বাবা হয়তো মানুষ ছিলেন না

আমার প্রায়ই মনে হয়, “বাবা কি মানুষ ছিলেন ? বাবাকে মাঝে মাঝে মানুষ মনে হয় না। মনে হয় তিনি মানুষের বাইরে কিছু । বাবা ফাইভ/সিক্স পড়ুয়া এক গাঁয়ের বালিকাকে বিয়ে করে শহরে বসতি গড়লেন। সেই বালিকা বধূ আমার মা। পড়ালেখায় সীমাহীন আগ্রহ দেখে মাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন শহরের মাতৃপীঠ গার্লস স্কুলে ক্লাস সেভেনে।আমার মেধাবী মা ক্লাসে [বিস্তারিত বাবা হয়তো মানুষ ছিলেন না]

ভাগ্যের অন্বেষণ এবং আমাদের ফিরে না যাওয়া

নিউইয়র্কের ব্যস্ততম রাস্তায় পার্কিং রুল অমান্য করে পার পাওয়া কঠিন। একদিন জরুরী প্রয়োজনে রাস্তার পাশেই গাড়ি থামিয়ে কিছু কিনতে গেলো কামাল। নিমিষেই ট্রাফিক এজেন্ট একশো বিশ ডলারের জরিমানার কমলা রং এর খাম ধরিয়ে দিলেন ! কামাল দ্রুততম সময়ে ফিরে এলো এবং দুঃখিত কণ্ঠে বললো, “আহা, গেলাম আর আসলাম, এরই মধ্যে টিকেট ধরিয়ে দিলে !” কালো [বিস্তারিত ভাগ্যের অন্বেষণ এবং আমাদের ফিরে না যাওয়া]

তারচেয়েও সুন্দর এই দেশ

ঋতু পরিবর্তনের সময়গুলোতে এই শহরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কেউ এলার্জি জনিত, কেউবা ঠাণ্ডাজনিত, নয়তো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগে। আমার ছোট বাপজান রিহানও তেমনি অসুস্থ হয় গত সপ্তাহে। কাশি বেড়ে শেষরাতের দিকে শ্বাসকষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত যতো রাতই হোক না কেন, হাসপাতালে ছুটে যাই। জরুরি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলেই ফিরে আসি। সন্তানের অসুস্থতায় কখনো কখনো মায়েরা [বিস্তারিত তারচেয়েও সুন্দর এই দেশ]

সময় গেলে সাধন হবে না

আমার বাড়ির পেছনে যে রেললাইন, সেখান দিয়ে বেশ বিরতিতে এক একটি ট্রেন ছুটে যায় লং আইল্যান্ডের দিকে। রাত যতো বাড়ে, কিংবা  সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দীর্ঘ বিরতি শেষে নিস্তব্দতার বুক চিরে হঠাৎ হঠাৎ ট্রেন আসে, যায়। রেললাইনের ওপাশে ফোরটি ফোর এভিনিউতে যেতে হলে ছোট্ট একটি ব্রীজ পেরোতে হয়। যদিও ওপথে খুব একটা লোকজন যাতায়াত করে না। [বিস্তারিত সময় গেলে সাধন হবে না]

গল্পগুলো ভিন্ন ভিন্ন

গতকালের কথা। শীতের সকাল। আগের দিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হোল, টানটান উত্তেজনায় রাত জেগে ফলাফল জানলো শহরের মানুষজন। অথচ বাইরের জনজীবন ঠিক প্রতিদিনকার মতোই স্বাভাবিক। স্বাভাবিক নেই শুধু প্রকৃতি। শহর জুড়ে অন্ধকার। হালকা বৃষ্টির মাঝে হাঁটছি ওয়েস্ট ফোর স্ট্রীট ধরে। একে একে পেরোচ্ছি এভনিউ নাইন, টেন … । অতঃপর নির্দিষ্ট ঠিকানার সামনে এসে দাঁড়াই। ছাইরঙা ইটের [বিস্তারিত গল্পগুলো ভিন্ন ভিন্ন]

