আমাদের কখনোই আর ফেরা হয় না

গ্রাম থেকে মিনু ফুফু আসে আমাদের শহরের বাসায়। ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিবে, সেই উপলক্ষে। বাসার কাছেই পরীক্ষার কেন্দ্র। বিরতি দিয়ে দিয়ে প্রায় একমাস অবধি চলে সেইসব দিনের পরীক্ষা। রোজ সন্ধ্যায় ফুফু পড়তে বসে। কখনো কখনো মায়ের বারোহাত কাপড় গায়ে জড়িয়ে জোরে জোরে পড়া মুখস্থ করে। তখন তাঁর আশপাশ মা মা গন্ধে ভেসে যেতে থাকে। গায়ে গা [বিস্তারিত আমাদের কখনোই আর ফেরা হয় না]

সত্যের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই

স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে তুমুল কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হল দিনভর। বন্ধু হিসেবে আমাদের অনুরোধ জানানো হল নিষ্পত্তির জন্যে। সন্ধ্যার কিছু পরে যাই বাড়িটিতে। দরজা খোলেন স্ত্রী। বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। চোখ ফোলা। বুঝা যাচ্ছে, প্রচুর কান্নাকাটি করেছেন। লিভিংরুমের জিনিষপত্র তছনছ, ছড়ানো ছিটানো। শিশু দু’টি আতংকিত চেহারায় সোফার একপাশে গায়ে গা ঘেঁষে বসে। বিবাদের বিষয়বস্তু এক এক সময় এক [বিস্তারিত সত্যের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই]

কি অদ্ভুত এইসব অশ্রুজল !

খুব ছোটবেলায়, স্কুল বন্ধের সময়টাতে ঢাকায় খালার বাসায় বেড়াতে যেতাম ক’দিনের জন্যে। খালু এখানে ওখানে ঘুরতে নিয়ে যেতেন। তখন তো আর যানজট ছিল না। বেবিট্যাক্সি শাঁ শা করে ঢাকার রাজপথ দিয়ে ছুটে চলতো। বিশুদ্ধ হাওয়ায় চুলগুলো যখন উড়ত, ছোট্ট আমি তখন অবাক বিস্ময়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতাম। দেখতাম বড় বড় প্রাসাদ, পরিচ্ছন্ন রাস্তা আর পাশ দিয়ে [বিস্তারিত কি অদ্ভুত এইসব অশ্রুজল !]

ভাল থাকুক আমাদের সন্তানরা

রিয়াসাত এবং সাহান নিউইয়র্কের এলিমেন্টারি (প্রাইমারী) স্কুলে ক্লাসমেট ছিল। দু’জনার মাঝে প্রতিযোগিতা ছিল বেশ। লেখাপড়ায় সাহান এগিয়ে ছিল অনেকটাই। পরীক্ষায় নাম্বার কম পেলে রিয়াসাত মনখারাপ করে থাকতো। বাড়ি ফেরার সময় অর্ধেকটা পথ অশ্রু জলে ভাসতো। আর আমি তাঁকে বুঝাতাম, নিশ্চয়ই পরেরবার তুমি ভাল করবে, যা নাম্বার পেয়েছ, তাতে আমি অনেক খুশি…। অতঃপর আমি তাঁকে হাসির [বিস্তারিত ভাল থাকুক আমাদের সন্তানরা]

বন্ধু

শৈশব, কৈশোরের বন্ধুদের ছেড়ে এই দূরদেশে যখন আসি, এখানে কিছু বন্ধু হয়। সব তরুনের মাঝে আমি একমাত্র তরুণী। একমাত্র বিবাহিত কাপল, বিধায় আমি সকলের বন্ধু এবং ভাবী। বিদেশ বিভূঁইয়ের শুরুর দিনগুলোয় আমাদের সকলেরই গরিবী হাল। গাড়ি নেই কারোরই। কিন্তু ঘুরে বেড়ানো, আনন্দ, আড্ডা__ এসব তো আর থেমে থাকতে পারে না। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে গাড়ি ভাড়া [বিস্তারিত বন্ধু]

