বিলোপিত নীল – ভয় – আকাশ (……বন্য,এই কবিতাটা আপনার জন্য)

কি অদ্ভূত লাগে আমার তোমাকে –
তোমার এই নির্মোক নিস্পৃহ চলে যাওয়া,
কোথাকার ক্লান্তি কোন জলে ডুবিয়েছ
কেমন করে নিমিষেই অতিক্রম করে ফেলো
নিকট বর্তমান, দুর ভবিষ্যৎ ; অনতিক্রম্য অতীত
কেমন করে খুলে ফেলো কাঁপনলাগা ডানা?

কেমন অদ্ভূত লাগে ভাবতেই –
কেমন করে অতিক্রম করলে, নিজের ছায়া
এতো রাগ, ঘেন্না কোথায় রাখো বলতো –
বুকে বুক মিলিয়েও হয়নি তা জানা।

আজ তবে জানিয়েই দেই,
হৃদপিঞ্জর শুন্য পরে আছে বাসনারা মৃত
এর নাম বেচেঁ থাকা ; এর নাম বয়ে নিয়ে চলা
সেইপথ ধরে, রাঙা ধুলোর যে পথে তুমি গিয়েছ তেপান্তর।

সত্যিই ছেড়ে গেলে ; যাও তবে,
আমি এবার পুর্ন পানপাত্র উচিয়ে বৃষ্টিদিনে
চিরন্তন বিরহের সাস্থ্য পান করে,
দিগ্বিজয়ে বেরিয়ে পরবো।
যেদিন গৃহত্যাগী জোছনায় ভেসে যাবে চরাচর।

কি অদ্ভূত লাগে আমার তোমাকে –
কিযে অদ্ভূত লাগে আমার আমাকেই।

মোট পড়েছেনঃ ৭৮৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৯টি মন্তব্য

  1. প্রথমেই বলি শুনো বাতাসেরও সমর্পণ পাইনি কখনো,
    শুনেছি সকলেই পেয়েছে এই শহরের,
    ত্বকে যাদের শুয়ে থাকে বিষধর সাপ
    বাতাসও ছুয়েছে তাদের আকালিক ভোরে,

    যেদিন প্রথম এসেছিলাম কোথাও মানুষ দেখিনি,
    দেখেছি শ্বাপদের আঁচড়ে রক্তাক্ত ঘুমন্ত শহর,
    হঠাৎ সেদিন দেখেছি এক মানুষ, নিরহংকার
    শেষে একমাত্র তাকেই কাঁদতে দেখেছি এই শহরে।

    কোথায় আর যাবো, কোন হেমন্তের গ্রামে!
    সব কবিতাই যে আজ কবির ধর্ম মানে।

    উপরের লাইনগুলো লিখলাম এজন্য যে, এই আসা যাওয়ার ক্ষেত্রটাকে আমি একটা শহরই মনে করি, আর সব শহরেই নাকি নত অথবা বিশ্বাস দ্বারা চলতে গেলে সেই বালকের মতো একটা সময় শেষে এসে কাঁদতে হয়। যদি নিজে কাঁদাই তাহলে তাহলে অনুশুচনা হয় আর যদি অন্যে কাঁদায় তখন বলি ভালো থাকিস ক্ষমা করে দিলাম। খুব বড় মহৎ হয়ে যাই এই শহরে তাই তো নিঃস্বার্থ কেঁদে যাই!

    শিকারীর হাতের বন্দুকের নল অজান্তেই যে চলে যায় নিরীহ পাখির দিকে তা আমরা সবাই জানি, তাই কখনো কখনো অন্যের ক্লান্তিগুলো আমাদের নিজের করেই নিতে হয়, ছুড়ে ফেলতে চাননি তাই বুকে গেথে রেখেছেন তাইতো কাঁপনলাগা ডানা খুলে দেয় ছাড়িয়ে নেয় সানন্দে।

    প্রথম ও দ্বিতীয় স্তবক একই সুরে চিত্রায়ণ, বাজিয়েছেন ব্যথার সুর নাকি ব্যর্থতার? বুকে বুক মিলিয়েও যখন বুঝা যায় না ছলার কৌশল তখন তাকেই ব্যর্থতাই বলি। তৃতীয় স্তবকে সেই ছলার প্রভাব কেমন আছি কেমন আছে! সবই যেন সজীব ভুলেনি কিছুই সেদিনের কোনো ঘোর। চেনা শহর ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের হুইসেলও। ভেবেছিলাম ভাইয়া এখানেই হয়তো শেষ তবে……………….

