সঙ্গী

লিরিক //সঙ্গী// কতটা পথ হাঁটলে সাথে সঙ্গী তারে কয়… আমি একটা জীবন তোমার সাথেই হেঁটে যেতে চাই আমি একটা জীবন তোমার সাথেই হেঁটে যেতে চাই কতটা পথ হাঁটলে সাথে সঙ্গী তারে কয় আমি একটা জীবন তোমার সাথেই হেঁটে যেতে চাই আমি একটা জীবন তোমার সাথেই হেঁটে যেতে চাই আমার ছিলো যতো অনাগত আরো তত চাই [বিস্তারিত সঙ্গী]

বসন্ত বিলাস

যদি আরো একটি বিকেল কভু আসে জীবনে এই ঝরা পাতার মর্মর শব্দের মতো সুর তুলে- কোন চঞ্চল চপল চারুলতার বনে, আমি ছুঁয়ে দেবো তোর কোমল দুটি হাত ঐ ধূসর গোধূলির মতো করে- সেই বসন্তে; প্রেমোন্মাতাল কোন সাঁঝের বেলায় ।। যে চলন ছন্দে বিমুগ্ধ ঐ পাপিয়ার দল, শঙ্কিত ময়ূরীর প্রসারিত পুচ্ছ আজ হয়েছে বিহ্বল, লজ্জায় নত [বিস্তারিত বসন্ত বিলাস]

মালা গেঁথে রেখো

  কোন এক বাসন্তী বিকেলে – যদি দেখ কভু ডানা ঝাপটে উড়ে যায় উদ্বাস্তু গাঙচিল- তোমার শহরে, তুমি ঝরা বকুলের ছিন্ন পাপড়িতে মালা গেঁথে রেখো, আর পৌষের কাছ থেকে চেয়ে নিও এক বিন্দু শিশিরের জল আমি তৃষিত চাতক হয়ে খুঁজে নেবো প্রিয়া তোমার আঁখির কোণে জমে থাকা নিদারুণ বারিধি বাদল।। বাতায়ন খুলে যদি দেখ কভু [বিস্তারিত মালা গেঁথে রেখো]

কাপুরুষ

হ্যাঁ আমিই কাপুরুষ জান ? তোমার এই প্রলয়ঙ্করী আর্গুমেন্ট আমায় এতটুকুও বিচলিত করেনি, অথবা – মুহুর্তের জন্যও হতবাক করে নি। তুমি যখন চাইতে যেভাবে চাইতে- আমাকে তৈরি থাকতে হতো, শরীরে-মনে- মননে, আমাকে তৈরি থাকতে হতো অর্থে-বিত্তে- প্রাচুর্য্যে তুমি যখনি বলতে- এই শুনছো ? আমায় এটা কখনো বলতে সুযোগ দাওনি – হ্যাঁ বলো, শুনছি । তোমার [বিস্তারিত কাপুরুষ]

ভাবনায় মহাপ্রয়াণ

সহস্র নয়নের ভীড়ে আমি খুঁজে ফিরি ঐ দুটি চোখ যার দু’নয়ন জুড়ে আমাকে দেখার সাধ-  চির কামনায় সদা জাগ্রত; সে যে চির অপলক । কবেকার কোন সে মহা-সময়ের প্রাচীর ঘেঁষে মানব জন্ম হয়- জীর্ণতা ভরা এই পৃথিবীর আলো বাতাসে; তারপর শুরু হয় একে একে বিদায়ের পালা কখন যে কার ডাক আসে – হিসেবের খাতা খুলে [বিস্তারিত ভাবনায় মহাপ্রয়াণ]

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩)

ঊর্দ্ধশির যদি তুমি কুল মান ধনে; করিও না ঘৃণা তবু নীচশির জনে! সংসারে ছোট বড় ব্যবধান সৃষ্টিকর্তা বিধিত। আপাত দৃষ্টিতে আমরা যদিও সৃষ্টির এই বিভেদের পার্থক্য অনুধাবন করতে না পারি তবুও এই ব্যবধানের পেছনে একটা নিগুঢ় রহস্য তো অবশ্যই আছে। মানুষ সৃষ্টি রহস্যের ঠিক ততখানিই জানে যতোটা মানুষ ক্যারি করার ক্ষমতা রাখে। এর বেশি জানতে [বিস্তারিত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩)]

