শীত শীতে

এই যে কনকনে উত্তুরে শীত, দাঁত ঠক ঠক, না এলেও মন্দ কিছু হতো না, পোশাকের জঙ্গলে হাঁসফাঁস, মুণ্ডুটাও বাদ যায় না, টুপি মুড়িয়ে কাম-কাইজ! উহ্‌ অসহ্য যন্ত্রণা! কুঁকড়ে যাওয়া বস্তা জীবন, ঠোঁট-ফাটা পা-ফাটা, একাকীর লেপোন্মত্ততা বিষবৎ, নিরামিষ হটওয়াটার ব্যাগটা! মন্দ নয়, পিঠে পুলি পায়েস, নবান্নের উৎসব, কাঁচা খেজুরের রসঘ্রাণ, সারাক্ষণ শীতের উসখুস, উড়াধুড়া শরীরে তৈলমর্দন [বিস্তারিত শীত শীতে]

উইয়েদের হেরে যাওয়া

গোলাপি রাত্রি ফুড়ে বেরুচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে উইপোকা, ওরা জানেনা ওৎ পেতে আছে কীটপতঙ্গভুকেরা, ওরা জানেনা পালানোর পথ নেই জানেই না, মাথা চুরমার সুগভীর কঙ্কাল কতটা কাছে কত্তো নিকটে! নয় এ কোন যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ক্ষুধার্ত পশুপাখিদের কাছে শুধুই হেরে যাওয়া;

ক্রুশে বিদ্ধতা

ঘুঘু ডাকা ভোর, শেষ বিকেলের কুহুতান, গ্রীষ্মের নিষ্প্রভ নক্ষত্র, উত্তাল ঝোড়ো হাওয়া, রূপোর জ্যোৎস্না সবই আছে যেমন ছিল, চারণভূমির ঝর্ণাটিও। শিশির-ভোরের রোদ্দুর, নিঃশব্দ ডানায় দ্রুত উড়ে যাওয়া বিভ্রান্তির প্রজাপতি, ঘুম জাগা ফুল, জেগে-ওঠা পাখিদের কুজন, কাস্তের কানাকানি, ক্রুশ বেঁধা যীশুমূর্তি, শুধু সানন্দের ভোর-আনন্দে নেই ফিংয়ে পাখিটি, সকালেই দুপুর-ক্লান্তি, খুঁজছে নিভৃত নীরবতার ছায়া, নেই কবিতাগুচ্ছের ওড়াউড়ি, [বিস্তারিত ক্রুশে বিদ্ধতা]

আকাশের খামার বাড়ী

ঘুম ভেঙ্গে গেলে শুনি দূর থেকে ভেসে আসা বীণাধ্বনি, ধ্বনিত হয় আকাশের গায়ে, মাতাল হই, মাতাল হয়েই শুনি; বিষণ্ণ অমাবস্যায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা তারারা টুপ টুপ করে খসে পড়ে, ক্লান্তির শ্রান্তিতে একাকার হয়ে, চাঁদ উঠবে বলে টানা অপেক্ষা শেষে বিছনায় ফিরে যাই; অপেক্ষার চাঁদ গিলে বসে আছে সেই সেই অকৃত্রিম রাহু, বাঘের দুধ নয়, বাঘনখ [বিস্তারিত আকাশের খামার বাড়ী]

একাকীর ভাবনা

এই রাত্রি, যা লিখি, যা কিছু লিখি, যা লিখতে চাই, যা লিখব, ভাবো, সবই তোমার? ঐ যে কুমারী চাঁদ, দুধজ্যোৎস্না, নীলাকাশ, কাচরাত্রি আয়নাজলেভাষা পদ্ম; এ সবই কি তোমার! ভাব? একলা পাহাড়, জনারণ্যের কোলাহল, জ্যোৎস্না ছোঁয়া জল, পায়রার বাকবাকুম, আততায়ী বাতাস, অজস্রতম শিশির কণা, এই যে কথা না রাখা, অবিশ্রান্ত শয্যা প্রহর, মুহুর্মুহু ভাঙা হৃদপিণ্ড-পাঁজর! শুধুই [বিস্তারিত একাকীর ভাবনা]

