অন্ধচোখে যদি ধুলো পড়ে, আচঁলভাপ সে আমার চাই না, শিখে গেছি স্বপ্নহানার ভয়ে জেগে থাকার দুর্বোধ্যতা, শোনিতময় মনজ্যোৎস্নার বিজন বনে কেউ নেই পাশে আজ, প্রতীক্ষা প্রজ্ঞা স্মৃতি-বিস্মৃতির প্রবল সান্নিধ্য এড়িয়ে স্তব্ধবিষণ্নতার কামকেলি, শুধুই পুরুষ দূরত্বে। মরুর বালি অশ্রু শিখেছিল সে কবেই, পলাশপদ্মচোখ খুঁজিনাতো আর, হাঁটছি কাঁটার পথে আগামীর স্বপ্ন নিঃশ্বাসে; কে তুমি হেঁটে যাও, হে [বিস্তারিত পদ্মদীঘির ঘাটে]
ভয়ের হিম স্রোত নীচে নেমে গেল শিরদাঁড়া বেয়ে, নাহ্, মাথাটি ঘাড়সম্মতিতে আছে যথাস্থানেই, কেউ আসেনি চুকচুক করে রক্ত খেতে ঘাড় মটকে লম্বা সূচাল দাঁত বিঁধিয়ে, দেখছি ডাইনি রাণীর কর্মযজ্ঞ, না বুঝেই। কেটেছে ভয় কিছুটা, যদিও বিরাজমান আছে গভীর ভাবে ডাইনি ফ্রেন্ডলি এ্যাটমোস্ফিয়ার, জানি ই না কী করে কেমন করে এই এখানে এলাম, ভয় কমে যাওয়াতে [বিস্তারিত আমি ও আমার ডাইনি আতিথ্য!]
রাতের বুকে বালতি বালতি জ্যোৎস্না ঢেলে চাঁদ হেসে ওঠে, ধ্রুপদ আলোর নিপুণ মূর্ছনায় অনন্ত-তৃষ্ণা ডানা মেলে, নিভৃতে রোপণ করা স্বপ্ন অভিলাষে, ঝাঁপায় এদিকে-ওদিকে; খুবই স্বাভাবিক, ঝকানো বিজ্ঞাপনে নটি সুখের মিচকে হাসি একটি নিলে একটি ফ্রি, দু’টিতে তিনটি!! শহুরে অহংকার ছুঁয়েছে চুল থেকে পায়ের নখ অব্দি; এই-ই হয়। আলোকসুন্দরী পাখিরা আধারেই খুঁজে নেয় উলুবন ভাগ্যের দোহাইয়ের [বিস্তারিত ধনুকের ভালোবাসা]
লৌকিক-অলৌকিকের পাহাড় হাতড়ে আলিঙ্গনের মহাভয়ারণ্যের কড়াপাকের ঘ্রাণ ভুলে বাস্তব-অবাস্তবের গা ছুঁয়ে, না ছোঁয়ার ভান করে অবাক-অচেনা হতে হতে, কিংবদন্তিতে গুলিয়ে ফেলে পত্র-নিষ্পত্রের ফাঁদ এড়িয়ে, ফাঁক গলিয়ে, গলি-রাজপথ মাড়িয়ে, লাল-সবুজের পাপড়ি মেলা মুক্তোহাসি হেসে আকাশী সিঁড়ির সিঁধ কেটে, নেমে এলো একমুঠো ফাগুন-বার্তা শানানো ছুড়ি হাতে, হাস্নুর সুবাস নিয়ে, মধু-বিষাদের লহরিতে হঠাৎ খেয়ালের বশে, হয়ত ভুল করে [বিস্তারিত ফাগুন আসে]
কোন একদিন যদি বলেই ফেলি যা কিছু দিয়েছ, দিয়েছি, নিয়েছি কী নেইনি তা না ভেবেই ফেরৎ দিতে চাই বা দিয়ে দেই নিতে পারবে? ফুলেদের ভালোবাসা থেকে শ্রাব্য-অশ্রাব্য গালাগাল সত্যের মত মিথ্যে, মিথ্যের মত সত্য ভেবে ভেবে কল্পনার ফানুস ছুড়েছ আকাশের গায়ে; এক বুক পূতিগন্ধময় ক্ষীণ স্রোত, জল জ্যোৎস্নার প্লাবন, ভুয়ো জ্ঞানী জ্ঞানী অহংকার! বুক চিতিয়ে [বিস্তারিত ফেরৎ! সে আমি দেবই]
