কুসংস্কারাচ্ছন্ন শালিক

বারান্দায় খাবারের দানা দেখে,কোথা থেকে যেন চারটি শালিক এসেছে। পরম যত্নে খুটে খুটে দানাগুলো খাচ্ছে, আমি আড়ালে দাঁড়িয়ে বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দেখছি। শালিকগুলো নিজেদের মধ্যে খুনসুটি করছে , ছুটোছুটি করছে। আড়চোখে এদিক-ওদিক দেখছে যদি কেউ এসে তাড়িয়ে দেয় এইভেবে কিছুটা শঙ্কিত। খাওয়া শেষে গাছের ডালে বসলো দুটো শালিক পাশাপাশি, আর দুটো জানি কোথায় হারিয়ে গেল; [বিস্তারিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন শালিক]

সেই মেয়েটি

শিশুকালে মেয়েটি পুতুল খেলতে, সাজাতে খুব ভালোবাসতো; গাছে-গাছে , শাখায় -শাখায় পুষ্পরঙে মন উচাটন হয়ে যেতো – নরম পাপড়িতে স্পর্শের আকুলতায় অধীর আগ্রহে বন-বাদাড়ে ছুটে যেতো। রঙ-বেরঙের পাখির ডানায় উড়বার অভিলাষে মাঠ-ঘাটে চঞ্চলতা দ্বিগুন হতো; রংধনুর রঙে-বর্ণে নিজেকে সাজাতে-ভাবতে কত শত আঁকিবুঁকি চলতো। কৈশোরে মেয়েটির দু’বেনীতে লাল-হলদে ফিতায় প্রজাপতি বাসা বাঁধতো ; অধরঞ্জনীতে ঠোঁট রাঙাতো [বিস্তারিত সেই মেয়েটি]

বিরহের দান

  মানবগ্রন্থিতে রসের ধারা উছলিয়া ওঠে, ক্ষণে ক্ষণে দ্রৌপদী প্রত্যুৎপন্নমতি আৎকে ওঠে। নিমীলিত পলকে নিরুদ্ধ ভাবনার অজস্র দৃশ্য চিত্রিত- জ্যা-এর নীলাভ দ্রাঘিমাতে ক্লান্ত পাখিরা নীড় খোঁজে, অন্তঃসলিলা তটিনীতে আবির-ধারায় তৃষ্ণা শায়িত। শ্বেত-শুভ্র আইভরিতে খোদিত সৌন্দর্য আয়োজন; তপ্ত বিজনপ্রদেশে বেদুইন শ্যামলিমা এঁকে যায়। পীথাগোরাসের উপপাদ্য শাস্ত্রীয় নকশার প্রতিপাদ্যে- গৃধ্রের আগমনে বিউগলে করুণ আবহ ছক কষছে। অতিযত্নে [বিস্তারিত বিরহের দান]

মধ্যবিত্তরাই রাষ্ট্রের বন্ধন

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্ত দের থেকে সবচেয়ে বেশী কষ্টে আছে মধ্যবিত্তরা। তারা না পারছে রাস্তায় নেমে আসতে , না পারছে ঘরে বন্দী থাকতে। প্রায় চার মাস ধরে মহামারীর ছোবলে আটকে আছে। নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা সরকারী সাহায্য পেয়েছে, এখনো পাচ্ছে। সরকার এদেরকে বিভিন্ন ত্রাণ, প্রণোদনা দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে। ওদিকে সরকারী কর্মকর্তারাও বহাল তবিয়তে আছেন । [বিস্তারিত মধ্যবিত্তরাই রাষ্ট্রের বন্ধন]

লজ্জাবতীর লজ্জা

  একটু ছোঁয়া পেয়েই  লজ্জাবতীর পাতাগুলো লজ্জায় গুটিয়ে বসলো, যতই আবদার করছি, আদর-সোহাগ করছি সেতো আর হাসে না পেখম মেলে – গোলাপের সুবাসিত পাপড়ি গুলো পাশ থেকে কানে কানে বলছে , ‘এই লজ্জা চোখ খুলে দেখ- বাইরে কি সুন্দর আলো ঝলমল করছে, তোকে ভালোবেসে কাছে ডাকছে।’ নাহ! লজ্জাবতী পণ করেছে আজ আর সে দ্বার খুলবে [বিস্তারিত লজ্জাবতীর লজ্জা]