ঘুমেদের ঘুম

ঘুমেরা ঘুমিয়ে গেছে, সেই কখন! ঘুম, ঘুমোও এবার, স্বপ্নিল স্বপ্নহৃদয়ে ভালোবাসার আগুন জ্বেলে! নির্ঘুমেরা জেগে থেকেই জাগুক নৈমিত্তিক বাহানায় হুলো বিড়ালের মিউ ডাক শুনে, বিড়ালের ইঁদুরখেলা বা ইঁদুরের বিড়াল বিড়াল! ক্যান্ডি ক্রাশের পিণ্ড চটকে চোর ধরার চোরপুলিশ খেলে খেলে! আজগুবি স্বপ্নপ্রেমের ডায়েরি খুলে, নূতন বা পুরনো কিছু লিখব বা ধ্যাত কিচ্ছুই লিখব না, লিখে কী [বিস্তারিত ঘুমেদের ঘুম]

একটি অতীব অজরুরী ঘো………ষ………ণা

হে প্রবল ও প্রভূত আহ্লাদে আটখানা আস্তব্যস্ত সোনাবান সোনাবতী সোনেলার বিদ্বজ্জন সোনারা, এই তো কিয়ৎকাল পূর্বে এই ল্যাখক সোৎসাহ সহরতে তাহার দশ কুড়ির অধিক ল্যাখা লেখিয়া ফেলিয়া মনে মনে খুব ভাব নিতেছেন (হনু টাইপা), কী যেন কী করিয়া উল্টাইয়া ফেলিয়াছেন (মূলে কিছু না) ! বিভ্রান্ত হইবেন না, ইহা একটি নিতান্ত মামুলি শব্দসংখ্যা বৈ অন্য কিছু [বিস্তারিত একটি অতীব অজরুরী ঘো………ষ………ণা]

দুধজ্যোৎস্নার কুমারী চাঁদ

এই যে হাঁটা পথের পথ ধরে চলছি, চলছি হেঁটে হেঁটে, ফেরা হবে না আর, ঐ ফেলে আসা ফেলে যাওয়া পথে, থেকে যাবে স্পর্শের বাইরে সুখসুখ সুখগুলো, দুঃখ জাগানিয়া স্মৃতির মেলা; চরৈবেতি-চরৈবেতি। ঠোঁটফোলা মেঘাকাশের নূপুর বৃষ্টি, জ্যোৎস্না ছোঁয়া ঝিকিমিকি কাচজল, পাথুরে প্রেমের হু-হু দমকা হাওয়া, ভোকাট্টা ঘুড়ি হয়ে উড়ে যাওয়া সোনালী স্বপ্ন, সাঁজ গড়ানো রাতের লৌকিক-অলৌকিক-ভৌতিক [বিস্তারিত দুধজ্যোৎস্নার কুমারী চাঁদ]

স্বচোখের বুড়িমা

অমৃতের ধ্রুপদী ভক্ষণে গাপুস-গুপুস খাই আনন্দের উৎসব ও ভর্তিপ্লেট খাওয়ার পার্বণে তৃপ্তিরঢেঁকুরতোলা একটি ছবি ঘরময় ভেসে বেড়াচ্ছে, খা বাবা খা চেটেপুটে খা, হৃদয়ে খাদ্যের উষ্ণতা নিয়ে অনুসরণ অনুকরণ চালিয়াতি ঢঙ ও নানান ভাব-ভঙ্গিমা দেখছি আর দেখছি। চশমিশ আনন্দদম্পতিকে বিবাহোত্তর আমন্ত্রণ, হাল্কা কিন্তু চনমনে বিলাসী ভোজনের, যদিও এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য ‘বেশ দেরি হয়ে গেছে’ এমন বাক্যাংশ [বিস্তারিত স্বচোখের বুড়িমা]

স্বপ্নের চন্দ্রমল্লিকা

স্বপ্নময় স্বপ্ন জেগে আছে বলেই বেঁচে আছি, অহোরাত্রি মায়াময় স্বপ্নের চিৎকার চেঁচামেচি, জলছোঁয়া শুচি জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি, বৃষ্টির চোরাচোখের উঁকিঝুঁকি, শীতের কনকনে গভীরতায় একটুখানি ওম, লাল চাল ভাতের ধোয়া ওঠা, নিভু প্রদীপের দপ করে জ্বলে ওঠা, বিবশ প্রবাস হৃদয়ের আবারও জেগে ওঠা, বেঁচে যাওয়া, ক্লান্ত ঘোড়া, বোবা জীবন, বিদীর্ণ বাগান, অসংখ্য তালি-তাপ্পি, হৃদ্ধ অনুভবে। ছায়া ফেলে [বিস্তারিত স্বপ্নের চন্দ্রমল্লিকা]

