রিমি রুম্মান

একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ার স্বপ্ন দেখি__
সেখানে কারো আসবার প্রয়োজন না হোক
প্রতিনিয়ত সে কামনা করি__

  • নিবন্ধন করেছেনঃ ১২ বছর ৭ মাস ২১ দিন আগে
  • পোস্ট লিখেছেনঃ ৩০১টি
  • মন্তব্য করেছেনঃ ৩০৩৮টি
  • মন্তব্য পেয়েছেনঃ ৫২৯৪টি

দৃশ্যত রঙিন প্রবাস

রিমি রুম্মান ১০ জুন ২০১৬, শুক্রবার, ১১:০৫:৫৩পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১২ মন্তব্য
নিউইয়র্কে আমার বাড়িতে একজন অতিথি আসেন মাঝে মধ্যে, যিনি দুই যুগেরও অধিক সময় কঠোর পরিশ্রম করেছেন এদেশে। বয়স এবং শারীরিক নানাবিধ অসুস্থতা নিয়ে অবশেষে বিদেশের পাট চুকিয়ে একেবারেই ফিরে গেছেন দেশে পরিবারের কাছে। ডাক্তার কিংবা কাগজপত্র সংক্রান্ত প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে আসেন। কাজ শেষে আবার ফিরেও যান। এই স্বল্পকালীন সময়ে তিনি আমার অতিথি হন। হাসপাতাল কিংবা [ বিস্তারিত ]

কোনদিন কিছু চাইনি

রিমি রুম্মান ৭ জুন ২০১৬, মঙ্গলবার, ০৯:১৪:১৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২২ মন্তব্য
জ্বরের ঘোরে, কিংবা কষ্ট পেলে সেই ছোট্টবেলা থেকেই মা-গো বলে ডেকে উঠা আমার স্বভাব। হাজার হাজার মাইল দূরের এই বিদেশ বিভূঁইয়ে আমি যখন অসুস্থ হই, মা-গো বলে ডেকে উঠি, কোন এক দুর্বোধ্য কারনে মানচিত্রের অন্যপ্রান্তে ছোট্ট এক মফঃস্বল শহরে আমার জন্ম, বেড়ে উঠার সেই বাড়িটিতে বসে আমার মা সেই ডাক শুনতে পেতেন। ফোন করলেই মলিন, [ বিস্তারিত ]

ছেলেটা এমন কেন !

রিমি রুম্মান ২ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ০৮:৪৯:৫৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৫ মন্তব্য
দ্বিতীয়বার মা হবার সময়কার কথা। শুরু থেকেই ভীষণ অসুস্থ আমি। দু'পায়ে অস্বাভাবিক ব্যথা। স্বাভাবিক চলাফেরা প্রায় অসম্ভব হলো। পৃথিবী ছোট হতে হতে শেষে বেডরুমটিই হয়ে উঠলো আমার পৃথিবী। সাত বছরের রিয়াসাত আমার রুমেই হোমওয়ার্ক করে, কিংবা কম্পিউটারে গেইম খেলে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতর আমি যখন শোয়া থেকে উঠে বসার চেষ্টা করতাম, কোন এক দুর্বোধ্য কারনে ছোট্ট [ বিস্তারিত ]

তোমার ক্লান্তি লাগে না ?

রিমি রুম্মান ২৬ মে ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ০৯:৩৫:৫৯পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৯ মন্তব্য
কেন যেন সারা বছর সুস্থ থাকা আমি হুট করে কোন কারন ছাড়াই পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে যেতাম। শরীর পুড়ে যাওয়া জ্বর কিংবা হাত, পা বরফের মত শীতল। আম্মা বলতো, “সারা বছর ঠিকমত পড়স না, এখন পরীক্ষার আগে টেনশনে অসুস্থ হইয়া যাস্‌ !” এমন সব ভৎসনার মাঝে রাত জেগে চিলেকোঠার রুমে পড়তেই থাকি। আমার ক্লান্ত মা [ বিস্তারিত ]
আমার নিউইয়র্কের বাড়িতে বেড়াতে এলেন সমবয়সী এক কাজিন। ইউরোপে নিজের ব্যবসা, পরিবার নিয়ে বর্তমানে জীবন যুদ্ধে সফল একজন মানুষ সে। খাবার টেবিলে গল্প করছি আমরা। শৈশবের অনেক স্মৃতি আমাদের। বলল, " জানিস, ছোটবেলায় গ্রাম থেকে শহরে তোদের বাসায় বেড়াতে এলে তোর আম্মা চুপিসারে হাতে টাকা গুঁজে দিতেন কিছু কিনে নেবার জন্য। কি যে খুশি লাগতো [ বিস্তারিত ]

