ইউক্যালিপ্টাসীয় সত্তা

দূরের ইউক্যালিপ্টাস গাছটায়.. শীতের আগেও পাতা ছিল। শীতেও পাতা দেখেছি। ফুল ধরতো কিনা জানিনা। দৃষ্টি পৌঁছাতো না অতদূর। মাঝেমাঝে জানালার এ পাশটায় দাঁড়িয়ে খুঁজি দূরের সৌন্দর্য। দূরে যেখানে আকাশ ঠেকেছে সেখানটাতে অথবা ইউক্যালিপ্টাসে। সাদা মূর্তিমান দেহ, চুনের মতো সাদা। পাতাগুলো যেন কেশর। পাখিদের বসতে দেখিনি কখনো গাছটাতে। হয়তো বসেছে ! হয়তো চোখেই পড়েনি ! শীত [বিস্তারিত ইউক্যালিপ্টাসীয় সত্তা]

খোলাচিঠি ( প্রতিযোগিতা)

শ্রদ্ধেয় স্যার, আমার বিশ্বাস সৃষ্টিকর্তা আপনাকে অনেক ভালো রেখেছেন। আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। সেই যে গেলেন আমাদের ছেড়ে। চলে যাবার সময় আপনি বলেও যাননি কোথায় যাচ্ছেন। একটা ঠিকানা কিংবা ফোন নাম্বার কোনোটাই রেখে যাননি। শুধু আপনার একটা ব্রিফকেস আজো আমাদের ঘরে যে রুমটাতে আপনি থাকতেন সেখানটায় রাখা আছে যত্নে। কলেজ কমিটি আপনার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে [বিস্তারিত খোলাচিঠি ( প্রতিযোগিতা)]

মিস করছি ভীষণ

এতক্ষণে প্রায় সবাই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে গেছে। কেউ কেউ আসছে এখনো। কেউ জ্যামে, কেউ রাস্তায়, কিংবা এখনো কেউ বাসায়ই। কেউ ১ নং গেটে এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজছে চেনামুখ। কেউ ইতিমধ্যে পেয়েও গেছে ১ নং গেটের ডানদিকের গলিটা। কেউ চেনা তবু অচেনা শুধু নামটাই জানা একই সাথে হেঁটে যাচ্ছে মিলনমেলায়। একই সাথে খুঁজতে থাকা দুজন গিয়েই [বিস্তারিত মিস করছি ভীষণ]

একসময়ের আমরা

একসময় দু’জনের আর কথা হবেনা ফোনে অথবা চ্যাটিং-এ। দেখাও হবেনা দু’জনের একসময় পথে,বাসে অথবা কোনো ভীড়ে। চেনা মুখ অচেনা হবে একসময় আড্ডার আসরও বসবে না আর, অযথা আলোচনাও হবেনা একসময়। একসময় শুভেচ্ছা বার্তাও পথ হারাবে বন্ধু অথবা অন্য কোনো দিবসের। দোষ অথবা গুণগুলো খুঁজবে না কেউ কারো একসময়। ভুলের বোঝা ভারী হবে ক্রমেই দু’জনের। দু’জনই [বিস্তারিত একসময়ের আমরা]

একজন গল্পবলা যোদ্ধা

এখনো ৭১-এর গল্প শুনি। মাঝে মাঝেই শুনি। ঐ সময়ের এক কিশোর যোদ্ধার কাছে।যুদ্ধের সময়ে তাঁর সাথে এবং সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা যখন বলতে শুরু করে তখন মনে হয় যেন তাঁর মুখ থেকে শব্দগুলো গুলির মতো ছুটছে আর বিদ্ধ হচ্ছে চারপাশের দেয়ালে।একেবারে চোখের সামনে চলে আসে সেদিনের চিত্র। ১২ কিংবা ১৩ বছরের এক কিশোর। কতোটা সাহস [বিস্তারিত একজন গল্পবলা যোদ্ধা]

