সামান্য একটু নিরাল আলতো শব্দ নৈশ-শীত-নির্জনতার গভীরে প্রবেশ করে ইস্পাত-চিৎকারে তীক্ষ্ণ প্রতিধ্বনি নিয়ে; প্রস্রবণ টের পাচ্ছি না তোতাদের সমবেত ধ্বনি মৃতদের আর্তনাদ বনাঞ্চলের শব্দ যজ্ঞ গনগনে আগুনে মুখ বাসের চাকায় চিড়ে চ্যাপ্টা ডাস্টবিন-শিশুর কান্না স্পর্শাতীত অশরীরীর দুরন্ত আনাগোনা স্পর্শযোগ্য শরীরী কসরত অনস্তিত্বের মত দাঁড়িয়ে ঠায় আছে; পিছলে পড়া পরিশুদ্ধ সোনা-আলো সময়ের পা-ছুঁয়ে, ফুটে উঠবেই [বিস্তারিত পরিশুদ্ধ সোনা-আলো]
এই শীত-শীতে, মেঘলা করে-করে বৃষ্টি উঁকি দিচ্ছে, এক্ষুণি নামবে বলে, না নামলেও; প্রচ্ছন্ন ভ্রুকুটিতে মজে আছে; সংক্রামক যখন একান্ত কুঁড়েমিতে, শীতের শ্বাসরোধ করে উষ্ণতায় ফেরাবে না-কী তীব্র শীতের কাঁথা মুড়িয়ে দেবে! শীতের আয়ুষ্কাল আন্দাজের চেষ্টা! ভাবনার দূর প্রতিধ্বনিতে, সোমত্ত বসন্তের প্রতিচ্ছবি। (canadian film board এর) ডকুমেন্টারি দেখতে দেখতে কপালে ভাঁজ ফেলে জন্ম নেবে কোন [বিস্তারিত শীতের শীতে]
কতটা জেনেছি, কতটুকুই-বা জানাতে পেরেছি সমুদ্রজল আর বালিয়াড়ির সীমানায়! ভেজা পায়ের ছাপ ফেলে রেখে কতটা পথ পেরিয়েছি, আকাঙ্ক্ষার কোলাহলে অপরিণামদর্শিতার মত অক্ষর গুণে গুণে, জমাট শব্দ-কথা-গাথার বুননে বুননে, আকাশকুসুমের বুদবুদে, স্মৃতির নিকানো উঠোন পেরিয়ে ঐ দূর অবধি যাওয়া হয়নি, হবে-ও -বা না। তবুও সবুজ উপত্যকায় চুপিসারে মৌমাছির শ্রম দেখে দেখে, অরণ্য আর পাহাড়ে চোখ [বিস্তারিত গাংচিলের ওড়া-উড়ি]
সর্বান্তকরণ একটু নীরব নির্জনতা চায়, শিথানে কবরস্থান রেখে, ধীর শান্ততায়, অনায়াস রুদ্ধতার অনাথ ভঙ্গি এড়িয়ে; অশ্রুহীন স্বজনেরা ছুঁড়ে ছুঁড়ে দেবে মুঠো মুঠো ঝর্ণা-ফুল, বাষ্প-রুদ্ধ হয়ে প্রার্থনা প্রার্থনায়, গ্লিসারিন-কান্না ও সাথে নেবে; আজকাল আকছার কত শত জন ই তো নিঃশব্দ হচ্ছে, নির্জন মাটির কুঠুরিতে, অনাথ শিশু থেকে পেল্লায় বিজ্ঞানী থেকে বৈমানিক, কবিরা এখন গোনার বাইরে অসম্ভব [বিস্তারিত নিমগ্ন নির্জনতা]
স্বপ্ন দেখার অভ্যাস অভ্যাসেই থেকে গেল,স্বপ্ন স্বপ্নেই, মুণ্ডুহীন একরোখা সময় নিঃসঙ্গতা পোহাবে বলে ঝাঁক বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ধীর-দানব অন্ধকারে; আমাকে ফেলে রেখে স্বপ্নেরা নিজেরা নিজেদের গাল-গল্পে মেতে গেল, শীতের অবগুণ্ঠিত আকাশের দিকে আঙুল তুলে তুলে কত কত সময় গড়িয়ে নিল; গুণে গুণে স্বপ্নেরা স্বপ্নে-স্বপ্নে দোল খায়, দোল দেয়, না ফুরানো সময়ের স্রোতে; দুঃস্বপ্নের মত [বিস্তারিত স্বপ্নেরা স্বপ্নেই ছুঁয়ে থাকে]
কিছু ইতিহাস ঘুমিয়ে আছে, এখানে, ওখানে, ঐখানে-ও, কিছু ইতিহাস হারিয়ে গেছে, কালের গভীরে, পালিয়েছে চুপিসারে, ভান-ভণিতাকে সাথী করে, আবেগি নীরবতায় কেউ কেউ; কিছু ইতিহাস শুয়ে আছে স্মৃতির সৌধে, ঘুমিয়ে আছে পরম মমতায়, আগলে রাখা শিশুর মত; শরীরী সংকেতে, শহুরে অভিমানের সংক্ষুব্ধতা নিয়ে, রাত জাগার ব্যারাম ছুঁয়ে, হাপিত্যেশের খাবি খেতে খেতে, ঘুস ঘুসে জ্বরে জ্বরে [বিস্তারিত স্মৃতির মিনার]
চায়ের টঙে পিঠে রোদ মেখে ইয়ার দোস্তদের সাথে গাল-গল্প, হাসি-ঠাট্টা-তামাশা করা যেতেই পারে, করি-ও; ঘ্রাণে ঘ্রাণে; সৈকতে সমুদ্র-মুখি হলে/হয়ে ঢেউয়ের ধমনী-ধ্বনিতে ডুবে ডুবে, ডুবিয়ে স্মৃতি মন্থন করা যেতেই পারে, করি-ও; দ্বীপের দ্বীপান্তরে বসে/যেয়ে ভাবনার পেয়ালা চুমুকে রেখে উদাস হতেই পারি, হৈই-ও; বয়ান-গুচ্ছ বুকে(বেঁধে) লুকিয়ে নতমুখে রাজপথে বা বনপথে হেঁটে যেতেই পারি, যাই- ও; একজন [বিস্তারিত শুভেচ্ছা, সোনেলা সৈকতে]
এখন এখানে (তখন-ও) চাওয়ার কিছু ছিল না, দিকচক্রবালে-ও না, পাওয়া পাওয়া গুলো উত্তাল উত্তাপ পায়নি এখন-ও তখন-ও; তবুও হৃদয় থাকে, হৃদয় আছে বলেই, সকালে সকাল আসে, সন্ধ্যায়-ও সকাল আসে, আসে দেরি করেও; নিরন্তর এই আসা আসা, যাওয়া যাওয়া, আসা-যাওয়ার ছলে, ছল করে; তবুও আমরা আসি, যাই-ও, নূতন নূতন করে আসি, যাই, আসি-ও না, যাই-ও [বিস্তারিত শীত আসে শীতে]
দেয়ালের এপাশ থেকে ওপাশ! সামান্য একটি দেয়াল মাত্র; চাইলেই টপকানো যায়, ফুঁ দিয়েও গুড়িয়ে দেয়া যায়, গনগনে আগুন! তাও জ্বেলে দেয়া যায়, পেরেক ঠুকে ঠুকে নড়নড়ে করা যায়; তারপর ও দেয়ালেই ঝুলে থাকে দেয়াল বিটকেল-দাঁতে, অভাব্য অসভ্যতায়; অবশ্য ছত্রিশ/বত্রিশ চড়ে একটা/কয়েকটা দাঁত ফেলে দেয়াই যায়; কিন্তু কিন্তু, দাঁত ফেলে বা উপড়ে দিলে/নিলে ভ্যা ভ্যা [বিস্তারিত দেয়ালের-ও দেয়াল থাকে]
তাজা কবর দেখে থমকে যেয়ে কাছে ঘেঁসে দাঁড়াই, দেখি, লবণ-চোখ-স্বজনেরা ছুঁড়ে দিচ্ছে মুঠো মুঠো মাটি, কান্না উগড়ে, চেপে রেখেও; অশ্রুহীন আমি! ভাবি————- রোজ ই তো কত কত কত্তজন হারিয়ে যাচ্ছে মৃত্যু-নিয়ম মেনে, অনাথ শিশু আর অকাল বৈধব্যরা ও সংখ্যা বাড়াচ্ছে; ঘাটের মরারা ও বেহদ টিকে যাচ্ছে বেপরোয়া ব্যারাম কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের তুড়ি মেড়ে, বিরহ কাতরতার [বিস্তারিত স্বগতোক্তির বীণ]
কালের যাত্রা পথে জীবনের প্রতিটি পাতা প্রতিটি ক্ষণ অপূর্ণতায় ঠাসা, অপুণ্যতে-ও; রূপকের মত অন্ধকার নেমে আসে ক্ষণে ক্ষণে ক্বচিৎ/কদাচিৎ আলোর ঝলকানি-ও, কলহ আর ভালোবাসার স্পর্শ-চিহ্ন কোথাও খুঁজে পাই না, অন্ধকারের শতাব্দীগুলো ভেসে আসে সারি বাঁধা দলবদ্ধতায় অপ্রীতিতের যন্ত্রণা নিয়ে। প্রহর-জাগা শূন্যতার ডাক যখন ত্রিরাত্রির সঙ্গী চুঁইয়ে পড়া নিদ্রাহীনতা চিক চিক করে জেগে থাকে, সবুজ [বিস্তারিত চাই একটু আলো]
কুয়াশা ভেজা হৃদয়ে ভাবনারা ভেসে আসে অতীত থেকে বর্তমান ছুঁয়ে, ঐ দূর অবধি; ছুঁয়ে যায়, ছুঁতে চায়, না-ছোঁয়া দূরত্বটুকু; তবুও দূরত্ব দূরত্বেই থেকে যায় আড়-চোখে তাকানো বরাবরের মত; এটাই নিয়ম, এটাই হয়ত নিয়তি, থাকা না-থাকার জটিল আবর্তে; পাপ পুণ্যের প্রান্ত সীমায় নেই কোন সুগন্ধ-অতীত, শুধুই অসীম অখণ্ড নীরব- লেখাজোখা, অনিন্দ্য সুখ-পাঠ বিচ্যুতির মত ঠায় [বিস্তারিত শুধুই কুয়াশা]
কোন কিংবদন্তি ছুটে আসে-না, আসে-নি, ধন্বন্তরি উপশম হাতে, উদ্বিগ্নতায় চোখ ঢেলে বিমূর্ত আলোকবর্ষে; অধরা যখন সুখচক্রের পাখ-পাখালি, নিষিদ্ধ গল্পের মত; বিলাসী নদীতীরেরা ক্রমাগত ভেসে যাচ্ছে মতিচ্ছন্ন রাজনীতি মেনে, পরবাসী ভোর দূরে থেকে-ই দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে কিছু না-লিখে রেখেই; বাসা-বদল করা অনিদ্রারা শুধুই ব্যক্তিগত নাটক রচনার পটভূমি খুঁজতে থাকে, ক্রমাগত; সবুজ সকালের শিশির-গন্ধে, থেকে যায় [বিস্তারিত নদীতীর ভেসে যায়]
পৃথিবীর আয়ুরেখা চিনি-নি/চিনি-না, দেখি-ও-নি শেষের ঠিকানা, তবুও একটু একটু ঝরে যাচ্ছে শিশির কণা ঘাসের পরতে পরতে, লুকিয়ে সময়ের ডানা; ভেবেছিলাম পাখি হয়ে উড়ে যাবো নীলাকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে, টুপ করে নীল-ভেদে উড়ে উড়ে মিলিয়ে যাবো শূন্যতার মহাশূন্যে ; যাচ্ছি যাচ্ছিতো, টের ও পাচ্ছি দিনান্তে, রাতের শেষ প্রান্তে; এমনি করে একদিন ঠিক ই পৌঁছে যাবো নিজ [বিস্তারিত মুখস্থ সংলাপ]
ছুঁয়ে থাকা, ছুঁতে থাকা মৃদুমন্দ ভালাবাসাবাসির স্মৃতিগুলো ছুঁয়েছে/ছুঁয়েছি কী-না ঠিক-ঠাক বুঝতে-ও পারি-না, পারি-নি, বারংবার বিস্মিত বিপন্ন আবিষ্কারের জাল ফেলে, জাল তুলে যাপিতের ঘন যাপন শুধুই নির্বিষ চোখে রেখে, চোখ তুলে দেখতে থাকে, অতীত থেকে বর্তমানের এ-কুল অব্ধি; নিঃশেষের পেয়ালায় স্বাস্থ্য-সুখ কামনা করা ছাড়া আর কী-ই-বা করার থাকে; আজ অথবা আগামীর কিছু বৃন্তচ্যুত পাপড়ি বিকল্পের [বিস্তারিত আধ-আঁকা ছাপ-ছবি]