অনু কাব্য//

প্রলয়ঃ-

আজ বৃষ্টি ভিজুক
বৃষ্টির ক্ষিপ্রতায়……
আজ প্রলয় আসুক
প্রলয়ের আকাঙ্খায়….
আজ ফুল ফুটুক
ফুলের অপেক্ষায়!!
তবু মেঘ ভেঙেচুড়ে বৃষ্টি নামুক
অবিরাম বৃষ্টি চাওয়ায়—।

 

মেঘঃ-

তুমি মেঘ হলে…
তাই আমি বৃষ্টি হলেম!
তুমি ছুঁয়ে গেলে বলেই
পাতার পরে শিশির হলেম।
তুমি রাত জাগো বলেই
আমি রাতের নক্ষত্র হয়ে যাই—-।

 

রোদে রাঙা একটা দিনঃ-

শেষ লাইনের শব্দেই সাজুক
রোদে রাঙা দিনের খেয়া।
আছড়ে পড়ুক পালকগুচ্ছ
সপ্তবর্না রঙ!!
সুপ্ত যত ব্যার্থতা…
থাকুক যত ক্রোধানলের দাহ–
আসুক ভরে রঙে রাঙা
একটা রোদের দিন।

 

তাই হোকঃ-

তাই হোক তবে……
এভাবেই কাটুক দেখা-অ-দেখায়,
প্রশ্ন করতে না পারা
কোনো নিশ্চুপ প্রহরের সময় গোনা!!
এভাবেই কেটে যাক দিনের পর দিন
সেই ভালো —-বেশ ভালো —আরো ভালো।

 

স্মৃতির কাগজঃ-

স্মৃতির কাগজটা ভাঁজ করতে চাই….
বক্র কিংবা ভাঁজ কোনোটাই করা যায়না
কেন?
দিবালোকের মতো কপট চোখ তুলে
অবিরত কিলবিলিয়ে হামাগুড়ি দিতে থাকে,
কেন?
মিহি সুরের তাল লয়ে খনন করে চলে পাঁজরের খানাখন্দ!
কেন?
ফের যদি ফিরে আসে স্মৃতির জোনাকি….
ফেরত পাঠাবো হলদে খামে।

 

হিংসেঃ-

হিংসে গুলো বড্ড হিংসুটে!!
চোখ পোড়ায়–পোড়ায় অতল গহন।
বোঝাপড়ার ধার ধারেনা
এমনই তার ধরন।
হিংসেগুলো আসলেই বড্ড হিংসুটে —-!

মোট পড়েছেনঃ ১,৮৬১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. এতদিন পর লেখা নিয়ে এসেছো, ভেবেছিলাম এবার তোমাকে খুব বকা দিবো। কিন্তু তুমি অণু-কবিতার ডালা নিয়ে এসে মন একদম ভালো করে দিলে !!

    কমেন্ট কিন্তু এখনো দেইনি,, 😁😁
    পরে আসছি…

    1. তোমার বকা থেকে বঞ্চিত করোনা। ইচ্ছে মতো বকা দিও।মন ভালো করতে পেরেছি জেনে আনন্দে দুইটা পান বেশি খেয়ে নিলাম একা একাই……
      এসো তবে কমেন্ট নিয়ে। অপেক্ষায় রইলাম 😊😊

    1. শুধু হিংসেটুকুই টছন্দ মনে ধরলো? আমাদের সবার মধ্যেই কোনো না কোনো ভাবে বিরাজ করে হিংসেটুকু!! মাঝে মাঝে ভুলচুক গুলো প্রকাশ্যে খোলা মনে আলোচনা করে দেবেন। আমরা আমরাই তো!! সেরে নেবো একে অন্যের ভুল গুলো। নিরন্তর শুভ কামনা জানবেন নাজমুল🌷🌷

      1. আপু ব্যক্তি অনুভূতিতে ভুল থাকে না। সবগুলো কাব্য পরিশ্রমের লেখা । যারা লেখেন তারা জানেন একটা লেখায় কতটুকু শ্রম দিতে হয় ।

        ভালো লাগলো আমরা আমরাই তো এভাবেই আলোচনা হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের লেখায় ।

        ধন্যবাদ জানবেন আপু

      2. অনুভূতিতে ভুল বা লেখকের লেখার ভাবের ভুলের বিষয় নয়।লেখালিখি যেমন কলা বা আর্ট! তেমনি লেখালিখি করার কিছু নিয়মও থাকা জরুরী বিষয়। নয়তো নিজের কাছেই একসময় মনে হয়…. ধুর এগুলো কি কোনো লেখার পর্যায়ে পরে? যদিও নিয়মের ধারেকাছের জ্ঞানও নাই আমার, প্রতিনিয়ত সবার মন্তব্যের মাধ্যমে যা শিখতে চাই।পড়াপড়ি করতে এখন আইলসামী লাগে।
        অবশ্যই একেকটা লেখা লেখকের নিজস্ব সন্তানের মতো,সন্তানের যত্নে সকলের সহযোগিতা সুফল বয়ে আনবে। ভালো থাকুন সবসময়।

  2. অণু কবিতারা এরকম ডালপালা বিস্তার ঘটালে সেখানে মহীবৃক্ষের সৃষ্টি হয়। অন্য লেখকের সাধ্য নেই সে বৃক্ষকে উপড়ে ফেলার।

    প্রত্যেকটি লাইনই অসাধারন শব্দের বুননে সমৃদ্ধ। দারুন লেখা নিয়ে এতদিন পরে এসে মন ভালো করে দিলেন আপু। ভালোবাসা জানবেন।

    1. বৃক্ষ উপড়ে ফেলতে নেই!! অক্সিজেনের উৎস। ভুললে চলবে? অন্য মহা বৃক্ষ নামক অন্য লেখকরা যখন ছোট চোট বৃক্ষকে ছায়া দ্যায় বুঝতে হবে সেখানে বিশাল চা’বাগান তৈরী হয়ে যাবে নিশ্চিন্তে!

      কি করবো ভাই, বহুত আগোছালো সময়ের হাতে বন্দী। তাই দেরী হয় লিখতে।
      আপনার/আপনাদের ভালোলাগাটুকুই অনুপ্রেরনার উৎস। শুভেচ্ছা রইলো অবিরত 🌹🌹🌹

  3. অনু কাব্য লেখা অত্যন্ত কঠিন আসলেই। কত অল্প শব্দ বিন্যাশে একটি অর্থবোধক কাব্য লিখতে হয়! যা তুমি অত্যন্ত সফল ভাবেই সম্পন্ন করেছ।
    এমন অনু কাব্য গুচ্ছের জন্য ধন্যবাদ।

    তোমার প্রায় শিরোনেমার পরেই // দাও তুমি। এর কি আবশ্যকতা আছে?
    ( ভাবতেছি, এখন হতে গঠন মুলক সমালোচনা চালু করুম 🙂

    1. কাকতালীয় ভাবে এই লেখাটার শিরোনাম দেবার সময়ই ভাবছিলাম আপনার তরফ থেকে প্রশ্নটা কবে উঠবে? শিরোনামের পাশে // এই চিন্হটা কেন ব্যাবহার করি? মন্তব্য দেখেই একা একাই হেসে ফেললাম। ধরে নিন এটা আমার সিগনেচার। এটা বাদ দেবনা আমি।
      আপনি সাধারনত সবার পোস্টেই গঠন মূলক বা বোধের অনুভূতি থেকেই মন্তব্য করে থাকেন। যা আমি লক্ষ করি। এমন করে সকলের ই অনুসরন করা উচিত। কয়েকজন বাদে অনেকেই বিষয়গুলো, নিজের পিঠ বাঁচানোর মতো করে এড়িয়ে ভালো লাগলো টাইপ মন্তব্য করেন। মূলত আমি ওইদিকটা দৃষ্টিপাত করতে চেয়েছি।
      স্রদ্ধাসহ শুভ কামনা জানবেন সবসময়।

      1. // এটি তোমার সিগনেচার! বাহ, দারুণ বুদ্ধি তো 🙂 তাহলে এভাবেই চলুক।
        সমালোচনার ভাল খারাপ দুটো দিকই আছে। খুব কম লেখকই আছেন সমালোচনা সহ্য করতে পারেন।
        সোনেলার প্রথম দিকে খুব একটিভ একজন লেখক চলে গিয়েছেন তার কবিতার একটি শব্দে একজন আপত্তি দিয়েছিলেন বলে। আবার কয়েকজন ভালো একটিভ লেখক চলে গিয়েছেন, তাঁদের লেখায় কোনো সমালোচনা নেই বলে। তারা ‘লেখা ভালো লেগেছে’ – এই ধরনের মন্তব্য পেতে পেতে হতাশ হলে সোনেলা ত্যাগ করেছে।
        ভাবছি লেখার সমালোচনা নিয়ে একটি পোষ্ট দেবো। গ্রুপে এ বিষয়ে তোমাদের কয়েকজনের আলোচনা খুবই ভালো হয়েছে। ঐ পোষ্টটি ব্লগে দিলেই ভালো হতো।

      2. আপনার এই মন্তব্যের ভেতরেই দুই শ্রেনীর লেখকের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, ১/ যারা মোটেই পছন্দ করেননা তাঁর লেখা নিয়ে কেউ ভালো ছাড়া খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কথা বলুক। ২/ যারা আসলেই চান লেখা নিয়ে যথেষ্ঠ আন্তরিকতার সাথে আলোচনা করুক। প্রথম শ্রেনীর লেখকদের প্রতি সহানুভূতি ছাড়া দেবার কিছু নেই। যে বা যারা সমালোচনা নিতেই জানেনা তাঁদের বলার আসলেই কিছু থাকেনা। দ্বিতীয় শ্রেনী আদতেই চান আলোচনা/সমালোচনাই হতে পারে লেখার মূল প্রান শক্তি।
        আপনার এ বিষয়ে পোস্টের অপেক্ষায় আছি। প্রত্যেকটি লেখায় আপনার এমন গঠন মূলক মন্তব্য একান্ত কাম্য(সবার লেখার কথা বোঝাতে চাচ্ছি)।

    1. পদ্য লিখিবার মতো যথযথ যোগ্যতার অপরিসিম ঘাটতি আছে আমার। ইহা কোনো পর্যায়ের পদ্যের অন্তর্ভুক্ত কিনা! উহা নিশ্চিত করিয়া ভাবিয়া দেখার যথেষ্ঠ অবকাশ রহিয়াছে😊তথাপি আপনার এ হেন আগোছালো কাব্য ভালো লাগিয়াছে জানিয়া আবেগে আপ্লুত হইবার অবকাশ পাইলাম😃😃

      আপনাকে ভালবাসা জানাই❤❤

    1. এটাই কি কথা হলো? এটা কি হিংসের মধ্যে পড়ে? তাহলে সেটা আগে আমার।
      ওই আফসোসটুকু আমারো আছে। ইশ্…….যদি আমি পারতাম ——-?
      তোমার জন্য শুভেচ্ছা শুভ কামনা 🌹🌹🌹🌹

মন্তব্য করুন