লুপ্ত খামের বিবৃতি

প্রিয় মৌনতা, আশা করি ভালোই আছিস। যদিও না থাকার হেতু আজও আমার চোখে পড়েনি। তবে কি জানিস, সব ভালো থাকার মাঝেও এক বিষাদ প্রদীপ জ্বলে। উজ্জ্বল! হ্যাঁ, উজ্জ্বল-ই। কারন সকল উজ্জ্বলই চোখে ধরা পড়ে না। আর তা যদি চোখ বারান্দায় ধরা পড়তো তাহলে, আমরা দুঃখকে সুখ বলতাম আর সুখকে দুঃখ। এসব কথা বাদ-ই দিই। পাঁচ [বিস্তারিত লুপ্ত খামের বিবৃতি]

ঐকান্তিক সংস্কৃতি

প্রিয় অস্ট্রিক, জানিনা কেমন আছিস? তাই ভ্রান্ত চিন্তার পরিবেশটা মধ্যরাতে শশ্মান হয়ে আছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে মানসিক ও শারীরীক অসুস্থতার কারণে আত্মগোপনে ছিলাম। কিন্তু কি আর লাভ হলো? এতে কয়েকটা হৃদয়ে ধরেছে মরিচা, কয়েকটাতে পশুজাত ব্যবহার আর কয়েকটাতে মানবতার মানসিক চিন্তার অমানবিক অভাব। তাতে আমার মোটেও বোধ নেই, চিন্তা নেই-নেই কোন পুনঃসংস্কার করার ইচ্ছে। তবে [বিস্তারিত ঐকান্তিক সংস্কৃতি]

কবি ও কবিতা

– আমি কে? : তুমি কবিতা – আর আঁপনি! : আমি তোমার জন্মদাতা- যাকে বলে কবি। – আমার জন্ম কিভাবে হলো? : কাল্পনিক সঙ্গমে। – সঙ্গম কি! : আত্মাকতৃক একে-অপরের মিলন। – মিলন কি? : অন্তরের মিল। – অন্তর কাকে বলে? : হৃদয়। – আমি কি তাহলে, আঁপনার হৃদয়ে বাসা বেঁধেছি? : একদম ঠিক। শুধু [বিস্তারিত কবি ও কবিতা]

মুখোমুখি

: মায়া – বলো প্রদীপ। : ভালোবাসার রং কি? – ভালোবাসার রং? নীল। : নীল কেন? দুঃখ দিই বলে? – মোটেই না ।নীল আকাশে চিঠি দাও বলে। : কিন্তু, চিঠির লেখা গুলোতো কালো? – তাতে কি? চিঠি তো আর অঞ্জন না? : তুমি কি অঞ্জন দিতে ভালোবাসো না? – বাসি তো। তাইতো অঞ্জন লাগিয়ে তোমায় [বিস্তারিত মুখোমুখি]

অস্ট্রিক-৪

মানসিক শীতে আসক্ত ঠাণ্ডা লাগে আত্ম পরিবেশের ঘন কুয়াশায় ভেজা দীর্ঘশ্বাস জমে যাচ্ছে ভবিষ্যতের ভূপৃষ্ঠে। ঝাপসা হচ্ছে দিন-ক্ষণ-সময় চোখের রক্ষাকবচ ইদানিং শৌণ্ড সংবেদনশীল অংশকে রক্ষা করা, আর অনিষ্ট করা-দু’টোই এক। শুধু এক না দেহ-গৃহে বাস করা; প্রাচীন পেশা শিল্পের কর্মরত হাপর উস্কে রাখছে কষ্ট-স্নান দিনের পর দিন শুদ্ধ হতে চাইলেই কি শুদ্ধ হওয়া যায়? আর [বিস্তারিত অস্ট্রিক-৪]

অস্ট্রিক-৩

সম্পর্কের টানে আছি বেঁচে এই দেহের মায়া করে লাভ কি বলো? কয়েকটা প্রহর প্রিয় মুখগুলো না দেখলেই কি নয়! আমার ভয়, আমি জীবিত মায়া হয়; বড্ড মায়া হয় শশ্মানের দিকে তাকালে আমার সুখ লাগে ভাবতে এই দেহ শুধুই দেহ বেঁচে থেকেও লাশ ঘর…

মধ্যবিত্ত

আমার সকালটা শুরু কথার ব্যথায় তা নিয়ে বের হয়ে যাওয়াটা আমার দৈনন্দিন চরিত্র হেঁটে চলি মরা গাছের বাকল বিছানো খসখসে রাস্তায়; মরে যায় আশা, হয় শুষ্ক কাঠ- আমি তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে, একবুক তৃষ্ণা মাটি চিনে না। গল্প করে না বন্ধুর জলাশয়ের সাথে, মাথার উপর শূন্যতাকে ঈশ্বর ভাবে, ডেকে বলে, দাও হে আমার বরের দেবতা- [বিস্তারিত মধ্যবিত্ত]

