চেনা মানুষজন, চেনা গণ্ডী, চেনা শহর ছেড়ে মানচিত্রের উল্টো দিকের এই শহরে শুরু হয় দ্বিতীয় জীবন। বড় বেশী যান্ত্রিক, সংগ্রাময় আর শূন্য শূন্য চারিপাশের এক জীবন। পাঁচ বছর বাদে ফিরে যাই চিরচেনা মানুষদের কাছে। বাড়ীর গেটে অধীর অপেক্ষায় বাবা। পাঁচ বছর তো নয়, যেন পাঁচ যুগ পর পিতা-কন্যার মিলন ! চিরকাল ক্লিনসেভ থাকা, প্যান্টশার্ট পরা, [বিস্তারিত ক্ষমা করো পিতা]
শহর থেকে গ্রামে গেলে সবাই যখন গাছের ডাব খাওয়া, চালতার আচার, কাঁচা আম বানানি খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকে, কোন এক অদৃশ্য টানে, অলিখিত নিয়মে সকলের অগোচরে পাশের গ্রামে যাই প্রতিবারই। যে গ্রামটি আজও গহীন গ্রাম হয়ে নুয়ে আছে। হারিকেন, কুপির আলোয় যাদের সন্ধ্যা হয়, রাত নামে। সেখানে আমি যাই রহিমা বু’র কাছে। বেড়ার ঘরে [বিস্তারিত বাতাসে ওড়ে দীর্ঘ দীর্ঘ শ্বাস]
ভাবছি লিখবো, সেই অভিমানী মেয়েটির গল্প যে আর ফিরেনি কোনদিন, এ বিচ্ছেদ পাওনা ছিল বলে লোকমুখে শুনা যায়, সে ফিরে___ প্রতি অমাবস্যায় বিষণ্ণতার চাদরে ঢেকে ঝড়ো বৃষ্টির দিনে রিমঝিম ক্রন্দন হয়ে ঘন অন্ধকারে অন্ধ আর্তনাদে অহেতুক কড়া নাড়ে প্রিয়জনের দ্বারে ।
সুযোগ পেলেই টুপ করে ঢুকে যাই লাইব্রেরীতে। যখন যেটি সামনে পাই। কখনো জংশন ব্লুবার্ডের লাইব্রেরীতে, কখনো ফ্লাশিং মেইন ষ্ট্রীট এর লাইব্রেরীতে। বিশাল লাইব্রেরীগুলোতে ইংরেজির পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের, ভাষার বইও পাওয়া যায়। ফরেইন বুকস সেকশনে গিয়ে কিছু খুঁজে বেড়াই মনের অজান্তেই। চোখে পরে__ স্প্যানিশ… চায়নিজ… । হটাৎ চোখ জোড়া আনন্দে চিক্চিক করে উঠে। বাংলা ! [বিস্তারিত আমার একটি দেশ আছে]
রুনু আপা স্বামী সহ এদেশে এসেছেন ওপি ওয়ান লটারি পেয়ে। বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে তখনো শিক্ষার আলো ছড়ায়নি__ তেমন পরিবেশ থেকে আসা তাদের। দু’জনেই কঠোর পরিশ্রমী। বিধায়, জব পেতে… টিকিয়ে রাখতে… ভাষা রপ্ত করতে কোন সমস্যা হয়নি। দু’জনেই দু’টি করে জব করেন। সকালে বের হন, ফিরেন রাতে। আমরা অনেকগুলো দিন পাশাপাশি বাসায় থেকেছি। সুখ-দুঃখ [বিস্তারিত পাওয়া-না পাওয়া]
সেবার দেশ থেকে ফিরবার সময় পরিচিত একজন তার প্রবাসী স্বামী’র জন্যে কিছু দিতে চাইলেন। আমার সমস্যা হয় কিনা ভেবে সংকোচে প্যাকেটটি দিলেন। তাকে আশ্বাস দিলাম জিনিষগুলো তার স্বামী’র হাতে পৌঁছে দিবো বলে। যথাসময়ে আমি ফিরি। ভদ্রলোককে ফোন করি। তিনি সেইদিনই সন্ধ্যায় এসে হাজির। টুকটাক কথা হয়। দেশে রেখে আসা ছোট্ট মেয়ে দু’টিকে খুব মিস্ করেন। [বিস্তারিত অতৃপ্ত আত্মা]
বাই দ্যা ওয়ে, তোকে কি বলেছি কখনো আমার সুগন্ধীর শিশিটায় আজকাল কেবলই শূন্যতা, হাহাকার ? সেই অবিরাম উন্মাদনা, ঘনঘন শ্বাস সবই নিঃসাড় নিঃসঙ্গ আজ। তোকে তো বলিনি, ইদানিং সাদা বিছানায় ব্যথাহীন সহজতর মৃত্যু কামনায় যন্ত্রগুলোর সীমাহীন প্রচেষ্টা । অসুধের ঘ্রানে ডুবে থাকি দিবা-নিশি অসুধের শিশিটায় কেবলই সুগন্ধী খুঁজি। তোকে কিন্তু বলেই রাখি শেষ কথাটি আসবি [বিস্তারিত শেষ সুগন্ধি]