আছে নেই

ভালোতে নেই,মন্দেও কবিতায় নেই, ছন্দেও উপন্যাসে নেই, গল্পেও অধিকে নেই, অল্পেও। শান্তিতে নেই, যুদ্ধেও ভুলে নেই, শুদ্ধেও। মিথ্যায় নেই, সত্যেও স্বর্গে নেই, মর্ত্যেও। বৃন্তে নেই, বৃত্তেও ভাবনায় নেই, চিত্তেও। বাহিরে নেই, ভিতরেও। প্রশ্নে নেই, উত্তরেও। আমা’তে নেই, তোমা’তেও আঁধার কিংবা আলোয় সাদা অথবা কালোয় আছে নেই কোথাও।

অপেক্ষা; অলীক দিনের

সুমন আর আমার এসএমএস খেলা হতো,জমতোও বেশ। একটা সময় দেখতাম এসএমএস ভাণ্ডার শেষ তখন ও’র এসএমএস ওকেই দিতাম আর সেও তাই করতো। বিশেষ দিনগুলোতে কে কার আগে,কতো সুন্দর করে এসএমএস করতে পারে সেই প্রতিযোগিতা চলতো। ফোন কোম্পানীও আমাদের এ খেলাকে আরো বেগবান করতো এসএমএস এর ফ্রি অফার দিয়ে। ধার করা এসএমএসও জায়গা করে নিতো আমাদের [বিস্তারিত অপেক্ষা; অলীক দিনের]

মানুষ অথবা ভিন্ন কিছু

আমি মানুষ,জন্মসূত্রে। পিতা মানুষটার ঔরসে, মাতা মানুষটার গর্ভে লালিত, আমি মানুষ। মেডিক্যাল সায়েন্সও বলে আমি মানুষ। রক্ত,মাংস,শিরা,উপশিরা সবই মানুষের মতো। আবেগ,অনুভুতি,বিবেক,চেতনাবোধ, মানবিকতার অধিকারী আমি, তাই আমি মানুষ। আমার সমাজ আছে, পরিবার আছে, পারিবারিক বন্ধনে অাবদ্ধ আমি সামাজিকতা রক্ষা করে চলতে পারি, শাসন,অনুশাসন মেনে চলতেও জানি। তাই আমি মানুষ। পঞ্চেন্দ্রিয় সম্পন্ন জীব আমি। তাই আমি মানুষ। [বিস্তারিত মানুষ অথবা ভিন্ন কিছু]

টেবিল বিজনেস

উদ্ভিদ যেমন নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে তেমনি জীবনের এক পর্যায়ে এসে নিজের খরচ নিজে চালাতে এক প্রকার বিজনেস শুরু করে ছাত্রসমাজ।তা হলোটেবিল বিজনেস। টেবিল বিজনেস জন ও এলাকাভেদে নামের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। কেউ বলে প্রজেক্ট,কেউ বলে প্রকল্প,কামলা দেওয়া। আবার কেউ আদর করে ক্ষ্যাপ বলে থাকে। এটা কী কোনো বিজনেস? কোনো প্রকার মূলধন ছাড়াই ইনকাম। [বিস্তারিত টেবিল বিজনেস]

অঙ্কন ও কথন

প্র্যাকটিকাল খাতার ছবিগুলোও এঁকে দিয়েছিল বড় ভাইয়া। ছবি আঁকার হাত আমার আবার খুব ভাল কিনা! একবার চে’গুয়েভারার ছবি আঁকতে চেষ্টা করছিলাম। মনে হলো পারবো, কয়েকটা পয়েন্ট আছে সেগুলো ঠিক রাখা। ছবি আঁকা কী এমন কঠিন কাজ! শুধু চোখটা অাঁকতে পারলেই হলো। শুরু করলাম চোখ আঁকা। ডান চোখ খুব সুন্দর মতোই সমাপ্ত করলাম, এখন বায়ে। বাম [বিস্তারিত অঙ্কন ও কথন]