লেজঝোলা ফিঙেটি

শীতসকালের নগ্নগাত্রের শিশির মাখা একাকীর লেজঝোলা ফিঙে পাখিটি টেনিস নেটে বসে আছে, গাঢ় চোখে ঘাড় কাত করে চেয়ে আছে আকাশপানে, চোখ বেধেছে পলকহীনতায়; ধুপ-ধাপ হুট-হাট করে বা বিড়াল পায়ে নয় হাঁটিহাঁটি পা পা করেই পৌঁছে যাই কাছে, খুবই কাছে, অবাক! যাচ্ছে নাতো উড়ে, তাকিয়ে আছে জোড়া চোখে একদৃষ্টে, হাতছোঁয়া দূরত্বে, হাত বাড়ালাম ধরব বলে, ফুড়ুৎ [বিস্তারিত লেজঝোলা ফিঙেটি]

স্মৃতি

শেষে এসে পৌঁছে গেলাম তেপান্তরের মাঠ পেড়িয়ে ছোট্ট শিমুল গাঁয়ে, বেসামাল জনারণ্য ঠেলে ঠেলে উৎকণ্ঠার বৃষ্টি আর ঝড়-জল এড়িয়ে; এই মেঠো পথ মিশে আছে কৈশোরের স্বপ্নমাখা মধুপ্রেমে, ছি-বুড়ি আর এক্কা-দোক্কার স্মৃতিতে; শব্দহীন ঝরে পড়া গন্ধের বুনোফুল নাম না জানা লতাপাতা, রঙ-বেরঙের পাখি, আলতা পায়ে ঘোমটা টানা রাঙা বৌ লাজে হাঁটে শিথিল বসন্তে, ত্রস্ত পায়ে একাকীর [বিস্তারিত স্মৃতি]

হেঁটে হেঁটে হাঁটি

হাঁটি, হেঁটে হেঁটে যাই, হাঁটা নাকি পদব্রজ! বিভ্রম স্মৃতিতে কত কী, কত কিছুই না উঁকি দেয়! হামাগুড়ির ভঙ্গিতে ঘুর ঘুর করে স্বস্তির অস্বস্তি, সুতোর উপরে থাকা একরত্তি মৃত্যু থমকে দাঁড়ায়, কাছে আসে, দূরেও যায়। ফসল ফলায়, তোলে, খায়-দায়, ঘুমায়ও! প্রখর রোদ্দুরে, খটখটে জ্যোৎস্নায়, কবিতার সান্নিধ্য খুঁজে খুঁজে খুঁজতে খুঁজতে কীভাবে কী জানি কী হয়ে যায় [বিস্তারিত হেঁটে হেঁটে হাঁটি]

স্বপ্নঘুমের রাজপুরুষ

নিরাল কাচঘুম ভেঙ্গে যায় স্বপ্ন দেখতে দেখতে, রাজপুরুষের অগাধ আতিথ্যে আহা, সে এক মধুস্বপ্ন গেল ভেঙ্গে; কাচের চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ চূর্ণী মালার নাচন বা চূর্ণ-বিচূর্নতার, নৈঃশব্দতার নৈঃসঙ্গে ডুবে থাকা দিঘী-পুকুর আর গাঁ-গুলো সে এক চমৎকার রাত্রি ছিল। বৃষ্টি ঝরছে উপুড়ঝুপুর তবুও বাজছে রিনিঝিনি শব্দনূপুর, এক চিলতে নীলের ঐ আকাশে চনমনে রাজপুরুষ, আবারও এসো স্বপ্নে নয় [বিস্তারিত স্বপ্নঘুমের রাজপুরুষ]

উড়ে এসে জুড়ে যাওয়া

শুরু বাকরুদ্ধ হয়েছি, লেখারুদ্ধ হইনি, নাহ্‌, লিখতে অনুরুদ্ধ হইনি, শেষ আর নয় নির্বাসন সোনেলা হোক সোনাদের আপন ভুবন। লেখার শুরু ও শেষ সেরেছি সেই কখন, কিন্তু মাঝেরটুকুই ঝুলে আছে জুল জুল করে তাকিয়ে, হয় এসপার নাহয় ওসপার করে ফেলব ভাবি, ভাবি কী লিখি কী না লিখি ! কতটুকু লেখাই বা লিখব! অথবা না লেখালেখিটুকুই  লিখে [বিস্তারিত উড়ে এসে জুড়ে যাওয়া]