সোনালী এবং একটি উন্মাদ রাত

গতরাতে তোমার শরীরের গন্ধে যখন পুড়ছিলো মন আকুন্ঠ তৃষ্ণা মেটাবো বলে হৃদয় ভেঙ্গে চৌচির, উন্মাদ তরঙ্গ তব অলিখিত চুক্তি ভেঙ্গে ফিরে আসে তলপেটের গোড়ালীতে আঘাত হানে, আমি নির্বাক চেয়ে রই। কিছু স্বপ্ন মহাজাগতিক বৃত্তের কেন্দ্র বিদীর্ণ করে শুক্র-বীজ বোনে পৈশাচিক উন্মাদনায় তোমার সুঢৌল বিস্তীর্ণ বুকের জমিনে ঐকান্তিক আক্ষেপে- যেন বুনে যেতে চায় প্রজন্মের দ্বিতীয় সূতিকাগার। [বিস্তারিত সোনালী এবং একটি উন্মাদ রাত]

তুমি পুরুষ নও

মুখোশের অন্তরালে লেপ্টে থাকা যৌনক্ষুধা যদি কখনো ছিটকে বেরিয়ে আসে- তুমি বরং বেশ্যালয়ে যাও, তুমি আর যাই হও না কেন- পুরুষ তুমি তো নও ।। বিকীর্ণ রাতের জোছনা তোমার লাগবে না কভু ভালো সে পবিত্র অতি, তোমার যে চাই চোখ ধাঁধানো আলো ফুটপাত ঘেঁষে জ্বলছে দেখো কৃত্রিম নিয়ন বাতি- তুমি বরং বেশ্যার বুকে ফোলাও বুকের [বিস্তারিত তুমি পুরুষ নও]

সাইমুম ঝড়ে মুসাফির

এ প্রগাঢ় প্রায়োপবেশন অলক্ষ্যে কি করে মোর রয়- যেখানে রতি জীব্য দিব্য- মম মর্মে তুলেছে প্রলয় সংশয়ে সংকল্প না চ্যুতি- সুদীর্ঘ যামিনী টুটি মুসাফির চলেছি ছুটি- ধরনী দিয়েছে মোরে ক্ষনিক আশ্রয়।। তৃতীয় প্রহরে নিশী- সহসা বাড়িলো বেগ সাইমুম ঝড়ে বালুকা বৃষ্টি তোড়ে দিগ্বিদিক ভুলি আমি রইলাম সেথা পড়ে ঈশানে উঠেনি জেগে মায়ময়ী শুকতারা ভেনাসের-লালপেড়ে শাড়ি, [বিস্তারিত সাইমুম ঝড়ে মুসাফির]

সোনালী মৃত্যুর দ্বার

অভিসারে তব নৈমিত্তিক মরণের সুর- বিনিদ্র রাতের গহীনে ধান শালিকের মতোই আমার আনাগোনা, কখনো বা কিঞ্চিত লোলুপতা- তারপর একরাশ বৈরাগ্য- তোমার উষ্ণ আলিঙ্গন; প্রসস্থ বাহুপাশেই যেন আমার বিলাসী মরণ।। কেউ কেউ মহামরণের মহারণে ক্ষান্তি দেয়- আবার কেউ কেউ সেই ক্লান্তিতে খোঁজে উষ্ণ আলিঙ্গন, নিজেকে প্রস্তুত করে আরো একটি যুদ্ধের অনুক্রমনিকায়- আমি নিষিদ্ধ সুরায় আসক্ত হই- [বিস্তারিত সোনালী মৃত্যুর দ্বার]

