বেদনাক্ত প্রবাল দ্বীপ

জলের সদম্ভ হুংকার নির্জন প্রান্তে সমুদ্র আর আমি ছাড়া কেউ নেই আয়ত চক্ষুসীমায় দিগন্ত-আকাশ প্রাচীর শূন্যতার শিহরণ যখন বিষাক্ত বর্শার তীক্ষ্ণ ফোঁড় মৃত্যুহিম-নিস্তব্ধ হঠাৎ হৃৎপিণ্ডে স্পন্দন হয়ে উঁকি দিলে তুমি শেষটায় বেঁচে-বর্তে জানলাম একাকিত্বের মাঝেও একজন থাকে বেদনাক্ত নীল-প্রখর

কাপুরুষের হাট

বিক্ষিপ্ত পড়ে আছে প্রেসারকুকার ভাঙা খুন্তি নিশ্চল মুঠোয় লালজামা শখের পুতুল কৌটোর বাহারি চকলেট মরুর আকাশে বুভুক্ষু শকুন বেজন্মা বিমানের গর্ভে বারুদের ডিম বিধ্বংসী আগুন বিস্ফোরকের গুদাম উগ্রে দিচ্ছে নিষ্পাপ রক্ত- স্রোত প্রাচীন লোকালয়ে নেই নীতি পেশাদার মল্লবীর সম্যক যোদ্ধা বৃহন্নলা-নপুংসক আর কাপুরুষেরা শিশু ও নারী হত্যার নাম দিয়েছে যুদ্ধ

এক বিকেলের বৃষ্টি

বুকের উপর পড়ে আছে কবিতা খোলাপাতা- পঙক্তির শরীর হঠাৎ সিঁড়ি বেয়ে পদশব্দ ভেজা চুলে কী যে স্নিগ্ধ হয়ে ওঠো বোঝাতে পারবো না কতো যত্নে মেলে দিচ্ছো ছাদে গোলাপি ওড়না সাদা সেমিজ, পাপড়ি-কাটা রুমাল প্রতীক্ষার আর্দ্র দিন নির্ঘণ্ট বারান্দা মালতির গন্ধ, সন্ধ্যাতারা-ক্ষণ নান্দিপাড়ার পাশহাঁটা নিঝুম পথ আড়চোখের মৃদুহাসি, মৌন-গুঞ্জন এতোদিন পরে- কোত্থেকে তবে কী বিকেলের বৃষ্টিতে [বিস্তারিত এক বিকেলের বৃষ্টি]

আমাদের বসন্তে

প্রতিবার মাইনে পেতে ভোগান্তি লোডশেডিং যানজট বাসস্ট্যান্ডে সকাল-সন্ধ্যা দীর্ঘ লাইন অসহ্য অপেক্ষা আজানু ঝুকে থেকে ভুলে গেছি গ্রিবা উচিয়ে বেঁচে থাকা মরু-উটের মতো পিঠ জুড়ে বইছি কলঙ্কের মস্ত-কুঁজো তেল-নুন-ভাতের অধিকার মিছিল-মিটিং-আগুন লাশ হয়ে ঘরফেরা আজন্ম দাবী-সংগ্রাম বহু আগেই তো পেরিয়েছি রক্তগঙ্গা কালশিটে যুদ্ধভূমি-বধ্যপ্রান্তর আবারও প্রতিবাদ আবার অস্তিত্বের পুনঃস্থাপন-জাগরণ হায়– আমাদের বসন্তে বিষাক্ত-মড়ক স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত [বিস্তারিত আমাদের বসন্তে]

