’চিকিৎসক’ শব্দটির সাথে সেবার ব্যাপারটা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। মুলত এটি একটি সেবামুলক পেশা। কিন্তু মানুষ আর অমানুষভেদে এই পেশার লোকজন কেউ সেবক, কেউ কসাই নাম ধারন করে। আর অনুপাতিক হারে ভালোর সংখ্যাকে ছাপিয়ে যখন মন্দের সংখ্যা সীমাহীন বেড়ে যায় তখনই তা কমন রুপ লাভ করে। বর্তমানে এই কমন রুপই হচ্ছে ‘ডাক্তার মানেই কসাই’। আর এর মধ্য [বিস্তারিত ডাক্তার মানে কসাই না, ‘ডাক্তার মানে সেবক’, তাই প্রতিষ্টিত হোক। (পর্ব-২)]
সেদিন ছিলো ব্ল্যাকআউট। ১লা নভেম্বর, ২০১৪ সাল। সারা বাঙলা জুড়ে অন্ধকার। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কবলে পড়েছিলো বাংলাদেশ। এক নাগাড়ে ১১ ঘন্টা দেশের কোথাও বিদ্যুৎ ছিলোনা। সেদিনটায় আমি ছিলাম ধানমণ্ডির ‘মর্ডান হাসপাতালে’। বিকালে যখন বের হই তখনও জানতাম না, ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়তে যাচ্ছি। সন্ধ্যা নামতেই কানে ভেসে আসতে থাকে, সারা বাঙলা আজ অন্ধকারে ডুবে আছে। রাত যতো [বিস্তারিত মানুষ আর অমানুষভেদে কেউ সেবক, কেউ কসাই নাম ধারন করেন! (পর্ব-০১)]
কলকাতার কোন মহল্লায় সভা হলে জহির উর্দু ও আমি বাংলায় বক্তৃতা করতাম। নূরুদ্দিন, জহিরুদ্দিন, নূরুল আলম, শরফুদ্দিন, কিউ. জে. আজমিরী, আনোয়ার হোসেন (এখন ইস্টার্ন ফেডারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানির বড় কর্মকর্তা), শামসুল হক সাহেব, খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও অনেক লীগ কর্মীর মধ্যে মুর্শিদাবাদের কাজী আবু নাছের, আমার মামা শেখ জাফর সাদেক আরও অনেকে পূর্ব থেকেই প্রস্তুত হয়েছিলেন, [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪১) “আপনাকে দেখার জন্য কত দূর দূর থেকে এরা এসেছে! আর আমরা এক মিনিটের জন্য ট্রেন না থামালে কত বড় অন্যায় হবে।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক ডা. গাজী মিজানুর রহমান। একাধারে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়গনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন খুলনার সভাপতি। আবার কণ্ঠশিল্পীও। সম্প্রতি র্যাব-১ ও র্যাব-৬ গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর যৌথ অভিযান চালিয়ে ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ ৫ জনকে আটক করেছে। র্যাব সেখান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ! মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত! ( [বিস্তারিত একটি অনুতাপহীন হাস্যজ্জ্বোল ছবি ও আত্মমর্যাদাবোধহীন নাগরিক দৌরাত্ম্য!!!]
