সারা পৃথিবীতে সপ্তম ভাষা হিসেবে স্থান পেয়েছে আমাদের বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা ‘বাংলা’। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের প্রাণের ভাষার একটি গৌরবজনক অধ্যায়। আমার এক ফেসবুক বন্ধু লিখেছিলেন,” পৃথিবীতে মোটামুটিভাবে মানুষের সমাজে সাত হাজার কথ্যভাষা আছে। দু’হাজারটি এমনও কথ্যভাষা রয়েছে, যেসব ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা এক হাজারেরও কম। একটা শঙ্কার কথা হচ্ছে, প্রতি চৌদ্দদিনে একটি [বিস্তারিত প্রবাসে নতুন প্রজন্মের বাংলা চর্চা – ৪]
আমেরিকায় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বসবাসের দিক দিয়ে সংখ্যায় নিউইয়র্ক নগরী সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। বাংলা ভাষাভাষীদের উদ্যোগে নিউইয়র্ক স্টেটে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েই বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে চলছে নানান কর্মসূচী। বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক স্থানে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে একাধিক সংগঠন। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরের আগে বিকেল থেকেই দেশের গান, আবৃত্তি, ছড়া, নাচ চলে বিরামহীন। সবচেয়ে আশার কথা [বিস্তারিত প্রবাসে নতুন প্রজন্মের বাংলা চর্চা — ৩]
গত বসন্তে সপরিবারে এক বন্ধুর বাসায় রাতের খাবারের নিমন্ত্রণে যাই। সেখানে আমাদের সন্তানরা কেউ কেউ যখন জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল, কেউবা গেইম খেলায় মগ্ন, ঠিক সেইসময়ে কলেজ পড়ুয়া এক বন্ধু কন্যাকে বাংলা ভাষার পত্রিকায় গভীর মনোনিবেশ করতে দেখে তার মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ও কী বাংলা পড়তে পারে ? জানালেন মেয়েটি বাংলা পড়তে এবং লিখতে পারে। [বিস্তারিত প্রবাসে নতুন প্রজন্মের বাংলা চর্চা — ২]
কিছু কিছু মৃত্যুর জন্যে মানুষ প্রস্তুত থাকে। অপেক্ষায় থাকে। জীবনের পড়ন্তবেলায় নিজের শরীরই যখন যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠে, তখন সম্ভবত বেঁচে থাকা অর্থহীন লাগে। সমস্ত জীবনের কর্ম, সঞ্চয়, অর্জন এবং প্রিয় মানুষদের ছেড়ে কে চায় অনন্তের পথে একাকি চলে যেতে ? বেদনা ভারাক্রান্ত মনে তবুও মানুষ অপেক্ষায় থাকে চলে যাবার পথের, সময়ের। আমার বাবাও এমন অপেক্ষায় [বিস্তারিত বাবা]
প্রবাসে একবার এক আত্মীয়ের বাসায় বেশ কিছুদিন থাকবার সুযোগ হয়েছিল। তখন আমি এদেশে নতুন। সেই আত্মীয়ের ৮/৯ বছরের দুটি কন্যা সন্তান ছিল। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, সেই পরিবারের বিশেষ এক অলিখিত নিয়ম ছিল প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনে কন্যাদ্বয়কে একটি করে চিঠি লিখতে হোত বাংলায়। আর চিঠিটি তারা লিখত সুদূর বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের নানুকে উদ্দেশ্য করে। [বিস্তারিত প্রবাসে নতুন প্রজন্মের বাংলা চর্চা — ১ ]
১৬৯ স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে হিলসাইড অ্যাভিনিউ ধরে বাড়ির দিকে হাঁটছে কামরুন নাহার। ক্লান্ত, অবসন্ন, ধীর পায়ে হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউর দিকে হাঁটছে। কাজ শেষে এ পথটা হেঁটে বাড়ি ফেরা বেশ ক্লান্তিকর। শ্বাস ঘন হয়ে আসে। দুপাশে প্রকাণ্ড সব গাছ। পাহাড়ের মতো উঁচু রাস্তা। তবুও ফিরতে হয়। অন্য পথে ফেরার কোনো রাস্তা নেই। রোজ এই পথ [বিস্তারিত আকাশে মেঘের ঠোঁট]
আমাদের শিশুরা যখন ছোট থাকে আমরা ভাবি, নিজেদের মাঝে আলোচনা করি, ‘ কবে যে ওরা বড় হবে!’ যেন সন্তান বড় হলেই মায়েদের স্বস্তি, অবাধ স্বাধীনতা।মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ে বেড়ানো যাবে। কেননা, সময় মত খাওয়ানো,পড়ানো, ঘুম পাড়ানো, স্কুলে পাঠানো, দিনভর এইসব দায়িত্ব দিনের পর দিন পালন করতে গিয়ে আমরা হাঁপিয়ে উঠি। সন্তানরা যখন নিজের কাজ নিজে [বিস্তারিত আপনার সন্তান যখন টিনএজার]
তখন আমি ম্যানহাঁটনের একটি চেইন স্টোরে কর্মরত। ক্রেতাদের অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গ। প্রায় সময় লক্ষ্য করলে দেখা যেতো শ্বেতাঙ্গ বাবা কিংবা মায়ের সাথে যেসব শিশুরা আসতো, ক্যাশ কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়াত মূল্য পরিশোধের উদ্দেশ্যে, তাঁরা বেশ ধীর, স্থির, শান্ত। কোন আবদার করে বসতো না। বাবা-মা’কে বিব্রত করতো না, কিংবা অস্বস্তিতে ফেলত না। কখনো কোন শিশু [বিস্তারিত জন্মসূত্রে সকল মানুষ সমান]
দুই মাসের গ্রীষ্মের ছুটিতে নিউইয়র্ক থেকে দেশে গিয়েছিলাম সপরিবারে। যাবার সময় বাথরুম এবং রান্নাঘরের পানির কল বন্ধ করেছি কিনা ভালো করে দেখে নিলাম। সব রুমের ক্লোজেট বন্ধ করলাম। লাইট, ফ্যানের সুইস বন্ধ করে বের হলাম। গাড়িতে গিয়ে বসার পর স্বামী বললেন, শেষবারের মতো আরেকবার দেখে আসি সব ঠিক আছে কিনা। তিনি দেখে এলেন। অতঃপর আমরা [বিস্তারিত বড় বেদনার মতো বেজেছ তুমি হে আমার প্রাণে]
প্রতিদিনের মতো আজও ঘড়ির অ্যালার্ম বাজতেই হুড়মুড় করে উঠে বসে সাথী। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করে উঠে কয়েক সেকেন্ড। তখনো বাইরের আকাশ ফরসা হয়ে ওঠেনি। ভোরের দিকে এমন ঘুম ভাঙানিয়া অ্যালার্মের শব্দ ভয়াবহ বিরক্তিকর মনে হয়। হৃৎস্পন্দন থেমে যাওয়ার পূর্বক্ষণের মতো প্রবলবেগে বুক ধড়ফড় করে, যেন নিভে যাওয়ার আগে প্রদীপ শিখার প্রজ্বলন। তবুও বসে থাকার জো [বিস্তারিত অভিবাসী নারী]
দেশ থেকে দুই চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে যারা নতুন বিদেশে পাড়ি জমান, তাঁদের ভাষাগত সমস্যাসহ নানাবিধ কারনে চাকুরি পাওয়া বেশ কঠিন। যদিও বেশিরভাগই অসীম মনোবলে যে কোন কাজ করতেই আগ্রহী, তবুও তাঁদের জন্যে চাকুরি যেন সোনার হরিণ। আমার এখনো মনে আছে সেইসব দিনের কথা। অভিবাসী জীবনের প্রথমদিকের কথা। আমি হন্যে হয়ে সম্ভাব্য অনেক জায়গায় চাকুরির [বিস্তারিত জীবন যখন মধুর এবং গতিময়]
এপ্রিলের হালকা শীতের স্নিগ্ধ সকাল। এ দেশে আমার প্রথম সকাল। ঘুম ভাঙ্গে কলিং বেলের কর্কশ শব্দে। এক চায়নিজ যুবক এলো বিশালাকার দুটি লণ্ড্রী ব্যাগ নিয়ে। আমরা যে আত্মীয়ের বাসায় উঠেছিলাম, সে বাসার অ্যান্টি এগিয়ে গেলো সদর দরজায়। ব্যাগ দুটি বুঝে নিলো। জানলাম ব্যাগ ভর্তি কাপড়। নির্দিষ্ট মাপের করে কাটা। সম্ভবত ১২ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি [বিস্তারিত সময় এবং নদীর স্রোত দুইই বহমান]
ছোট্ট একটি অভিজ্ঞতা। হেমন্তের এক নরম সোনালি রোদের দুপুর। নিউইয়র্কের ব্যস্ততম উড হেভেন বুলেভার্ডের প্রশস্ত সড়ক ধরে যাচ্ছিলাম। গাড়ির যাত্রীর আসনে বসা আমি। রেড লাইটে গাড়িগুলো থেমেছে সবে। সূর্যের কিরণে চোখ মেলে তাকানো যাচ্ছিল না। রোদ চশমা চোখে দিয়ে ডানে তাকাতেই পাশের গাড়ির চালকের দিকে চোখ পড়ল। তিনি একজন নারী। পাশের আসনে একজন পুরুষ, আর [বিস্তারিত জীবনযুদ্ধের অনুপ্রেরণা]
আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তাঁদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ মানে অগ্রজদের কাছ থেকে শুনে শুনে সেইসব ভয়াবহ দিনে ফিরে যাওয়া, অনুমান করে নেয়া যে, একটি দেশকে শত্রুমুক্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনার গল্পটি যতটা সহজে শুনছি, প্রেক্ষাপট ততটা সহজ ছিল না। বাবা বলতেন, সেইসময়ে শহর ছেড়ে গ্রামে কিংবা গ্রাম ছেড়ে শহরে পলায়নপর এক বিভীষিকাময় জীবন ছিল তাঁদের। এ পলায়ন [বিস্তারিত লাল-সবুজের বিজয় নিশান]
নিউইয়র্কে আসার শুরুর দিকের কথা। আত্মীয়ের বাসায় আমরা যখন ‘অহেতুক ঝামেলা’ হয়ে উঠলাম, তখন আলাদা বাসা ভাড়া নেয়াটা বেশ জরুরি হয়ে উঠে। চার/পাঁচ বাসা পরেই এক বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করে শুনেছি। সে বাসার কোন এক ভাড়াটিয়া মারফত জানতে পারি সেখানে একটি রুম ভাড়া হবে। জুনের এক রোদেলা সকালে আমরা বাড়ির মালিকের সাথে দেখা করতে যাই। [বিস্তারিত জীবন এখন অনেক সহজ]