ছেঁড়া প্রতিবিম্ব

জলের জানালা চিনে মাছরাঙা ঝাপ দেয় গাঙে সান্ত্রীর চাবুক শিস কাটে আনত মাথার উপর স্বার্থের তন্ত্রি ছিঁড়ে গেলে কমে যায় ভক্তি-ভিড় ধুলোয় ডুবে থাকে পুরনো গল্প বিরাণ বেদী নন্দিত নূপুর জলসার গুটানো শতরঞ্জি ধীরে ধীরে নেমে আসে তারা নিবিষ্ট পদচারণায় পথে ভাসে বাউলের সুর দূরগামী ছায়ামূর্তি নির্জনে বাজিয়ে চলেছে প্রাণ দু’ধারে সারি সারি স্মৃতির মিনার [বিস্তারিত ছেঁড়া প্রতিবিম্ব]

আধফোঁটা লীলা

ম্যাডামের ব্রাশপ্রিন্ট শাড়ি বর্ণালি ফুলেল- আঁচল দেখতে দেখতেই সুগঠিত বাগান হয়ে ওঠে স্বাচ্ছন্দ্যলীলায় তখনও শোঁকা হয়নি- স্বর্ণচূড়া পাড় ঘেঁষে সবুজপাতা লাল-সাদা কুঁড়ির উঁকি-বুকি আধফোঁটা স্পন্দিত গোলাপ খয়েরি ডানায় রক্তজবা-ঝাড়… একদিন ক্লাসরুমে আলগোছে ডানা মেলে ভ্রমর পাখনায় লেগে আছে তার পরাগের বিবাগি গন্ধ বিষাক্ত হুলে মধুর গেরুয়া স্বাদ

আড়ষ্ট চোখে রাত

বহুদিন পর হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে খুব- প্রতীক্ষার প্রসারিত বাহু গোধূলি-টিপ দিগন্ত-জোড়া চোখে রাতের আহ্বান শোবার ঘরে অপেক্ষা অনাকাঙ্ক্ষিত রিংটোন বরাবরই অনভিপ্রেত আমার ল্যান্ডস্ক্যাপে যথারীতি ন্যায়দৃষ্টি বাঁধা মুক্তিপণ, গুম, খুন প্রতিহিংসা, ষড়যন্ত্রের আগুন… পরস্পর আস্থার হাত ভারি করে তুলছে বুকের ভিটা উষ্ণ-প্রশ্বাস, কণ্ঠনালি নিশুতির আরুদ্ধ বাতাস আড়ালে উঁকি দিচ্ছে অজানা শঙ্কা আড়ষ্ট ভবিষ্যৎ

বিদীর্ণ যৌবন

আজও বাড়িয়ে আছি হাত… পাবলিক ট্রান্সপোর্টে জমকালো ভিড় চশমার তীক্ষ্ণ ল্যান্স আটপৌরে ভূরি বেয়াড়া-বাহু, উদগ্র-আঙুল উৎকট স্বেদগন্ধে কারো ক্লান্তি নেই পুশিদার অন্তরালে নীরবে পোড়ে হৃদয়, বিদীর্ণ যৌবন বয়সের থাবায় ক্ষণে ক্ষণে খসে পড়ছে কালশিটে স্মৃতির–ঝুল আড়কাঠের গুড়ো, পলেস্তারা রঙচটা সাধের মোকাম আর কতো সময় নেবে বলো অপেক্ষার বাঁধ ভেঙে গেলে ভেসে যাবে সব

স্বপ্ন পরিব্রাজক

মন থাকলেই ঠেকে না জীবনকাল আসা-যাওয়া অনুপ পারাপার প্রতিবার মাড়িয়ে যাই সুপেয়-নদী বীজতলা-সুখ সবুজ-বিকেল বনে বনে ছাইমেঘ, ধোঁয়ার কুণ্ডলি দাবানল রক্তের দাগ বেয়ে মহার্ঘ- মানভূমি যৌবন-ক্ষয়ী স্বপ্ন-পরিসর অগুনতি দুখের লহর… মালতি আছো বলেই আজন্ম পরিব্রাজক প্রতীক্ষিত নিত্যলোক অনন্ত দুয়ার

