আমি নুসরাত বলছি!

তোমরা যদি বলতে চাও, মানুষের পৃথিবীতেই আমি জন্মেছিলাম,
তবে শুয়োরকে তোমরা শুয়োরের খাঁচাতেই পুরে রাখবে।
যদি বলো, তোমাদের পৃথিবীতে অমানুষের স্থান নেই
তবে উন্মাদ শুয়োরগুলোর বেড়ে ওঠা রুখে দেবে।
যদি বলো, পুরুষ কখনো ধর্ষক নয়,
তবে নিশ্চয় ধর্ষকের বিনাশ ঘটাতে
বেঁচে থাকা নুসরাতেদের সাথে
হাতে হাত ধরে একতাবদ্ধ হবে।
যদি বলো, তোমাদের সমাজ মানবিক
তবে মানবের বিকাশে দানবের বিনাশ ঘটাবেই।

আমি নুসরাত,
সেই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।
সাত মাস আগে আমি চলে এসেছি
তোমাদের পৃথিবী ছেড়ে।
না, ভুল বলেছি; তোমরাই আমায় থাকতে দাওনি!
আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করতে করতে
আমায় মেরেছিলে।
আমার মাথা উঁচু করে থাকাটা তোমাদের সহ্য হয়নি।
তোমাদের ভাষায় আমি মেয়েমানুষ,
এতো অহঙ্কার কেনো হবে আমার?
তোমাদের মুখের উপর ‘না’ শব্দের ব্যবহারে
নিজের অনিচ্ছার কথা প্রকাশ করার?
আমার স্বাধীন সত্ত্বাকে মানতে
পারোনি তোমরা।
তাই থাকতে দিলে না তোমাদের পৃথিবীতে।
থাকতেই দিলে না।
অথচ তোমরা বলো, তোমাদের পৃথিবী মানুষের!

সত্যিই কি তোমাদের পৃথিবী মানুষের?
তবে তা প্রমাণ করো।

#রুবা
২৪/১০/২০১৯

মোট পড়েছেনঃ ১৬২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৯টি মন্তব্য

  1. আগের লেখাটির ২৪ ঘন্টার সময় সীমা এখনো অতিক্রম হয়নি আপু। আপনি এখন কবিতাটি খসড়ায় রাখুন প্লিজ। নির্দিষ্ট সময়ের পর প্রকাশ করুন।

    1. খেয়াল করিনি, এজন্যই বোধহয় একবার খুঁজতে গিয়ে পাইনি, ভেবেছিলাম তাড়াহুড়ো করে মনে হয় পোস্টটাই করা হয়নি। এখন ঢুকে দেখি আছে আর আপনার কথা শুনে গড়বড়ের কারণটা বুঝতে পারলাম।

  2. নুসরাতের জবানী যেন পড়লাম। ওর অতৃপ্ত আত্মা হয়তো চিৎকার করে এভাবেই বলছে, ঘৃণা জানাচ্ছে পৃথিবীতে থাকা মানুষদের প্রতি। যেখানে সে প্রকৃত পক্ষে কোন মানুষ পায়নি।

মন্তব্য করুন