বোধ

রিমি রুম্মান ১৫ মে ২০১৬, রবিবার, ১২:০৬:২৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৪ মন্তব্য
নিউইয়র্কে আজ চমৎকার ঝলমলে রৌদ্রজ্জ্বল একটি দিন ছিল। আমার ছয় বছরের রিহানকে নিয়ে এ বছর আজই প্রথম পার্কে যাওয়া। অন্য বাচ্চাদের সাথে সে খেলছে, দৌড়াচ্ছে। অল্প দূরত্বে থেকে খেয়াল রাখছিলাম। হঠাৎ রিহানের ডাক। আশ্চর্য হবার ভঙ্গিতে বলে উঠে, আম্মু, দেখো দেখো ! আমি ফিরে চাই। বিশেষ ভাবে তৈরি এক ধরনের হুইল চেয়ারে বসা একজন মানুষ। [ বিস্তারিত ]
মা যখন আকুতি করলেন, "তোর আব্বা মারা গেছে প্রায় দু'বছর হয়, একবার দেশে আয়, ঘুরে যা "... আমি গেলাম না। ক'মাস বাদে হুট করেই দেশে গিয়ে হাজির। মা'য়ের আকস্মাৎ মৃত্যু সংবাদে এ যাওয়া। দাদার বাড়িতে দোয়া পড়ানো হচ্ছে, গরীবদের খাওয়ানো হচ্ছে। উঠোনে বিশাল শামিয়ানা টানানো হলো। ভোর থেকেই বাড়িময় কোলাহল, লোকে লোকারণ্য। দূর দূরান্ত থেকে [ বিস্তারিত ]

আমি বলি, আমার দীর্ঘশ্বাস

রিমি রুম্মান ২৯ এপ্রিল ২০১৬, শুক্রবার, ০১:১৫:১৫অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৪ মন্তব্য
রতন এই শহরে কন্‌কনে শীতের দিনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফ্লায়ার বিলি করে। হ্যাংলা পাতলা গড়ন। শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যাও আছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় হাসপাতাল, ডাক্তার এড়িয়ে চলে। হাঁপাতে হাঁপাতে একদিন আমায় ফ্লায়ার দিচ্ছিলো। আমি ব্যাগে থাকা ইনহেইলারটি ওকে দেই। সেই থেকে মাঝে মাঝেই ওকে ইনহেইলার দিতাম। সেটা ব্যবহার করে ও ভাল বোধ করতো। এ নিয়ে তাঁর [ বিস্তারিত ]

মানুষগুলো কেবলই মনে করিয়ে দেয়

রিমি রুম্মান ২১ এপ্রিল ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ০৮:৪১:৫৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২০ মন্তব্য
বৈশাখী সাজে আমায় দেখে চমকে উঠে ইভন। বললাম, আজ আমাদের নিউ ইয়ার। শুভ নববর্ষ। ইভন পাল্টা বলে উঠে, সবো নববর্ষ। আমি হো হো করে হেসে উঠি। বলি, "সবো" নয়, বলো "শুভ"। এবার ঠিক ঠিক বলে। একবার নয়, দু'বার নয়, পরপর তিনবার। চমৎকার উচ্চারণ। বিদেশিনীর মুখে সঠিক বাংলা উচ্চারণ ! ভেতরটায় অদ্ভুত এক ভালোলাগা খেলে যায়। [ বিস্তারিত ]

অবশেষে একদিন ফিরে

রিমি রুম্মান ৮ এপ্রিল ২০১৬, শুক্রবার, ০৯:২৯:৩৬অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২০ মন্তব্য
রোকেয়াকে প্রথম যেদিন দেখি__ চুলগুলো লালচে, জট পাকানো, গায়ের রং রোদ পোড়া তামাটে, চোখজোড়া ফ্যাকাসে প্রাণহীন। ফ্রক পরিহিতা ছোট্ট একটি মেয়ে। যদিও আমিও তখন ছোটই, তবে ওঁর চেয়ে খানিক বড়। মা'কে টুকিটাকি সংসারের কাজে সাহায্য করবার জন্যে ওঁকে আনা হয়েছে গ্রাম থেকে। আগেকার অন্যসব ক্ষুদে সাহায্যকারীদের মতোই রোকেয়াকেও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়া হল। প্রতি ভোরে [ বিস্তারিত ]

