কিছু কথা কখনো বলা হয়ে উঠে না। যেমন___ জ্যাকসন হাইটস এর বাঙালী রেস্টুরেন্টে যখন খাই, আড্ডা দেই, তখন সেখানে কর্মরত বাংলাদেশী আপু’রা এগিয়ে আসে। কি লাগবে জানতে চায়। কখনোই বলা হয়ে উঠে না, “আপনি খেয়েছেন ?”। তবুও সুযোগ পেলে কাছে এসে আপনজনের মতই সুখদুঃখের গল্প করে। বৈধ কাগজপত্র হীন রুমা আপা তাঁদের একজন। এক [বিস্তারিত সুখের আকাশে বিষাদ রাত]
ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাবার পথে একদিনের যাত্রা বিরতিতে আমাদের মফঃস্বল শহরের বাড়িতে উঠতেন কাকা (বাবা’র বন্ধু)। তেমনি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় গেলে বাবাও তাঁর বন্ধুর বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। সেই সময়টাতে দু’বন্ধু তে গল্প চলে রাতভর। জন্মাবধি এমনটি দেখে দেখে আমাদের বেড়ে উঠা। আমি যখন মানচিত্রের উল্টো দিকের এই শহরে, তখন একদিন [বিস্তারিত শেষ যাত্রা বিরতি]
মুখোমুখি দু’টো বাড়ি। মাঝে শহরের মেইন রাস্তা। ওবাড়ির খালাম্মা সৌখিন ভাবে সাজিয়েছেন বাড়িটি। তাঁর হাতের পায়েস না খেলে আমাদের ঈদ পরিপূর্ণ হতো না। আমাদের টিভি কেনার আগ অবধি আমরা সে বাড়িতে “এসো গান শিখি” কিংবা “এইসব দিনরাত্রি” দেখি। বাড়িটির পিঠেপিঠি বয়সী তিন কন্যা সব সময় একই রকম জামা পরে। একজনই শিক্ষক। ডাইনিং টেবিলের চারপাশে গোল [বিস্তারিত বদ্লে যাওয়া সময়]
আমার জন্মশহর ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরের এই শহরে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠি। পর্যাপ্ত রুম না থাকায় আমরা স্বামী-স্ত্রী ড্রইং রুমের ফ্লোরে বিছানা পেতে ঘুমাই সবাই ঘুমিয়ে গেলে। আবার ভোরে সবাই জেগে উঠবার আগেই বিছানা পত্র গুটিয়ে উঠে যাবার চেষ্টা করি। এক শুক্রবার স্বামী’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছুটে আসে অন্য শহর হতে। শনি-রবি দু’দিন [বিস্তারিত গহীনের ক্ষত]
প্রবাসে প্রথম যে বাড়িটির একটি রুমে সংসার শুরু করি, সে বাড়ির অন্য রুমের মানুষজনের সাথে পরিচিত হচ্ছিলাম প্রতিদিনই একটু একটু করে। পাশের রুমের এক বড় ভাই আমি ইডেন কলেজে পড়েছি, নতুন হলে থেকেছি, এসব শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন। চোখে মুখে আনন্দ খেলে গেলো। হঠাৎ চেনা আপনজনকে দেখলে যেমনটি হয়, ঠিক তেমন। বললেন, তিনি ইডেন কলেজ [বিস্তারিত নত হই অলক্ষ্যে]
রাতের খাবারের সময় আমরা অতিথিদের আপ্যায়ন করছিলাম। পাতে এটা সেটা তুলে দিচ্ছিলাম বউ, শাশুড়ি মিলে। সুন্দর পারিবারিক আবহ। ভদ্রলোক খানিক আবেগপ্রবন হয়ে বললেন, উনিশ বছর যাবত তিনি তাঁর মা’কে দেখেননি। মা এখনো বেঁচে আছেন। বৈধ কাগজ পত্র সংক্রান্ত সমস্যা তাঁর। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। কথাগুলো বলার সময় চোখজোড়া ছলছল করছিলো। অতঃপর মাথা নিচু করে নিরবে খাবার শেষ [বিস্তারিত অদ্ভুত এক নৈঃশব্দ্য]
চাঁদ রাতে বাঙালি পাড়া খ্যাত জ্যাকসন হাইটস সারারাত জমজমাট থাকে। প্রশস্ত ফুটপাতে সবাই মেহেদি দেয়ায় ব্যস্ত। উৎসব উপলক্ষে রাস্তায়, গাছগুলোয় লাইটিং করা। সবমিলে আলো ঝলমলে এক আনন্দঘন পরিবেশ হয়ে উঠে এলাকাটি। কথা ছিল বন্ধুদের সাথে আড্ডা হবে। দু’হাতে মেহেদি হবে। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া হবে। রাতভর ব্যস্ততা বিহীন নিশ্চিন্ত ঘুরে বেড়ানো হবে। কাজ [বিস্তারিত কথা ছিলো…]
আমি যখন মেইন গেটে কোড নাম্বার চাপি বাইরে যাবো বলে, ঠিক সেই সময় বাইরে থেকে নাম্বার চেপে গেটটি খুলে দেয় প্রতিবেশী মিস্টার লু। আসা যাওয়ার পথে গেট খোলার এমন কাটাকাটি আমাদের মাঝে মাঝেই হয়। আমরা একে ওপরকে ক্রস করে যাবার সময় ইশারায় হাই, হ্যালো, কুশল বিনিময় করি। প্রচণ্ড শীতের সময়টাতে আমি যখন হেভি জ্যাকেট, কান [বিস্তারিত আমার প্রতিবেশী “লু”]
