লজ্জাবতীর লজ্জা

 

একটু ছোঁয়া পেয়েই  লজ্জাবতীর পাতাগুলো লজ্জায় গুটিয়ে বসলো,
যতই আবদার করছি,
আদর-সোহাগ করছি সেতো আর হাসে না পেখম মেলে –
গোলাপের সুবাসিত পাপড়ি গুলো পাশ থেকে কানে কানে বলছে ,
‘এই লজ্জা চোখ খুলে দেখ- বাইরে কি সুন্দর আলো ঝলমল করছে,
তোকে ভালোবেসে কাছে ডাকছে।’
নাহ! লজ্জাবতী পণ করেছে আজ আর সে দ্বার খুলবে না।
আমিও জিদ ধরে বসে আছি -নাছোড়বান্দা।

হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো-
ভাবলাম এবার নিশ্চয়ই সে বৃষ্টিতে ভিজবে,
আর আমি তাকে খপ করে ধরে ফেলবো;
দুজনে হাত ধরাধরি করে ভিজবো, গান গাইবো, নাচবো, খেলবো মনের সুখে।
এখনো লজ্জাবতী চোখ খুলছেনা-
আমার ও জিদ-গ্রাফটা  তালগাছের মাথায় তরতর করে উপরে উঠছে।
এদিকে বৃষ্টিতে ভিজে জবুথুবু অবস্থা।
লজ্জাবতীর মাথার মিষ্টি-গোলাপি ঝুটি গুলো-
আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আর দুলছে।
মনে হচ্ছে আমাকে বলছে, ‘কেমন জব্দ হলে? আর ছোঁবে লজ্জাকে?’
আমার খুউব অভিমান হলো, রাগ হলো;
কান্না ঝরছিলো দু’চোখের আকাশ ভেঙে।
কান্নার লোনাজল বিশুদ্ধ, মিষ্টি জলে বারবার ধুয়ে যাচ্ছিলো।
কোনটা কান্না আর কোনটা বৃষ্টির জলধারা অস্পষ্টই রয়ে গেলো আজো।

মোট পড়েছেনঃ ১,৪৭৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. ‘কোনটা কান্না আর কোনটা বৃষ্টির জলধারা অস্পষ্টই রয়ে গেলো আজো’
    আমি-তুমির বাইরে এসে লেখাটির প্রতি ভালোলাগা স্পষ্ট হয়েই গেল।
    রাগের গ্রাফ যতই তরতরিয়ে উঠুক, লজ্জাবতীর ডাকে নাইস নেমে আসতে বাধ্য সে।

  2. চমৎকার প্রকাশ — কান্নার লোনাজল বিশুদ্ধ, মিষ্টি জলে বারবার ধুয়ে যাচ্ছিলো।
    কোনটা কান্না আর কোনটা বৃষ্টির জলধারা অস্পষ্টই রয়ে গেলো আজো।
    শুভ কামনা ।

  3. লজ্জাবতীকে হার মানানো চাট্টিখানি কথা নয়। বড্ড ত্যাড়া স্বভাবের সে! আদর সোহাগ কোন কিছুতেই মন পাওয়া যায়না তার।

    শুভকামনা রইলো দিদিভাই।

  4. আমার খুউব অভিমান হলো, রাগ হলো;
    কান্না ঝরছিলো দু’চোখের আকাশ ভেঙে।
    কান্নার লোনাজল বিশুদ্ধ, মিষ্টি জলে বারবার ধুয়ে যাচ্ছিলো।
    কোনটা কান্না আর কোনটা বৃষ্টির জলধারা অস্পষ্টই রয়ে গেলো আজো।

    মন ছোঁয়া কাব্যে বিমুগ্ধতা।

মন্তব্য করুন