    শেষে এসে আবার উদ্দীপনায় নড়ে উঠলাম খানিকটা যেখানেই ছিলাম প্রথম থেকে। কিছু কিছু দুঃখকি তাহলে সত্যি খুব জরুরী? যদি দুঃখের পরে দ্বিগ্বিজয়ের স্বপ্ন বোনা যায় তাহলে ভালো বৈ মন্দ নয়। তবে নির্দ্বিধায় বলতে পারি সঠিক সিদ্ধান্তের শিখরে বুঝি আপনিই পেরেছেন পৌঁছাতে! আমিও এভাবেই বলতে চাই…….

    যাবো না আর ফিরে শুন্যঘরে,
    খোলা থাকুক শ্যাওলা পরা দরজাগুলো,
    তার চেয়ে বরং আজ ঐ দিগন্ত ছুঁয়ে দিবো
    পাহাড় পেড়িয়ে গা হেলাবো সবুজের সমতলে অথবা
    চিতার ধোঁয়ায় নিষ্পাপ হবো,
    আজ আবার আমি শিশু হবো।

    নিজেকে ধন্য মনে করছি প্রিয় সাইদ ভাই আপনার এই উপহার পেয়ে, রেখে দিবো সযত্নে কথা দিচ্ছি ধুলো পড়বে না, আর হ্যা এমন একটি কবিতাই উপহার হিসেবে পেয়েছি যা কি না সত্যি এক অসাধারণ কবিতা, খুশিতো হবোই। মনে থাকবে অনেক থেকে অনেক দিন এই ভালবাসার কথা। সম্মান সহ ভালবাসা জানবেন!
    বক বক করতে করতে মন্তব্য করতে গিয়ে পোষ্ট লিখে ফেলছি অঢেল সময়ের উপাদানে, কষ্ট করে একটু পড়ে নিবেন। ভালো থাকুন প্রিয় সাইদ ভাই। -{@

    1. ব্যর্থতার সুর বাজে বন্য ,বেসুরে 🙂
      কিছু কিছু দুঃখকি তাহলে সত্যি খুব জরুরী? যদি দুঃখের পরে দ্বিগ্বিজয়ের স্বপ্ন বোনা যায় তাহলে ভালো বৈ মন্দ নয়। হ্যাঁ ডিয়ার কিছু দুঃখ আসলেই jজরুরী, নিজেকে চেনার জন্য, নিজের আকাশের সীমানা নির্ধারণের জন্য।
      অসম্ভব চমৎকার মন্তব্যের জন্য এত্তগুলো ভালোবাসা বন্য। কেন যেন মনে হয় আপনি হারিয়ে যাবেন 🙁 হারায়েন না ,প্লিজ

      1. হা হা প্রিয় সাইদ ভাই, কি যে বলেন আপনি? শুধু আমি না সবাইতো হারাবে। আমি হয়তো একটু আগেই হারাবো এই যা। এই পর্যন্ত দুবার শুনলাম হারানোর কথা, জানি না কেন মনে হচ্ছে তবে ভাইয়া আছি আরো কয়েকটি দিন তা নিশ্চিত ভাইয়া। আপনার লেখার ভক্ত হয়ে পড়েছি তাও নিশ্চিত।

  2. আমি এবার পুর্ন পানপাত্র উচিয়ে বৃষ্টিদিনে
    চিরন্তন বিরহের সাস্থ্য পান করে,
    দিগ্বিজয়ে বেরিয়ে পরবো।
    যেদিন গৃহত্যাগী জোছনায় ভেসে যাবে চরাচর। – অসাধারণ পংক্তিমালা! অনুপমেয় ভাল লাগায় মুগ্ধ হলাম!

