পাল তুলে দাও মাঝি!

পাল তুলে দাও মাঝি, তুমি পাল তুলে দাও আজি! হোক না তুফান সর্বনাশা পণটা কি নয় তাজী! পাল তুলে দাও মাঝি, তুমি পাল তুলে দাও আজি! ঝড় যদি দেয় অকুল গাঙে তীব্র রোষে সাড়া, দোষ কি তাতে বৈঠা হলে এক নিমিষেই হারা! তাই বলে আজ থাকলে বসে করবে কে পার প্রীতির জোশে, সুঁই যদি না [বিস্তারিত পাল তুলে দাও মাঝি!]

রাখছি কি মান!

বট গাছের সব কায়া, পল্লবে রোজ খোশেই গড়ে পরের তরে ছায়া। পায় তবু কি মায়া! ডাল ভাঙে কেই অকারণে সদ্য খোয়ে হায়া! ভাবছি বসে গাছের তলে বাপ থেকে মোর পাশে, ঠিক এমনই আদর দিতো নিংড়ানো বিশ্বাসে! আর আমার উচ্ছ্বাসে? গর্ব যে তার ঝর্ণা হতো চৈতি প্রখর নাশে! আজ আছে সে অনেক দূরে ফিরবে না আর [বিস্তারিত রাখছি কি মান!]

চায় কি হতে! (ট্রায়োলেট)

পায় যদি কেউ চরণ দু’টি তুষ্টিতে তোর, চায় কি মা সে ক্ষণিক সুখের রাজা হতে! বরং পারে এক নিমেষেই ভুলতে পাজর, পায় যদি কেউ চরণ দু’টি তুষ্টিতে তোর। জীবন যদি হয় যদি মা দুখের সাগর, তবু তো সে থাকবে খুশি প্রখর স্রোতে! পায় যদি কেউ চরণ দু’টি তুষ্টিতে তোর, চায় কি মা সে ক্ষণিক সুখের [বিস্তারিত চায় কি হতে! (ট্রায়োলেট)]

জীবনের কালিমা (সনেট)

দেখেও সুহাস নভঃ স্নিগ্ধ বিকেলে আঁকে না হৃদয় ছবি নেই বলে মেঘ, দিলেও আষাঢ়ে ধারা নব খুশি ঢেলে তিয়াসিনী তবু খুঁজে বেসুরো শ’ ভেক। রসালো কথনে বলে মাজা পড়া দাদু কেন প্রেমে যৌবনে খেয়েছিল ছ্যাঁকা, গহনে কালিমা নিয়ে নিশি জাগা চাঁদু করে না স্মরণে তা সে ক্ষণকালও ন্যাকা। প্রতিটি চলনে জাগে দ্বিজাতির সাড়া তাইতো প্রবাহ [বিস্তারিত জীবনের কালিমা (সনেট)]

বর্ষা রাণীর আগমনে (ট্রায়োলেট)

বর্ষা রাণী আসছে শুনে রয় কি গহীন জ্বালা, লাজ বদনী কদম কেয়া নাচছে যখন শাখে! ছিঁচকাঁদুনে মেঘ যদি বা বাজায় টিনের চালা, বর্ষা রাণী আসছে শুনে রয় কি গহীন জ্বালা! এই উঁকি দেয় ফের লুকাতে করলে অরুণ পালা, রামধনু তার মনের কথা ক্যামনে গোপন রাখে! বর্ষা রাণী আসছে শুনে রয় কি গহীন জ্বালা, লাজ বদনী [বিস্তারিত বর্ষা রাণীর আগমনে (ট্রায়োলেট)]

মানব নদীর কূল

ছোট্ট হাঁসের ছানা, টুপ করে ডুব ক্ষণিক দিয়েই খাচ্ছে তুলে দানা। বার বারে ডাক দিচ্ছে যদি বক্ষে আশা চষে, উঠছে দ্বিগুন জোশে, লাফ দিয়ে ফের মায়ের পিঠে ঘাপটি মেরে বসে। গাছের ডালে কাক ভাবে সেই দৃশ্যে উঠে দুলে, দেখেই পরাণ খুলে, ক্যান ছাড়ে না ওদের তরে হিংসা আমায় ভুলে! ভিড়ছে তবে জান তরী কি মানব [বিস্তারিত মানব নদীর কূল]

রাখতে চাইলে গড়তে হবে (ট্রায়োলেট)

জনমটা কেউ রাখতে চাইলে সর্বে, আজ বিবেক তার গড়তে হবে উচ্চে। ছোঁয় না যেন কাল তা অতি গর্বে, জনমটা কেউ রাখতে চাইলে সর্বে। থাকতে হবে মত্ত পরের পর্বে, ময়ূর যেমন তুষ্ট আপন পুচ্ছে। জনমটা কেউ রাখতে চাইলে সর্বে, আজ বিবেক তার গড়তে হবে উচ্চে। ছবি: সোনেলা গ্যালারী থেকে।

তবুও থাকতে চাই (ট্রায়োলেট)

