পূষনকে লেখা চিঠি

প্রিয় পূষন, আমার ক্যাম্পের চারপাশে বরফের ধূ ধু মরুভূমি। তুমি নেই, বিদায় নিয়েছ মকর সংক্রান্তির দীর্ঘতম রাতে, এখন নক্ষত্রের মিটিমিটি আলোয় সামান্যই অন্ধকার কাটে। যেন চির ভোরের দেশে এসে পড়েছি। আকাশ পরিষ্কার থাকলে নক্ষত্রের আলো বরফের ওপরে প্রতিফলিত হয়ে সুবহে সাদিকের মতো এক রকম নীল আলোর প্লাবন বয়ে যায়, মনে হয় একটু পরেই সকাল হবে, [বিস্তারিত পূষনকে লেখা চিঠি]

এসো নীপবনে

০১লা আষাঢ়, ১৪২৬ —————————————————————— আজ আষাঢ়স্য প্রথম দিবস। বৃষ্টি পিয়ে মাতাল হবো হিক! বাদল-ও দিনের-ও প্রথম-ও কদম ফুল…কে দেবে আমাকে? কেউ কি দেবে? আচ্ছা, কদম কি ফুটেছে? শালার শহরে কদম গাছ-ও কি আর আছে? আমার ছোটবেলায় মোহাম্মদপুরে চুনকাম করা তবে সবুজ শ্যাওলা ধরা দূর্গের দেয়ালের মতো উঁচু এক দেয়ালের পাশে এক বিশাল কদম গাছ ছিল। [বিস্তারিত এসো নীপবনে]

প্রিয়তমা

প্রিয়তমা কাছে এস, ভালোবাস। তোমার উপমারহিত ঠোঁটের ধুম্রহীন অগ্নি স্পর্শ করুক আমার অবদমনের নিদারুণ বরফ। প্রিয়তমা তুমি আমাজান অরণ্যের সেই শামান হও পনিরের চাকার মত চাঁদ থেকে গলে পড়া আয়াহুয়াস্কা মন্ত্রের প্রলাপের মত পান করি তোমার চোখ থেকে, ঠোঁট থেকে, বর্ষার বন্যার জল নেমে যাবার পর প্রমত্তা নদীর বুকে জেগে ওঠা প্রশান্ত পাললিক চরের মত [বিস্তারিত প্রিয়তমা]

অন্ধচক্র

যা-ই করো না কেন, সেটাই সঠিক, কোথাও কোন ভুল নেই- যা হয়েছে, যা হতেছে, এবং যা হবেই- এসব কিছুই অবধারিত! নক্ষত্রের চলাচলে নির্ধারিত! কেননা সবকিছুই যদি সঠিক হয়, তবে সবকিছুই ভুল কেন নয়? অতএব সাথে থাকা, ছেড়ে আসা, চলে যাওয়া, থেকে যাওয়া কোন কিছুতেই বোধহয় কোন কিছু বদলায় না- যদি না তা সময়ের সাথে যোগ [বিস্তারিত অন্ধচক্র]

তুমি ও তোমরা (ম্যাগাজিন)

রচনাকালঃ ১লা বৈশাখ, ১৪২৬ একদিন যাকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যেত আজ তাকে এক ঝলক দেখাও কত কঠিন! মানুষের-ও পাখা আছে, উড়ে যায় চিহ্নহীন।   এভাবেই দিন, মাস, বছরগুলো ক্ষয়ে যায়- ঝরে যায় শুকনো পাতার মতো দিনদিন। হাতের ভেতরে ঘাম জমে ওঠে আরেকটি হাতের অপেক্ষায়! চৈত্র সংক্রান্তি ঘুরে বৈশাখ আসে, বৈশাখ চলে যায় বারবার প্রতিবার আগুনের [বিস্তারিত তুমি ও তোমরা (ম্যাগাজিন)]

আম (ম্যাগাজিন)

কাওরান(কারওয়ান) বাজারে গিয়েছি। একটা ছোট ফ্যান কিনবো। দোতলার “ইলেকট্রিক মার্কেটে” উঠে কিনে ফেললাম ৩৬” একখানা City Fantasy Fan. নীচে নেমে মোটর সাইকেলের একপাশে বাক্সসহ কষে বেঁধে অল্পকিছু দূর আসতেই মনে পড়ল আম্মা তেঁতুল নিতে বলেছে। রাস্তার পাশেই বসে বিক্রি করছিল। কিন্তু খোসাসহ তেঁতুল নেবো না ছেলা তেঁতুল নেবো সেটা বুঝতে পারছিলাম না। তাই আম্মাকে ফোন [বিস্তারিত আম (ম্যাগাজিন)]

যমজ কূটাভাস

যমজ দুই ভাই, তুহিন এবং তুষার, ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুরে থাকে। দুইভাই হরিহর আত্মা। সারাক্ষণ লেগে থাকে গায়ে গায়ে। খায় একসাথে, ঘুমায় একসাথে, গোসল করে একসাথে, বাথরুমেও যায় একসাথে। তুহিনের জ্বর হলে তুষারের-ও আসে, তুহিন পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেলে তুষারের-ও পড়া চাই। মা-বাবা ছাড়া কোনটা তুহিন, আর কোনটা তুষার কেউ বুঝতে পারেনা। তবে, সব বিষয়ে তাদের [বিস্তারিত যমজ কূটাভাস]

সাইকেল

তখন আমি খুব ছোট। একটা তিনচাকার সাইকেল চড়ে ঘরে-বাইরে, মাঠে-বারান্দায় ঘুরে বেড়াই। সাইকেলটা বিশাল বড়। সামনে একটা ছোট driving seat. পেছনে একটা চওড়া বড় passenger seat. তিন-চার লাইনের ছড়াটা খুব পছন্দ হয়েছিল। সাইকেল চালাতে চালাতে সুর করে আবৃত্তি করি, সারাক্ষণ করি। বাচ্চারা যা করে, বেশি বেশি-ই করে। আশে পাশের লোকজন কেউ কেউ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়, [বিস্তারিত সাইকেল]

নূপুর

ঠাণ্ডা সবুজ দীঘি শরতের বিষণ্ণ বৃষ্টি ঝরে টুপটাপ রাঙ্গা পায়ের ঝাপটা। রাঙ্গা পায়ের ঝাপটা বিষণ্ণ সুখের বৈকালিক আলোড়ন ড্রয়ারে বিস্মৃত নূপুর। ড্রয়ারে বিস্মৃত নূপুর সোনালী বিকেলের নির্জন নিক্বণ তোমার আলতারাঙ্গা পা। তোমার আলতারাঙ্গা পা বিস্তর ঝরা পাতা অন্ধকার ঘাসে নগ্ন, নমিত সময়। [কবিতাটি নিরীক্ষামূলক, হাইকু ধাঁচে লেখা]