      1. পাল্টা প্রশ্ন করে লাভ নেই, যা বোঝার তা বুঝে নিলাম।

        প্রবল ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি,তাতে আপনার সমস্যা নেই ,ঠিক আছে।
        আশে-পাশে যে নাদান পাবলিক আছে তাদের দিকে তো চোখ পড়ার আর উপায় থাকল না।

        1. লেখাটি পড়ে এই ‘কিযে অদ্ভূত লাগে আমার আমাকেই’ এই শব্দ গুলকেই
          সব থেকে বেশি উজ্জ্বল মনে হয়েছে ( যদি আমার বোঝায় ভুল না হয়ে থাকে)।

          আপনি ভালো লেখেন , কিন্তু বেশি বেশি ভাল হয়ে যাচ্ছে , এর আগের লেখাটি সহ।
          পাঠক হিসাবে এটি আমাদের আনন্দের অবশ্যই।
          চালু থাকুক, এ ও চাই ই।

        2. কাউকে না কাউকে তো জঞ্জাল সাফ করতেই হবে 🙂
          আর ঝাড়ু দিতে গেলে গায়ে ময়লা লাগবেই দাদা ,তাও ঐটা কেবলমাত্র পাকিপন্থীদের জন্য 🙂

        3. সাধারণত না। তবে চুড়ান্ত পর্যায়ে হলে নিজেকে ভালোবেসে মরে যাওয়ার প্রবণতা
          জন্ম নিতে পারে।নিতান্ত ই আমার ধারনা থেকে বলা কিন্তু।

  3. এভাবে নিজেকে খুঁড়ে বেড়াবার সময় পেতেন কোথায়? সব সময় তো তার জন্য বরাদ্দ হতো। এখন কত্তো সময় আপনার !!!!
    সৃষ্টি দেখেই তো আনন্দ আমাদের, হাসি কাঁদি। সৃষ্টির ইতিহাসে, লেখার কাগজে, ক ফোঁটা চোখের পানি পরেছে কে দেখবে বলুন, চোখের পানির কতোটা সুবাস ছড়াতে পেরেছেন, তার জন্য তারকা হাতে অপেক্ষা করেই আছি।
    আপনার আশেপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছিনা, বোধ হয় নিজেই নিজেকে হারাতে চলেছেন।

    1. এখন কত্তো সময় আমার 🙂

      ভালোবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে।
      তোমায় আমি আদর করি, পায়ের কাছে লুটোই
      সিংহাসনে বসিয়ে দিয়ে আগুন নিয়ে খেলি
      তবু নিজের বুক পুড়ে যায়, বুক পুড়ে যায়
      বুক পুড়ে যায় কেউ তা বোঝে না
      ভালোবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে।

      – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

  4. অসাধারণ লাগলো। যখন কোন কবিতা একবার পড়েই ভাল লেগে যায় তখন আমি একটু রিসাইট করে আরেকবার পড়ি। আপনার শেষ লাইনটাতে বেশ শক্ত অনুভূতি পেলাম – কিযে অদ্ভূত লাগে আমার আমাকেই। (y)

  5. “কি অদ্ভূত লাগে আমার তোমাকে –
    তোমার এই নির্মোক নিস্পৃহ চলে যাওয়া,
    কোথাকার ক্লান্তি কোন জলে ডুবিয়েছ
    কেমন করে নিমিষেই অতিক্রম করে ফেলো
    নিকট বর্তমান, দুর ভবিষ্যৎ ; অনতিক্রম্য অতীত
    কেমন করে খুলে ফেলো কাঁপনলাগা ডানা?”

    এত চমৎকার কথা কিভাবে বলতে পারেন !!??? 🙂

মন্তব্য করুন