প্রেমের নাম বেদনা (প্রতিযোগিতা)

প্রিয় “রোমিও”

প্রথমেই “রজনীগন্ধা!” ফুলের শুভেচ্ছা নিও। আজ “হৃদয়ের কথা” বলবো বলে এই চিঠি। কিভাবে লিখবো এই চিঠি তা নিয়ে প্রায় “মাথা নষ্ট” অবস্থা। তবে “ভালবাসা ভালোবাসা” দিয়েই শুরু করি। “অন্ধপ্রেম” আর “আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা” আমায় বলেছিলো “মনের মাঝে তুমি”।  আমি তোমায় জিজ্ঞেস করেছিলাম “ফুল নেবে না অশ্রু নেবে”? তুমি ফুল চেয়েছিলে বলে আমি তোমায় “মাটির ফুল” উপহার দিয়ে বলে ছিলাম “ভুলনা আমায়”। মনে প্রাণে ভেবেছিলাম “তুমি আমার স্বামী” হবে। কিভাবে যেনো “লংকা কান্ড” হয়ে “কঠিন বাস্তব” এর মত সব কিছুই বদলে গেলো। একদিন তুমি হঠাৎই বলে বসলে “ভালোবাসলেই ঘর বাধা যায় না”, “ঢাকাইয়া পোলা বরিশাইলা মাইয়া” এর প্রেম হয় না! এ ছিলো এক “আয়নাবাজি”। তুমি আমার “জীবনের প্রথম প্রেম” হলেও তোমার শুধুই “খাইরুন সুন্দরী”র মত “সুন্দরী বধু” চাই । “বাংলার বউ” এর মত বউ চাও নি মোটেই। শুধু তাই নয় তুমি আমায় “ক্ষমতার গরম” দেখিয়ে বলেছিলে “গরীবের প্রেম” করা সাজে না! আমিও রেগে গিয়ে বলেছিলাম “ভালোবাসা দিবি কিনা বল”। নইলে “কিয়ামত থেকে কিয়ামত” শুরু হয়ে যাবে! তুমি ভয়ে ও মনে মনে “প্রতিশোধ ” নেওয়ার বাসনায় বলেছিলে “আমার পৃথিবী তুমি”।

এরপর শুরু হলো “ভালোবাসা কারে কয়”। রাত জেগে কথা, গল্প, হাসি, “আমার আছে জল” গান আরও কত কি! কিন্তু দিনের বেলা “মন বসে না পড়ার টেবিলে”। এভাবে “ইঞ্চি ইঞ্চি প্রেম” বাড়তে থাকলো। এরই মাঝে একদিন জানিনা কি বুঝে তুমি বলেছিলে চলো বিয়ে করি। “দারুচিনি দ্বীপ” এ হবে সেই বিয়ে। দিন ক্ষন সব ঠিক। কিন্তু তুমি “কোটি টাকার কাবিন” দেখে “কাবিননামা” ছিড়ে ফেলে আমার সাথে “গাদ্দারি” করলে। ভেঙ্গে দিলে আমার “প্রেমের তাজমহল”। ভেঙ্গে দিলে আমার “স্বপ্নের বাসর”। আমাকে রেখে চলে গেলে তুমি। আমার একতরফা “প্রেমের সমাধি” হয়ে গেলো সেখানেই। “এক বুক জ্বালা” নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম আমি। এটি আমার “কপালের লিখন” ছিলো।
বাবার সম্মান রাখতে সেই রাতেই বাবার পছন্দের লোক কে বিয়ে করে “দুখিনী জহুরা” র মত “চার সতিনের ঘরে” আমি ” এক টাকার বৌ”হয়ে পড়ে রইলাম।  এক দিনের কথা, শ্বশুড় মশাই কে দিয়ে বাজার করিয়েছি বলে  আমার বর বললো “বাবা কেনো চাকর “। বাবাকে “পিতার আসন” এ রাখ নইলে “ভাত দে”ব না! আমি ভয়ে নীল হয়ে গেলাম। এরই মাঝে একদিন খবর পেলাম তুমি “হঠাৎ বৃষ্টি”র মত “রাজধানীর বুকে” উদয় হয়ে  “ও প্রিয়া তুমি কোথায়” বলে চিৎকার করছো! এতো কিছুর পরেও “মনের মাঝে তুমি” ছিলে তাই আমি “রানী কেনো ডাকাত” এর মত “বউ শাশুড়ির যুদ্ধ” করে তোমার পানে ছুটলাম।  গিয়ে দেখি তুমি “মাস্তান” এর উপর মাস্তানি করে রাস্তায় পড়ে আছো।  তোমার কাছে পৌঁছানোর আগেই “বিগ বস” মাস্তানরা তোমায় তুলে নিয়ে চলে গেলো!