সমাজের ঘুণপোকা

  শয়তানের উপস্থিতি অহর্নিশি, আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়েছে। মুক্তি মেলে‌না সহজে, মৃত্যুক্ষুধা চারপাশে ভেসে বেড়ায় শিমুল তুলার পেখমে। ক্ষুধার্ত শিয়াল খুঁজছে অন্ন- খুন হওয়া মানবতার নারীভুড়িতে। কোথায় মানবতা, কোথায় কথার চর্বিত-চর্বণ! অপব্যয়িত সমাজ বেশ্যালয়ে  মুখ থুবড়ে পড়ে; অন্ধকার গলিতে মাথা ঠুকে- আর্তনাদের নিরাকার অবয়বগুলো। সমাজপতিরা চুষে/খুঁচিয়ে চৌর্য করে সহোদরদের হককে, পরিচয়হীনতায় নর্দমার কীট বনে দেবশিশু; নানান [বিস্তারিত সমাজের ঘুণপোকা]

যুগলবন্দী

তোমার বুক পাঁজরে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর, সেখানে বসত করে আমার প্রেম, দ্রোহ। অভিমানের ময়ূরপঙ্খী নাও নিত্য করে এপার-ওপার; ঘন-বরষায় জৈবিক অনুরণনে ভালোবাসার সেতু গড়ে। ভৈরবী আশাবরী সুর-মূর্ছনা ভেসে আসে হৃদয়ের জলসায়; মন্দাকিনীর স্বচ্ছ লহরীতে খেলি জলকেলি- বর্ষার নবধারায় সঙ্গী দুষ্টু-দুরন্ত মীনদল। মেঘেরা দল বেঁধে ছায়া দেয় শিয়রে দাঁড়িয়ে; অধরে অধর ছুঁয়ে যায়, চোখে চোখে হয় [বিস্তারিত যুগলবন্দী]

বিদিশা মানসচিত্ত

  কোন এক সিঁদুর রাঙ্গা গোধূলির ক্ষণে- আকাশটা নেমে এসেছিল কপোল চুয়ে বৃষ্টি-প্রেমিকের হাত ধরে; জীবনের অঙ্কশাস্ত্রে কিছু যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগের পসরা সাজিয়ে- পদ্ম-পাতায় জলকণার সৌন্দর্য বিকোতে। মুছে যাওয়া পথ খুঁজে ফিরে অপেক্ষার দৃষ্টি; পথ-হারা পথিক অশ্রুজলের আধারে নিমজ্জিত। আলো-আঁধারির লুকোচুরি খেলায় ঠিক-বেঠিক হিসাবটা গড়মিল ঠেকে অঙ্গুলির কড়ে; চিল-শকুন ঘুরছে/উড়ছে উলঙ্গ নীলিমায়- নৈর্ঋত থেকে ঈশানে মড়কের [বিস্তারিত বিদিশা মানসচিত্ত]

ধর্ষিতার আর্তনাদ

বিবসনা, ধূলোমাখা শরীরটা পড়ে ছিল রাস্তার ধারে, ছোপ ছোপ রক্তের দাগ পশুত্বের আঁচড়ে। হায়েনার কামার্ত লালসার শিকারে, শেষ হয়ে গেল নব-যৌবন বেঘোরে‌। কত আশা, আকাঙ্ক্ষা নিমিষেই রইলো পড়ে, হঠাৎ আসা এক দমকা ঝড়ে। পাখিরা ডানা ঝাপটালো তরুণীটির আত্নচিৎকারে- কারো কানে পৌঁছাল না তা ব্যস্ততার ভারে। নিস্তেজ হয়ে গেল দেহটি অমানুষটির তরে, কান্না-হাসি, সুখ-দুঃখ হারিয়ে গেল [বিস্তারিত ধর্ষিতার আর্তনাদ]

শহুরে বৃষ্টি

শহরটা আজ ভিজছে অবিরাম বর্ষার আলিঙ্গনে, ধূলোপড়া সড়ক ঢেকেছে চকচকে আবরণে। কালো ধোঁয়া আর যান্ত্রিক সীসায় মুমুর্ষ বৃক্ষরাশি জেগে উঠেছে নতুন আমন্ত্রণে; পাখিরা গাইছে নতুন সুরে নব-আনন্দ স্মরণে। শাখে শাখে নবপত্র মেলেছে ডানা সতত অবগাহনে; বৃষ্টি মাথায় ভ্রমর গুণগুণিয়ে যায় ফুলের কানে কানে। কপোত-কপোতী নিমগ্ন ব্যস্ত নগরে প্রেমের সুধা পানে; দিবাকর শরমে ঘোমটা টানে সঙ্গোপনে। [বিস্তারিত শহুরে বৃষ্টি]

