অবশেষে একাকী নৈঃশব্দ্যের পথে হাঁটি

বাড়ীটির সামনে ক’দিন ধরেই “For Sale” সাইনবোর্ড ঝুলছে। মারিয়া আর জেসন বাড়ীটির মালিক। বয়স ৮০/৯০ হবে। ওদের ড্রাইভওয়েতে গাছের ছায়ায় গাড়ীটি পার্ক করে প্রতিদিন স্কুল ছুটির সময়টাতে ছেলের জন্য অপেক্ষা করি… গান শুনি… ওদের দেখি। ওরা বাড়ীর সামনে টবে লাগানো গাছের পরিচর্যা করে… রাস্তার কিনারের বিশাল গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা পরিষ্কার করে… কখনো একজন [বিস্তারিত অবশেষে একাকী নৈঃশব্দ্যের পথে হাঁটি]

স্মৃতিতে যে বাইশে থেমে আছে আজও

খুব সন্তর্পণে যে চলে গেলো সে আর ফিরেনি কখনোই অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘতর হয়েছে কতো গোধূলি রাত্রিতে নেমেছে কতো ভোর গড়িয়েছে দুপুরে তবু, সে আর ফিরেনি কখনোই । একাকী কোন বিষণ্ণ বিকেলে এখন আর ভাবিনা তাকে নিঃসঙ্গ পাহাড়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময়, কিংবা নীলাকাশ পানে চেয়ে সন্ধ্যাযাপন কালে এখন আর ভাবিনা তাকে । কালের বিবর্তনে [বিস্তারিত স্মৃতিতে যে বাইশে থেমে আছে আজও]

মা’য়ের চিঠি

অনেক আগে, এদেশের প্রথম দিকের সময়গুলোতে ফোনে দেশে কথা বলা বেশ ব্যয়বহুল ছিল। ফোন বুথে টাকা জমা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা… অস্পষ্ট কথা… একটু পরপর লাইন কেটে যাওয়া__ এমন নানান বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে যেতে হত। তবুও সারা সপ্তাহের আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ, প্রতীক্ষা সবই যেন সপ্তাহ শেষের ছুটির দিনকে ঘিরে। যদিও, হ্যালো… শুনা যাচ্ছেনা… লাইনে শোঁশোঁ [বিস্তারিত মা’য়ের চিঠি]

মা-বাবা’র জন্যে অন্তহীন ভালোবাসা

অনাগত সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর স্বপ্নে বিভোর প্রতিটি মা-ই জানেন যে, জন্মদানের মুহূর্তে তার নিজের জীবন প্রদীপটুকু নিভে যাবার সম্ভাবনাও শতভাগ। তবুও কি তার স্বপ্ন দেখা থেমে থাকে ! সন্তানের মুখখানা দেখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মাঝেও যেন সুখ ! …অতঃপর জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত মায়েদের ত্যাগের কথা আর না-ই বলি… নীরবে, নিঃশব্দে, নিভৃতে একজন বাবা [বিস্তারিত মা-বাবা’র জন্যে অন্তহীন ভালোবাসা]

মেয়েটি

৬/৭ বছরের মেয়েটি বাড়িটিতে কাজ করে। কাজ বলতে ছোট খাটো ফরমায়েশ। বাকিটা সময় আমার ৪ বছরের ছেলের সঙ্গে খেলাধুলা করে… ইয়েস, নো, গুড টাইপের কথাবার্তা বলে কাটে। কিন্তু সমস্যা হলো__ আমি যখন আমার ছেলে ২ টাকে গা ঘষে ঘষে গোসল করিয়ে দেই, লোশণ দিয়ে দেই, খাইয়ে দেই তখন সে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। ভীষণ বিরক্ত [বিস্তারিত মেয়েটি]

যে গল্পের শুরু আছে, শেষ নেই

অল্প বয়সী ছেলেটি ডিভি লটারি পেয়ে আমেরিকা আসে। দূর সম্পর্কের আত্মীয়, বিধায় আমার বাসায় উঠে। খুব ভোরে উঠে কাজে যায়, ক’দিন আগেও মায়ের গভীর আদরের গণ্ডীর ভেতরে থাকা ছেলেটি। কাজ থেকে ফিরে ঘুমিয়ে পরে আমার ড্রইং রুমের সোফায়। রাত গভীরে তার গোঙানির শব্দ ভেসে আসে ! হঠাৎ হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে প্রচণ্ড জ্বর আর ব্যথার গোঙানি ! [বিস্তারিত যে গল্পের শুরু আছে, শেষ নেই]

বলতে পারো ?

সেই বিষণ্ণ বিভীষিকাময় রাতটি অবশেষে কেমন করে ভোর হলো কোনদিন খবর লওনি আজ, এতোগুলো বছর বাদে আসন্ন সন্ধ্যায় প্রকৃতির পট বদলের সময়টাতে আচমকা যখন দেখা হয়ে গেলো ছাদে বললে, আজো নাকি তুমি হওনি কারো তবে আমার কেন হলেনা সেদিন, বলতে পারো ?