জানিনা এখন তুমি কোথায় আছো, কেমন আছো। এই “স্বপ্নের পৃথিবী” তে আমার “মনের ঠিকানা” পেলাম না। “অশ্রু”  ভরা নয়নে আবারও ফিরে এলাম আমি! বুঝলাম “হারানো প্রেম” কখনও ফিরে আসে না! আর “পাগলির প্রেম” পরিণতিও পায় না! তাই মেয়ে হয়েও “দেবদাস” এর মত আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিলাম ।  এই ছিলো আমার “নিয়তি”।

“হাজার বছর ধরে” মানুষ জেনে যাক “সবার উপর প্রেম”!।   আশা করি ওপাড়ে দেখা হবে আবার।  এপারের দিনগুলো ভালো কাটুক তোমার।

 

ইতি

তোমার “জামিলা সুন্দরী”!

মোট পড়েছেনঃ ১,৭৪৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৫৩টি মন্তব্য

  1. জামিলা সুন্দরী,
    “হারানো মানিক” না খুজে
    “অমর প্রেম” নিয়ে “ময়না মতি” র পাহাড়ে “মাটির ঘর” এ কাটিয়ে দিলে।
    অসম্ভব কে সম্ভব তুমি করতে পেরেছো।
    :D) :D) :D) :D) :D) বাংলা সিনেমার উকুন, পোকা একটা।
    “অশ্রু দিয়ে লেখা” এই চিঠি অনেক ভালো হয়েছে।
    একটু হেসে নেই।
    :D) :D) :D) :D)

    1. আপু সিনেমাই দেখা হয় না আজকাল খুব বেশি। বাংলা সিনেমা তো পাওয়ায় যায় না! তবে আপনাকে একটা গোপন গল্প শুনাই। এই যে নাম গুলা দেখছেন সব কিন্তু আমার মাথা থেকে আসে নি! গতকাল রাতে ফ্ল্যাট এ একটা ছোটখাটো খেলার আয়োজন করেছিলাম। কে কত দ্রুত কতগুলো বাংলাদেশের সিনেমার নাম লিখতে পারে। কারর সাথে কারর টা মিলে গেলে সেটা পঁচা! কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখি ১২০ টার মত ছবির নাম! সেগুলা নিয়ে রুমে এসে চিঠি লিখেছি। :p

      হাসি পাচ্ছে আমি তাতেই খুশি। রম্য লিখলাম আর পাঠক না হেসে,কোন ভুল না করে খুব গুছিয়ে মন্তব্য করে গেলো তাইলেই রম্য লেখা বৃথা! 😀

  2. ‘ জামিলা সুন্দরী’র ‘ অশ্রু দিয়ে লেখা ‘ চিঠিখানা অত্যন্ত ভাল হয়েছে।
    তবে তারে ‘ দেবদাস’ হতে দেয়া যাবে না, জোর করে হলেও ‘ ওরা এগার জন’ কে নিয়ে বাসায় এনে বাঁচিয়ে রাখবো।
    ‘ পারলে ঠেকা’ ।