শীত রাত, দু’টো বেজে সাড়ে তেত্রিশ মিনিটে পৌছুলে, ভাঙ্গা ঘুমের এপাশ-ওপাশ, কী করি কী না করি, কী পড়ি কী ই বা লেখি! পড়ি পড়ি, এটা পড়ি ওটা উল্টাই, ইলিয়াড না স্তাদল! চিড়বিড় চিড়বিড়, সুনসান শীতে নিশি পেল নাকি! আরে ধুর! নিশির মাকে আব্বায়! আচ্ছা, ঠান্ডা পানিতে গোসল সাজালে কী হয়! কেমন হয়? হিরহিরে ঠান্ডায় দাঁত [বিস্তারিত নিশি পাওয়া চোরের পেত্নীভুত]
ঐ যে, সেবারে হেসেছিল সে, সাড়া দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যা জুড়ে, খর-কোমল-লাল-চোখে ভালোবাসার পাতাল খুড়ে; ওই একবার-ই, ফ্যাল-ফ্যাল চোখে তাকিয়েছিল; সময় দৌড়ে যাচ্ছে, আমি হাঁটছি, তুমি অকস্মাৎ উড়াল দিলে স্থির আমি, শিকড় গজিয়ে দাঁড়িয়ে গেছি;
কে কোথায়, কবে কখন, কেন জন্মেছিল কে জানে! ভারী কুয়াশার পর্দা ছিঁড়ে খটখটে রৌদ্রে বা তুমুল বর্ষায় গভীর ঘুম শেষে সহসা তীব্র চিৎকারে, কে কোন সুরে আজান ফুঁকেছিল নেই মনে, হে আমার জন্মান্তর। এখানে এখন পিশাচ রাত্রির কলোচোখ পিছু নেয়, পিছু ডাকে, যেতেও বলে, পেরেকের মত গেঁথে, বুকভরা নুনপানির তীরে, পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দারুণ [বিস্তারিত জন্মের স্বর্ণভূমি]
পুরোনো ঘরের গন্ধ গা ঘেঁসে দাঁড়িয়েছে, এই তো এখানে ওরা সবাই ছিল, একে অন্যতে একাকার হয়ে, এই বিশাল শব্দ না তোলা স্বপ্নপালংকে শুয়ে শুয়ে বসে বসে হাঁটু মুড়েও কত কী না ভেবেছে, করেছে, অন্য রকম করে আরও অনেকক্ষণ কত কিছু ই করার কথাও ভেবেছে, খিস্তিমৈথুন থেকে শুরু করে ধানি বা খিল পড়ে থাকা জমা জমির [বিস্তারিত পুরোনোর নূতন]
দিন ফুরোলেই রাত, পেরুবো সন্ধ্যাসাঁকো ধীর লয়ে, ধীরে ধীরে সুগন্ধিস্নান শেষে; অপেক্ষায় রাত্রি। সেবারে যখন এসেছিলাম এই সাঁকোটিই পেরিয়েছিলাম। নড়বড়ে হলেও দিব্বি হাসি হাসি মুখ করেই ঘাড় বাড়িয়েও দিয়েছিল, সহসা আয়নাজলে চোখ আঁটকে গেলে থমকে দাঁড়িয়েছিলাম; অভয়সাঁকো সাহস দিয়েছিল, ও কিছু না, এইতো পার হলে বলে। বড্ড ভয় পেয়েছিলাম, রাতের ছবি আঁকা কালোমুখ দেখে।