অনাকাঙ্খিত স্পর্শ এবং একটি সুন্দর দিনের অপমৃত্যু

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেনাকাটা এবং খাওয়া-দাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বসুন্ধরায় গিয়েছিলো পরিবারটি। কিন্তু বিধিবাম ! ঢুকার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে টিনএজ কন্যাটির কোমরে অনাকাঙ্খিত স্পর্শ তাদের সেই আনন্দ নষ্ট করে দেয়। কন্যাটি ক্রোধে-ঘৃণায় প্রতিবাদী হয়ে উঠে। উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা অসহায় বাবা মান-সন্মানের কথা ভেবে মেয়েকে শান্ত করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়  শিক্ষায় শিক্ষিত মা মেয়েকেই দোষারোপ করেন [বিস্তারিত অনাকাঙ্খিত স্পর্শ এবং একটি সুন্দর দিনের অপমৃত্যু]

এই শহরে…

ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ততম সময়ে বাসটি থামলো। পাটাতন আস্তে আস্তে নিচে নেমে রাস্তার সাথে মিশে গেলো। ড্রাইভারের সহযোগিতায় হুইলচেয়ারধারিণী উঠলো। সামনের ডিজঅ্যাবল সিটে বসা মানুষগুলো উঠে দাঁড়ালো। বাসটি আবারো চলতে শুরু করলো পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কারো মুখে সামান্যতম বিরক্তির ছোঁয়া নেই। আজ বাড়ী ফিরবার সময় দেখা দৃশ্য এটি। পৃথিবীর সুন্দরতম দৃশ্য ! শারীরিক প্রতিবন্ধী___ তাতে কি [বিস্তারিত এই শহরে…]

মিরাকল

দেশ থেকে আসা অতিথিদের সাথে রাতের খাবারের সময় সিদ্ধান্ত হলো, ভোরেই বের হয়ে যাবো। গন্তব্য “টুইন টাওয়ার”। আগেও গিয়েছি বেশ ক’বার। অনেক রাত অবধি গল্প করে, খুব ভোরে আর উঠা হয়নি। যখন ঘুম ভাঙলো, আমরা বাকরুদ্ধ। একটি টাওয়ার ধুলোয় মিশে গেলো ! হতভম্ব আমরা টিভি’র দিকে তাকিয়ে আছি সবাই। চোখের সামনে দ্বিতীয় টাওয়ারটিও মুহূর্তের মধ্যে [বিস্তারিত মিরাকল]

পথ চেয়ে

প্রচণ্ড তুষারপাতের দিনটিতে___ কন্‌কনে শীতের কাঁপুনি নিয়ে ক্লান্তিহীন অপলক চেয়েছিলাম তার আসবার পথটিতে । শুভ্র তুষারের চাদরে জড়িয়ে ফিরলাম, নিরাশ হয়েই ! অঝোর বর্ষণের দিনটিতে___ ভেজা চুলে কৃষ্ণচূড়ার নীচে একাকি নির্বাক দাঁড়িয়েছিলাম তার আসবার পথ চেয়ে । তীব্র কাঁপুনির জ্বরকে সঙ্গী করে ফিরলাম, আশাহত হয়েই ! গ্রীষ্মের খররৌদ্রের দিনটিতে___ পুড়ে যাওয়া শরীর ঘামে নেয়ে তৃষ্ণার্ত [বিস্তারিত পথ চেয়ে]

আর কতোকাল…

২০০৮ এ যেবার শেষবারের মতো দেখা, সেবার বাবা জোর করে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিলেন__ প্রতিরাতে এক মিনিটের জন্য হলেও ফোন করি যেনো। কতো ছোট্ট আকুলতা, চাওয়া ছিলো আমার বাবার_!! এদেশে ফিরে ব্যস্ততা, সংসার,বাস্তবতায় প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে রইলাম। আমার বাবার রাত যে আমার দিন__!! হন্তদন্ত হয়ে ছেলেকে স্কুল থেকে পিকআপ করা, গোসল করানো, লাঞ্চ করানো__ [বিস্তারিত আর কতোকাল…]

বিশ্বাস করো

সেদিনও___ পিচ ঢালা কালো পথে ছিল লাল পাপড়ি বিছানো দু’ধারে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া মৌনতায় দাঁড়ানো বিশ্বাস করো, এটা শেষরাতের স্বপ্ন নয়, সত্যি দিবা-রাত্রি, চন্দ্র-সূর্য, জীবন-মৃত্যুর মতই সত্যি। অতঃপর___ সময়ে সামনে এলো পথে পথে কাঁটা বিছানো জীবন নিদারুন সংগ্রামে টিকে থাকার বাস্তবতা কঠিন, ভীষণ বিশ্বাস করো, আগামীর পথে হেঁটে যাওয়া পথটুকু ভরদুপুরে তেতে উঠা সূর্যের মতই [বিস্তারিত বিশ্বাস করো]

হায় জীবন !

ইঁদুরছানাটি খাবারের সন্ধানে এসে দুর্ভাগ্যবশত রান্নাঘরের সিঙ্কে পড়ে গিয়েছিলো কাল রাত গভীরে বেঁচে থাকবার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলো পুরোটা সময় বারকয়েক তাকে মেরে ফেলতে উদ্যোগী হয়েছি আমিও নাহ্‌, পারিনি ! অচেনা চিন্‌চিনে এক ব্যথায় এ আমার ব্যর্থতা নির্ঘুম একটি রাত পেরিয়েছে তার আকুল আর্তনাদে ভোরের আলো ফোটার কিছু আগে, দিনের শুরুতে তার মৃত দেহখানা আমার মন [বিস্তারিত হায় জীবন !]

প্রকৃতি ও নিয়তি

কুয়াশামগ্ন সেই সকালে চারিপাশ ধোঁয়াটে ছিল বলে দেখিনি খুব কাছের তোমাকে। দুপুরের তির্যক রোদ দু’চোখ পুড়িয়েছে বলে দেখিনি কাছেই থাকা তোমাকে। বৃষ্টিমগ্ন সন্ধ্যাটা প্রবল বর্ষণে ঝাপসা হয়ে এলো বলে দেখিনি, সত্যিই দেখিনি তোমাকে। প্রকৃতি আর নিয়তি খেলেছে বলে কোন খেদ কিংবা নালিশ নেই আজ আমার ঈশ্বরকে ।