    এই না হলে মেহেরী তাজ? এটি সোনেলায় এক পিচ ই,
    যার কোনো বিকল্প নেই।
    এত্ত বাংলা ছবির নাম কিভাবে মনে রেখেছো?
    প্রতিযোগিতার প্রথম ধা[পের মনোয়নের জন্য জন্য এই চিঠি থাকবে তা কেন জানি মনে হচ্ছে।

    শুভ কামনা।

    1. আমি কি মন্তব্য টা ঠিক পড়লাম? আপনার মনে হচ্ছে এই লেখা প্রথম ধাপের মনোনয়ন এর জন্য থাকতে পারে? আহা! শুনেও শান্তি। হোক না হোক!
      দাদা ব্লগে তো সবায়ই এক পিস! 😀 তাই না?
      ছবির নাম মনে করাতে অনেকেই হেল্প করছে আমি তাদের ধন্যবাদ ও দিয়েছি।
      ধন্যবাদ দাদ…. 🙂

  3. আচ্ছা এরেই তাইলে ভালবাসা কয়? :D)
    হি হি হি। আমি খালি কই তুই ক্যান আমার ওস্তাদ হইলি না? কিছুটা মগজ তো ট্রান্সফার হইতো! ক্যাম্নে ক্যাম্নে এতো সিনেমার নাম আনলি? 😀
    জামিলা সুন্দরীর এই পত্র খানা প্রেমের আকাশে, বাতাসে, নদী, সাগরে ,তারা, চান্দে খদিত হয়ে থাকবে চিরকাল। 🙂
    আমি চিঠি লিখুমই না 🙁

    1. আমি ভালো ওস্তাদ। বেশি শিষ্য বানালে ভালো/ সঠিক শিক্ষা দিতে পারবো না।তাই শিষ্য সংখ্যা সীমিত। :p
      বুবু তুমি মগজ নিতে চাইলে এমনিই দিয়ে দেবো।
      চান্দে মান্দে বুঝলাম আপাতত মনোনয়ন এ থাকলেই হবে!! :p
      তুমি লিখবা না? আলবত লিখবে! না লিখলে আড়ি।
      ইয়ে বুবু আমাকে একটু চুপ চুপ করে বলো না কাকে লিখছো? পাখিকে নাকি ভোর কে??? আমি কাওকে বলবো না প্রমিজ! 😀

  4. ch আহা, কত মজার ছলে বাংলা ছবির ভুলে যাওয়া নামগুলোকে উঠিয়ে আনলেন। আম্মাজান, স্বামী কেন আসামী, গোলাপি এখন ট্রেনে,আসিরন কেন ঢাকায় এগুলো দিলে আরো মজা হত।

    1. ছবির নাম ছিলো আরও অনেক! কিন্তু ধারাবাহিতা ঠিক রাখা খুব ঝামেলার। আর অনেক দিন লেখালেখি থেকে দূরে তো মাথা খুব একটা কাজ করছে না! পরের বার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। 🙂
      ধন্যবাদ আপনাকে।

  5. মাথা ঠুকার ইমো কই ভাই মডু, এহন আমি কি করি, কি করি, পুরা সব সিনেমার লাইন মাইরা চিঠি লিখছেন আমার বুবু তাও জামিলা সুন্দরীর নামে, আমি কই যায়, হায় হায়। ;(
    বুবু, লিখাটি কিন্তু সেইরাম হইছে। 😀

    1. আপনি যেমনে পারেন তেমনেই জামিলা সুন্দিও পারে ম্যান! বুঝেন না কেন!
      এর পর যদি আর একবারও পিচ্চি বলেন তাইলে আপনার এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট দিয়ে মডুদের বলে দেবো! :p

  6. পিচ্চি আপু :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D)

    পেট ব্যথা হয়ে গেছে আপু। একজনই পিচ্চি আর সেই পিচ্চি আছে বলেই আনন্দ আর হাসির বন্যা বয়ে যায় এই সোনেলায়।

