অলীক ভাবনা (ট্রায়োলেট)

জন্ম নিয়েই ভাববি রে তুই জীবন আমার ধন্য! দেখবি না তোর হৃদ গহীনটা কিসের উপর ন্যস্ত! রয় যদি তা পাপ কালিমার রঙে হয়ে বন্য, জন্ম নিয়েই ভাববি রে তুই জীবন আমার ধন্য! মন না হলে দুঃখে কাতর একটু পরের জন্য থাকুক যতই নিত্য সুখে আপন কাজে ব্যস্ত, জন্ম নিয়েই ভাববি রে তুই জীবন আমার ধন্য! [বিস্তারিত অলীক ভাবনা (ট্রায়োলেট)]

অবজ্ঞা

বললো ডেকে ছোট্ট টুনি বলতো চাতক ভায়া, আমার চোখে জল দেখে তোর উত্থলে না কি মায়া? সবাই বলে তুই বেটা এক তুচ্ছ প্রাণী হেন, তোর মায়া ডাক মোদের বিধি শুনবে খোশে কেন? বললো চাতক মিছেই ভাবিস যখন আমি কাঁদি, কেউ বলে তা স্বর্ণ সম ব্যঙ্গে বা কেউ চাঁদি! ছবি: সোনেলা গ্যালারী থেকে।

দুঃখ আমার সাথী

দুঃখ আমায় খুব ভালোবাসে তাইতো কখনো যদি ভুলি অবহেলে, দ্বিগুনে সে ধরে বক্ষে জড়ায়ে যায় নাকো তবু ক্ষণিকের তরে ফেলে। কখনো থাকলে বসে নিরজনে জাগে যদি তাতে হারানো দিনের স্মৃতি, সাথী সেজে দুখ ধেয়ে আসে সাথে শান্তনা দিতে হয়ে বিরহের গীতি। আষাঢ়ে গগনে যেন দিবা নিশি খুশি আলাপনে মেঘ একসাথে খেলে। সুখ সুখ বলে যদি [বিস্তারিত দুঃখ আমার সাথী]

তুমি আমার

ঘন তমসায় জাগা অভাগার মনে বারিদের আড়ে উঠা এক ফালি চাঁদ, বরষায় গৃহহারা অসহায়ী রণে দুখিনীর খুঁজে পাওয়া গলা ডোবা বাঁধ। দূর পানে ছুটে চলা চপল দু’পায়ে ফিরে দেখা পথিকের আধো জাগা বেলা, অকুল পাথারে চলা ডুবু ডুবু নায়ে ব্যাকুলে নজরে পড়া নাতি দূরে ভেলা। তুমি বিনে জীবনটা বড় আশাহীণ হয়তো পাইনি বলে আপনার দেখা, [বিস্তারিত তুমি আমার]

দাও গো প্রভু!

দাও গো প্রভু চরণ তলে, ঠাঁই! তুমি আমার প্রাণের স্বামী তুমিই মালেক সাঁই। যতই করি ছল চাতুরী দম্ভে কথায় জারি জুরি তিন ভুবনে তুমি ছাড়া আর কেহ মোর নাই। না যদি পাই তোমার কৃপার দ্বার, বৃথাই যাবে মানব জনম সব খোয়ে মান সার। আমি তোমার দাস গো প্রভু পারবে কি তা সইতে তবু জ্ঞান বিনে [বিস্তারিত দাও গো প্রভু!]

জীবন যখন ডাকবাক্স

করুণ অক্ষি মেলে জৌলুস বিনে মলিন বদনে কাঁদে সকাতরে একা, বাঁধা ছিল সুসময়ে মমতার ঋণে মিলে না এখন আর সুহৃদের দেখা। সদা ছিল ভুবনটা মুখরিত গানে যেন তা ফাগুনে জাগা বাগিচার শোভা, রাত আছে বাকি তবু বিরহের তানে কেড়েছে বারিদ বুঝি ইন্দুর প্রভা। হৃদয় গৃহটা খোশে মশগুল থাকে যতদিন আশা সেথা জ্বেলে দেয় বাতি, নিরাশে [বিস্তারিত জীবন যখন ডাকবাক্স]

হৃদয়ের ছায়া

নিগূঢ় মননে দেখি অপলকে চেয়ে মায়ার বাঁধনে গড়া ভব সংসার, পরহিতে কেউ চলে অকাতরে ধেয়ে ছলে-বলে কেউ শুধু পেতে খুঁজে দ্বার। জন্মে পথের ধারে অপরের হিতে গরবে বৃক্ষ সাজে প্রকৃতির ছাতা, কতো যে ক্লান্ত শ্বাস পথিকের হরে তবু কেউ ভাঙে ডাল ছিঁড়ে কেউ পাতা। প্রতিটি ভুবনে আছে এমন রতন ঘামের প্রবাহে টানে সংসার ঘানি, না [বিস্তারিত হৃদয়ের ছায়া]