দু’দিন হলিডে গেলো। বিকেলে বাচ্চাদের নিয়ে পার্কে যাই। ওরা খেলা করে। আমি বসে থাকি বেঞ্চিতে। মানুষ দেখি। হাস্যোজ্বল মানুষ। হাসি আনন্দে খেলা করা ছোট ছোট শিশু। ফ্যালফ্যাল করে ভাবলেশহীন চোখে চেয়ে থাকি। অন্যদিনের মতো ভালোলাগায় ছেয়ে থাকে না মন। বুক চিরে বেরিয়ে আসে দীর্ঘ দীর্ঘ শ্বাস … সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে খেলা শেষে পাশের শপিংমলের [বিস্তারিত ক্ষমা করিস]
লনে গাছের নিচে দু’দিন যাবত বিশালাকৃতির টিভি’টি পরে থাকতে দেখি। রোদ, বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ক্লিয়ার প্লাস্টিক ব্যাগ দিয়ে যত্নে ঢেকে রাখা। একটি কাগজে বড় হরফে ইংরেজিতে লেখা__ “কেউ চাইলে এটি নিতে পারো… ফর ফ্রি… গুড কন্ডিশন”। বলা বাহুল্য, এদেশে কেউ বাসা বদল করলে কিংবা নতুন ভাবে সাজাতে চাইলে পুরনো আসবাব ফেলে দেয়। কিছু বাঙালি অন্য [বিস্তারিত অবশেষে সুখ এলো, কিন্তু…]
আমেরিকার ২৩৯ তম জন্মদিন গেল। সন্ধ্যা আর রাত্রির মিলন ক্ষণে অদ্ভুত সুন্দর এক আকাশের নিচে হাজার হাজার উৎসুক মানুষ আকাশের দিকে চেয়ে। কেউ নদীর ধারে, কেউ বা ব্রিজের উপরে। কেউ হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে। কেউ বা ক’দিন আগে জন্ম নেয়া শিশুকে বুকে জড়িয়ে। পুরো পরিবেশটা কেমন সহজ, সরল, শান্ত আর স্বতঃস্ফূর্ত। রিহান আজ জীবনের প্রথম [বিস্তারিত আজন্ম প্রতীক্ষা আমার]
নিউইয়র্কে এখন সামার। প্রতি বিকেলে পার্কগুলো শিশুদের ছুটোছুটিতে সরব হয়ে উঠে। এক মা আসেন ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে। আমি যাই আমার পাঁচ বছরের রিহান’কে নিয়ে। আমরা বেঞ্চিতে পাশাপাশি বসি। বাচ্চাদের অবজারভ করি। আমি কানে ইয়ারফোন দিয়ে গান শুনি। তিনি ফোনে কথা বলেন পুরোটা সময় খুব কাছের কারো সাথে। শেয়ার করেন প্রবাসের কষ্টগুলো, অপ্রাপ্তিগুলো। সূর্য ডুবে গেলে, [বিস্তারিত কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি]
বেশ আগে একদিন কাজ থেকে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে ট্রেন বদল করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম অন্য প্ল্যাটফর্মে। অনেকখানি পথ। দ্রুত পায়ে হাঁটছি আমি এবং দলে দলে মানুষজন। একঝলক নজর গিয়ে ঠেকে একপাশে। কালো এবং চায়নিজ দুই ভিন্ন জাতীর নারী একে অপরকে আলিঙ্গন করে আছে, এবং দৃষ্টিকটু আরো কিছু… । ঘেন্নায় গা গুলিয়ে উঠে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া’রাও তির্যকভাবে [বিস্তারিত অনিশ্চিত অন্ধকারে না যাই]
হোস্টেলের প্রথম দিনগুলোয় আমার স্থান হয় টিভি রুমে। টিভি’র সামনের অনেকটা অংশ জুড়ে কার্পেট বিছানো। পাশে কয়েকটি বসার টুল। মেঝেতে কিংবা টুলে বসে সবাই টিভি দেখে। বিশালাকৃতির পুরো হলরুমের বাকী অংশ জুড়ে ঢালাও সিঙ্গেল বেডে ঠাসা। কোথাও তিল পরিমান জায়গা নেই। যার যখন খুশি টিভি দেখে। সকাল, দুপুর কিংবা মধ্যরাত। খেলা দেখে কেউবা বিজয়ের আনন্দে [বিস্তারিত একগুচ্ছ রজনীগন্ধা সাজাই]
শপিংমলে প্রয়োজনীয় পোশাক কিন্তে গেলে তাড়াহুড়ায় মনের ভুলে একজোড়া হাতমোজা আর পা মোজা কিনে ফেলি। যেগুলো পড়লে অনেক গরম লাগবে। অনেক গরম ! অতঃপর একদিন ক্লোজেট গুছাতে গিয়ে সেই মোজাগুলো দেখে তীব্র মন খারাপ হয়। হাতে নিয়ে বসে থাকি। গন্ধ শুঁকি। নতুন মোজার গন্ধ পাই না। আমার বাবার গায়ের মিষ্টি গন্ধ পাই। অনেকদিন হয় ফোনের [বিস্তারিত বাবাহীন বাবা দিবস আমার]