রুদ্র বলছি

কোথায় আমাদের গোছানো বাড়ি? কোথায় একান্ত-ই আমার তুমি নারী! বাড়িটা গিলে খেয়েছে একাকীত্বের মেঘনা নদী আর আকাশটা চুরি করেছে চুমকি গাঁথা- তোমার প্রিয় তের গজের শাড়ি।।

ঘ্রাণের বিনুনিতে অঘ্রান

যে সাপ জড়িয়ে ছিল তোমার বিনুনিতে বিষক্রিয়ায় ঘুমের মাঝে জ্বলেছিল আগুন অবাক ফাগুনে ঘাম ঝরেছিল শেষ রাতে ঘর ভর্তি হাসনাহেনা ফুলের নেশা নাট্য মুগ্ধতার প্রমাণ একমাত্র ক্ষুদ্র হৃদপিণ্ড ডানা ঝাপটানো পেঁচা বলে,শেষ এই রাতের লগ্ন ……

উপপতির গর্ব

সময় হলে এসে দেখে যেও মাদকযুক্ত বুকের ভূঁইতে অবলীলায়- বাড়ন্ত সেই বকুল ফুলের বৃক্ষটি। যা ছিলো সমাপ্তির উপহার বিশেষ। সময় হবে তো! নাকি সময় এখন ভীতিপ্রদ ব্যস্ত- পরিস্থিতির ঘরে, অনিচ্ছাকৃত সঙ্গমে! হয়তো আসবে। অপেক্ষমাণ অনির্দিষ্টকাল পৃক্ত স্মৃতির ক্যালেন্ডার দেখি- আর নিয়তাত্মায় দাগনি দিই প্রতিদিন। সে বলে এগুলো কী, ওইগুলো কী! বলি সব ভবিষ্যতের অগ্রীম চিঠি। [বিস্তারিত উপপতির গর্ব]

অস্ট্রিক-২

আমি বিগ্রহ পোড়া গন্ধ পেয়েছি দেখেছি অবাক চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টি বৃষ্টি ঝরেনি, কষ্ট দৌঁড়াচ্ছে সব পিছিয়ে পড়েছে, তবুও শূন্য জীবন। আমি মসজিদের ভাঙন দেখেছি অভ্যন্তর কাতারে ডোবা অগনিত প্রশ্ন উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না পূর্ব-পশ্চিম দিক এর মাঝেই ঘুমিয়ে পড়েছে অবুঝ শিশুটি।।

অ্যামেচার সভ্যতা

জোনাকির মত বুকের কোটরে আলো জিইয়ে রেখে জেগে থাকে দালানগুলো সমস্ত মানব জাতি অন্ধকার বিবেক নিয়ে ঘুমায় সূর্যতো সুদূর পুবে এসো, ঘুমেই না হয় কাটাই আরো কিছু কাল চাতক তৃষ্ণা নিয়ে শতাব্দী কাতরায়-কাতরাক কি আর বিভেদ বলো আঁধার বিবেক কি-বা দানবে!

অস্ট্রিক

বনের শহর নতুন না বহু পুরাতন থালা ভর্তি বিষ কিংবা অমিয় স্বাদের কথা বাদ। চেয়ে থাকি দূর থেকে দূরে, আগাছা পরা বিপরীত লিঙ্গ চেতনা ভাসে প্লাস্টিকের নদীতে মুখ আছে , ফাটা বাঁশিতে সুর নেই। কানে বাজে অনবরত খাঁখাঁ হুইসেল বাম দেয়ালে ঘড়ি ঝুলে কইতরের কিচিরমিচির অসহ্য সব। জন্ম-মৃত্যু দু’টোই সমান বেঁচে থাকাটা বড্ড বেমানান–

সুসম

বৃক্ষ রোপণ করেছিলাম পরিবেশ রক্ষা-তেঁ কিছুদিন যেতে না যেতেই ; হঠাৎ ঘটলো- ঘৃণিত সভ্যতার সমাসক্তি ধর্ষণের প্রবেশ! সে যেমনি ছিল ঠিক তেমনি আছে, প্রকৃতির কলঙ্কিত অদৃশ্য শাড়ি মুড়িয়ে। বৃক্ষটি বড্ড ভয় পায় স্থানিক ভুঁই-কে। আচ্ছা , নারী ও বৃক্ষ কী একি সম্প্রদায়ের!

আত্মগোপন

  বিরহের ইদানিং শীত লাগে তাপমাত্রা ওঠানামা করে , কারণে-অকারণে অলসতার যোগ্যতা শরীরে জাগিয়ে যেখানে-সেখানে পড়ে থাকে , প্রিয় কালো চাদর মুড়িয়ে । ভয়ে থাকে সবসময় কখন , কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে ? কেউ এসে যদি বলে , কি এমন করেছি পাপ – উপহার দিলে এতো হাহাকার ! বিবাদের দাবী রেখে কী আর লাভ বলো যেমন [বিস্তারিত আত্মগোপন]