সাইকেল

আসিফ ইকবাল ২৫ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ১২:০১:৪১পূর্বাহ্ন সাহিত্য ২০ মন্তব্য

তখন আমি খুব ছোট। একটা তিনচাকার সাইকেল চড়ে ঘরে-বাইরে, মাঠে-বারান্দায় ঘুরে বেড়াই। সাইকেলটা বিশাল বড়। সামনে একটা ছোট driving seat. পেছনে একটা চওড়া বড় passenger seat. তিন-চার লাইনের ছড়াটা খুব পছন্দ হয়েছিল। সাইকেল চালাতে চালাতে সুর করে আবৃত্তি করি, সারাক্ষণ করি। বাচ্চারা যা করে, বেশি বেশি-ই করে। আশে পাশের লোকজন কেউ কেউ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়, কেউ কেউ মুচকি হাসে। আমি আবৃত্তি করি আর চালাই। চালাতে চালাতে কালো পিচের রাস্তা, সবুজ ঘাসের মাঠ, বেনীআ মাস, সহকলা বছর পার হয়ে যাই। চাকা ঘোরে, ঘুরতে থাকে বনবন বনবন। সাইকেলটাকে আরব্য উপন্যাসের যাদুর গালিচা মনে হয়, যেখানে মন সেখানে গমন।
সেই সাইকেলের সামনের tyre-টা একসময় ছিঁড়ে যায়, সেটি আর চালান যায় না। সাইকেলটি দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয় একটা নীল রঙের Pipe-এর সাথে। সাইকেলটা ঝোলান থাকে উল্টো করে। Seat নীচের দিকে, চাকাগুলো ওপরে। যেন কালো পীচের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে সে এবার টিকটিকির মত হাঁটবে আকাশের নীল কাচ বেয়ে। অথবা উল্টে দেয়া হয়েছে বালিঘড়িটা। ওপরের বাটি থেকে এইবার দিনমান বালি ঝরবে নীচের বাটিতে।
তারপর কিভাবে যেন আমি বড় হয়ে যাই। তিন চাকার বিশাল সাইকেলটা ছোট হতে হতে খেলনা হয়ে যায়। সাইকেলটার সাদা Seat Cover, ঘন নীল রঙের Pedal, টকটকে লাল রঙের চাকাগুলো ধুলো জমে জমে ধুসর হয়ে ওঠে। একদিন সাইকেলটাও আর থাকে না। কিভাবে যেন কোথায় হারিয়ে যায়, আমার শৈশবের মতই। এরপর কবে যেন ভুলে গেছি সব। সাইকেল, শৈশব, ছড়া, আরব্য উপন্যাস, যাদুর গালিচা, বেনীআসহকলা – সব। কিন্তু সাইকেল না থাকলেও তার চাকাগুলি থাকে, সেগুলো থামেনা। ঘুরতেই থাকে, ঘুরতেই থাকে…আচ্ছা চাকা ঘোরার সময় কি টিক! টিক! শব্দ হয়?
সময় বহিয়া যায়, নদীর স্রোতের প্রায়-
যে জন না বোঝে তারে ধিক! শত ধিক!

১১০৬জন ৯৯৩জন

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য