সৃষ্টির ভ্রুণ

হঠাৎই মাথায় ঢুকলো সৃষ্টির ভ্রুণটা। এইতো গতরাতেই, শুয়ে আছি হঠাৎ ভ্রুণটা… তারপর থেকে ঘুরপাক খাচ্ছে মস্তিষ্কের গুরু অংশে, এপাশ ওপাশ। খুব যন্ত্রণা দিচ্ছে সেই নামহীন, পরিচয়হীন ভ্রুণটা। আর আমি… পুরো রাত, ভোর তারপর আবার রাত প্রতিটা মুহুর্তে,সময়ে অসময়ে, ব্যস্ততার থেকে কিঞ্চিত দূরে নিজেকে রেখেই ছিলাম পরিচর্যায় মত্ত। এইতো কিছুক্ষণ আগেও ভাবছিলাম ভ্রুণটাকে নিয়েই। ভ্রুণটা বেড়ে [বিস্তারিত সৃষ্টির ভ্রুণ]

অদৃশ্য ক্ষত

আজ হঠাৎ ব্যাথাটা খুব বেড়েছে। অদৃশ্য এক ক্ষত বহন করছি আমি, আমার দেহে। ব্যাথাটা ওখান থেকেই। অসহ্য সে ব্যাথা। হঠাৎ কি হলো ওর? সবই তো দিয়েছি, জায়গা করে দিয়েছি আমার দেহে। ব্যাথার হুল ফোটাবার অধিকার দিয়েছি। আর কি চাই? কোনোদিন প্রশ্ন তো করিনি.! কেনো এসেছিস আমার কাছে? কিভাবে কাটে তোর দিন!? আজ হঠাৎ কেনো? কেনো [বিস্তারিত অদৃশ্য ক্ষত]

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আমি একজন মানুষ এবং তারপর একজন বাঙালি। আমি অকৃতজ্ঞ নই। আমি ৫২ কিংবা ৭১ সংখ্যা দুটিকেও অস্বীকার করতে পারি না, পারবও না। মুক্তিযুদ্ধ,মুক্তিযোদ্ধা, বীরসন্তান, বোনদের ইজ্জত, শহীদের রক্ত আমি অস্বীকার করতে পারি না, পারবও না। কারণ, আমি মানুষ এবং তারপর একজন বাঙালি। আমি অকৃতজ্ঞ নই। আমি ২১,২৬,১৬ সংখ্যাগুলো অস্বীকার করতে পারিনা, পারবও না। কারণ,আমি মানুষ [বিস্তারিত শ্রদ্ধাঞ্জলি]

রাত-জাগানিয়া

শুরু হয়ে গেল আবার একটি রাতের জন্য। এভাবেই ডাকতে থাকবে সারাটিরাত বিরামহীন। চোখ গেলো!! চোখ গেলো!! একটি নিশ্চুপ, নিঃশব্দ রাত কাটানোর কোনো সুযোগ নাই ওর জন্য। একাকিত্ব বোধ করার কোনো সুযোগ দিবেনা সে। কে বলছে ওকে ডাকতে এতো রাতে? কে শুনছে ওর ডাক? কেনো ডাকে এভাবে? এটা কি ওর একাকিত্ব লাঘবের কোনো মাধ্যম? ওর ডাক [বিস্তারিত রাত-জাগানিয়া]

সেই আমি এই আমি

আমি সেই একফোঁটা শিশির ছিলাম মেঘেদের সাথে । শুভ্র আকাশে উড়ে বেড়িয়েছি অনেক। নিকষ কাল মেঘদলে ভেলা ভাসিয়েছি কত শত! এই আমি- দলবেঁধে কখনো চাঁদ, কখনো সূর্যকে করেছি আড়াল। কখনো টুপটাপ শব্দে কবিমন করেছি মাতাল। এই আমি- অরন্যকে দিয়েছি সবুজের ঘ্রাণ, দিয়েছি নতুন প্রাণের সন্ধান। ফুল,পাখি আমায় ছুঁয়ে করেছে স্নান। সেই আমি আজ দলছুট; দূর্বা [বিস্তারিত সেই আমি এই আমি]