হারিয়ে গেলি

হারিয়ে গেলি।।
কোন মন্ত্রবলে পারলি নিজেকে হারাতে যদি বলে যেতিস।
আয়নাটা কেমন করে লুকিয়ে রাখিস?
তোর ছায়া পরেনা তাতে?
ভেঙ্গে চুড়ে শুধু নিজের ছায়া বাড়িয়ে যাস,
তবুও কেমন দিব্যি এড়িয়ে যাস।
কেমন করে?
সদ্য শান্ত হওয়া পুকুর ঘাটে, দেখি গাছের ছায়া, আকাশের ছায়া
দেখি জোড়া জলকাঁকড়া,
কিশোরের ঢিল ছুড়ে ব্যাঙ্গাচির লাফ দিয়ে যাওয়া
কেউ পারেনি বাঁধতে নিজেকেই নিজের দেখতে চাওয়া।
তুই কেমন করে পানিতে নিজের ছায়াটা এড়িয়ে যাস?
রাতের অন্ধকারে যখন ঘরের কাঁচ আয়না হয়ে যায়,
তুই কেমন করে ঘর ছেড়ে যাস?
ঘর হারিয়ে, সব ছাড়িয়ে তুই নিজেকে নিয়ে কোথায় যাস?
একা হলেই সবকিছু এসে ভিড় করে, বুঝলিরে???

উৎসর্গঃ বুনো দি।

মোট পড়েছেনঃ ৮১০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৫৫টি মন্তব্য

  1. খুব সুন্দর অনুভূতি!
    বিশেষ করে- “কিশোরের ঢিল ছুড়ে ব্যাঙ্গাচির লাফ দিয়ে যাওয়া
    কেউ পারেনি বাঁধতে নিজেকেই নিজের দেখতে চাওয়া।”- অনেক ভালো লাগল।

    মুগ্ধতা রেখে গেলাম প্রিয় কবি!
    শুভ সকাল। -{@

    1. কবি সম্বোধন শুনেই হেসে ফেলেছি ভাইয়া, লেখার বিভাগ সিলেক্ট করতে গিয়ে কবিতা তে টিক আমি কখনই দিতে পারিনা।
      আপনার ভালো লেগেছে বলে ধন্যবাদ দিচ্ছি। শুভ সকাল।

  2. “সদ্য শান্ত হওয়া পুকুর ঘাটে, দেখি গাছের ছায়া, আকাশের ছায়া
    দেখি জোড়া জলকাঁকড়া,
    কিশোরের ঢিল ছুড়ে ব্যাঙ্গাচির লাফ দিয়ে যাওয়া
    কেউ পারেনি বাঁধতে নিজেকেই নিজের দেখতে চাওয়া।”
    দারুণ লেগেছে… (y)

  3. অসাধারণ প্রকাশ। তিনটি লাইন ভাল লেগেছে সবচেয়ে বেশি।
    … ভেঙ্গে চুড়ে শুধু নিজের ছায়া বাড়িয়ে যাস,
    তবুও কেমন দিব্যি এড়িয়ে যাস।
    কেমন করে?…
    (y) (y)

  4. হারিয়ে আর যাবে কতদূর, কোথায়?
    হারানোর সীমা তো অসীম নয়
    ফিরতে হবেই এক সময় তাঁকে উৎসের কাছে।

    ভালো লিখেছেন।

    বুনোদিকে মিস করি আমিও।

    1. কখনো কখনো হয়তো নিজের কথা ভাবার সময় আসে, তাই চলে যায়। ফিরে আসুক সে প্রত্যাশা আমাদের। আপনি কি লেখালেখি ছেড়ে দিলেন?

  5. আসলে আপনার এ লেখাটিতে মন্তব্য করা খুব মুস্কিলের কাজ। একে ত আপনি পুরোদস্তুর কবি হয়ে
    উঠছেন এরপর যে ভাবে যে উচ্চতায় নিজের ভাব-ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তাতে সামান্যদের
    মন্তব্য ফন্তব্যের মত দেয়ালে মাথা ঠুকে মরবে। তবে একটি কাজ হয়েছে তাঁর লেখাগুলো আবার আবার পড়লাম।
    নূতন করে আবিস্কৃত হল আরও অনেক অনেক দিক।
    যার জন্য লিখেছেন আসলে সেই সঠিক মন্তব্য করতে সক্ষম, তার লেখায় আত্মহত্যা প্রবণতা দেখলাম।
    নাছরিন নিজে আত্মহত্যা করেছে,তাঁকেও ডাকাডাকি করছে। সে পথে না গেলে আপনার মত আমরাও
    তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষা করতে থাকব।

    1. শরীরী আত্মহত্যার চেয়ে লেখার আত্মহত্যা আরো কস্টকর। দেখেছি তার লেখায় কিছুদিন যাবত, বলেছিও তাকে। জানিনা সে কি করছে? নাছরিনের প্রলোভন এড়ানো কষ্টকরই বটে। মৃত মানুষের ক্ষমতা বেঁচে থাকা মানুষের চাইতেও হয়তো বেশি।
      অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ দেখছিনা।
      আপনার কি অবস্থা? এখনো খোঁজাখুঁজি চলছে নাকি ধরা দিয়েছে?

        1. আপনি যে কি বলেন না !!! শেষ লেখা তার এপিটাফ হবে কেনো? আমারই তো শুনে রাগ লাগতেছে, আপনার মুন্ডুপাত করার জন্য হলেও তার তারাতারি ফিরে আসা উচিত।

  6. বন্ধু তোমার কাব্য পড়ে আমার যা মনে হলঃ

    সচ্ছ জলে আমি দেখেছিলাম
    তোমার ভেসে উঠা জল ছবি,
    ডেউয়ের তোড়ে হারিয়ে যাও
    হারায় সঞ্চিত প্রেম সবি।

    বন্ধু বরাবরের মত তোমার লিখায় প্লাসের বন্যা। আর শুভকামনা নিরন্তর।

    1. রাতের বেলা যখন বাইরে অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঘরের কাঁচে নিজেকে দেখা যায়, আয়না হয়ে যায়।
      অনেক ধন্যবাদ মনির ভাই।

  7. শিখাবে আমায় এতো চমৎকার কি করে লেখেন?
    রাতের অন্ধকারে যখন ঘরের কাঁচ
    আয়না হয়ে যায়,
    তুই কেমন করে ঘর ছেড়ে যাস?
    ঘর হারিয়ে, সব ছাড়িয়ে তুই
    নিজেকে নিয়ে কোথায় যাস?

    হৃদয় নাড়ানো

  8. আপনার লেখায় ফের লিখতে ইচ্ছে করল।
    হারিয়ে যাওয়া শিখতে নেই। দেখতেও নেই এভাবে নিজেকে।
    যে হারিয়ে যাবার সে এমনিতেই হারিয়ে যায়।
    সবকিছু মাড়িয়ে, ভেঙ্গে-চুরে
    হয়তোবা তার অতি ভাললাগা দুপায়ে গুঁড়িয়ে
    তারই প্রয়োজনে এরা হারিয়ে যায়।
    হারিয়ে যাওয়া শিখতে নেই। হারিয়ে যাওয়া ভাল না।

    1. আপনার মন্তব্য আমার লেখার চাইতেও সুন্দর হয়েছে। শিখে কেউ হারিয়ে যেতে পারেনা। অই যে বললেন, হয়তোবা তার অতি ভাললাগা দুপায়ে গুঁড়িয়ে তারই প্রয়োজনে এরা হারিয়ে যায়।
      তার ফিরে আসার অপেক্ষাতে আছি।
      ভালো থাকুন আপনি, অনেক ধন্যবাদ।

      1. ‘ দেখি জোড়া জলকাঁকড়া,
        কিশোরের ঢিল ছুড়ে ব্যাঙ্গাচির লাফ দিয়ে যাওয়া’ – এত কিছু দেখেন কিভাবে? সবাই সবাইকে নিয়ে কত কিছু লেখে।আমাকে নিয়েই কেউ কিছু লিখলো না। (-3 ছেরা হৃদয়ে মলম লাগানোরও কেউ নেই 🙁

        1. আহারে আমি কার্ডিওলজিস্ট না, নইলে আপনার হার্ট (3 এমন করে দিতাম। প্রতিভাবানরা একটু আড়ালে আবডালেই থেকে যায়। আপনাকে একটা লেখা দিতেই হয়, কিন্তু আমি যা লিখি…

    1. কেউ মনে রেখেছে কিনা কি করে বুঝলেন? অন্যের মনের ব্যাপার স্যাপার বোঝা বড়ই জটিল কাজ। তবে আপনি যে সোনেলাকে আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছেন তা কিন্তু দেখতে পাচ্ছি। ভালো থাকুন উত্সব কন্যা।

  9. কেউ পারেনি বাঁধতে নিজেকেই নিজের দেখতে চাওয়া।
    তুই কেমন করে পানিতে নিজের ছায়াটা এড়িয়ে যাস? — অসাধারন। হারিয়ে যাবে কোথায়? এমন ভালোবাসার টান উপেক্ষা করা অসম্ভব।

    1. না না এতো আমার শত্রুর শত্রু ডাইনী বুড়িকে নেয়া লেখা। কোথায় যে পালালো আবার কোন চুলায় কে জানে 🙁
      এতো কষ্ট করতে হবেনা রে পাগলী। ইনবক্সে বলবো নে 🙂

মন্তব্য করুন