লাঞ্চ টাইম হাঁটাহাঁটি

শুন্য শুন্যালয় ১০ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার, ০২:০১:৩১অপরাহ্ন ছবিব্লগ ৪২ মন্তব্য

দুপুরে লাঞ্চ টাইমে, অথবা বিকেলের দিকে ডেস্ক থেকে উঠে কিছুটা হেঁটে আসাকে খুব উৎসাহ দেয়া হয় অফিস থেকে। আমাদের সিও নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রতি বুধবার আমাদেরকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। শর্ত হচ্ছে এসময়ে অফিস সংক্রান্ত কোন আলাপ নয়, একদম কাজের বাইরে গল্প করতে করতে হাঁটাহাঁটি হবে। এখন প্রতি বুধবার বাসা থেকে অফিস করবার ডিসিশান নেয়ায় মিস করছি সেটা। তবে নিজে হাঁটতে যাই। কখনো আধ, কখনো এক ঘন্টা। আজ ভাবছি সোনেলার সবাইকে নিয়ে হেঁটে আসবো। রাজিতো? চলুন হাঁটি…

লিফটের অপেক্ষা করছি। উপর থেকে দেখুন। মহাসমুদ্রের মতো মানুষ, গাড়ি আর অবাধ্য সব দালানের দল, ভ্রুক্ষেপবিহীন, অস্তিত্বহীন মহাশূন্যের ছায়ায়…


দেখুন, সকালের উষ্ণ ভিড়ের পার্ফিউম বুকে কেমন করে চলে যাচ্ছে একটি খালি ট্রাম


এক পিচ্চি স্যান্ডেলের ফিতে নিয়ে কসরত করছে। পৃথিবীর সমস্ত কেন্দ্র স্যান্ডেলে গিয়ে জমা হয়েছে, অথবা ফিতেয়। আমাদের দিকে ঘুরেও দেখছেনা।


সারারাত জাগা ব্যর্থ অথবা অব্যর্থ যুবকের ঘুম। বাড়িতেও শান্তি নেই, বাইরে ঘুমাতে গেলেও সোনেলার ব্লগাররা ছবি তুলে পোস্টায় দ্যায়। অশান্তি, where is peace?


একটি কুকুরছানা দৌঁড়াদৌঁড়ি করছে। আপনিও নিয়মিত এক্সার্সাইজ করুন, ডায়াবেটিস মুক্ত থাকুন।


শৈশবের উল্লাস। আশেপাশে কেউ না থাকলে নিজেও ট্রাই দেয়া যেতো। উল্লাসে আমরা এখন অনুভূতিহীন এক একজন মেগান ফক্স।


পার্কের শুয়ে থাকা মেয়েটি, হাতের মুঠোয় আকাশ নিয়ে, আকাশের খোঁজে। নেপথ্যে রোদ্দুর বাজাচ্ছে জামালুদ্দিনের বাঁশি।


সানবাথ নিয়ে পাখিও কী আমার মতো রাগ কমাচ্ছে! নাকি প্রথম অথবা শেষ প্রেমে পড়েছে?


প্রাণপণে আটকে ধরেছে পরগাছা। যদিও বৃক্ষ কিংবা লতানো গাছ, কে কার উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে বোঝা দুস্কর।


একটি দীর্ঘশ্বাস ভিড়ের মধ্যে হেঁটে মিলিয়ে যাচ্ছে, কখনো যুগল, কখনো বেঞ্চের যুবক, যুবতী, কখনো দুপুর রোদে পথচারী আমি বেশে…

২০৫০জন ১৭৫৫জন

৪২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