    তুমি না থাকলে এভাবে যে হাসতে পারতাম না
    তুমি না থাকলে সহজ হয়ে ভাবতে পারতাম না
    তুমি আছো বলে সোনেলা যে
    মেতে আছে হাস্যরসে
    রাপা রাপপাপপা রাম পাম পা—- 😀

    এই চিঠি প্রথম হোক, এইটে চাই। একেবারে ১০০ তে ১০০। -{@

      1. আপু মাঠ ফাঁকা বা ভরা দিয়ে কি হবে? আপনি তো কর্নার কীক করে গোল করে ফেলবেন। আমরা সব্বায় জানি!! সেই কিক টা করেই ফেলুন আপু!

      2. পিচ্চি আপু বিশ্বাস করুন মাথায় আসছেই না। কি লিখবো, কাকে লিখবো ভেবে পাচ্ছিনা। বাস্তব চরিত্র নাকি অবাস্তব উফ কি যে করি! 🙁

        বুদ্ধি দিন তো!

  7. জিসান শা ইকরাম বলেছেনঃ প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপের মনোয়নের জন্য জন্য এই চিঠি থাকবে তা কেন জানি মনে হচ্ছে।

    আমারও তাই মনে হলো।

  8. বাপরে, বাংলা সিনেমার নাম দিয়েও চিঠি হয়, ভাবা যায়। এই চিঠি কোথায় যাবে জানিনা, তবে “এই মেয়েটি এখন কোথায় যাবে” (সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমার নাম) কোথায় যাবে তা বোঝাই যাচ্ছে। সিনেমাখোর কেউ হলে ভালোই হবে।

  9. খাইরুন লো ও তোর লম্বা মাথার চুল
    তরে এই আইডিয়া কে দিছে, শুধু হের নামটা ক। প্রতিযোগিতার আগেই তর পরীক্ষা শেষ? তোর রুটিনে ভুল আছে
    এমন চিঠি প্রতিযোগিতার অযোগ্য ;( চলপে না কুনো প্রেমিকের নামে চিডি ফিডি।

    :D) :D) :D) তোর মাথায় এতো বুদ্ধি ;? এই জন্যই তো তুই এতো আদরের। মুই কি লিখুম ;( ;(
    ও নীলাপু বাঁচাও।

    1. ভাবীজান গাছের নিচে একটা মই রাইখো তাইলেই হইবে!
      আর শোন পুরষ্কার মুরষ্কার আমি দিতে পারমু না! যদি পাই আর কি! :p
      কারন আমার স্থাবর অস্থাবর। আগত, অনাগত সব এক জনের নামে উইল কইরা লাইছি।
      পরিষ্কার, পুরষ্কার যা কিছু চাই হেতেরে ধরো!

    1. জামিলা কিংবা জমিলা সুন্দরী ও একটা সিনেমার নাম!
      ভাইয়া এসব মুভির মধ্যে এক ভাগও হয়তো আমার দেখা নয়। তাই বলে চিঠি লেখা যাবে না? নাম তো এর তার কাছে শুনেও নেওয়া যায়।
      ধন্যবাদ ভাইয়া!

    1. আপনার ভালো লাগায় আমার লেখার স্বার্থকতা।
      দোয়া রাখবেন আপনার এই ছোট বোন টার জন্য। যাতে ভবিষ্যতেও ভালো লিখতে পারি।
      আপনার মন্তব্যে আমি আপ্লুত।
      ধন্যবাদ আপনাকে।

  10. জানিনা এখন তুমি কোথায় আছো, কেমন আছো। এই “স্বপ্নের পৃথিবী” তে আমার “মনের ঠিকানা” পেলাম না।

    সবাই আছে আনন্দে থিকানা আনন্দ লোকে। আর মনের মাঝে খোজো আপু পেয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন