জন্মদিনের শুভেচ্ছা-

এই সুন্দর ধরাধামে প্রতিটি মানুষই একটি নির্দিষ্ট দিনে জন্ম নেয়। পরিবারে কত হাসি কত সুখ নেমে আসে সেই শিশুটির জন্মদিনে তা বলাই বাহুল্য। শিশুটি ধীরে ধীরে বড় হয়, সামাজিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরিচিত হয় বিভিন্ন মাধ্যমে। পুরো প্রকৃয়াটি আমার কাছে প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় বলে মনে হয়। আর সে কারণেই পরিচিত আপন মানুষদেরকে আমি সব সময় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতাম একটা সময়।

এরপরে পরিচিতি ঘটে বিভিন্ন অনলাইন সামাজিক মাধ্যমগুলোর সাথে। ফেসবুক, ব্লগ, ট্যুইটার যারা ব্যবহার করেন এমন কিছু মানুষের সাথে গড়ে ওঠে সখ্যতা। ভার্চুয়াল জগতের মানুষদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দেখলাম বেশিরভাগ মানুষই আসলে তাদের জন্মদিন পালন করছে বছরের দু’টো। একটি ভার্চুয়াল আর একটি সত্যিকারের জন্মদিন। ভার্চুয়াল জন্মদিন হলো মনগড়া সার্টিফিকেট বয়স। এই কার্যকারণটিতেই আমার চরম খারাপলাগা তৈরি হয়। আমার নিজের জন্মদিনের ভার্চুয়াল বা সার্টিফিকেট তারিখ আর সত্যিকারে তারিখ আলাদা। একজন মানুষ আমাকে ভালবেসে, শ্রদ্ধা-সম্মান জানিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অথচ আমি স্বীকার করছিনা যে সেই তারিখটি আসল তারিখ নয়। এটি যখন বুঝতে পারলাম তখন এই খারাপলাগা থেকেই আমি আর কাউকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাইনা। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আজ তার ব্যত্যয় ঘটলো।

আজ ব্লগার আরজু মুক্তার জন্মদিন🌹

সোনেলা ব্লগে লেখার জন্য আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রথম যে মানুষটি সাড়া দিয়েছিলেন তিনি ব্লগার আরজু মুক্তা। সোনেলা পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অনেক অভিনন্দন এবং প্রাণঢালা শুভেচ্ছা রইলো।

গত ঈদুল ফিতরের দিন আমার নানা প্রচন্ড অসুস্থ হন, রক্তশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রক্তের জন্য সারা শহরে আমার পরিচিতদের জানিয়ে ফোন দিচ্ছিলাম পাগলের মতো। ফেসবুকে একটা রক্ত চাই শিরোনামে সাহায্য পোস্টও দিয়েছিলাম। সেই পোস্ট দেখে আমার কাছে প্রথম যিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ইনবক্স করেছিলেন তিনি ব্লগার আরজু মুক্তা আপু। মজার বিষয় হচ্ছে তিনি যখন আমাকে ইনবক্স করেন তখন আমার কাছ থেকে তিনি প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সেদিন ভার্চুয়াল জগত থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারে নিজের বোনের মতন আমাকে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। হয়তো কোনও একদিন দেখা হবে ভেবে ভার্চুয়ালি ধন্যবাদ জানিয়ে আপনাকে ছোট করতে চাইনি সেদিন আরজু আপু। সুযোগ পেয়ে আজ এই লেখার মাধ্যমেই মন থেকে তা জানিয়ে দিলাম।

আরজু মুক্তা অনেক ভাল লেখেন, অত্যন্ত স্পষ্টবাদী মানুষ। সোনেলার প্রতি তিনি হচ্ছেন নিবেদিতপ্রাণ। পরিবার-পরিজন এবং নিজের ব্যক্তিগত কাজের ফাঁকে সময় করে সোনেলায় অন্যান্য লেখকদের লেখাতে তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তার লেখা সিনেমা রিভিউ থেকে শুরু করে রম্য, কবিতা, গল্প এবং নিজের ভালোলাগা স্বনামধন্য লেখকদের লেখা বইয়ের রিভিউ – এসবের প্রতিটি মাধ্যমেই তিনি নিজেকে দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন সোনেলার পাঠকসমাজে। এভাবেই পাশে থাকবেন প্রিয় লেখক।

