চৈতন্যের আত্মবিস্মরণে (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

আমরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পৃথিবীর দুই প্রান্তে।
দেশ ভাগের মত আমরাও কাঁটাতারের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি।
অভিমানের বয়স বাড়ে জটাধারী বটবৃক্ষের মত।
অভিযোগেরা কি তরুণ তোমার পানের ডিব্বায়!
যেন ঈশ্বর শলাকা, লিকলিকে –
ভাষা ভেদে তোমাকে পাঠ করছে
মহাজাগতিক অপরিমেয় শূণ্যতায়।
তবুও তুমি পুঞ্জবিশেষ।
আচ্ছা! তুমি –
এখনও কি কাঁদো লুকিয়ে লুকিয়ে?
যা আমাকে আড়াল করতে পারতেনা।
এই তো সেদিন কেউ ছিলোনা একমাত্র আমি ছাড়া,
চৈতন্যের আত্মবিস্মরণে।
আমি একটা বাচ্চা শিশুকে বরং একাই রেখে চলে এসেছি, সে বুঝুক পৃথিবীতে কেউ কারো জন্য নয়।
সে জানুক কিভাবে একা বড় হতে হয়।
হামাগুড়ি দিয়ে একা দাঁড়ানোর জন্য কতটা শক্তি অপচয় করতে হয়।
হয়তো ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে গেছি,
তবুও মনে পড়ে সীমানার ওপারে….
নিরর্থক আগমন-প্রত্যাশি দিনগুলো
কেমন খেচর- ব্যাঙের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে উড়ছে–
রোদ থেকে মেঘে, মেঘ থেকে রোদে,এবং
আঁড়চোখে-তাকাচ্ছে
মার্কারি-দাগানো আমার ক্যালেন্ডারের পৃষ্ঠাগুলোর দিকে–
ওখানেই, বিগত দিনগুলো ঝিম মেরে বসে আছে।
মোট পড়েছেনঃ ৮৩৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৪টি মন্তব্য

  1. যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথিবীর দুই প্রান্তে গেলেও মানুষের মন বাধা মানেনা। সে অপেক্ষায় থাকে। সময় ঝিম মেরে থাকে। অনেক চমৎকার লিখেছেন।

  2. এ কবিতায় মন্তব্য দেবার ভাষা আজ আমার অবশিষ্ট নেই। আমি এ লেখার গূঢ়ার্থ ঠিক বুঝেছি। তবে….. যদি আবার কখনো ফিরে আসে শব্দের অহংকার! তবে কলম চলবে হয়ত! নয়ত থেমে গেলাম এখানেই।

  3. আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। আমার খুব কাছের একজনের সাথে কবিতার ভাবার্থ মিলে গেল। দুরত্ব যতই থাক, দেয়া হোক কাঁটা তারের বেড়া। যে প্রিয়জন সে বৃষ্টি ভেজা কোন এক রাতে আসবে ফিরে। শুভ কামনা রইলো।

  4. দু’প্রান্তে দুজন হলেও মন পরে রয় একই জায়গায়। তাইতো ক্যালেন্ডারের পাতা ভারী হয়, অপেক্ষায় থাকে প্রিয়জনের।
    শুভকামনা সতত কবি🌹

  5. কাটাতারের বেড়ার সাধ্য কি দুজনকে বিচ্ছিন্ন করার।
    স্মৃতি সবসময়ই স্থির, থমকে থাকে।

    অনেকদিন পরে ফিরে আসলেন চমৎকার একটি কবিতা নিয়ে।
    নিয়মিত লিখুন।
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন