ইসলামিয়া কলেজের কাছেই সুরেন ব্যানার্জি রোড, তারপরেই ধর্মতলা ও ওয়েলিংটন স্কয়ারের জংশন। এখানে সকলেই প্রায় হিন্দু বাসিন্দা। আমাদের কাছে খবর এল, ওয়েলিংটন স্কয়ারের মসজিদে আক্রমণ হয়েছে। ইসলামিয়া কলেজের দিকে হিন্দুরা এগিয়ে আসছে। কয়েকজন ছাত্রকে ছাত্রীদের কাছে রেখে, আমরা চল্লিশ পঞ্চাশজন প্রায় খালি হাতেই ধর্মতলার মোড় পর্যন্ত গেলাম। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা কাকে বলে এ ধারণাও আমার ভাল [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৫১) ” মিনিটে মিনিটে ফোন আসছে, শুধু একই কথা, ‘আমাদের বাঁচাও, আমরা আটকা পড়ে আছি। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
১৫ই আগস্ট কে কোথায়, কোন এরিয়ায় থাকবে তা ঠিক হয়ে গেল। ১৬ই আগস্ট কলকাতার গড়ের মাঠে সভা হবে। সমস্ত এরিয়া থেকে শোভাযাত্রা করে জনসাধারণ আসবে। কলকাতার মুসলমান ছাত্ররা ইসলামিয়া কলেজে সকাল দশটায় জড়ো হবে। আমার উপর ভার দেয়া হল ইসলামিয়া কলেজে থাকতে। শুধু সকাল সাতটায় আমরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব মুসলিম লীগের পতাকা উত্তোলন করতে। আমি [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৫০) “কোথায় এরা কাপড় পাবে ব্যান্ডেজ করতে? যার যার ওড়না ছিঁড়ে, শাড়ি কেটে ব্যান্ডেজ করতে শুরু করল। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
২৯ জুলাই জিন্নাহ সাহেব অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ কাউন্সিল সভা বোম্বে শহরে আহবান করলেন। অর্থের অভাবের জন্য আমি যেতে পারলাম না। জিন্নাহ সাহেব ১৬ আগস্ট তারিখে ‘ডাইরেক্ট একশন ডে’ ঘোষণা করলেন। তিনি বিবৃতির মারফত ঘোষণা করেছিলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এই দিবস পালন করতে। ব্রিটিশ সরকার ও ক্যাবিনেট মিশনকে তিনি এটা দেখাতে চেয়েছিলেন যে, ভারতবর্ষের দশ কোটি মুসলমান [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪৯) ” অর্থের অভাবের জন্য আমি যেতে পারলাম না। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ছিল। বাতাসে হাত-পা অবশ হতে চলেছে। আর কিছু সময় চললে আর উপায় নাই।কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন থেমে গেল। আমরা নেমে পড়লাম। ‘আনোয়ার’ ‘ আনোয়ার’ বলে ডাকতে শুরু করলাম। মধ্যম শ্রেনীতে আনোয়ার ছিল, ওর কাছেই আমার বিছানা। আমাদের জন্য আনোয়ার খুব উদ্বিগ্ন ছিল। জানালা দিয়ে কোনক্রমে ট্রেনের ভিতরে উঠলাম। ট্রেন ছেড়ে দিল। পরের [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪৮) “এরপর ভাবলাম কিছুদিন লেখাপড়া করব। মাহিনা বাকি পড়েছিল, টাকা পয়সার অভাবে। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
সেলিম চিশতী ছিলেন বাদশাহ আকবরের পীর। আজমীরের খাজাবাবার দরগায় দেখলাম গান বাজনা চলছে সমানে, এখানেও দেখলাম সেই একই অবস্থা। আমাদের বাংলাদেশের মাজারে গান বাজনা করলে আর উপায় থাকত না। খাজাবাবা মঈনুদ্দিন চিশতী ও সেলিম চিশতী দুইজনই নাকি গান ভালবাসতেন। আমরা এক এক করে এবাদতখানা থেকে আরম্ভ করে আবুল ফজলের বাড়ি, হামামখানা, ধর্মশালা, মিনা মসজিদ, যোধাবাঈ [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪৭) “আমি দুই হাতলের মধ্যে দুই হাত ভরে দিলাম, ওকে বুকের কাছে রাখলাম। মেলট্রেন–স্টেশন কাছাকাছি হবে না। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
সূর্য অস্তাচলগামী, আমরাও তাজমহলের দরজায় হাজির। অনেকক্ষণ থাকব, রাত দশটা পর্যন্ত দরজা খোলা থাকে, তারপর দারোয়ান সাহেবরা এসে ঘন্টা দিয়ে জানিয়ে দিবে সময় হয়ে গেছে। তাজকে ত্যাগ করতে হবে, রাতের জন্য। আমরা বসে পড়লাম, একটা জায়গা বেছে নিয়ে কয়েকজন নামাজ পড়তে গেলেন। আজানের ধ্বনি কানে এসেছে। পাকিস্তান হওয়ার পরও আজান হয় কি না জানি না। [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪৬) ” আজও একুশ বৎসর পরে লিখতে বসে তাজের রুপকে আমি ভুলি নাই, আর ভুলতেও পারব না।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম এই তাজ। আমাদের নিজেদের মধ্যে তাজ দেখা নিয়ে অনেক আলোচনা হল। দুনিয়ার বহু দেশ থেকে বহু লোক শুধু তাজ দেখার জন্য ভারতবর্ষে আসত। তাজমহলের কথা জানে না, এমন মানুষ দুনিয়ায় খুব বিরল। আমাদের দেরি আর সইছে না। মনে হচ্ছে ট্রেন খুব আস্তে আস্তে চলছে, কারন তাজ দেখার উদগ্র আগ্রহ আমাদের পেয়ে [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪৫) “তাজকে ভালভাবে দেখতে হলে আসতে হবে সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যাবার সময়, চাঁদ যখন হেসে উঠবে তখন।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
খাজাবাবার দরগার পাশে বসে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান হচ্ছে। যদিও বুঝতাম না ভালো করে, তবুও মনে হত আরও শুনি। আমরা দরগাহ জিয়ারত করলাম, বাইরে এসে গানের আসরে বসলাম। অনেকক্ষণ গান শুনলাম, যাকে আমরা ‘কাওয়ালী’ বলি। কিছু কিছু টাকা আমরা সকলেই কাওয়ালকে দিলাম। ইচ্ছা হয় না উঠে আসি। তবুও আসতে হবে। আমরা তারাগড় পাহাড়ে যাব, সেখানে কয়েকটি [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪৪) ” পানির দেশের মানুষ আমরা, পানিকে বড় ভালবাসি। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
সাদা পোষাক, মুখ লাল কাপড়ে বাঁধা, হাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে গতকাল ৪ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে বেলা ৩:৩০ -৫:৩০ টা পর্যন্ত শিশু ধর্ষনের প্রতিবাদে কন্যা শিশুদের মায়েরা প্রতীকি মৌন সমাবেশে দাঁড়ায় টিপ টিপ বৃষ্টি উপেক্ষা করেই। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনেও একই প্রতিবাদে প্রতীকি মৌন সমাবেশ হয়। সেখানে অবশ্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই দাঁড়ায়। সমাবেশের [বিস্তারিত শিশু ধর্ষনের প্রতিবাদে প্রতীকি মৌন সমাবেশ।]
আপডেট (১১:৫০) স্থান পরিবর্তন : রবীন্দ্র সরোবর। (জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুমতি মেলেনি) এ বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গত ৯ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩২৫টি শিশু। ভাবা যায়??? অধিকাংশ ধর্ষিত শিশুর বয়সই ৫-১২ এর মধ্যে। নানা কৌশলে এদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। ৫-১২ বছরের শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে চকলেট, খেলনা বা কোনো শৌখিন জিনিস [বিস্তারিত আমাদের কন্যারা ভয়হীন পরিবেশে বেড়ে উঠুক, তেমন নিরাপদ পরিবেশ চাই।]
মেয়ে, তুমি যেখানেই যাও মানসিক বিকারগ্রস্ত বিকৃত রুচির কিছু পুরুষ তোমাকে ধাওয়া করবেই। বিধাতা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এই বুদ্ধি বিবেচনার ব্যবহার করেই মানুষ সভ্যতার পৃথিবী গড়ে নিয়েছে। আর এই সভ্য পৃথিবীতে মানুষের আবাসকে সুন্দর করে রাখতে তাই মানুষ বিধাতা প্রদত্ত যৌনক্ষুদাকে নিয়ন্ত্রনে রেখেই নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করে। কিন্তু [বিস্তারিত রমণীয় সৌন্দর্য ও গোপন ক্যামেরার নোংরামি!]
যাহোক, আমি ও আরও কয়েকজন সহকর্মী শহীদ সাহেবের শরণাপন্ন হলাম এবং ছাত্রদের অসুবিধার কথা বললাম। শহীদ সাহেব বললেন, “কেন, একজন তো টাকা নিয়ে গেছে, এদের ভাড়া দেবার কথা বলে। তোমার সাথে আলোচনা করে টাকা দিতে বলেছি।” বললাম, “জানি না তো স্যার, সে তো চলে গিয়েছে।” শহীদ সাহেব রাগ করলেন। তিনি ছাত্র নন, তার নাম আজ [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪৩) “পরে বুঝতে পারলাম, এরাই খাদেম। আজমীর শরীফের খাদেমদের যথেষ্ট ভদ্রতাবোধ আছে দেখলাম, তারা কিছুই চেয়ে নেয় না। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
আড্ডা যখন সোনেলা’র উঠোন ছেড়ে হ্যালভেশিয়ায়! আহা! 😮 কি দারুন সময় কাটালাম! এতোদিন সোনেলা’র উঠোনে ব্লগারবন্ধুদের সাথে কীবোর্ডের মাধ্যমে কথাকলিতে যে তুমুল আড্ডা চলতো, যেনো সে আড্ডার মেলাই বসেছিলো গত বুধবার ঢাকার নিউ বেইলি রোডের হ্যালভেশিয়াতে। সেদিনের সে আড্ডায় কীবোর্ডে শব্দমালা নয়, ভারচুয়াল জগত থেকে বাস্তবে উঠে এসে কথা আর হাস্যরসের কলকাকলিতে মুখর ছিলো পুরোটা [বিস্তারিত আড্ডা যখন সোনেলা’র উঠোন ছেড়ে হ্যালভেশিয়ায়!]
দিল্লি যখন পৌঁছালাম তখন দেখা গেল, যেখানে আমরা পৌঁছাব সেখানে বিকালে পৌঁছালাম। আট ঘন্টা দেরি হয়েছে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কনভেনশন বন্ধ করে রেখেছেন আমাদের জন্য। সকাল নয়টায় শুরু হবার কথা ছিল, আমাদের ট্রেন থেকে সোজা সভাস্থলে নিয়ে যাওয়া হল। দিল্লির লীগ কর্মীরা আমাদের মালপত্রের ভার নিলেন। আমরা বাংলায় স্লোগান দিতে দিতে সভায় উপস্থিত হলাম। সমস্ত [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৪২) “যখন উর্দু স্লোগান উঠত, আমরাও তখন বাংলা স্লোগান শুরু করতাম।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]