মৌমিতার আধবোজা চোখ

পুকুরঘাট নিরালা হলেই ডেকে ওঠে কোকিল গোয়ালে বাছুর মিউ-মিউ মিনতি পুষির ক্ষণে ক্ষণে সমঝোতা-বুলির আড়ে সুমিষ্ট প্রলোভন মৌমিতার আধবোজা চোখ আঁচলে ঢাকা ঢিব-ঢিব আবেশ সারাক্ষণ আকুলি-বাকুলি ম্যাসেজ অপশনে তালুবদ্ধ-অপেক্ষা খেয়ালি দিনের কবোষ্ণ-বুদবুদ ফিসফিস ময়ূখ-রাত

মরু গোলাপের তৃষ্ণা

শুদ্ধ অভিনয়ে সুখ রূপায়িত করা যায় সুখী হওয়া যায় না কী করে পারলে করাত-কলে বিছিয়ে দিতে জীবনের অগণিত রাত আলপনা আঁকা স্বপ্নের পাটাতন আমিতো পারিনি পাথর-চেপে চুপিসারে ঘুমিয়ে যেতে থেঁতলে দিতে অঙ্কুরিত বীজের ডগা সমূহ আগুন প্রতিশ্রুতির অচল দঙ্গল চেরাই-মেশিনের আলোড়নে আজও তুমি উদ্বেলিত তুলে দিচ্ছো নদী-পাহাড়-আকাশ

একজন আত্মঘাতীর চিরকুট

তোমার ব্যাকুল মৌনতা কাব্যিক শরীর লুকাতে পারেনি ব্যাঞ্জনা উত্তাল চোখে বাঁধ ভাঙা ঢেউ নিমগ্ন নদীর আহ্বান প্রতিদিন ছোট হয়ে আসে প্রার্থনা বিশদ পৃথিবী-জীবন নিভৃতে বেড়ে উঠেছে বিষাদ বুকের গহীনে আত্মহননের প্রগাঢ় প্রবণতা

নিমগ্ন হড়িয়াল

কী চাও তাতো জানিই জানি বলেই খুন করেছি স্বপ্ন ছিঁড়েছি সবকটা পাপড়ি নিজহাতে প্রতিবার কেটেছি উড়ান জানালায় দিগন্তের হাতছানি গোধূলি আশকারা ঘুলঘুলির ফাঁক গলে উদোম জোছনার মন্ত্রণা… আমার পিঠে পাখনা গজিয়ে যায় অনাহুত – বার বার জানি অসহ্য ঠেকছে সব চোখ বুজে থাকিনি-কী নিমগ্ন হরিয়াল কামুক বাহুর পিঞ্জরে প্রতিদিন কই; বুকের নদীতে ভেসে থাকা আকাশ [বিস্তারিত নিমগ্ন হড়িয়াল]

পুতুল নাচের সুতো

কাঁসার বাটিতে জিইয়ে রেখেছি হৃদয় মাটির কলসিতে প্রেম রক্ষণশীল ঘরের কোনায় জীবন জলসায় ভালোবাসা বেসাত হয়ে গেছে পর্দার অন্তরালে

বর্ষামৌসুম, প্রেম ও রিক্সাযাত্রী

রিক্সার হুড তুলে রেখে কী লাভ ! ভিজে ভিজে চুর হয়ে গ্যাছি সদম্ভে ছেয়ে আছো জলডোবা আকাশের কোলে মুদ্রিত পায়ে মাতাল নূপুর মুখে দুষ্টু কিশোরী হাসি আমি ডাকলাম- এই; থামবে তুমি ? আরও ব্যাকুল ছুঁয়ে দিলে- চুল, গাল, চিবুক বাহুবেষ্টিত বুক, উরুদেশ… তোমার চোখে নোয়াবধূর কুমারীত্ব হারা পুলক ঝরে পড়া বিষাদের লেশটুকুন নেই কোথাও শহরের [বিস্তারিত বর্ষামৌসুম, প্রেম ও রিক্সাযাত্রী]