ও আমার বাবার সন্তান-৩

পারভীন সুলতানা ২৩ জুলাই ২০১৫, বৃহস্পতিবার, ১০:৫৩:০৬অপরাহ্ন সমসাময়িক ১৬ মন্তব্য

বাড়ীর পাশে দিল্লি আর সেই দিল্লি শহরের এক বসতি এলাকায় তের বছরের  কেবলমাত্র এক কিশোরী , লজ্জায় মুখ ঢেকে আছে, আছে গুটিসুটি মেরে । যন্ত্রনায় মুখ কুঁচকে গেছে, চোখে ভয়াবহ শুন্যতা ।

কিন্তু কেন?

মাত্র সাত বছর বয়সের শিশু যখন সে, তখন থেকেই তার উপর উপনীত হত তার জন্মদাতা । তার মায়ের জ্ঞাতসারেই হত এসব । মহিলা নিশ্চুপ ছিলেন গত ছয়টি বছর ধরে, হয়ত আরও চুপ থাকতেন ।কেননা জীবন এবং জীবিকা দুটোই তখন এক দৌত্যের হাতে কারারুদ্ধ । গত ছয় বছর ধরে চলে এই পাশবিক নির্যাতন । ফল স্বরূপ দুবার গর্ভবতী হয় মেয়েটি এবং দুবারই গর্ভপাত করানো হয়। শেষতক স্কুলে আসা একদল এনজিও কর্মীর , শিশু নির্যাতনের রিসার্চ কাজের সময় প্রকাশ হয়ে যায়।

জানিনা কি বলব আমি, কি বলা যায় ? না আমি কিছু বলব না, আমার চিন্তা শক্তি কাজ করে না আর। শুধু ভাবি, আমার বা আমাদের অনেকের পিতা কি তবে দেবদূত ছিলেন ? সেই ২০০০ সনে, পরম শ্রদ্ধেয় আব্বু চলে গেছেন অজানায়। সেই থেকে এমন কোনদিন দিন নেই , যেদিন তাকে মনে পড়ে না, তার উদ্দেশ্যে দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি না। আজো হাযারও জনের সামনে তার সন্তান, তার আত্মজ পরিচয় দিতে গর্ব অনুভব করি। কেননা আমি মানুষের সন্তান । পশুর চাইতে অধম কোন অমানুষের নয়।পিতার হাতে নিরাপদ নয় কন্যা ; তাহলে কি ঈশ্বরের হাতে নিরাপদ ?

কে আছে আমাকে জবাব দেবেন ? আমরা কি তবে ফিরে যাচ্ছি, হাটছি উল্টপথে ?

 

 

 

৬৭৭জন ৬৭৬জন

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য