নিয়তি নিলেও মোরে চিরতরে আঁধারের দেশে, চলনে থাকতে চাই তোমাদের পাশে তবু আমি। মননে ছড়ায়ে স্মৃতি, সুধা সুরে ভালোবাসা চেষে, নিয়তি নিলেও মোরে চিরতরে আঁধারের দেশে। জাগ্রত নিদে কাঁদে হৃদয় যে মুকুরের বেশে! তাইতো এই আশা ভাবি স্বর্গের সুখ সম দামী। নিয়তি নিলেও মোরে চিরতরে আঁধারের দেশে, চলনে থাকতে চাই তোমাদের পাশে তবু আমি। ছবি [বিস্তারিত তবুও থাকতে চাই (ট্রায়োলেট)]

ঈদের মতো খুশি

দুখের জলের ঢেউ কতোটা আঘাতে আছড়ায়ে পড়ে অসহায় বুকে দুঃখী বিনে তা বুঝে কি অন্য কেউ!! বাক হারা জননী, কাঁদছে অসুস্থ ছেলের শিয়রে বসে, শিশির দানার মতো দু’চোখে বিষাদের জল অসহায় হয়ে যেন তা চলেছে অনিবার ভাগ্যকে দোষে। বেঁচে থাকার অবলম্বন তার একমাত্র সন্তান ক’দিন আগেই নাকি বলেছিল ‘মাগো এই ঈদে কিন্তু জামা দিও মোরে [বিস্তারিত ঈদের মতো খুশি]

ঈদের খুশি (অনু)

ঈদের খুশি রয় না শুধু বসে, কারোর তরে আপন গহীন জুড়ে, সখ্য প্রীতির ভিত গড়ে সে খোশে, সাম্যে চলে হৃদ দিয়ে হৃদ ঘুরে। (পবিত্র ’ঈদুল ফিতর’ এর আগাম শুভেচ্ছা রইল সবার জন্য। ঈদের মতো জীবনের প্রতিটি ক্ষণ হোক সুখের ছোঁয়ায় আনন্দময়) ছবি : সোনেলা গ্যালারী থেকে।

যদি ভাবে! (ট্রায়োলেট)

মানুষ মানুষে সদা ভেদাভেদ গড়ে যদি তা দেখেও ভাবে বেশ আছি ভালো, জেনো সে হৃদয় গেছে চিরতরে মরে মানুষ মানুষে সদা ভেদাভেদ গড়ে। আঁধারে যদি সে কাঁদে অনুতাপী দোরে জোনাকও লুকাবে শেষে আপনার আলো, মানুষ মানুষে সদা ভেদাভেদ গড়ে যদি তা দেখেও ভাবে বেশ আছি ভালো। ছবি: সোনেলা গ্যালারী থেকে।

চোতের দুপুরে

ক্ষণ যেতো মোর চোতের খোঁজে দিন বা শেষে মাস, বুঝবে কি তা কিশোর বিনে দুষ্টুমির সেই আশ! বাপ মা কখন ভর দুপুরে একটু দিবে ঘুম, এই তো চাওয়া আম চোরাদের রোজ দিতো যা চুম। নাই বা বলি ঘুড়ির কথা গোল্লাছুটের দৌড়, গাল শুনে রোজ খেলছি তবু ধুমসে পুলিশ চোর। চুপটি খেলা চড়ুইভাতি কিংবা শাখে গান, [বিস্তারিত চোতের দুপুরে]

ঝড়ের খেলা

বিশ্বাসে বাঁধা ঘর তবু যেতে পারে নিমিষেই উড়ে তাণ্ডবে এলে ঝড়! গাছের শাখায় পক্ষী যুগল বলে হাসে আলাপনে, কে আছে নিঠুর আলাদা করবে যদি জেগে থাকি পণে! জীবনে মরণে সাথী দোঁহে মোরা একই বৃন্তের ফুল, ঠিক সেই ক্ষণে শিকারীর তির নিশানা করেনি ভুল। কচু পাতে ছিল দু’ফোটা অম্বু যেন মমতায় মাতি, একটু দোলায় বন্ধন ছিঁড়ে [বিস্তারিত ঝড়ের খেলা]

বালুকার চরে ঘর

দেখেছো কি সেই চর! যেখানে অভাগা বালুকার বুকে বিশ্বাসে বাঁধে ঘর! চৈত্র মাসের কাঠ ফাটা রোদে শীতল পরশ পেতে, ব্যাকুল প্রকৃতি মৃদু সমীরণে বারে বারে উঠে মেতে। তবুও কি কারো অকুলের পথে প্রীতি হয়ে ভাসে ভেলা! অলিরা খুশিতে গুঞ্জনে করে কাননেরই বুকে খেলা! অম্বুদ বিনে গগনের সাজ জমে না মনের মতো, তা বলে কি সেথা [বিস্তারিত বালুকার চরে ঘর]

রিক্ত জীবন

বিরান গৃহের গায়ে নাম হীনা ফুল কবে যে ফুটেছে বুঝি জানে না তা বিভু, কালের জঠরে খোয়ে জাত মান কুল দুখিনীর ঘরে জ্বলা বাতি নিভু নিভু। যন্ত্রচালিত যুগে অতি অবহেলে খড়ের চালায় গুঁজা লাঙলের ফলা, হরেক ফলের ভীড়ে রোদে রেখে ফেলে পথে বেচা অভাগীর এঁটে বিচাকলা। কখনো যায় না থেমে চলনের ধারা আপন আবহে জান [বিস্তারিত রিক্ত জীবন]