চোখের পরে আগুন জড়ো হলে পরে – পথের পাশে হঠাৎ পেয়ে যাওয়া পাতাহীন বৃক্ষকে বলি আমার অভিজ্ঞতার কথা। বেচে থাকার এবং মৃত্যুর অভিজ্ঞতা, রং বদলের এবং দুঃখ দিনের গাথা। এবং একটি পাখি এসে বসে পাতাহীন ডালে – পাখিটি জানেনা, বেচে থাকাই শেষ কথা অভিযোগ করাটাই বোকামি, একা পাখি, বোকা পাখি শিস দেয় বেখেয়ালে। এবং বৃক্ষের [বিস্তারিত বৃক্ষমায়া]
– কবি, ঘুমুলে? – উহুঁ,ঘুমেরা আমার চোখের তলায় হাঁসের পায়ের ছাপ রেখে গিয়েছে উধাও, নিরুদ্দেশে। – তবে একটা গল্প বলো, যেকোন একটা – আমার কোন গল্প নেই। – তবে ভালোবাসার গল্পই বলো না হয় – ভালোবাসার গল্প হয়নাতো, ভালোবাসা নিজেই গল্প। – তাই? তবে সেটাই বলো। এই অর্ধেক রাত্তিরে ভালোবাসা ছুঁয়ে যাক ভিতরে বাহিরে। – [বিস্তারিত কথোপকথন (ইথারে …… নিটোল আঁধারে)]
#১ বুকের ভেতর একটা জারুলের বন ঢুকে পরে – একটা ঘুঘু ডাকা বিরান দুপুর। বুকের ভেতর একটা মরা জোছনার রাত নেমে আসে – আনমনা বেজে যায়, বেসুরো ছন্দে একগাছি মায়াবী নূপুর। #২ সেই কবে শেষ জেগেছিল পত্ররাজি বুনো ফুলের গন্ধমাখা হাওয়ারে ছোঁয়ার উল্লাসে, সেই কবে জেগেছিল তৃষ্ণা যেদিন মেঘেরা শেষবার ছুঁয়ে ছিলো জল ; [বিস্তারিত বাউড়ী বাতাসে… বাওয়াল ভাবনা ৩]
আজ আমার বুকে জমেছে আগুনময় জল – মেঘ থেকে নেমে আসা মৃত্যুর ঘ্রাণ, জলজ গন্ধমাখা পুরনো বাতাসে ভেসে ভেসে আসে মৃত ফুলেদের অচিন সৌরভ। বৃষ্টি তে অধিকার কেবলই মেঘের, তাই প্রবল বৃষ্টিদিনে অন্ধকারের বিষম সমর্পণ। বৃষ্টি ব্যস্ত অন্য আকাশে ফুরসত নেই ভেজাবার বৃষ্টি জেনেছে, যেহেতু শুন্যতা ভিজেছে উতল শ্রাবণে দুঃখরঙা জারুলের সাথে তাই দেখা হবে [বিস্তারিত যাবজ্জীবন]
চোখ বুজে যে কোন একটা নদীর নাম ভাবতে বললেই আমার মনে আসে দুঃখের কথা। চোখ বুজে যে কোন একটা দেবীর মুখ ভাবতে বললেই আমার মনে আসে এক অর্ধেক ইতিহাস আর অর্ধেক জীবন্ত নারীর কথা। মেয়েটির নাম ছিলো আইসিস – মিশরিয় পুরানের দেবী। তার সাথে আমার পরিচয়, ট্রেন মিসকরা ব্যস্ততার মাঝে ট্রেনের হুইসেল বাজছে… কুউউউউউউউ ভীরাক্রান্ত [বিস্তারিত ইস্টিশনে…… (উৎসর্গ জিশান শা ইকরাম , ইস্টিশন প্রেমী মানুষ )]
তোমাকে দিয়ে যাই পথের দিশা ,যে পথের নাম সুদূর যেতে যেতে, যেতে যেতে তোমাকে দেখাই আলোছায়া, তোমাকে দিয়ে যাই জলের ঘ্রাণ, উড়বার আকাশ চলে যাবার পথের কণ্টকে বিছিয়ে দেই একবুক মায়া। তোমাকে দিয়ে যাই মেঘের মতন নরম ঘুম লাল চোখে আমি লিখি সুদীর্ঘ রাত্রির ইতিহাস; ঘুমহীন। ওষ্ঠের বিষ তৃষ্ণা সযতনে লুকাই আড়ালে, তোমাতেই আকন্ঠ ডুবে [বিস্তারিত বাস্তবতায় নিষিক্ত অকবিতা]
একটা গাছের গল্প লিখি না থাক একটা পাখির গল্প লিখি না দুইটা পাখি আর একটা গাছের গল্পই লিখি নাহয়। এক যে ছিলো গাছ। গাছেরা যেমন থাকে তেমনি ছিলো, পাতায় পাতায় সবুজ চাঞ্চল্য, ডালে ডালে রোদের ওম মাখা উল্লাস, আর শেকড়ে প্রানোচ্ছলতা। একদিন একটা পাখি এসে গাছের কাধে মাথা রেখে দুঃখের গল্প বলে, একলা পাখি। গাছ [বিস্তারিত গাছ পাখির গল্প]
আপনি যখন জেনেভা ক্যাম্পের বিহারীদের মানবেতর জীবন দেখেন, তাদের ঘিঞ্চি ঘর দেখেন, তাদের শিশুদের বাপের সাথে লুচি ভাজতে দেখেন, তাদের দেশহীন মানুষ হিসেবে দেখে আপনার দরদ উথলে ওঠে … আমি তখন দেখি লাশের মিছিল। গলায় লাল রুমাল বাধা বিহারী কসাইয়ের হাতে জবাই হওয়া লাশের মিছিল। যাদের কবর হয়নি, ময়লার ডিপোতে পুতে দেওয়া হয়েছিল, গনকবর হয়েছিল [বিস্তারিত ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা, ঠিকানা বাংলাদেশ ……]