একুশ বছর পরে

রিমি রুম্মান ৫ এপ্রিল ২০১৬, মঙ্গলবার, ০৮:৩৫:১২অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৫ মন্তব্য
আমার সুস্থ সবল মায়ের আকস্মাৎ মৃত্যুর খবরে এই বিদেশ বিভূঁইয়ে দিশেহারা আমি হুট করেই দেশে যাবার সিদ্ধান্ত নেই। সংসার, সন্তান, দায়িত্ব সব ছেড়ে ছুঁড়ে কয়টাদিন ভাইবোন দু'টির সাথে থাকতে ইচ্ছে হলো। বাবার বাড়ি গিয়ে পড়ে থাকতে ইচ্ছে হলো। মা-বাবা'র কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকতে মন চাইলো। অবাধ্য মনের, সব নিয়ম ওলট-পালট করা চাওয়া ! ব্যাগ [ বিস্তারিত ]
আমার প্রথম সন্তান যখন গর্ভে চার মাস বয়স, তখন আমাদের স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে কিছু কাউন্সেলিং করা হল। বলা হল রক্ত পরীক্ষায় জানা গেছে আমার সন্তান সুস্থ স্বাভাবিক না হবার সম্ভাবনা। আবার সুস্থ, স্বাভাবিক হলে হতেও পারে। এ জন্য আমাকে আরও কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফাইনালি সবরকম টেস্ট শেষে যদি নিশ্চিত [ বিস্তারিত ]

এই শহরে যে যেমন

রিমি রুম্মান ২৩ মার্চ ২০১৬, বুধবার, ১০:৪৩:৪৫পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২২ মন্তব্য
এ এলাকায় আমার বসবাস ষোল বছর। আশেপাশে বাঙালি পরিবার নেই। ছেলেকে নিয়ে মসজিদে যাবার পথে দু'ব্লক দূরে একজন হিজাব পরিহিতা নারীকে দেখি গত বসন্তে। বাড়ির সামনে বাগান পরিচর্যা করেন মাঝে মাঝে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ফায়ার হাইড্রেন্ট এর ঢাকনা খুলে সেখান থেকে প্রবল বেগে নির্গত পানি নিয়ে খেলা করছিল, একে অপরকে ভিজিয়ে দিচ্ছিলো কিছু স্প্যানিশ ছেলে [ বিস্তারিত ]
আজ এই শহরে আকাশ আঁধার করা বৃষ্টি হচ্ছে। আমার বাবাকে যেদিন দাদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে চিরতরে শুইয়ে রেখে আসা হলো, সেদিনও এমন দুনিয়া আঁধার করা অঝোর বৃষ্টি ছিল। মনে পড়ে, পরীক্ষা শেষে এক ছুটিতে হোস্টেল থেকে বাড়ি ফিরলে বাবা আমার হাত দেখে আঁতকে উঠে। কাপড় ইস্ত্রি করতে গিয়ে হাতে সামান্য ফোস্‌কা পড়েছিলো। তাই দেখে বাবার [ বিস্তারিত ]

হাওড়ের জলের পাশে

রিমি রুম্মান ১১ মার্চ ২০১৬, শুক্রবার, ০৯:১০:০৬অপরাহ্ন কবিতা ২২ মন্তব্য
ভালোবেসে তুমি আমায় যে লাল গোলাপটি দিয়েছিলে, তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবার প্রানান্তকর চেষ্টায় টবে পানিতে রেখেছিলেম ঝরে পড়বার আগেই ভীষণ যত্নে বইয়ের ভাঁজে জায়গা দিয়েছিলেম কবিতার বই আর গোলাপ আমাকে দেয়া সেরা উপহার ছিল সে'বার ভালোবাসা দিবস, বইমেলা আর উপহার__ কী অদ্ভুত সমীকরণ ! প্রতি দুপুরে সমস্ত পৃথিবী যখন ক্ষণিকের জন্যে থেমে থাকে, বই আর শুকনো [ বিস্তারিত ]

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য