কর্মই জীবন

জীবনটা যদি হতো অতি সোজা চলনের পথ বিনে, কেউ কি কখনো স্বর্ণ বিকায়ে তামা নিতো মোহে কিনে! সয়ে সদা শত নাশকের ঘাত প্রকৃতির অবহেলা, শুধু কি তটিনী কুলু কুলু রবে প্রবাহতে করে খেলা! রাখতে সে মান চলনের মূল গড়ে তুলে তার সবুজে দু’কূল তবুও কি কেউ বসতি না পেলে রাখত হৃদয়ে ঋণে! জীবনটা যদি হতো [বিস্তারিত কর্মই জীবন]

মানের রেশ

আফসোসে কয় কলমিলতা তুচ্ছ আমার ফুল, ক্যান তবু রব করলো সৃজন বল দেখি ভাই গুল? বৃথায় কাঁদিস গুল হেসে কয় মুছ তো চোখের জল! ভাব তবু তোর মানটা কি নয় শুদ্ধ ছাদের তল? দাম যদি দেয় সত্য সাধু আমায় ভাবিস বেশ, যাই যদি বা খলের গলে রয় তাতে কি রেশ??

ছোট্ট পাখির ছোট্ট আশা

রাত দিবসে ছোট্ট পাখি জ্ঞান পিপাসে মেলে আঁখি কথায় নানান ছন্দ মাখি মনটা গড়ে আয়না, চুপটি তুলে আশার ছানি দেখতে সেথা বদনখানি চলছে একাই স্বপ্ন ভানি নিত্য করে বায়না। আলোর মশাল অগ্রে জ্বেলে সর্বে উড়ে পাখনা মেলে জীর্ণ জরা পিছন ফেলে রাখতে গহীন মান টা, সাম্য দিয়ে সকাল সাঁঝে ঐক্য গড়ে সবার মাঝে চায় যেতে [বিস্তারিত ছোট্ট পাখির ছোট্ট আশা]

পৌষের রবি

নিঝুম যামিনী শেষে আধো খোলা চোখে আড়মোড়া ভেঙে জেগে পৌষের রবি, ছড়ায়ে স্নিগ্ধ আলো মেতে উঠে রোখে এঁকে ‍দিতে প্রকৃতির মনোহরা ছবি। সবুজ শস্য ক্ষেত দেখে সেই ছটা শিশিরের দাঁতে হাসে কুহেলীর আড়ে, সোনা ঝরা চুম্বনে ডেকে করে ঘটা পাখালিরা গলা ছেড়ে গেয়ে উঠে ঝাড়ে। কত যে বদন জাগে সুহাসিনী রূপে ওমের পরশে ভুলে হিমানীর [বিস্তারিত পৌষের রবি]

তিন পাগলের খেল

তিন পাগলের খেল, কিনছে বা কেউ ঘুরছে মেলায় থাকতে জেগে বেল। এক পাগলে চশমা কিনে ভাবছে সে এক বীর, আরেক পাগল খোশ পেয়ে সে মণ্ডা মিঠাই ক্ষীর। কিনতে দু’জন ফুলের তোড়া সুযোগ বুঝেই মারছে কোড়া ভাবছে এ এক মুক্ত স্বাদের দারুণ মজার ভেল, তিন পাগলের খেল। আরেক পাগল ভাবছে বসে একলা গাছের তল, এই ভুবনে [বিস্তারিত তিন পাগলের খেল]

কিসের বড়াই

সব চলে যায় কালের পেটে কেউ করে না রাজ, মান খোয়ে জন করছে তবে কিসের বড়াই আজ! আজ যে আছে থাকবে না কাল কিংবা পরের দিন, সমন এলে পারবে কি কেউ গুনতে দু’এক তিন! ধন লোভে বেশ বাড়ছে তবু শঠ ছলনের দর, ক্যান যে এলো ধরার বুকে রাখছে না সে বর। বিজ্ঞ সেজে ভর দিনমান [বিস্তারিত কিসের বড়াই]

চঞ্চলা স্মৃতি

যায় নাকো ভোলা ক্ষণিকের স্মৃতি যদি জেগে থাকে হৃদয়ের কোণে তান, কখনও যা হাসে কখনও যা কাঁদে অক্ষি সজলে নিভৃতে গেয়ে গান। যদি চোখে পড়ে বৃক্ষ শাখায় পক্ষী যুগল মেতে আছে আলাপনে, স্মৃতির চঞ্চু কর্কশ ঘাতে ভাবাতে তখন ক্ষত করে দেয় রণে। আষাঢ়ে নীরদ যদি কভু ডাকে চঞ্চলা বায়ু পারে না ঠেকাতে বান। নীরব নিশীথে [বিস্তারিত চঞ্চলা স্মৃতি]

লোভের ফল

বাঁচাও বলে ডাকছে কেঁদে পাবদা মাছের ছা, শব্দ শুনেই বক এলো তার ঠোঁটটা করে হা। ভাবলো এ তো দারুণ সুযোগ করবে কে তা নাশ! খপাত্ করে খাই যদি বেশ মিটবে মনের আশ। রয় যদি বা ঘোর বিপদে আমার তাতে কি! ভোগের আশায় পেট লোভে মোর করছে যখন রি! গপ্ করে তাই মাছটা খেয়ে সাধছে যখন [বিস্তারিত লোভের ফল]