এক শীতের শনিবার রাতে

এক শীতের শনিবার রাত। ব্রুকলিনে এক আত্মীয়ের বাসায় নিমন্ত্রণে যাচ্ছি আমরা স্বামী-স্ত্রী। পথিমধ্যে গ্যাস স্টেশনে থেমে গাড়িতে গ্যাস নেয়া হলো। সংলগ্ন দোকানটিতে কিছু জরুরী জিনিষ কিনতে গেলো হাসব্যান্ড। আমি গাড়িতে অপেক্ষায়। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর ফিরবার নাম নেই। এদিকে ফোনও গাড়িতে রেখে গিয়েছে। ঘড়িতে রাত বাড়ে। চরম বিরক্তি নিয়ে নেমে এদিক সেদিক খুঁজি। বিশাল [বিস্তারিত এক শীতের শনিবার রাতে]

হ্যালোইন আনন্দ

এই শহরের মানুষগুলো সেজেছে আজ রংবেরং এর পোশাকে। চারিদিকে উৎসবের পরিবেশ। কেউ কেউ মুখোশ পরেছে, কেউবা চেহারায় পেইন্ট করেছে রং দিয়ে। রাস্তার পাশের প্রশস্ত ফুটপাতে অনেকটা আমাদের দেশের বৈশাখী মেলার মতন পশরা সাজিয়ে নানান রকম খেলনা আর রংবেরঙের লাইট বেচাকেনা চলছে। ছয় বছরের জীবনে রিহান এই প্রথমবারের মত হ্যালোইন দেখতে বেড়িয়েছে। দু’মাস আগে থেকেই হ্যালোইন [বিস্তারিত হ্যালোইন আনন্দ]

ভর্তিযুদ্ধ এবং আমরা

নিউইয়র্ক সিটির স্পেসালাইজড হাই স্কুলগুলোয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু আগামীকাল ২২শে অক্টোবর থেকে। New York City Department of Education এর অধীনে আটটি স্পেসালাইজড স্কুলের জন্যে এই ভর্তিযুদ্ধ। এখানে নাইন, টেন, ইলেভেন, টুয়াল্‌ভ এই চার ক্লাস মিলে হাইস্কুল। গতবছর অষ্টম শ্রেণীর ২৯,০০০ ছাত্রছাত্রী এই ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। প্রাপ্ত নাম্বারের ভিক্তিতে স্কুলগুলো  ছাত্রছাত্রীদের সীমিত আসনে সুযোগ দিয়ে থাকে। [বিস্তারিত ভর্তিযুদ্ধ এবং আমরা]

বোধকে নাড়া দিয়ে যায় যে শিক্ষা

অনেক বছর আগের কথা। আমার এক বন্ধু নিউইয়র্ক শহরে নতুন ট্যাক্সি চালানো পেশায় নেমেছে। এক আমেরিকান যাত্রী উঠেছে তাঁর গাড়িতে। বিশ মিনিট দূরত্বে যার গন্তব্য। আমার বন্ধুটি সোজা রাস্তা এড়িয়ে দূরের রাস্তা দিয়ে ঘুরে যাত্রীকে তাঁর গন্তব্যে নামিয়ে দেন মিটারে বেশি ভাড়া উঠবে, সে আশায়। মধ্যবয়সী যাত্রী স্মিত হেসে ভাড়া মিটিয়ে নেমে যাবার আগে বললেন, [বিস্তারিত বোধকে নাড়া দিয়ে যায় যে শিক্ষা]

কোনদিন কোন শিক্ষক জানতে চায়নি

স্কুল জীবনের কথা মনে করে আতংকিত হই আজো। বন্ধের পর স্কুল খুলবে সেই আতংকে কি ভীষণ ভীত সন্ত্রস্ত দিন কাটাতাম। অন্যদের কথা জানিনা। তবে, আমার এমনটি হত। মনে আছে ক্লাস টু’তে পড়বার সময় আমার পচা হাতের লেখার খাতাটি ম্যাডাম ক্লাসভর্তি সকলকে উঁচু করে দেখিয়ে বলেছিলেন, ” তোমরা কি কেউ বুঝতে পারো এখানে কি লেখা আছে [বিস্তারিত কোনদিন কোন শিক্ষক জানতে চায়নি]