ধূলোপড়া স্মৃতি

নীলাম্বরে গড়েছিলাম যে প্রেমের ঠিকানা, তিমির রাত্রিতে নীলাম্বর-মৃত্তিকার অভিস্যন্দ; পূবালী বাতাসে ছিল যে নেশাচ্ছন্ন ফুলের সুবাস, তুমি-আমি ছিলাম দিগন্ত রেখায়। আষাঢ়ের নবজল চিঁড়ে  রজঃস্বলা মীনদল; হারিয়ে যেত কোন সে সুদূরে? পাখির সিক্ত ডানায় নতুন প্রাণের স্পন্দন- ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন ফিরে ফিরে আসে চোখের আরশিতে নিদের উর্ণায় ভর করে। ধূলো পড়া অতীতে স্মৃতিরা দেয় হানা , [বিস্তারিত ধূলোপড়া স্মৃতি]

অন্বেষণ

একদিন হয়তো আমায় ভেবে দু’ফোঁটা জল জমবে চোখের কার্নিশে, হয়তো অহংকারের বাঁধ ভেঙে সেই জল কপোল ছুঁয়ে বুকের বাম পাশের কূয়োতে জমবে; কূয়োর উপচে পড়া জল হয়তো সেদিন আমাকে পাওয়ার আকুলতা বাড়িয়ে দেবে। ভাসিয়ে নিয়ে যাবে যেদিন তোমায় মৃত্যুর কিনারায়, আমাকে একনজর দেখার আক্ষেপে পুড়বে অন্তিম সময়ে। হয়তো আমাকে কিছু বলতে চাইবে, নয়তো ফিরিয়ে দেয়া [বিস্তারিত অন্বেষণ]

অবোধ্য পাপ-পূণ্য

সপ্তপদী বাঁধনে বাঁধা পড়েনি গূঢ়-জীবাত্না; তাইতো দ্বিরাগমন ঘটেনি বসুমতীতে । ক্রন্দন সুর ভেসে ওঠে ভিসুভিয়াসের জ্বালামুখে, কশেরুকা বাঁধন খুলে দেয় বিচ্ছেদের অনলে। সপ্তপদী বাঁধনে শতভুজদৈত্য জন্ম নেয় আকাশদেবতার ঔরসে; কাম-লালসার অবৈধ ফসল রূপের রানী জন্ম নেয় নিমোসিনের গর্ভে। পাপ-পূণ্যের হিসাব আজো অস্পৃশ্য, অবোধ্য; স্বচ্ছ কাঁচের টুকরো বুকে বিঁধে- নিষ্পাপ হৃদয় ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত চূর্ণ-বিচূর্ণতায়। অশ্রুধারায় কোন [বিস্তারিত অবোধ্য পাপ-পূণ্য]

নবজন্মের আহ্বানে

প্রগলভতা চিদাকাশটায়- বৃষ্টি ভেজা চন্দ্রের মাখামাখি পঞ্চমী-তিথীতে। ক্লান্ত মন ভাবনার শাখে শাখে বেদনাকে নিমন্ত্রণ জানায় মৃদঙের সুরে; প্রেম-বিরহী বাসনার নদী-তীরে চার-প্রহরের হিসাবে গরমিল, অবশিষ্ট প্রহর এলোমেলো। তীব্র তাপদাহে লোকলজ্জা ভুলে বর্ষা আসে অভিসারে; উত্তপ্ত বনানীকে শীতলতায় ছুঁয়ে যায় গভীর আলিঙ্গনে। প্রলয়ংকারী তান্ডবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় চির-হরিৎ বনানীর বুক-পাঁজরের অস্থি পঞ্জরাদি; এ অভিসার পুনঃ পুনঃ চলমান- আদিম [বিস্তারিত নবজন্মের আহ্বানে]

নীলের প্রেমে

তার গায়ের নীল শার্টটি আজো আমার প্রিয়। তাইতো নীল আমার এতো প্রিয়। সে হারিয়ে গেছে, কিন্তু তার সেই ভালোলাগা রেখে গেছে আমার শরীর,মন, প্রেমে; ভালোলাগার রূপান্তর ঘটেছে ঘৃণায়,কষ্টে, দ্রোহে। তাইতো বেদনার নীলে হয়েছি আজ কৃষ্ণকলি। তার দেয়া কবিতার বই আজো আমার সমান প্রিয়, তাইতো কবিতাকে ধ্যানে-জ্ঞানে, ঘুমে-জাগরণে করেছি স্বজন। কবিতা করেছে আমায় রিক্ত-সিক্ত প্রেমের উর্ণাজালে, [বিস্তারিত নীলের প্রেমে]