হঠাৎ খবর আসল, জিন্নাহ সাহেব ৭, ৮, ৯ এপ্রিল দিল্লিতে সমস্ত ভারতবর্ষের মুসলিম লীগপন্থী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের কনভেনশন ডেকেছেন। বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশ ও মুসলিম সংখ্যালঘু প্রদেশগুলিতে মুসলিম লীগ একচেটিয়াভাবে জয়লাভ করেছে। তবে অধিকাংশ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত পাঞ্জাব, সিন্ধু ও সীমান্ত প্রদেশে মুসলিম লীগ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারে নাই। তাই শুধুমাত্র বাংলাদেশে জনাব হোসেন [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪০) “ছাত্ররা দুষ্টামি করে বগির সামনে লিখে দিল, ‘শেখ মুজিবর ও পার্টির জন্য রিজার্ভড’; এ লেখার উদ্দেশ্য হল, আর কেউ এই ট্রেনে যেন না ওঠে। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
যুদ্ধের সময় বৃটিশ গভর্নমেন্টের পক্ষ থেকে মিস্টার চার্চিল ভারতে ক্রিপস মিশন পাঠিয়ে ছিলেন, কিন্তু কোন ফল হয় নাই। যুদ্ধের পরে যখন মিস্টার ক্লিমেন্ট এটলি লেবার পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হন তখন তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ই মার্চ তারিখে ক্যাবিনেট মিশন পাঠাবার কথা ঘোষণা করলেন; তাতে তিনজন মন্ত্রী থাকবেন, তাঁরা ভারতবর্ষে এসে বিভিন্ন দলের সাথে পরামর্শ করে [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৯) “দু’একদিন আমরা রিপন স্ট্রিটে মিল্লাত অফিসে এসে চেয়ারেই শুয়ে পড়তাম।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
অনেক সময় দেখা গেছে, একজন অশিক্ষিত লোক লম্বা কাপড়, সুন্দর চেহারা, ভাল দাড়ি, সামান্য আরবি ফার্সি বলতে পারে, বাংলাদেশে এসে পীর হয়ে গেছে। বাঙালি হাজার হাজার টাকা তাকে দিয়েছে একটু দোয়া পাওয়ার লোভে। ভাল করে খবর নিয়ে দেখলে দেখা যাবে এ লোকটা কলকাতার কোন ফলের দোকানের কর্মচারী অথবা ডাকাতি বা খুনের মামলার আসামি। অন্ধ কুসংস্কার [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৮) ” অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটা কারণ।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
ঐশী রহমান আর ফারদিন হুদা মুগ্ধ, দুটো বাচ্চাই প্রায় একই টাইপ কাজ করেছে। বয়সও তাদের প্রায় একইরকম। খুব সম্ভবত ঐশীরও ছিলো সতেরো আবার মুগ্ধরও সতেরো। ছেলেমেয়ে যখন কৈশোর ক্রস করে, তখন তাদের মন থাকে স্পর্শকাতর! স্পর্শকাতর মন তখন আচমকা অনেক ঘটনারই জন্ম দিয়ে ফেলে। ঐশী, মুগ্ধও আচমকা এমন কাজ করেছে, যা সমাজ সংসারকে নাড়িয়ে গেছে। [বিস্তারিত ঐশী থেকে মুগ্ধ……..]
শেষ পর্যন্ত আমিও হাশিম সাহেবকে বলেছিলাম, সালাম সাহেবকে নমিনেশন দিতে। সেজন্যে আমার উপর রাগ করেছিলেন তিনি। শহীদ সাহেব রিপোর্ট দিলেন, সালাম সাহেবই সকলের চেয়ে জনপ্রিয়। তিনি সালাম সাহেবকে নমিনেশন দিতে প্রস্তাব করেছিলেন। লাল মিয়া ও হাশিম সাহেব বেঁকে বসলেন। এই সময় কিছু টাকা পয়সার ছড়াছড়ি হচ্ছিল। আমি খবর পেতাম, যদিও চোখে দেখি নাই। শেষ পর্যন্ত [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৭) “উদারতা দরকার, কিন্তু নীচ অন্তঃকরণের ব্যক্তিদের সাথে উদারতা দেখালে ভবিষ্যতে ভালর থেকে মন্দই বেশি হয়।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
বান্ধবীর মুখে আক্তার জাহানের কষ্টের কথা “নিরন্তর যুদ্ধ করতে করতে, কারও সহায়তা না পেয়ে আকতার জাহান হতক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন!” —– অধ্যাপক শাওলী মাহবুব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলিকে নিয়ে লিখা তাঁর ঘণিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক সহকর্মী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাওলী মাহবুব এর লেখাটি পড়ে আমার কেবলই মনে [বিস্তারিত হাজারো আকতার জাহানকে বাঁচাতে তাই, আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠা চাই!]