একটা পুরো রাত যশোর ষ্টেশন।মামা একটা ফার্স্ট ক্লাস চেয়ার। সীমান্ত এক্সপ্রেস। কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন এসে লাগবে ষ্টেশনে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন লেট হয় প্রায়ই। স্টেশনের বুকস্টল থেকে কেনা রহস্য পত্রিকা হাতে কর্নারের চায়ের দোকান থেকে চায়ে চুমুক দিয়ে সিগারেট ধরাতেই ঢং ঢং ঢং। ট্রেন আসছে। একদম ইন টাইম। ক্যান্টনমেন্ট ষ্টেশন আসতেই আর নরেনা, কি [বিস্তারিত একটা পুরো রাত আর কয়েকটা মৃত বিকেল…… উৎসর্গ ”শূন্য শুন্যালয়” শান্তাহার জংশনের নাম শুনে যার বুক ধকধক করে]
একটা শীতলপাটির কাছে কথা দেয়া আছে ছাদে বিছানোর, চন্দ্ররাতে কয়েকটা তারার কাছে কথা দেয়া আছে কাজলচোখে নামিয়ে আনার, একটা দিঘীর কাছে, একটা রাস্তার কাছে, একটা জারুল গাছের কাছে কথা দেয়া আছে, কথা দেয়া আছে। কথা দেয়া আছে কালনী নদীরে কথা দেয়া আছে ঝুম বরষার বুকভরা বাওড়ে, কথা দেয়া আছে শান্তাহার জংশন কুসুম কুসুম আলোর ঘুমঘুম [বিস্তারিত কথা দেয়া আছে]
সমুদ্র সারসেরা ক্লান্ত ডানায় খুজে ফেরে ফিরবার নীড় সারস জানেনা ডানার কাঁপনে কাপছে তার পৃথিবীও জানেনা সারস, তীরভূমি মাতাল বিরহে, অস্থির, অস্থির। অগ্নিসুতোয় গাথা দিন মাতাল অনুভবের অগ্নিসুতোয় গাথা দিন বিরহী বুকের ডাহুকের অগ্নিসুতোয় গাথা দিন স্বপ্নভুক ধান শালিকের অগ্নিসুতোয় গাথা দিনেরা থাকেনা, চলে যায় দ্বিধাহীন নিয়ে যায় তীরভূমি থেকে তারে অতিদূর ইজিয়ান পাড়ে যেখানে অন্ধ [বিস্তারিত আবোলতাবোল]
শুনশান আলপথ যেইখানে শেষ সেইখানে এসে দাড়াতেই ছায়া মুখ তুলে তাকায় তার কায়ার মুখপানে। বলে, পরম যত্নে আগলে রেখেছিলে হে। ভুলেই গেছিলাম প্রায় আমি ছায়ামাত্র। তোমাকে ছাপিয়ে নিজের মুর্তি গড়েছিলাম নিজেই। কায়া নিশ্চুপ। ছায়া বললে, খেলা তো ফুরোল কি করবে এবার? কায়া বলল তুমি জানো ছায়া অপলকে একটুখানি দেখে কায়ার লালচে চোখ, ভাবে একি ঘুমহীন [বিস্তারিত এপিটাফ]
মুলত শিমুল বিফল এক ফুল, শাপগ্রস্ত আগুন ছায়াহীন বৃক্ষে সর্বাঙ্গে কন্টক অভিশাপ ধূলোয় গড়িয়ে শোধরানো কেবল গতজন্মের পাপ। মালা হওয়া নেই , পুজোয় ব্রাত্য সঙ্গী কেবল গাঙের বাউড়ি বাতাস ভাগ্য তারে বানিয়েছে এক পরিযায়ী বুনোহাঁস।
আজ তবে হোক শরীর বন্দনা, পোশাকের বাহুল্য ফেলে সামনে দাড়াও জলে আর গন্ধপুষ্পে হোক আদিম পুরুষের, নারীর ভজন। রূপ দেখাও মোহান্ধ শিকারীরে, নিটোল স্তনের ভাঁজে জমা লেবুফুলের সুবাস ছোঁয়াও গহীন নাভিকুন্ডলে জমে থাকা চন্দ্রজ্যোতি সুষমা দেখাও, শিরশিরে অনুভুতির সাপ বেয়ে উঠুক শিরদাঁড়ায়, উরুসন্ধির থমকানো ঝড়ের ডাক পাঠাও বালুচরি নকশার শরীরে। পুরুষের ভালোবাসা এমনি নারী, শুধু [বিস্তারিত শরীর বন্দনা (উৎসর্গ সাইরাস হেলালের লেখাকে…… প্রতিটি দাড়ি কমা সহ)]
ধরো আজ যদি অর্ধেক রাত্তিরে ঘুম ভেঙে যায়, নিজের মুখোমোখি হও যদি নিজেই; অনাবধানে। আজ যদি হঠাৎ করেই দেখো তোমার ছায়াও তোমার সাথে নেই। ধরো আজ যদি শুন্যে মিলাতে গিয়েও একটু থেমে কোন একটা বেয়ারা বকুল ঘ্রাণ তোমাকে জিজ্ঞেস করে কেমন আছো হে ? ধরো আজ যদি কোন একটা স্মৃতিময় বাউড়ি বাতাস এসে অন্যমনে দোলায় [বিস্তারিত আজ যদি …..]