়ে নির্বিকার শুয়ে থাকো, জলস্রোতে ভেসে ভেসে ফিনফিনে মনে; এ-পাশ থেকে ও-পাশে ও-পাশ থেকে এ-পাশে। নাছোড় হাতে হাত রেখে, হাত ধরে উঠে এসো সহিষ্ণু হও বন্ধুত্বে, সখি, ফিরে ফিরে এসো, শাপলা-শালুক হাতে সেই বিলের ধারে; হৃদ-পাথর বানানোর মন্ত্র কোথায় শিখলে!! শেখাতে হবে এমন-ও বলছি না, [বিস্তারিত চিঠিপত্র (প্রতিযোগিতা)]

ভোরের পরামিশ

আজ জোড়া ভোরে সুবেহ সাদেকের পয়লা রোশনিতে তাজ্জব আমি, স্নায়ুর তন্ত্রীতে কাঁপন লাগিয়ে, তাকাতাকি-দেখাদেখি ক’রে ক’রে না-দেখা-না-দেখি ক’রেও দেখা হয়েই যায়!! সিনা চিতিয়ে সংগোপনে না-ক্যাঁচমাঁচানো সিঁড়ি বেয়ে আন্ধার-আলো করে তল-কুঠুরিতে নেয় টেনে, ক্যাঁচরম্যাঁচর করে, ধুমান্ধারর পরামিশ দেয়, খুব পরামিশ দেয়, যুদ্ধে ঝাঁপানোর! কাজে-কামে উদ্যম-রহিত হালতে (তাগা-তাবিজ ব্যর্থ) আগে বাড়ি না, কামিয়াব না-হওয়ার ভয়ে;

রোদপরাগের ডাইনি

অকস্মাৎ ছুটে এলো দেখভালডাইনি তড়িঘড়ি পড়িমরি, তলব পাঠিয়েছেন ডাইনিরানী, ভয়ে হাতজোড় কাঁচুমাচু! কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সাক্ষাৎ চোর, কলা-কচু; খোশগল্পে মত্ত কুলরানী নূতন এসেছে বিদগ্ধ ইয়ার-দোস্ত ভারী ভারী, হুকুম এলো, নূতন কবিতা বল এই মুহূর্তে এখুনি নচেৎ ঘাড় মটকে দেবে জল্লাদডাইনি, কী করি কী করি ভেবে মরি ভেবেই মরি, যাবে নাকি প্রাণ এবারই! সভয়ে বলি, হঠাৎ দাঁড়াবে [বিস্তারিত রোদপরাগের ডাইনি]

অপেক্ষার মধুযন্ত্রণা

দ্বৈতাদ্বৈতের গুঞ্জন তুলে, অর্জন-উপার্জনের কথা ভেবে, বদলাতে হবে না, বদলে যাবও না, এই অপেক্ষা-প্রহরে, নিবিড় নিবিষ্ট নিশীথের আলপথে ফোটা গোলাপগন্ধা শাড়ি-ফুল, সহসা আঁতিপাঁতি করে হাতড়াতে হাতড়াতে এড়িয়ে-মাড়িয়ে আস্তব্যস্ত হয়ে বেপথু-আঙিনায় উঁকি দেব, স্থাণু হব! এমন-ও-না, জ্বলজ্বলে উন্মুখ বুকে-মুখে বিষ পুষে রাখিনি, একাট্টা জ্ঞানী-নির্জ্ঞানের অশনি-শাসনে চিৎকার করিনি, সায়ানাইড নেব বলে ঠোঁট তুলে হাঁ-হয়ে আছি নীলকণ্ঠ নই, [বিস্তারিত অপেক্ষার মধুযন্ত্রণা]

একলা ব’সে ভাবি একলাএকলি

একলা ব’সে থেকে, একলাএকলি যাচ্ছি ব’লে পরস্পর-আলাপনিরত, আলাপে-উৎসুকে, তা-ও কোনোএকটা কিছুএকটা বাদ প’ড়ে যাচ্ছে, সহসা দুদ্দাড় করে এঁকে-বেঁকে চকিতে গেল চলে মুখ-খোলা-গা-ঢাকা-হিজাবী-দেবী গোলাপ-গন্ধ-ফেলে, নীরবে নিবিড় কটাক্ষে; দেবী না ছাই! অশরীরী প্রেতাত্মা বা মায়াবতীশয়তানী, কাঁটাবনের-মায়াবনে দূর-কুহকহরিণী, হতে পারে গিরি খাদ থেকে উঠে আসা মৃত কোন শবযাত্রী!! ছাইমাখা রোদাকাশ, থলথলে জ্ব্যালজ্ব্যালে চাঁদজ্যোৎস্না মেঘহীন বৃষ্টি!! ভাবতেই পারি না, [বিস্তারিত একলা ব’সে ভাবি একলাএকলি]

প্রাণারণ্যের ডিমের ঝালফ্রাই

এই মেলার মানবস্রোতসমুদ্দুরে হারিয়ে যেতে যেতে কত কী দেখা না-দেখা,পাওয়া না-পাওয়া, বহুকালের পুরনো সুহৃদকে বুকে জড়িয়ে ধরা যত্নে-স্নেহে-ভালোবেসে, নূতনদের আবার আরও একবার কাছে থেকে দেখা, কাছে পাওয়া, সুখ সুখ কথা বলা, জনম জনমের ভাগ্যে থাকা আনন্দের মুঠোভর্তি চঞ্চলতা, এ অনেক অনেক বেশি বেশি থেকেও বেশি পাওয়া, সদাচঞ্চল অবিশ্রান্ত উচ্ছলতার মহানন্দে প্রাণারণ্যের ডিমের ঝালফ্রাই!! স্টল নম্বর [বিস্তারিত প্রাণারণ্যের ডিমের ঝালফ্রাই]

সাধ থেকে যায় অসাধ্যে

এত্তেলা পাঠালেন, জরুরী-ই মনে করি, ভয় পাব-কী পাব –না, ভেবেই মরি!! পালিয়ে থাকাই উচিৎ-কাজ, তাও ভাবি, সে-যে, অকস্মাৎ এক-কালে ভেসে যাওয়া সোনারতরী! না, কোন গুহাযুগের-গুহাবাসীর গল্প-সল্প নয় নয় কোন এস্কিমো আবাসে জেগে ওঠার কম্প-কল্প! নয় কোন অযুত-নিযুতের পরণ-কথা; এই- তো সেদিন, গতকাল বা পরশু, বা একটু আগে, এক্ষুণি-তো আকাশীজ্যোৎস্নায় চাঁদ-হাসা তেপান্তরের মাঠে-মাঠে-মাঠ পেরিয়ে বালখিল্যের শিশুহাসি [বিস্তারিত সাধ থেকে যায় অসাধ্যে]

বদলে যাব না

বদলে যেতে যেতেও যাইনি, শ্লথ চাকায় ঠেস দিয়েও দাঁড়াইনি বিপুল ব্যাপ্তির গাছের আড়ালে, চুপিসারে পথের উন্মুক্ততাও খুঁজে পাইনি। বিষাদ মুখোশের পদচিহ্ন খুঁজে খুঁজে পথ হারাইনি, ফুলের সম্ভারে নিখুঁতের সুখও খুঁজিনি; এক মুজরোয় রাত পার!!এমন ভাবনাও ভাবিনি, অঝোরের বাচালতায় থমকে যাইনি। মাটির অনুজ্জ্বল বাদামী নকশায় গাছেদের ছায়ায় ফুলেদের চঞ্চল চঞ্চলতায় হাঁ হইনি হব-ও না।