দ্বিতীয়জন

আমার প্রথম সন্তান রিয়াসাত জন্মালো যখন, আমাদের উচ্ছ্বাসের সীমা নেই। তাঁর ছবি তোলার জন্যে ডিজিটাল ক্যামেরা কেনা হলো। স্বাস্থ্যকর আর সুস্বাদু “বেবী ফুড” খাওয়ানো হল। বছরখানেক কেনা পানি পান করানো হল। নিউইয়র্ক এবং বাংলাদেশে একাধিকবার জমজমাট জন্মদিন পালন করা হলো। বাড়িতে গানের আসর হলো রাতভর। যাকে নিয়ে এতোসব আয়োজন, সম্ভবত সে এসবের কিছুই বুঝেনি। কেননা [বিস্তারিত দ্বিতীয়জন]

বাড়ি

২০০০ সনে এখানে ওখানে বাড়ি খুঁজতে গিয়ে শেষে এ বাড়িটি পছন্দ হয়ে যায়। শুধু সামনের সবুজ উঠোন, নানান ফুলের গাছ আর ব্যলকনিটুকু মনে ধরে যায় ভীষণভাবে। সে রাতে কামাল কাজ শেষে ফিরলে তাঁকে বলি, এটিই কিনবো, এটাই চূড়ান্ত।সে আগ্রহ নিয়ে জানতে চায়। আমি রাতভর ম্যাপ এঁকে বুঝাই ডুপ্লেক্স বাড়িটির আনাচ-কানাচ। সম্যক ধারনা দেই লিভিং রুম, [বিস্তারিত বাড়ি]

অন্যরকম ছুটির দিন

নিউইয়র্কে আমার এক ভাড়াটিয়া ছিলেন। দেশে স্ত্রী আর আমার বয়সী দু’টি কন্যা ছিল তাঁর। তিনি ম্যানহাটনে “হোমলেস শেল্টার” এ চাকুরী করতেন। সপ্তাহের পাঁচদিন কাজ, দুইদিন ছুটি। দেখা হলে, গল্প হলে, গল্পের পুরোটা জুড়েই থাকতো উনার পরিবার। বলতে বলতে খানিক আবেগপ্রবণ হয়ে উঠতেন। হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা পরিবারের জন্যে বিশুদ্ধ এক আবেগ। ছুটির দিনে আমরা [বিস্তারিত অন্যরকম ছুটির দিন]

নিউইয়র্কের একটি অংশের যাপিত জীবন

বছর চারেক আগের কথা। রুম খুঁজছিলাম এক ছোটভাইয়ের জন্যে। ব্যয়বহুল এই নিউইয়র্ক শহরে একটি বাসা ভাড়া নেবার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। তাই রুম খোঁজা। পত্রিকায় রুম ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেখে এখানে ওখানে ফোন করে অবশেষে দেখতে গেলাম। আমি আর সেই ছোটভাই ড্রয়িং রুমে অপেক্ষা করছি কখন রুম দেখাবেন গৃহকর্তা। অতঃপর যা জানলাম, যারপরনাই বিস্মিত হলাম। ছোট [বিস্তারিত নিউইয়র্কের একটি অংশের যাপিত জীবন]

পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে

প্রতি গ্রীষ্মে সমুদ্রস্নান করেছি একাধিকবার। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়েছি। বালুচরের নোনা জলে পা ভিজিয়ে হেঁটেছি বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা অবধি। সমুদ্রতীরের বড় বড় পাথরে বসে সূর্যাস্ত দেখেছি অভিভূত হয়ে। কিন্তু যেদিন সমুদ্র আবিদকে অতলে টেনে নিলো, সেদিন থেকে আমার আর সমুদ্রস্নান করা হয়না। পা ভিজিয়ে হাঁটা হয়না। সূর্যাস্ত দেখবার অপেক্ষায় বড় পাথরটির উপরে [বিস্তারিত পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে]

অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির বার্তা বয়ে আনুক ঈদ

ঈদ সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যে অসাধারন এক আনন্দের দিন। মিলনের দিন। বছর জুড়ে হাজারো ব্যস্ততা থাকলেও ঈদ সকল ব্যস্ততাকে পিছনে ঠেলে আমাদের এক হবার দিন। কিন্তু এবারের ঈদ ভিন্ন এক ঈদ। যেখানে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে ঈদ অসাধারন এক অনুভূতি নিয়ে আসবার কথা, সেখানে অশুভ শক্তির হিংস্রতা, বর্বরতা আমাদের সকল আনন্দের অনুভূতিকে বিষাদময় [বিস্তারিত অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির বার্তা বয়ে আনুক ঈদ]

পূবের আকাশে ভোরের অপেক্ষায়

সন্ধ্যার কিছু পরেই নিয়ম করে ঘুমিয়ে যাওয়া গ্রামটি ক’দিনের জন্যে নিয়মভাঙা গ্রাম হয়ে উঠত। শহর থেকে আমরা যখন গ্রামে ফিরতাম ঈদ উপলক্ষে, ঠিক তখন। আমাদের ঈদের পোশাক, গ্রামে থাকা আমাদের বু’য়ের শাড়ি, আরও অনেকের জন্যে কেনা উপহার নিয়ে ট্রেনে চেপে গ্রামে যাবার সময়টাতে অদ্ভুত এক সুখানুভূতিতে আচ্ছন্ন থাকতাম। জানালার পাশে বসে দু’পাশের সবুজ ধানক্ষেতের ঢেউ [বিস্তারিত পূবের আকাশে ভোরের অপেক্ষায়]

প্রতিনিয়ত দেখা হয়ে যায়

রমযানের দ্বিতীয় সপ্তাহের এক বিকেল। দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছি জ্যাকসন হাইটসের থার্টি সেভেন এভিনিউ ধরে গরম জিলাপী কিনবো বলে। একপাশে কিছু জটলা। মানুষজনের ছোটখাটো ভিড়। সেখানে ফুটপাতে টেবিলে তসবিহ্‌, টুপি, জায়নামাজ, হিজাব সহ ধর্মীয় বই বিক্রি করেন বয়স্ক কিছু মানুষ। তাঁদেরই একজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। অন্যরা আড়চোখে তা দেখছিলেন। খানিক ভীত সন্ত্রস্ত। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস [বিস্তারিত প্রতিনিয়ত দেখা হয়ে যায়]

“বাবা দিবস” ২০১৬

বসন্তের ফুল ঝরে গিয়ে এই শহর এখন কেবলই সবুজ। বাড়ির সামনের আঙিনায়, রাস্তার দু’ধারে যে দিকে চোখ যায় শুধুই সবুজ। স্ট্রীট, এভিনিউয়ের মোড়ে এখানে ওখানে ফুল কেনা বেচার হিরিক। শপিংমলগুলোয় “ফাদারস ডে সেল” চলছে। সেখানেও কেনাকাটার ভিড়। বিশেষ দিনটিতে নিজ নিজ বাবাকে উইশ করার প্রস্তুতিতে সবাই ব্যস্ত। ব্যস্ত শহরের মানুষগুলোর এই উচ্ছ্বাস, বিশেষ মানুষটিকে ঘিরে [বিস্তারিত “বাবা দিবস” ২০১৬]

পৃথিবীতে দুই রকম বাবা আছেন

ইন্টার পরীক্ষা শেষে বন্ধুরা পিকনিকে যাবার পরিকল্পনা করলো। আমার কঠিন হৃদয়ের বাবার অনুমতি প্রয়োজন। বাড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আম্মা বলল, “বলে লাভ নাই, তোর আব্বা রাজি হবে না। তবুও বুকে সীমাহীন সাহস সঞ্চয় করে আব্বার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আব্বা গম্ভীর স্বরে জানতে চাইলেন, কে কে যাইতাসে ? আমি একে একে নাম বললাম। তিনি বিস্ময়ে [বিস্তারিত পৃথিবীতে দুই রকম বাবা আছেন]