প্রথম যন্ত্রণার শেষ ট্রেন

রাতের শেষ ট্রেনে সে গিয়েছে চলে- বহুদূরের পথে, পেছনের নির্জন প্ল্যাটফর্মে পড়ে আছে একটা বিষন্ন ঝিঁঝিঁ- স্টেশনের লোকারণ্যের মাঝেও যে ভীষণ রকম একা বোবা কান্নায় কেবল ভেঙ্গে চৌচির তার পাঁজরের ডায়াগ্রাম।। এখানে কষ্টের রং নীল হয়না বরং জল রংয়ের মোড়কে ঢাকা শুঁয়োপোকার গর্ভে যখন প্রিয়জনের প্রস্থান হয় সম্মোহিত কষ্টগুলো কর্তার মনের রং জড়িয়ে নেয় গায়ের [বিস্তারিত প্রথম যন্ত্রণার শেষ ট্রেন]

প্রথম মৃত্যু দ্বিতীয় জন্মের আগে

  সেই কবেকার কোন অজ্ঞাত বিহঙ্গের ডানায় ভর করে- তোমার দুয়ারে এসেছিলাম মুসাফির আমি, সেদিন মৃত্যু হয়েছিলো উদীয়মান সহস্র স্বপ্নরাজির এক তোমাতেই মিইয়ে গেলো যুগান্তরের মহাপুরুষ ।। তুমি ঘটে বেঁধে রেখেছিলে মরীচিকা মশালের বাতি- সুতীব্র দহনে তার ঝলসে গেছে পাথুরে দু-চোখ সহসা নয়ন মেলে অন্ধকারে দেখেছি কেবল – অস্তাচলে ফিনকি দিয়ে জ্বলছে মৃদু গোধূলি গোলক।। [বিস্তারিত প্রথম মৃত্যু দ্বিতীয় জন্মের আগে]

পৌষ সংক্রান্তি উৎসব- পোয়াতি পৌষ

হিমালয়ের কার্ণিশ ঘেঁষে দক্ষিণাত্যে ঝুলে থাকা জন্মভূমি মোর, নবান্নের ঘ্রাণ ফুরাতেই এখানে নেমে আসে কুহেলি সকাল- শীতের শুষ্কতায় আচ্ছন্ন আরো একবার এই অববাহিকায়- আমরা দেখেছি আরো একটি “পোয়াতি-পৌষ” ।। কোন এক কাল্পনিক মুসাফির গাজী-কালু’র হাঁক শুনে দক্ষিনাত্যের কৃষকের ঘুম ভাঙ্গে কাকডাকা ভোরে- শুরু হয় কৃষাণীর রসুই ঘরের ঝনঝন বাসনের সুরের আশীষ, সেও নাকি এ বছর [বিস্তারিত পৌষ সংক্রান্তি উৎসব- পোয়াতি পৌষ]

শশী- ২

  আজ নেই কোন ভয়; ভুলি সংশয়, মুক্ত বিহঙ্গে ধরি রূপ, ভেঙ্গে পিঞ্জর নির্জীব ঘর- আপনি রহিলা পড়িয়া চুপ, জীবনও আধার করিয়া আঁধার কত আর সহিবে-জ্বালা- চলো না হারাই সীমানা ডিঙ্গায়ে পরিয়া বিজয় মালা ।। ও ঘরে তোমার- তুমি তো ছিলে না কখনও সুখী’হে সাথী, জীবন তোমাকে দিয়েছিলো শুধু নিভু জ্বলা এক বাতি, হৃদয়হীনা’রে হৃদ-মাঝারে [বিস্তারিত শশী- ২]

শশী- ১

  অপেক্ষা সে মহা-পূর্ণতার- বিরহ বলয় টুটে মুক্তি আসুক, জোছনার ডানা মেলে নিশীথিনী চাঁদ- আমার উদোম কুলায় মাথা গুঁজে থাক ।। জোছনা বিলাসী যত বিবাগী বিহগ- বিষন্ন মায়ার জালে মুদিয়া লোচন, আঁধারে হারাক তবে পথেরও দিশা শশী মোর বাহুডোরে বাসর ও সাজাক ।।