সেই দিন সকাল থেকেই আকাশে খণ্ডখণ্ড মেঘ জমেছিলো। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ গোটা দিন পৃথিবীকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রাখলো। সন্ধ্যার কিছু আগে টিপটিপ করে যে বৃষ্টি শুরু হলো, তা রাত বাড়ার সাথে সাথে মুষলধারে তীব্র বাতাস সহ বইতে শুরু করলো। এরই মাঝে ছেলেটি বাসা থেকে বের হলো। স্ত্রী’র সাথে দেখা করে সে ফিরে যাচ্ছিলো মা’য়ের বাসায়। পথিমধ্যে কিছু [বিস্তারিত মৃত্যুফাঁদ ম্যানহোল]
মা’য়ের মৃত্যুর পর আমাদের সেই বাড়ীটিতে যাই, যেখানে একদা সুখী একটি পরিবার ছিল। সময় গড়িয়েছে। এখন সেটি একটি গল্প বই আর কিছু না ! মা’য়ের আলমিরা খুলি। সেখানে থরে থরে সৌখিন শাড়িগুলো সহ অন্যসব সাজানো। মা’য়ের নিজ হাতে গুছানো জিনিষপত্র তখনো নড়চড় হয়নি। স্মৃতিস্বরূপ সেখান থেকে একটি সাদা নকশীকাঁথা নেই, যা তিনি নিজের ব্যাবহারের জন্যে [বিস্তারিত উষ্ণতা]
লিসাকে আমি কথা দিয়েছিলাম তাকে নিয়ে লিখবো। এক শব্দহীন, কোলাহলহীন দুপুরে আমরা দু’জন। একজন বলছে… অন্যজন শুনছে। সুনসান নীরব দুপুরে পৃথিবীর সমস্ত মনোযোগ যেন একযোগে সেই মুহূর্তে কথক মেয়েটির দিকে… আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর মতই জন্ম লিসার। বাবা’র সীমাহীন আদর আহ্ললাদে বেড়ে উঠা। শিশুকালের একটি অসুস্থতায় তার জীবনটা ঘুরে যায় অন্যস্রোতে। জীবন তার স্বাভাবিক গতি [বিস্তারিত নীরব ক্ষত]
নয়’য়ের দশকের শেষের দিকে আঙ্কেল এর সাথে আমার পরিচয়। তিনি এদেশে এসেছেন অনেক আগে তরুন বয়সে, সুন্দর জীবনের অন্বেষণে। দেশে স্ত্রী আর ফুটফুটে দু’টি জমজ কন্যা। ” একটু গুছিয়েই দেশে ফিরে যাবো”__ করতে করতেই অনেকগুলো বছর হারায় জীবন থেকে। কন্যাদ্বয় বড় হতে থাকে… খরচ বাড়তে থাকে… বাড়তে থাকে পিতার দায়িত্বও। কাগজ-পত্র নেই, বিধায় ভাল জবও [বিস্তারিত সুখের অন্বেষণে]
আমি ভীষণ রকম উৎফুল্ল চিত্তে অপেক্ষা করছি। মা অফিস থেকে এসে আমাদের তিন ভাই-বোনকে নিয়ে স্টুডিওতে যাবেন ছবি তুলতে। কতো আয়োজন ! আমরা রেডি হয়ে থাকলাম। কিন্তু আমাকে দেখেই রেগে গেলো মা। মাথা ভর্তি তেল দিয়ে লেপ্টে চুল আঁচড়ে প্রতীক্ষায় থাকার নাম যে রেডি হওয়া নয়, তা কে জানতো ! কেউ কি কখনো আমায় বলেছে, [বিস্তারিত সেই সব দিনে]
প্রথম এদেশে এসে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায় উঠি অস্থায়ীভাবে। বাড়তি রুম না থাকায় আমি ঘুমাই ড্রয়িং রুমের ফ্লোরে, সবাই ঘুমিয়ে গেলে। আবার সবাই উঠবার আগেই উঠে পড়ি বিছানা পত্র গুছিয়ে, যাতে পরিবারটির কোন সমস্যা না হয় কিংবা আমায় অনাবশ্যক ঝামেলা মনে না করে। কিন্তু মাঝে মধ্যেই এর ব্যতিক্রম হয়ে যেতো। অনেক রাত অবধি গৃহকত্রী’র [বিস্তারিত আমি যে আমারেই খুঁজি…]
আমার অনুমান যদি ভুল না হয়, রাহেলা আপুর বয়স পঞ্চাশ প্লাস। অবিবাহিতা। স্বভাবগত কারনে নিজ থেকে কারো একান্ত বিষয়গুলো জানতে চাই না কখনো আমি। কর্মসুত্রে পরিচিত আপুটার সাথে আমার সখ্যতা বেশ। অমায়িক ব্যাবহার আর নিজস্ব এক ক্ষমতায় সবাইকে কেমন যেন মোহাচ্ছন্ন করে রাখতো। তিনি যখন কথা বলেন, আমি তার মুগ্ধ শ্রোতা। লাঞ্চ ব্রেকে একদিন বললেন [বিস্তারিত অসুন্দরের গল্প]
শীতের একচিলতে নরম রোদ্দুর সবুজ ঘাসে মুক্তোদানা শিশির বকুল ছড়ানো একটি মেঠো পথ অনেক কালের চাওয়া আমার দেবে ? ঘন বর্ষণের পর মেঘমুক্ত আকাশ জোনাক জ্বলা নিঃসঙ্গ রাতের আঁধার আর, একটু নিরিবিলি থাকার অধিকার শত সহস্র বছরের চাওয়া আমার দেবে ?