আমরা রওয়ানা হয়ে চলে এলাম সাইকেল, মাইক্রোফোন, হর্ন , কাগজপত্র নিয়ে। জেলা লীগ আমাদের সাথে সহযোগিতা করবে। আমরা প্রত্যেক থানায় ও মহকুমায় একটা করে কর্মী শিবির খুলব। আমাকে কলেজ ছেড়ে চলে আসতে হল ফরিদপুরে। ফরিদপুর শহরে মিটিং করতে এসেছি মাঝে মাঝে, কিন্তু কোনোদিন থাকি নাই। আমাকে ভার দেওয়ার জন্য মোহন মিয়া সাহেব ক্ষেপে যান। সকলকে [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৬) “আমাকে ভার দেওয়ার জন্য মোহন মিয়া সাহেব ক্ষেপে যান। সকলকে সাবধান করে দেন, কেউ যেন আমাকে বাড়ি ভাড়া না দেয়।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোট গণনা হয়ে গেল। শহীদ সাহেবের দলের পাঁচজনই জিতলেন। আমি ফুলের মালা জোগাড় করেই রেখেছিলাম, আরও অনেকেই মালা জোগাড় করে রেখেছিল। আমি যখন শহীদ সাহেবের গলায় মালা দিলাম, শহীদ সাহেব আমাকে আদর করে বললেন, তুমি ঠিক বলেছিলে। লাল মিয়া সাহেবকে নিয়ে আমাদের ভয় ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেককে অনুরোধ করেছিলাম, তাঁকে একটা ভোট দিতে। [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৫) “এই অপূর্ব খেলা আমরা দেখেছি জীবনভর! রাতেরবেলা দুই ভাই এক, নিজেদের স্বার্থের বেলায় মুহূর্তের মধ্যেই এক হয়ে যান।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
শহীদ সাহেব ও হাশিম সাহেব পরামর্শ করে পাঁচজনের নাম ঠিক করলেন: ১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারদী ২. আবুল হাশিম ৩. মওলানা রাগীব আহসান ৪. আহমদ হোসেন এবং ৫. লাল মিয়া আমাদের পক্ষের, অন্য পক্ষ থেকে নাজিমুদ্দীন সাহেবও পাঁচজনের নাম দিলেন। এই সময় ফজলুল কাদের চৌধুরী সাহেব পার্লামেন্টারি বোরডের সদস্য হবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন ও ভীষণ [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৪) “শহীদ সাহেব রাতেই খবর পেলেন এবং বললেন, “কিছুতেই ওকে নমিনেশন দেওয়া হবে না, কারণ এই বয়সেই ওর এত লোভ।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
এক সময় ডিভি লটারি নিয়ে এদেশের মানুষ লুটোপুটি খেতো। হুড়োহুড়িতে ফটোস্ট্যাট মেশিনের দোকান আর ফটো ল্যাবগুলো সবসময় বুদ হয়ে থাকতো। তখন আমি পড়াশুনা করছি। সবাইকে দেখতাম প্রতিবছর আবেদনের তারিখ ঘোষনা হলেই হুমড়ি খেয়ে পড়তো আবেদন করার জন্য। হায়রে, কি অবস্থা চারদিকে! আজকাল মনে হয় সেরকম নেশা কাজ করে না মানুষের মধ্যে। যাহোক, আমার ছিলো এ [বিস্তারিত দেশাত্মবোধ ও ডিভি লটারি!]
দিন তারিখ আমার মনে নাই, তবে ঘটনাটা মনে আছে। বিকালে কলকাতা এসেম্বলি পার্টি রুমে এমএলএ, এমএলসি ও লীগ নেতাদের বৈঠক হবে, সেখানে আপোস হবে। আমরাও খবর পেলাম। বেকার হোস্টেল ও অন্যান্য হোস্টেলে খবর দিয়ে দুই তিনশত ছাত্র নিয়ে আমিও উপস্থিত হলাম। দরজা বন্ধ করে সভা হচ্ছিল। আমি দরজায় যেয়ে বললাম, ” আমাদের কথা আছে, শুনতে [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৩) “আমি টেলিফোন তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, “বলে দেন খাজা সাহেবকে ইলেকশন হবে।” শহীদ সাহেব নাজিমুদ্দীন সাহেবকে টেলিফোন করে বললেন, “ইলেকশনই হবে। ।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]