যে লেখা কেবলই কাঁদায়

আজ এই শহরে মা দিবস। মা’কে নিয়ে আমার লেখাগুলো পড়ছিলাম একের পর এক। যে লেখাটি পড়ে মন একটু বেশিই ভারি হয়ে থাকলো দিনভর…… মা যখন আকুতি করলেন, “তোর আব্বা মারা গেছে প্রায় দু’বছর হয়, একবার দেশে আয়, ঘুরে যা “… আমি গেলাম না। ক’মাস বাদে হুট করেই দেশে গিয়ে হাজির। মা’য়ের আকস্মাৎ মৃত্যু সংবাদে এ যাওয়া। [বিস্তারিত যে লেখা কেবলই কাঁদায়]

ওপারের ডাক যদি আসে

‘ রুমি মারা গেছে ‘ খবরটি জানার পর আমার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়ায়নি। প্যানসিলভেনিয়া থেকে অতিথিরা আসবে। আমি ব্যস্ত। ভীষণ ব্যস্ত। কারো জন্যে দু’ফোটা জল ফেলবার সময় কই ! দিনভর বাড়িঘর ঝাড়-মোছ করেছি। দুপুরের খাবারে কী কী মেনু দিবো, সেগুলোর আয়োজন করেছি। ওরা আসে। গল্প করি। একসাথে ঘুরতে যাই। বিকেল, সন্ধ্যা, রাত, ভোর অবধি ঝলমলে [বিস্তারিত ওপারের ডাক যদি আসে]

হোঁচট খাওয়া জীবন

যাকে আমি ভালোবাসি, সে সবে বুয়েটে চান্স পেয়েছে। আর আমি অষ্টম শ্রেণী। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া কেউ কি প্রেমে পড়ে ? তবে এটাই সত্যি যে, শেষ অবধি আমি প্রেমে পড়েছিলাম, তাঁকে ভীষণভাবে ভালবেসেছিলাম। সে আমার কাজিন। একটু দূরের। তাঁর মা এবং আমার মা একে অপরের খালাতো বোন। সেই সুবাদে আমরা একে অপরের কাজিন। আমি ছাত্রী তেমন [বিস্তারিত হোঁচট খাওয়া জীবন]

জীবনের সাথে জীবনের কত মিল !

বাংলা মাসের হিসেবে এখন বৈশাখ শুরু যদিও, কিন্তু এই শহরের প্রকৃতি যেন কেবলই শীতকে বিদায় দিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। ড্রইং রুমের কাঁচের দরজার এদিকটায় দাঁড়িয়ে মুগ্ধতায় বাইরের প্রকৃতি দেখি প্রায়ই। বেল্‌কনির ওপাশে শীতল বাতাস বইছে। বাতাসের তীব্রতার সাথে তাল মিলিয়ে নিচে উঠোনের গাছগুলো থেমে থেমে একদিকে হেলে যাচ্ছে। যেন মিউজিকের তালে ছন্দে ছন্দে দুলছে হলুদ [বিস্তারিত জীবনের সাথে জীবনের কত মিল !]

প্রিয় স্বদেশ ( প্রতিযোগিতা )

প্রিয় স্বদেশ, অনেক ভালো থাকার মাঝেও আমি ভালো নেই। ভেতরটা কেমন যেনো খাঁখাঁ শূন্যতায় কাঁদে। শুনেছি বিদেশ বিভূঁইয়ে সমুদ্রের তীরে গেলে মানুষের মন ভালো হয়। কিন্তু, যতোবারই সমুদ্রের ধারে গিয়েছি, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের মাঝে স্বর্ণকেশীদের ডুবে যাওয়া আর ভেসে উঠার খেলা দেখে আমার কেবলই সেই কলের জলের শব্দ কানে বাজে, বালতি থেকে মগ ভর্তি [বিস্তারিত প্রিয় স্বদেশ ( প্রতিযোগিতা )]

আনন্দে মানুষ কেন কাঁদে ?

আজ নিউইয়র্ক সিটির অত্যন্ত সম্মানজনক ৮টি স্পেশালাইজড হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে জানতাম। প্রতিবছর গড়ে ৩০ হাজার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়।মেধানুযায়ী নির্বাচিত হয় কেবল ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী। আমার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে রিয়াসাত এই পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে বিগত দিনগুলোয়। স্বাভাবিকভাবেই আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম ভালো একটি স্কুলে তাঁর সুযোগ [বিস্তারিত আনন্দে মানুষ কেন কাঁদে ?]

পাখিরাও কি ব্যস্ততায় উড়ে যায় ?

পরিবারের প্রথম সন্তান বোধ করি একটু সহজ সরল হয়। আপা এমনই এক সহজ সরল মানুষ। চাহিদা নেই। যা দেয়া হয়, তাই হাসিমুখে মেনে নেয়। কিন্তু আমার তা নয়। যা কিছু চাই, চাই-ই চাই। দুঃখী, করুন চেহারা করে, এটা সেটা বলে আব্বাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আদায় করে নিতাম সব। তবুও সেই সময়গুলোতে আমার বদ্ধমূল ধারনা ছিল জীবনভর [বিস্তারিত পাখিরাও কি ব্যস্ততায় উড়ে যায় ?]

আজ জন্মদিন আমার

সময়টা ২০০৩। জুন মাসের চমৎকার একটি দিন। আমার প্রথম সন্তান রিয়াসাত জন্মালো। তাঁর জন্মের একমাস আগ অবধি আমি জব করি। জবটি জরুরি ছিল। শরীরের ভেতর আরেকটি শরীর বহন করে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু খেয়ে রওয়ানা দিতাম কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। এরপর পথিমধ্যে বমি করতে করতে যাওয়া। ট্রেনে উঠে মনে মনে দোয়া করতে থাকি, আজ [বিস্তারিত আজ জন্মদিন আমার]

মানুষগুলা কই যায়, ক্যান যায়, ক্যান হারায় ?

রৌদ্রজ্জ্বল চমৎকার একটি দিন ছিল আজ এই শহরে। ভারি ভালোলাগার দিন হতে পারতো। হলো ভেজা দীর্ঘশ্বাসের একটি দিন। কতো কাজ পড়ে আছে ! সকাল সকাল ঘর ছেড়ে বেরোতেই বাড়ির সামনের উঠোনে বুনো ফুলের সুবাস ! ফুল ? ফেব্রুয়ারির শেষ কেবল। এসময়ে চারিপাশে কঙ্কালসার গাছ আর বিবর্ণ ঘাস ছাড়া তো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ! বাস্তবের পৃথিবীতে [বিস্তারিত মানুষগুলা কই যায়, ক্যান যায়, ক্যান হারায় ?]

নিস্তব্দতার, নৈঃশব্দ্যের আজ তেইশ বছর

পরিবারের অমতে আমরা যখন প্রেমটি আর চালিয়ে নিতে পারছিলাম না, ক্রমশ অলিখিত এক দূরত্বের দিকে হাঁটছিলাম দু’জন। আসলেই কি দূরত্বের দিকে হাঁটছিলাম ? কলেজের প্রাকটিক্যাল ক্লাসে ব্যাঙ কাটবার সময়টাতে প্রচণ্ড বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে গ্যাসটিকের ওষুধ দিয়েই ডাক্তার নিশ্চিন্ত। সে ওষুধে ব্যথা সেরেছিলো কিনা তা আজ আর মনে করতে পারছিনা। তবে বুকের [বিস্তারিত নিস্তব্দতার, নৈঃশব্দ্যের আজ তেইশ বছর]

আমি আজ বাবার কথা ভাবছি

বাবা একটি রূপোলী চেইনের ঘড়ি পরতেন, বারবার পিছিয়ে যেতো যার কাঁটা রোজ বাইরে বেরুবার আগে নব্‌খানি একপাক ঘুরিয়ে মিলিয়ে নিতেন সময় একজোড়া ক্ষয়ে যাওয়া জুতোয় কালির প্রলেপে পথ চলেছে বহুকাল তিনটে শার্ট আর দুটো প্যান্টে চলে গেছে অর্ধেক জীবন বাবার প্যান্ট-শার্টগুলো ছোট হয়ে যেতো না, ছিঁড়ে যেতো না, কিংবা মলিনও হতো না কখনোই খুব যত্নে [বিস্তারিত আমি আজ বাবার কথা ভাবছি]

আমাদের মুগ্ধতা !

রিহানের সবে দুধদাঁত পড়তে শুরু করেছে। এক চমৎকার সূর্য উঠি উঠি সকালে স্কুলে যাবার পথে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় নিয়ে বলে, “আম্মু, লুক লুক, মুন !” আমি সেদিকে তাকাই। গাঢ় নীল আসমানে আধখানা ফ্যাকাসে চাঁদ। একদিকে সূর্য উঠছে, অন্যদিকে জলছবির মতো ঘোলাটে হয়ে আসা চাঁদ। চাঁদ তো রাতের অন্ধকারে থাকবার কথা !  দিনের আলো ফোঁটার পরও [বিস্তারিত আমাদের মুগ্ধতা !]

এতো বিষাদ কি করে ধরে রাখে আকাশ ?

বছর কয়েক আগে এক বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম।  বাচ্চাটিকে মায়ের কথায় উঠবস করতে দেখে যারপরনাই ভাল লেগেছিল। উচ্ছ্বসিত হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম এতো সুবোধ হলো কি করে ? সেই ভাবী চোখে মুখে একঝাঁক হাসি ছড়িয়ে বললেন, মাইরের উপ্‌রে রাখতে হয়, বুঝলেন ? আমি বলি, দোয়া করবেন, আমার ছেলে দুইটা যেন এমন হয়। সুবোধ বালক হয়ে মায়ের কথা [বিস্তারিত এতো বিষাদ কি করে ধরে রাখে আকাশ ?]

শিক্ষা ব্যবস্থা দেশে এবং প্রবাসে

নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোয় প্যারেন্ট-টিচার কনফারেন্স হয় বছরে চারবার। সন্তানের অগ্রগতির ব্যপারে আলোচনার জন্যে শিক্ষকদের সাথে বাবা-মা’র বৈঠক এটি। যেহেতু এখানে আমাদের দেশের মত রোল নং ১,২,৩… দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মেধার মূল্যায়ন করা হয় না, বিধায় প্রতিবার বৈঠকেই ক্লাসে অন্যদের চেয়ে আমার সন্তানদের তুলনামূলক অবস্থান জানার জন্য আমাকে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হয়। যেমন, সে যদি অংকে [বিস্তারিত শিক্ষা ব্যবস্থা দেশে এবং প্রবাসে]

অতীত এক অসমাপ্ত গল্প

নিউইয়র্ক শহর এখন কোলাহল মুখর, উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত, ভীষণ ঝলমলে। হাসিহাসি মুখের মানুষগুলোর হাতে শপিং ব্যাগ।শপিং মলগুলোতে লোভনীয় মূল্যছাড়ের অফার। ক্রিসমাস গান বাজছে সবখানে। বাড়িগুলোর সামনে নানান রং এর লাইট উৎসবের জানান দিচ্ছে। জ্যাকসন হাইটস সাজিয়েছে রংবেরং এর লাইটে রাস্তার এমাথা থেকে ওমাথা। ঈদের সময়টাতে আমাদের পাড়া এমন লাইট দিয়ে সাজানো হতো রাস্তার শেষ অবধি। [বিস্তারিত অতীত এক অসমাপ্ত গল্প]