হঠাৎ সম্বিতে

 

সাধারণ নিয়মে এই গাছটির সাথেই দেখা হয়
দুপুর বিকেল সন্ধ্যা ও রাতে,
গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত ও বসন্তে;

গা-ঘেঁসে দাঁড়াই, পাতা-ফুলদের ছুঁয়ে দেই,
না বা হ্যাঁ কখনো ও কিছুই বলেনা/বলেনি,
কিছু বলবে তাও বলেনি, বিরক্ত হচ্ছে তাও তো বুঝছি না!
নিয়ম করে কাছে আসি, কাছে দাঁড়াই;

হঠাৎ দেখি সামান্য উঁচাইয়ে সবুজে-লালে একাকার,
ধুয়ে-মুছে সাফ, জমে থাকা ধুলো-ময়লা, বাসন্তিক বৃষ্টি-ছোঁয়ায়,
সলজ্জ অ-উদাসীন উপঢৌকন! না-কী আলস্য-শৃঙ্গার!
এক দৃষ্টিতে তাকাই, তাকাই, অনুক্ষণ তাকিয়েই থাকি;
ভাবছি এবার আলাপ-প্রলাপে যাবো, অ-শব্দের স্থবিরতা ভেঙ্গে,
কী ভাবছো, কেমন আছো? জানতে চাইবো;

এই-ই আ-তীব্র-চুপ, সম্পূর্ণ নৈঃশব্দ-নিস্তব্ধতা!
সহ্য হচ্ছে-না, এই অ-নিরাভরণ শূণ্যতা!
গাছ নই, গাছেদের ভাষা-ও জানি-না;

শাহরিক বৈভব এড়িয়ে, বেদুইন মন শুধুই আনচান,
নিরুদ্দেশের বৃষ্টি-ধারাপাতে, অ-লাজুক আত্মীয়তায়;

ছবি…নিজ

মোট পড়েছেনঃ ৮০১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৬টি মন্তব্য

  1. গাছেদের ভাষা বুঝতে হলে বৃক্ষ মানব হতে হবে। গাছেদের এভাবে বিরক্ত করা ঠিক না। ওদের ও মান অভিমান আছে। ভালো থাকবেন

    1. আর চিন্তানোর কিচ্ছু নেই, আমাদের ও আছে, গাছ-ভাষাবিদ! এবার শেখানোর পালা!
      বিশেষ ধন্যবাদ এ গুণিজনকে, প্রথম হওয়ার জন্য ও।
      গাছ ভালোবাসি বলেই তো এত এত কথা, তাতেও গাছেদের রাগ!

      1. 🤣🤣🤣🤣। কখনো কখনো অতিরিক্ত কোনো কিছু কারো বিরক্তের কারণ হয় , তেমনি গাছেরাও বিরক্ত হতে পারে। ওদের ও প্রাণ আছে সর্বজনীন স্বীকৃত। ভালো থাকবেন

  2. সত্যিই শহরে হাঁপিয়ে ওঠে প্রাণ। মাঝে মাঝে বৃক্ষ, ফুল, লতা-পাতাদের সাথে আলাপ জমানো স্বাস্থ্যসম্মত। বৃষ্টিজলে ধুয়ে যায় মন।

  3. কবিতার ভাষা পরে বুঝবো, আগে গানের অর্থ খুঁজে নিই। ধুরর, ইংরেজ চলে গেছে কত আগে! তবুও ইংলিশ পিরিতি এখনো কাটাতে পারলেন না। বাংলা গানের কি স্টক নেই আপনার ডিভাইসে?

    1. আপনার গাওয়া গানের ইউটিউব লিংক তো পেলাম না,
      আপনি বিশ্ব সাহিত্যের মানুষ, ইংরেজি বাঁধ সাধে কী করে!
      সময় করে বুঝলেই হবে এ লেখা, আপনি তো ব্যস্ত-সমস্ত মানুষ।

  4. “শাহরিক বৈভব এড়িয়ে, বেদুইন মন শুধুই আনচান,
    নিরুদ্দেশের বৃষ্টি-ধারাপাতে, অ-লাজুক আত্মীয়তায়;”

    কবির মন করে আনচান
    নান্দনিক দৃশ্য খুঁজে পান।
    ভালই হলো।
    শুভ কামনা।

  5. এই-ই আ-তীব্র-চুপ, সম্পূর্ণ নৈঃশব্দ-নিস্তব্ধতা!
    সহ্য হচ্ছে-না, এই অ-নিরাভরণ শূণ্যতা!

    বেশ ভাবনাময় অনেক শুভ কামনা জানাই

  6. এই অ শব্দ কি শব্দে আসল?? তাদের সনে কি কথা হইল একটু বলুন।
    পরের পর্বে জানতে চাই ব্লগাররা গাছের সাথে কেমন জমল। বাসন্তিক বৃষ্টিতে শুধু কি প্রকৃতিই ধবল হল মানব মনের পরিবর্তন হবে না???
    ভাল থাকুন ভাই।

  7. এই-ই আ-তীব্র-চুপ, সম্পূর্ণ নৈঃশব্দ-নিস্তব্ধতা!
    সহ্য হচ্ছে-না, এই অ-নিরাভরণ শূণ্যতা!
    গাছ নই, গাছেদের ভাষা-ও জানি-না;

    শাহরিক বৈভব এড়িয়ে, বেদুইন মন শুধুই আনচান,
    নিরুদ্দেশের বৃষ্টি-ধারাপাতে, অ-লাজুক আত্মীয়তায়;

    ভালো লাগা রইলো।

    1. নিজার কাব্বানি এর একটি কবিতা থেকে

      তোমার ভালোবাসা আমাকে রূপকথার
      তলানিতেটেনে নিয়ে যায়;
      ঘুমে আর জাগরণে
      স্বপ্নে দেখি কোন এক রাজকন্যাকে
      স্বচ্ছ জলের মতো চোখ দুটো যার।

      1. যে জলে পদ্ম ফোটে, পানকৌড়ি হবো-
        জলের গভীরে তার আঁজলা ভরে রাখি
        সিঞ্চনে শুষে নেবো স্বর্গ সমুদ্দুর –
        সোনালী আমার শুধু বিমূর্ত প্রাণ পাখি
        তব অঙ্কোপরে,
        আমায় সঁপিবো প্রিয়া- মম মন প্রাণ হিয়া
        বুকের পাঁজর পাশে যত্নে দিও রাখি
        ভীষণ খেয়ালে রেখো ভিজিও না আঁখি।।

  8. মহারাজ কবিরাজ কেনো বলছেন গাছ না বা হ্যাঁ কিছুই বলে না?

    সম্পূর্ণ নৈঃশব্দ-নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে বরাবর নিঃশ্চুপ গাছটি তার রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত ক্ষতের কথা জানান দিচ্ছে রক্তিম আভা ফুলের সৌরভে।

    1. দেখুন, সব কিছু তো বলতে হয় না, না-বলাতেও থাকে
      অনেক অনেক বলা।
      লাল আভা মেলে হয়ত গাছ তার বিক্ষত হৃদয় দেখাচ্ছে বা স-লজ্জ হাসি-আনন্দ লুকিয়ে হাসছে।
      ভাল থাকবেন আপনি।

মন্তব্য করুন