রাত্রি, কেন নিঘুম হও! অন্য কিছু কেন নও? তুমি কী ঘুমের নিঘুম সঙ্গী! রাত্রি হেঁকে যায় ঘুম থেকে অঘুমে; এই যে ক্রমাগত বয়ে যাওয়া, সয়ে সয়ে যাওয়া সাথে সাথে যাওয়া, হিম হিম স্রোতের দুঃসহতা! এ কোন্ রাত জাগা! ঘুম প্রহরের মাথা কুটে মরা! তবুও ঘুমেরা আসে আসবে এলোমেলো পায়ে, কালে ভাদ্রে এই নিভৃত রাত্রির [বিস্তারিত শীতহেঁসেলের রাত্রি]
আমারা দেখি অর্জুন কে দেখা মাত্র চিত্রাঙ্গদার নারী সত্তা উন্মোচিত হয়, প্রেম হয়, বাচ্চা হয়………………………………………(যদি আমি বুঝে থাকি), নিঃসঙ্গ স্বদেশের চরিত্রটি একটি পুরুষের, যে প্রবল সুস্থতা ও অক্লান্ত হৃদয়ে নানান কিছু করে-টরে বেড়ায়, তা বেড়াক, সমস্যা নেই, কিন্তু প্রবল সমস্যা হঠাৎ করেই তৈরি হয়ে যায়। রাত্রিবেশি আর্য রমনী (ফর্সা, ব্লন্ড, কোকড়া চুল) সে এসে হঠাৎ [বিস্তারিত একটু দেখুন, নিঃসঙ্গ স্বদেশকে!!]
আকণ্ঠ নিঃসঙ্গতা পানে মুখিয়ে থেকে অরণ্যোদ্ধত হয়ে হল্লায় মেতেছি, কনকনে সুন্দরতম শূন্যতার মুখরা মৌমাছির বেশে ফুলে ফুলে ফুলমধু নিয়েছি, ঝড়ঝঞ্ঝায় খালি-পা নিয়ে হেঁটে গেছি জলাজঙ্গল-মরুভূমি-পাহাড়-পর্বতের তুষার চুড়োয়, অভাবী স্বভাব নিয়ে বাঘের সওয়ারী করেছি আত্মহত্যাকে কাঁচকলা দেখিয়ে বাঘের দুধ খুঁজেছি, বর্ষাজোয়ারে উজিয়েছি কত কত খাল-নদী এ আমার পূত আগুনে পোড়ানো সুস্থ অসুস্থতা, অক্লান্ত হৃদপিণ্ডে; আচমকা আর্য [বিস্তারিত নিঃসঙ্গ স্বদেশে]
এ যেন অনেক কাল ধুন ধরে বসে থাকা লিখব বলে, কৈ? কিছুই-যে লিখছি না, পারছি না-তো লিখতে, আনন্দ-বেদনার-নদী ছুঁয়ে এবারে রক্তাক্তের অনুভবে লূ-হাওয়া, সাঁতরে বেড়ানো জলনদীর ভেজাবালি শুকোতে না শুকোতেই ঝড় এলো, এলো ঝড়, আম পড় আম পড়, না, আম নেই-তো, নেই বৃষ্টিধোয়া শ্বেতপাথরের ঝক্মকে জবরজ্যোৎস্না, আছে, কাদামাখা জলচোখ, ফিরে গেছি একাকীর সেই অরণ্যহাহাকারের নিঝুম [বিস্তারিত নাবালক প্রতীক্ষা]
নাহ্, কোন এক রাতের শেষ বা নিস্তব্ধ মধ্যরাতে নয়, হুড়মুড় করে হাজির সন্ধ্যা রাতেই, না বলা-কওয়াতেই, যেমন হয় সব সময়ে, এক্ষুণি যেতে হবে শ্মশানে, এক অষ্টাদশী বিশ্বসুন্দরী এসেছে, বৃথা চোখজনম না দেখলে গোল গোল চোখে, আরে দেখে-টেখে কী বা হবে? সুন্দরী-ফুন্দরী লাগেই নি কোন কালে, কী সব জ্বালাতন এই শীতে, যেতেই হবে। হেঁটে হেঁটে যেতে [বিস্তারিত শ্মশান সুন্দরী]