শাড়ি

মেয়ে হয়ে জন্ম
শাড়ি পড়ব না তাই কী হয়।
বোনের ওড়না পেচিয় সেই শাড়ি পড়া শুরু।
ছোটবেলায় পুতুলের বিয়ে দিতে নিজেকে মা বাবানোর কত্ত শত শখ।
শাড়ি পেচিয়ে হোচট খেতে খেতে শিখেছি শাড়ি পড়া।
সবার কত্ত কথা কেউ বলে পাকনা বুড়ি কেউ বলে বউ, বাবা আমার বলতো শুধু মা।
মায়ের জন্য যত কাপড় কিনে আনতো,
প্রথম কাপড়ের ভাঁজ ভাঙতাম আমি।
ম্যাচিং টিপ, চুড়ি, কাজল সাজের সেকি বাহার।
শাড়ি হলো প্রিয় সেই কবে থেকে মনে নেই।
বিভিন্ন প্রগ্রাম আসলেই পরিচিত জনদের শাড়ি
নিয়ে আসতাম। নিজেকে বড়ো সাজাতে চেয়েছি শাড়ির আঁচলে ঢেকে।
তারপর লাল বেনারসি।
আহ্ কত শ্বপ্নের সেই কাঙ্খিত শাড়ি একবার পরার পর আর হয়নি পড়া।
মাঝে মাঝে বের করে শুধু স্মৃতিচারন করা।
এখন আর শাড়ি পড়া হয়না কোনো অকেশন ছাড়া।
আলমারির ভেতরে বন্দী আমার শখেরা।

মোট পড়েছেনঃ ১,৯৬৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. শাড়িতে কিন্তু নারীদের অপুর্ব লাগে! তবু হয়তো কাজের ক্ষেত্রে কমফোর্টেবল ফিলের জন্য অনেকেই শাড়ি পড়েন না। তবে মাঝেমধ্যে পড়বেন কিন্তু আপু। বাঙালি নারীর ঐতিহ্য কিন্তু শাড়ি।

    সুন্দর ব্যতিক্রমী একটি বিষয় নিয়ে লিখলেন দেখে ভালো লাগলো। লিখুন আপনার মতন করে।

  2. শাড়ি শুধু শাড়ি নয়, নারীর প্রথম ভালো লাগা স্বপ্নের সাজ-পোষাক। শুরু হয় মায়েরটা দিয়ে। মায়ের সব চেয়ে সুন্দর শাড়িটা একদিন আমি পড়বো, এই ভাবনাতেই হঠাৎ বড়ো হয়ে যাওয়া, মায়ের শাড়ি পড়ার পর অবিনস্ত পায়ে হোচট খেতে খেতে বাবার সামনে গিয়ে দাড়ানো, আর বাবার মুখে শোনা সবচেয়ে মধুর বাক্য…* মা তুমি শাড়ি শাড়ি পড়েছো ? একদম আমার মায়ের মতো লাগছে। তোমার কি রঙ পছন্দ? এখন থেকে তোমাকেও শাড়ি কিনে দিবো। *

    সময়ের সাথে সাথে অনেক অনেক শাড়ি জমেছে আমার আলমারিতে। শেষ কবে শাড়ি পড়েছিলাম মনে করতে পারিনা। মাঝে মাঝে শাড়িগুলো দেখি। কোনোটা বাবার উপহার দেয়া, কোনোটা মায়ের, কতগুলো বোনদের দেয়া, শাশুড়ির দেয়া, আর স্বামীর দেয়া বিভিন্ন সময়ের উপহার। একেকটা শাড়িতে কত কত গল্প থাকে !!

    খুব ভালো স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন শিরিন। ভালো থাকুন, শুভ কামনা ❤❤

  3. শাড়ি পড়া নিয়ে ছোট্ট বেলা থেকে নানান স্মৃতী ভেসে উঠলো চোখের সামনে তোমার লেখা পড়ে। আমারো ইচ্ছে করবে এ নিয়ে লিখতে।
    তোমার প্রতি অজস্র ভালোবাসা মিতা 💙💙

  4. এক সময় বঙ্গ রমণীদের শাড়ী বা কাপড় পড়াই ছিলো মুল বস্ত্র যারা অন্য কিছু পড়তেন তাদেরকে মেম সাহেব মানে বিদেশীনি বলতেন।এখন অবশ্য মেয়েরা শাড়ী পড়া অনেকটা ভুলে গেছেন স্যালোয়ার কামিজ থ্রিপিস টুপিস ইত্যাদির কারনে।শাড়ীকে বেশ ঝামেলার কাজ মনে করেন অথচ ভাবেন না অনেকেই মেয়ে বা নাারীদের শাড়িতেই ১০০ ভাগ মানায়।যাক লেখাটি বেশ ভাল হয়েছে।

  5. শাড়ি সবচেয়ে সৌন্দর্যের পোষাক নারীর জন্য।
    সাহিত্যের একটি উপাদান বলা যায় বাঙালি মেয়েদের শাড়িকে । লেখাটি শুধু একটি সময় না বাংলার স্মৃতি আঁকড়ে আছে।

  6. স্বপ্নময় শাড়ি। আর মায়ের শাড়ি অন্ততঃ একবার পরে দেখেনি এমন মেয়ে বোধহয় খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
    খুব ভালো লাগলো আপনার অনুভূতি।

  7. শাড়ি নিয়ে স্মৃতিচারন ভালো লেগেছে।
    আমাদের দেশে শাড়িতেই নারীদের মানায় বেশি ( আমার ব্যাক্তিগত মত )।
    নারীর নতুন এক জীবনের আরম্ভ যে শাড়ি দিয়ে, সেই বেনারসি থাকে বাক্স বন্দী।

  8. পবিত্র ঈদের ছুটিতে গিয়েছিলাম মেয়ের বাড়িতে। গিন্নিও সাথে ছিল। গিন্নি মেয়ের জন্য দুটো শাড়ী কিনে নিয়েছিল। মায়ের জন্য নেওয়া সেই শাড়ির ভাজ ভেঙেছে দুই নাতিন। ওরা এখনো ছোট! তবুও ওদের শাড়ি পরার খুবই শখ। মায়ের জাত মেয়ে বলে কথা!

    1. শাড়ী বাঙালী নারীর এক গোপন ভালোবাসা। জন্ম থেকে শুরু হয় এর বিজ বোনা। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। সাহস আর অনুপ্রাণিত হলাম দাদা।

  9. সপ্তাহে অন্তত একদিন শাড়ী পরা বাধ্যতামূলক করা হোক।
    লেখাটি সুন্দর। সত্যিই শাড়ীর চেয়ে সুন্দর কোন পোশাক আজ-ও নারীর জন্যে আবিষ্কৃত হয়নি। ভবিষ্যতে হবে সে সম্ভাবনাও খুব কম।
    লেখিকার জন্যে এক রাশ শুভেচ্ছা।

মন্তব্য করুন