সোনেলা পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার জন্য এই লেখাটিঃ

প্রিয় লেখক, আপনি কি জানেন- অপরূপা টাঙ্গাইল শাড়ি পরিহিতা আপনি যেদিন অপেক্ষায় ছিলেন সোনেলার প্লাটফর্মে, আপনার সেই লালচে ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিয়ে আপনাকে দেখবো বলে আমরাও সেদিন ধরেছিলাম মধ্য রাতের ট্রেন? সোনেলায় আগমনের কারণ জানতে চেয়ে অকালকুষ্মাণ্ডদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েও আপনি আমাদের শুনিয়েছেন নীলাম্বরী কবিতা। কাঁশফুলের শুভ্রতায় নিজেকে সজ্জিত করে হাতে আকাশী কাঁচের চুড়ি পরে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা আপনাকে পেয়ে পাঠক হিসেবে এক অদৃশ্য মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম আমরা সেদিন। সময়ের সাতকাহনে দিন মাস বছর পেরিয়ে সোনেলা আপনাকে প্রিয় বৃষ্টি নূপুরের লেখক বলে সম্মোধন করে একটি চিঠি দিয়েছে আজ। সেই চিঠির প্রতিটি লাইনে লেখা আছে বৃষ্টি কাব্যের কথা। জানি সোনেলাকে ভালোবাসেন বলেই আপনার ভালোবাসারা অভিমানী । তবুও চিঠিটি পড়বেন জেনে আমরা সত্যিই আনন্দিত।

কখনো যেন শুনতে না হয় আপনি ভালো নেই আরজু মুক্তা। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়।

সোনেলা পরিবার আপনাকে পেয়ে গর্বিত।

মোট পড়েছেনঃ ৩,১৮৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৮৭টি মন্তব্য

    1. দাদা, কই গেলেন? চট্টগামের ট্রেন আজ আছে না নাই চলে গিয়েছে? ক্ষুধা লাগছে। আরজু আপুর বাসায় যাবো বিরিয়ানি খেতে। রেডি হন তাত্তারি। ☺☺

      1. কি করতাম কন ভাউ? পুরা নাম লেকতে গেলে ৌ কার যোগ করো, আমি ই কার যোগ করো…. ভেজাল লাগে। শর্ট করলাম ভাউ আমগো নানা বাড়ির দিকে এক সর্বহারা পাট্টির নেতার নামে নাম রাখলাম আপনের….. এখন নামকরন মিষ্টি খাওয়ান 😀😀😀😀

      2. আল্লহরে এমনিতেই দেশের পরিস্থিতি খারাপ, ধরপাকড়ের মধ্যে সর্বহারার নামে নাম!! আমার চেহারা এতই খারাপ?

        ফ্রেঞ্চফ্রাই ফেরত দেন 😭😭

    1. ধআমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য আপু। আর হ্যা আপনিও কিন্তু আমার অনেক প্রিয় একজন লেখক। আপনার কাছে একটা খাওয়া পাওনা আছে কিন্তু, স্মরণ করে দিলাম। ☺☺

  1. সোনেলা পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মানিত আরজু মুক্তাকে অভিনন্দন এবং প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। সাথে এক নদী ভালোবাসাও থাকলো।

    1. ধন্যবাদ ভাই। সোনেলায় একসাথে সবাই মিলেমিশে থাকবো এটাই কাম্য।☺☺

      আর হ্যা, আরজু আপু বিরিয়ানিরর দাওয়াত দিয়েছে, যাবেননা? তাত্তারি চলেন 😁😁

      1. এইতো দক্ষ কর্তা হইয়া গেছেন।এই না হলে কি সোনেলার সৈনিক।আসলেই একটা আড্ডার দরকার ছিলো…।। বিরিয়ানী না হয়ে পান্তা ভাত হলেও চলত কি কন আরজু আপু।

  2. জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা ব্লগার আরজু মুক্তাকে। সোনেলার নিরবিচ্ছিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে সব সময়ে থাকুন। 🌹🌹

    তৌহিদ ভাই, আপনাকেও অনেক অভিনন্দন এতো সুন্দর একটি আয়োজন রাখার জন্যে। 🌹🌹

  3. শুভ জন্মদিন ব্লগার আরজু মুক্তা।
    জন্মদিনের এই আনন্দ বজায় থাকুক সারা বছরের প্রতিটি ক্ষণ।
    সোনেলার একজন বড় শুভাকাঙ্ক্ষী ব্লগার আরজু মুক্তাকে সোনেলার পক্ষ থেকে প্রানঢালা শুভেচ্ছা।

  4. তৌহিদ ভাই, এত সুন্দর একটি পোস্টের জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
    সহ ব্লগারদের নিয়ে এমন পোস্ট নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা বৃদ্ধি করে। সোনেলা ব্লগ চায় যে এমন ধরনের শুভেচ্ছা পোস্ট ব্লগারদের মধ্যে চালু থাকুক।
    শুভ ব্লগিং।

  5. তৌহিদ ভাই, প্রথমত এটা আমার আসল জন্মদিন। আমার ছেলে ঢাকা মেডিকেলে পড়ে।অনেক সময় আমরা ভালো ব্যবহার দিয়ে মানুষের হৃদয় কেড়ে নিই।এই ছেলে তেমনি। ও দুটা ডোনার গ্রুপ চালায়, একটাতে রক্ত সংগ্রহ করে, জমা রাখে। শুধু একটা ফোন,”আব্বু এই গ্রুপের রক্ত লাগবে!” পাঁচ মিনিটেই ও জানাবে,মা, রেডি।এটা রংপুর আর ঢাকার জন্য। আর চট্টগ্রাম এ জয় দেব দাদাএ ব্যাপারে সহযোগিতা করেন। ওনাকে বললেও,”দিদি, রেডি!” আর এজন্যই আমিও পারি সহযোগিতার হাত বাড়াতে। আর আপনার জন্মদিনের শুভেচ্ছা এতো এতো ভাল হয়েছে যে, আমি বলবো আজকের জন্মদিন টা সার্থক। সার্থক এই পৃথিবীতে আসা। আমার এই ছোট জীবনে একটা বিশাল পাওয়া হচ্ছে, মানুষের ভালোবাসা! আর সেদিক থেকে, সোনেলা পরিবারকে অসংখ্য ধন্যবাদ, তাদের জন্য লিখালিখির একটা প্ল্যাটফরম পেয়েছি। কখনো আপনাদের সাথে দেখা হলে, বিরিয়ানি নিজে রান্না করপ খাওয়াবো, এটা প্রমিজ থাকলো। আপনি আমার সব লিখার শিরোনাম ধরে এতো চমৎকার চিঠি দিলেন যে, সবাই অভিভুত হয়েছে।
    সবশেষে প্রাণঢালা অভিনন্দন।
    তবে, এটা স্বীকার্য যে, রংপর অঞ্চলের মানুষ স্বভাবতই আন্তরিক। আমি সেজন্য গর্ববোধ করি।
    ভালো থাকবেন, সোনেলার সব সদস্য!

    1. আপনিও ভালো থাকবেন আপু। আমরা রংপুরের মানুষ অন্যের ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে জানি। তবে ব্যতিক্রম সব জায়গাতেই আছে!!

      ভাগিনার জন্য দোয়া আর অনেক ভালোবাসা রইলো। ভাইয়াকে সালাম জানাবেন আর ভাগ্নির জন্য প্রাণঢালা শুভেচ্ছা রইলো।

  6. বাপ্রে!! এত্ত কিছু!
    বিরিয়ানি ঠাণ্ডা হলেও খাব না, তা কিন্তু বলছি না।
    আপাতত রক্ত চাচ্ছি না, সোনেলা-প্রাণটুকুই চাচ্ছি, এমন করে।
    অবশ্যই জন্মদিনের শুভেচ্ছা, কোটি সন্তানের (লেখার) জননী হোন এই সোনেলায়, তা আন্তরিক কামনাতে-ই রাখি।

মন্তব্য করুন