জীবন-মৃত্যু

প্রতিদিন কত কিছুর মুখোমুখি হতে হয় ! গুমোট অন্ধকারাচ্ছন্ন, বিচ্ছিন্ন সকাল আজ নিউইয়র্ক শহরে। এমন বৃষ্টি বাদলের দিনে মানুষের হাজারো ব্যস্ততা আর কোলাহলের মাঝেও চারিপাশ কেমন শুন্য শুন্য নীরব মনে হয়। এলমার্স্ট হাসপাতালের সামনে রেড সিগন্যালে বসে আছি। একজন গর্ভবতী নারী বেরিয়ে এলেন। স্নিগ্ধ, লাবণ্যময়ী। আরেকজন নীল চোখের শ্বেতাঙ্গ নারীকে হুইল চেয়ারে ঠেলে নিয়ে এলো [বিস্তারিত জীবন-মৃত্যু]

স্বপ্নের বাইক এবং অন্ধ স্নেহ

ঈদের দিন এক বন্ধুর বাসায় আড্ডা দিচ্ছি আমরা অনেকগুলো পরিবার। গল্পের এক পর্যায়ে একজন জানালেন দেশে তাঁর আত্মীয়ের কথা। পনের বছরের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় এক মায়ের কথা। ছেলেটি এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে। আমার ছেলেটি দু’বছর বাদে পনের হবে। মায়ের মন। ভেতরটায় খামচে ধরলো যেন কেউ। জিজ্ঞেস করি, কেমন করে হল এক্সিডেন্ট ? বললেন, মোটর [বিস্তারিত স্বপ্নের বাইক এবং অন্ধ স্নেহ]

আমাকে যারা দেখে, এবং দেখে না

শৈশব, কৈশোর এবং বড়বেলার খুব কাছের এক বন্ধুর কথা। তাঁর একজন প্রেমিক ছিল। বাঁধভাঙা প্রেম ছিল। সময় সুযোগ একসাথে মিলিয়ে তাঁরা রঙিন প্রজাপতির মতন উড়তো। ভাঙচুর টাইপের এই প্রেম দেখে আমার খানিক বিরক্ত লাগতো, আবার প্রশ্নও জাগতো। পরিবারের তুমুল বিরোধিতা, কড়া শাসন এবং নানাবিধ মানসিক শাস্তির পরও এ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোন কারন খুঁজে পেতাম [বিস্তারিত আমাকে যারা দেখে, এবং দেখে না]

চিঠি, ডাকপিয়ন এবং প্রতীক্ষা

আজ নিউইয়র্কের আকাশ আচমকা গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে গেলো। ঝুম বৃষ্টি নামলো। কাকতালীয় ভাবে গতবছর ঠিক এইদিনে এমন আকাশ আঁধার করে শহর ধুয়ে যাওয়া বৃষ্টি নেমেছিলো এই শহরে। সেই বৃষ্টির দিনে পুরনো চিঠিগুলো নেড়েচেড়ে দেখবার সময় লিখেছিলাম এই লেখাটি। …… অবহেলায়, অযতনে পড়ে থাকা চিঠিগুলোর কিছু লাইনে চোখ স্থির হয়ে রইলো … পাশের বাসার সমবয়সী শিখা [বিস্তারিত চিঠি, ডাকপিয়ন এবং প্রতীক্ষা]

স্বপ্ন টানে দিলাম পাড়ি

সে অনেকদিন আগের কথা। নিউইয়র্কের ঈদগুলো ছিল অন্য প্রতিটি দিনের মতোই। রোজকার নিয়মেই ব্যস্ততম দিনের শুরু এবং শেষ হত। শুধু আমাদের কারো কারো দিনটি ভিন্ন হত। লেহেঙ্গা কিংবা সেলোয়ার-কামিজ পড়ে, সাজুগুজু করে বন্ধুদের বাসায় বেড়াতে যেতাম। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া ভিনদেশী কেউ কেউ অবাক হয়ে দেখত। অস্বস্তি বোধ হত তখনই যখন কেউ কেউ জানতে চাইত, [বিস্তারিত স্বপ্ন টানে দিলাম পাড়ি]