মৃত্যুফাঁদ ম্যানহোল

সেই দিন সকাল থেকেই আকাশে খণ্ডখণ্ড মেঘ জমেছিলো। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ গোটা দিন পৃথিবীকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রাখলো। সন্ধ্যার কিছু আগে টিপটিপ করে যে বৃষ্টি শুরু হলো, তা রাত বাড়ার সাথে সাথে মুষলধারে তীব্র বাতাস সহ বইতে শুরু করলো। এরই মাঝে ছেলেটি বাসা থেকে বের হলো। স্ত্রী’র সাথে দেখা করে সে ফিরে যাচ্ছিলো মা’য়ের বাসায়। পথিমধ্যে কিছু ওষুধ কিনবে মা’য়ের জন্যে__ এই ছিল উদ্দেশ্য।

এরই মাঝে অবিস্রান্ত বৃষ্টিতে পুরো শহর জলমগ্ন হলো। তুমুল ঝড়ে শহরের সমস্ত বৈদ্যুতিক বাতি নিবে গেলো। এভাবে রাত পোহায়। ভোর হয়। আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্নই থেকে যায় দুপুর অবধি। উদ্বিগ্ন মা ছেলের সন্ধানে লোক পাঠায় এদিক সেদিক। চিন্তিত স্ত্রী’ও চারিদিকে খুঁজে বেড়ায় তন্নতন্ন করে। কোথাও সন্ধান মেলেনি !

দুপুরের পরে যখন একটু একটু করে আকাশ পরিস্কার হতে শুরু করে… পৃথিবী আলোকিত হয়… জলমগ্ন শহরের পানি নাম্‌তে শুরু করে, ঠিক সেই সময়ে ব্যস্ত হয়ে আসা শহরের একটা অংশে লোকজনের জটলা দেখা দেয়। ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখা যায়, ম্যানহোলের বাইরে কারো একটি পা’য়ের একাংশ ভেসে উঠে।…… এরপর, সকাল অবধি শহরের দুই প্রান্তের দু’টি বাড়ী থেকে কান্নার রোল শুন্‌তে পায় প্রতিবেশীরা।

পরদিন সমস্ত পৃথিবী তার নিজস্ব গতিতে এগোয়। শুধু সদ্য বিধবা হওয়া অল্পবয়সী নববধূটি আর সেই মা’য়ের সবকিছুই থেমে থাকে নিঃসীম নীরবতায়। তাদের হাহাকার আর হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে আসা দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারী হয়ে থাকে……
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে…)

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবাই সতর্ক থাকুন… নিরাপদে থাকুন। শুভকামনা সকলকে…

মোট পড়েছেনঃ ৭১০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবাই সতর্ক থাকুন… নিরাপদে থাকুন –
    সুন্দর লিখাটির জন্য ভালো লাগা রইলো।
    তবে ঐ মা এবং নববধূর হৃদয়ের কশটকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম।

মন্তব্য করুন